পলাশবাড়ী উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২৫°১৭′০০″ উত্তর ৮৯°২১′০০″ পূর্ব / ২৫.২৮৩৩° উত্তর ৮৯.৩৫০০° পূর্ব / 25.2833; 89.3500

পলাশবাড়ী উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
পলাশবাড়ী
বিভাগ
 - জেলা
রংপুর বিভাগ
 - গাইবান্ধা জেলা
স্থানাঙ্ক ২৫°১৭′০০″ উত্তর ৮৯°২১′০০″ পূর্ব / ২৫.২৮৩৩° উত্তর ৮৯.৩৫০০° পূর্ব / 25.2833; 89.3500
আয়তন ১৯০.৬৭ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা (1991)
 - ঘনত্ব
210806
 - ১১০৬ বর্গকিমি
পোস্টকোড ৫৭৩০
মানচিত্র সংযোগ: Official Map of Palashbari

পলাশবাড়ী বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

পলাশবাড়ীর অবস্থানঃ ২৫°১৬'৫২.২৬" উত্তর, ৮৯°২১'১১.৫৬" পূর্ব। এর দক্ষিণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ও বগুড়া জেলা, উত্তরে পীরগঞ্জ উপজেলা ও রংপুর জেলা, পূর্বে গাইবান্ধা জেলা সদর ও যমুনা নদী এবং পশ্চিমে ঘোড়াঘাট উপজেলা ও দিনাজপুর জেলা। এই উপজেলা শহরটি ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাছাড়া পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা, পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট রাস্তা জুড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে শহরটি গড়ে উঠেছে। উপজেলা শহর হিসাবে মোটামুটি অনেক বড় এলাকা জুড়েই এটি বিস্তৃত।

প্রশাসনিক এলাকা[সম্পাদনা]

পলাশবাড়ীর আয়তন ১৯০.৬৭ বর্গ কিমি। উত্তরে রংপুরের পীরগঞ্জ, দক্ষিণে গোবিন্দগঞ্জ, পূর্বে সাদুল্লাপুর ও গাইবান্ধা সদর, পশ্চিমে ঘোড়াঘাট। ৮ টি মৌজা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলার প্রধান নদী করতোয়া, নালুয়া, মরিচী ও কাটাখালি ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইতিহাস খ্যাত রাণী ভবাণীর গো-চারণ ভূ’মি হিসেবে বহুল পরিচিত এই গাইবান্ধা জেলা। উত্তরাঞ্চলের মঙ্গা পীড়িত এ জেলাটি সারা দেশেই বেশ পরিচিত। ১৯১৮ সালে জেলার থানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পলাশবাড়ী। ১৯৮৩ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা হয়। কবি জসীমউদ্দিন এ উপজেলা থেকে ঘুরে আসার পর নিজের বাড়ির নাম দিয়েছিলেন পলাশবাড়ী। এ উপজেলার রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের এক গেীরবোজ্জল ইতিহাস। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার পলাশবাড়ীতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি যুদ্ধ হয় মুক্তিযুদ্ধের সময়। স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাক বাহিনীর গতি রোধ করে তাদের উত্তরবঙ্গে প্রবেশ দুই দিন পিছিয়ে দিয়েছিল পলাশবাড়ীর আপামর জনতা। পরে তাদেরকে গণহারে হত্যা করে পাকি সৈন্যরা। ‘স্বাধীন পলাশবাড়ী ’ গঠনের আহ্বায়ক ছিলেন তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী এবং সদস্য সচিব ছিলেন ফারুক চৌধুরী।

জনসংখ্যার উপাত্ত[সম্পাদনা]

২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী পলাশবাড়ীর জনসংখ্যা ২৬০৮০৬ মোট । পুরুষ মহিলার অনুপাত মোটামুটি সমান। যার মধ্যে ৫০.৫৪% পুরুষ ও ৪৯.৪৬% মহিলা। মুসলমান ৯২.৪৮ % , হিন্দু ৭.০২% ও অন্যান্য ০.৫%। শিক্ষার হার বেশ কম। মাত্র ১৯.৫%।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

চিত্তাকর্ষক স্থান[সম্পাদনা]

ড্রিমল্যান্ড[সম্পাদনা]

