বঙ্গীয় শব্দকোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বঙ্গীয় শব্দকোষের প্রথম সংস্করণ (১৩৪১) -এর আখ্যাপত্রের প্রতিলিপি

বঙ্গীয় শব্দকোষ একটি বাংলা অভিধান। সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত এবং অধ্যাপক শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক সঙ্কলিত এই অভিধান ১৩৪১ বঙ্গাব্দে কলকাতায় প্রথম প্রকাশিত হয় ও বিশ্বকোষ প্রেস থেকে মুদ্রিত হয়। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখিত বিবৃতি অনুসারে আনুমানিক ১৩১১ বঙ্গাব্দে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা ভাষায় একটি অভিধান প্রণয়নের জন্য অনুরোধ করেন। সেই সময় তিনি কবিরই নির্দেশে ছাত্রদের পাঠার্থ সংস্কৃতপ্রবেশ গ্রন্থের রচনাকার্যে ব্যাপৃত ছিলেন। সেই কারণে পরে অর্থাৎ ১৩১২ বঙ্গাব্দে সংস্কৃতপ্রবেশ সমাপ্ত করে রবীন্দ্রনাথের অনুমতিক্রমে তিনি অভিধানরচনায় আত্মনিয়োগ করেন।

সূচনা[সম্পাদনা]

গ্রন্থের সূচনালগ্নে সঙ্কলয়িতা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় কোন অভিজ্ঞ আভিধানিকেরই সাহায্যলাভ করেননি। কোন পথপ্রদর্শক না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ স্বচেষ্টায় এবং পরিশ্রমে তিনি এই বিশাল শব্দকোষগ্রন্থ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। গ্রন্থের ভূমিকায় শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই লিখেছেন:

এরপর সঙ্কলয়িতা সংগৃহীত শব্দসকল প্রায় দুই বছর কাল অতিবাহিত করে বর্ণানুক্রমে নিবদ্ধ করেন। ১৩১৭ সালের বৈশাখের প্রারম্ভেই তার শব্দানুক্রমিকা সমাপ্ত হয়। পরে তিনি বাংলা শব্দের সঙ্গে বর্ণানুক্রমে সংস্কৃত শব্দ সংযোজিত করে শব্দের বুৎপত্তি ও শিষ্টপ্রয়োগ সহ অর্থ লিখতে আরম্ভ করেন। এখান থেকেই প্রকৃতপক্ষে অভিধানের মূল অবয়বের সূচনা। অভিধান-রচনা কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর ১৩১৮ সালে আষাঢ় মাসে আর্থিক অসঙ্গতির কারণে শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতায় চাকুরি গ্রহণ করতে হয় এবং এর ফলে অভিধান প্রণয়ন ভীষণভাবে ব্যাহত হয়।তখন তিনি রবীন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে সকল সমস্যা ব্যক্ত করেন। কবিবরের অনুরোধে মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী সঙ্কলয়িতাকে মাসিক পঞ্চাশ টাকা বৃত্তি প্রদান করতে স্বীকৃত হলেন। এর কয়েকদিন পরেই শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় কবির নির্দেশে শান্তিনিকেতনে অধ্যাপনার কাজে পুনর্নিযুক্ত হলেন। তখন পুনরায় তিনি পূর্বমত শব্দকোষ রচনাকার্যে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হলেন। এইভাবে ত্রয়েদশ বছর সুকঠিন পরিশ্রম করে ১১ মাঘ ১৩৩০ সালে শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় এই সুবৃহৎ অভিধান সমাপ্ত করেন।

প্রথম প্রকাশ[সম্পাদনা]

১৩৩০ সালের সঙ্কলয়িতা তার সমসাময়িক প্রসিদ্ধ কবি এবং সাহিত্যিকগণের নির্বাচিত সাতচল্লিশটি গ্রন্থ থেকে দ্বিতীয়বার শব্দসংগ্রহ ও সংযোজন করে চৈত্র মাসে পূর্বপ্রণীত পাণ্ডুলিপির সংস্কারসাধনে প্রবৃত্ত হন। এর অনতিকাল পরে বিশ্বভারতী তার সঙ্কলিত অভিধানটি প্রকাশের ইচ্ছাপ্রকাশ করেও অর্থাভাবে এই সুবৃহৎ গ্রন্থ মুদ্রণে অসমর্থ হয়। তখন সঙ্কলয়িতা শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের Post-Graduate Teaching in Arts –এর ব্যবস্থাপক সমিতির সভাপতির নিকট গ্রন্থ প্রকাশের জন্য আবেদন করেন। উক্ত সভাপতি মহাশয় এ বিষয়ে অভিমতপ্রকাশের জন্য অধ্যাপক ভাষাচার্য শ্রী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে অনুরোধ করেন। শ্রী চট্টোপাধ্যায় যেহেতু পূর্বেই পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করেছিলেন সেহেতু তিনি কালবিলম্ব না করেই সাগ্রহে অভিধানপ্রকাশবিষয়ে অনুমতি প্রদান করলেন। কিন্তু বিশ্বভারতীর মতই ব্যয়বাহুল্যের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় আর এ ব্যাপারে অগ্রসর হয়নি। ভাষাচার্য শ্রী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অশেষ প্রয়াস সত্ত্বেও সেই সময় গ্রন্থপ্রকাশ সম্ভব হল না। তখন অভিধানসঙ্কলয়িতা স্বয়ং স্ব-অর্থব্যয়ে ১৩৪০ সাল থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে এই অভিধানের ধারাবাহিক প্রকাশ আরম্ভ করেন। ১৩৫৩ সালে ১০৫ খণ্ডে এই মুদ্রণ পরিসম্পন্ন হয়। এর অনতিকালপরে ১০৫ খণ্ডের এই অভিধান পাঁচ ভাগে ক্রমে ক্রমে প্রচারিত হয়।

অভিধান প্রসঙ্গে বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ববর্গের অভিমত[সম্পাদনা]

নোবেলজয়ী কবি এবং শ্রী হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত শুভানুধ্যায়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষার এই সম্পদ প্রসঙ্গে লিখেছেন,

(শান্তিনিকেতন, ৮ আশ্বিন ১৩৩৯)

বিশিষ্ট সাহিত্যিক রাজশেখর বসুও শ্রী চট্টোপাধ্যায়ের এই প্রয়াসকে সাধুবাদ জ্ঞাপন করে লিখেছেন,

(৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৪)

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • বঙ্গীয় শব্দকোষ, সাহিত্য অকাদেমি