দেশী-বিদেশী পর্যটক ভ্রমন পিপাসু ও চিত্ত বিনোদনকারীদের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গড়ে উঠেছে একটি নজরকারা বিনোদন কেন্দ্র, যার নাম ড্রিমল্যান্ড।। পলাশবাড়ী শহর থেকে মাত্র ১কিঃমিঃ দক্ষিনে রংপুর- ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম পার্শে অবস্থিত বিনোদন কেন্দ্রটি। এখানে প্রতিদিন শতশত দর্শনাথীর সমাগম ঘটে। বিশেষ করে রংপুর হতে বগুড়া পর্যন্ত ১০০কিঃমিঃ এর মধ্যে কোন বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক না থাকায় অত্র অঞ্চলের মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য একমাত্র দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে উঠেছে এই ড্রিমল্যান্ড থীম পার্কটি। মনোরম শোভা মন্ডিত ড্রিমল্যান্ডটিতে শোভা বর্ধন করেছে দেশী বিদেশী ফুল-ফল, ও নানা প্রজাতীর শোভা বর্ধনকারী গাছ। তাছাড়াও রয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মনিষিদের ভাস্কার্য। যাদের ভাস্কর্য রয়েছে তারা হলেন- নেতাজি সুবাস চন্দ্র বসু, এক সময়কার বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদৌলা, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আবিস্কারক জর্ন বেয়ার্ড (টেলিভিশন), কম্পিউটারের আদি পিতা চার্লস ব্যাবেজ, এঙ্রে মেশিন আবিস্কারক ভিনহ্যালন রঞ্জেন, বেতার যন্ত্র আবিস্কারক গুলিয়েন-মো- মার্কনি, টেলিফোন আবিস্কারক আলেকজান্ডার গ্রেয়ামবেল, বিদ্যুৎ শক্তি মাইকেল ফ্যারাডে এছাড়াও রয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মীয় পিতা যিশুখ্রিষ্ট, সনাতন ধর্মালম্বীদের দেবদেবীদের মধ্যে রয়েছে- ভগবান বুদ্ধদেব গুহ, মহাদেব, নাগরানী, মনোষাদেবী, আরো রয়েছে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে জাতির উদ্দেশ্য ভাষন দানকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ভাস্কার্য। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বীরযোদ্ধা মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, শহীদ জাতীয় চার নেতা ক্যাপ্টেন মুনসুর আলী, তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, নজরুল ইসলাম ও এম, কামরুজ্জামান। এছাড়াও মজলুম জননেতা আঃ হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, বিশ্ব কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় বিদ্রাহী কবি নজরুল ইসলাম, কিশোর কবি শুকান্ত ভট্রাচার্জ, মাইকেল মধুসুদন দত্ত, নারী জাগরনের অগ্রদূত মহিয়সী নারী বেগম রোকেয়া, বাংলাদশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান সহায়তাকারী তৎকালীন ভারতের প্রধান মন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরাগান্ধী এবং মাদার তেরেসাসহ বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ভাস্কর্য। ১৭৫৭সালের বাংলার খ্যাতিমান নবাব সিরাজউদৌলার রণক্ষেত্র পলাশীর প্রান্তরের মানচিত্র। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করার মত শহীদ মিনার ও জাতীয় স্মৃতি সৌধ। তাছাড়াও রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নোবেল বিজয়ীদের ভাস্কর্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী প্রধান শক্তি কসাই টিক্কা খান, তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের ভাস্কর্য, এই শোভা বর্ধনকারী পার্কটিতে সরেজমিনে গিয়ে ম্যানেজার হামিদুল হক মন্ডল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান প্রতি বছর এখানে গাইবান্ধা জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা সফর বা পিকনিকের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও প্রতি বছর ঈদ, পূজা, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে থাকে। পার্কে যাতায়াত ব্যবস্থা অতি উন্নত। বগুড়া শহর হতে ৫০কিঃমিঃ উত্তরে বাস ও কোচে যাতায়াত করা যায়। এছাড়াও রংপুর শহর হতে বগুড়া- ঢাকা গামী কোচে উঠে পলাশবাড়ী শহরে নেমে মাত্র ৪টাকা রিঙ্া ভাড়ায় এ পার্কে যাওয়া যায়। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ বিশাল পার্কটি তৈরী করেছেন পলাশবাড়ী শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁন মিয়া। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতে আজকের প্রজন্মের শিশু কিশোর, তরুন-তরুনী ও শিক্ষার্থীদের বিনোদন ছাড়াও জ্ঞান আহরন ও অন্বেষন করার মত সম্ভবনা রয়েছে এই পার্কটিতে ।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


গাইবান্ধা জেলা Flag of Bangladesh
উপজেলা/থানাঃ সাদুল্লাপুর | গোবিন্দগঞ্জ | সাঘাটা | ফুলছড়ি | সুন্দরগঞ্জ | পলাশবাড়ী | গাইবান্ধা সদর