নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

স্থানাঙ্ক: ২২°৪৪′৫০″উত্তর ৯০°০৬′১৩″পূর্ব / ২২.৭৪৭২° উত্তর ৯০.১০৩৬° পূর্ব / 22.7472; 90.1036

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা
BD Districts LOC bn.svg
Red pog.svg
নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি)
বিভাগ
 - জেলা
বরিশাল বিভাগ
 - পিরোজপুর জেলা
স্থানাঙ্ক ২২°৪৪′৫০″উত্তর ৯০°০৬′১৩″পূর্ব / ২২.৭৪৭২° উত্তর ৯০.১০৩৬° পূর্ব / 22.7472; 90.1036
আয়তন ১৯৯.১৪ বর্গকিমি
সময় স্থান বিএসটি (ইউটিসি+৬)
জনসংখ্যা
 - ঘনত্ব
 - শিক্ষার হার
২,১২,২৩২জন[১]
 - ১,০৫৩ বর্গকিমি
 - ৭২%
ওয়েবসাইট: উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইট

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান[সম্পাদনা]

উত্তরে বরিশাল জেলার বানারিপাড়া উপজেলা, পূর্বে ঝালকাঠি জেলা, দক্ষিণে কাউখালী উপজেলা ও পশ্চিমে নাজিরপুর উপজেলা

প্রসাশনিক এলাকা[সম্পাদনা]

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলা ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি পৌরসভায় বিভক্ত। এগুলো হলো:

  1. স্বরূপকাঠী পৌরসভা
  2. বলদিয়া ইউনিয়ন
  3. সোহাগদল ইউনিয়ন
  4. স্বরূপকাঠী ইউনিয়ন
  5. কুডিয়ানা ইউনিয়ন
  6. জলাবাড়ী ইউনিয়ন
  7. দৈহারী ইউনিয়ন
  8. গুয়ারেখা ইউনিয়ন
  9. সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন
  10. সুটিয়াকাঠী ইউনিয়ন
  11. সারেংকাঠী ইউনিয়ন

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নেছারাবাদ উপজেলার পটভূমি:

পিরোজপুর জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা বা থানা নেছারাবাদ। ১৭৯০ সালে পিরোজপুর থানার উত্তরাংশে কাউখালী গ্রাম সংলগ্নে কালীগঙ্গা নদীর তীরে কেওয়ারী গ্রামে কেওয়ারী নামে একটি থানা স্থাপিত হয়। কালের প্রবাহে কেওয়ারী গ্রাম কালীগঙ্গা নদীতে বিলীন হয়। পরবর্তীতে সময়ে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ১৯০৬ সালে কেওয়ারী থানা স্থানান্তরিত হয় এবং স্বরূপকাঠীতে উহা পূনঃ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলা-বিহার উড়িষ্যার নবাব আলীবর্দী খানের কাছ থেকে এক সনদ গ্রহণের মধ্য থেকে বাংলা ১১৪৯ সালে (ইংরেজী ১৭৪২ সাল) রতনদি কালিকাপুর পরগনার সৃষ্টি হয়। এ পরগনাটিতপ্পে নাজিরপুরের অংশসহ অন্যান্য অঞ্চল নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে গঠিত হয়। জনৈক রত্নেশ্বরের পুত্র কৃষ্ণ রাম এ পরগনার সঙ্গে সংযুক্ত হন। নাজিরপুর এবং সেলিমাবাদ পরগনার বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে এ পরগনার জন্ম।

স্বরূপকাঠী থানা সংশ্লিষ্ট অঞ্চল রতনদি কালিকাপুর পরগনার অর্ন্তগত ছিল। মূল জমিদার এপরগনার রাজস্ব যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারলে, এ জমিদারীর অংশ তিন জনে খরিদ করেন। তারা হলেন, স্বরূপ চন্দ্র গুহ, বৃন্দাবন চক্রবর্তী এবং চন্দ্রনাথ সেন। স্বরূপকাঠীর জমিদার স্বরূপ চন্দ্রগুহের পৈত্রিক নিবাস এ অঞ্চলেই ছিল বলে লোকশ্রুতি আছে।

হীরালাল গুপ্তের স্বাধীনতা সংগ্রামে বরিশাল বইয়ের ১৭ পৃষ্ঠায় উদ্বৃত আছে যে, ১৮৮০সালের পূর্বে বরিশালে ১৭ জন উকিল এবং ব্যারিষ্টারের মধ্যে স্বরূপ চন্দ্রগুহ ছিলেন স্বনামধ্যন্য এবং বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। তিনি এতটা সম্মান এবং প্রভাব প্রতিপত্তির অধিকারী ছিলেন যে, তার সঙ্গে আর কারো তুলনা হয় না। তিনিআরবি, ফার্সি, উর্দু প্রভৃতি ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন। তাঁর অসাধারণ বক্তৃতা ক্ষমতা ছিল। তাঁর ফার্সি ভাষায় বিশুদ্ধ উচ্চরণের সঙ্গে আইনের বক্তৃতা শোনবার জন্য প্রত্যহ আদালত গৃহে লোকে লোকারণ্য হত। স্বরূপ চন্দ্রগুহ ওকলাতি করে বহু অর্থ উপার্জন করেছিলেন এবং বহু অর্থ ব্যয়ে জমিদারীর অংশ ক্রয় করে, ‘‘রায় চৌধুরী’’ আখ্যা লাভ কনের। ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে (বাংলা ১২৭৬বঙ্গাব্দে) বন্যায় দক্ষিণ শাহবাজপুরের গ্রামগুলো বিধ্বসতস্ত হওয়ায় স্বরূপচন্দ্র ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা বিনা সুদে দুর্গত জনগণের সাহায্যার্থে ঋণ দিয়েছিলেন। এ মহৎ ব্যক্তিত্বের নামে স্বরূপকাঠী থানার নামকরণ হয় বলে কথিত আছে। অন্যদিকে স্বরূপ চন্দ্র গুহের পুত্র গোবিন্দ চন্দ্র গুহের নাম অনুসারে স্বরূপকাঠীর সারেংকাঠী উইনিয়নের একটি গ্রামের নাম গোবিন্দ গুহ কাঠীহয়। এরপর তাকে মুনিনাগ নামে আখ্যায়িত করা হয়। সেখানে এখনও স্বরূপ চন্দ্রগুহের বংশধরেরা বসবাস করছেন।

স্বরূপকাঠী ছিল গভীর জঙ্গল এবং জলাভূমিতে পূর্ণ। স্বরূপ দত্ত নামে জনৈক আবাদকারীজঙ্গল আবাদ করেন। তিনি জঙ্গল আবাদ করে গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। স্বরূপকাঠীরদত্ত পরিবারও তার বংশধর। তার নামে স্বরূপকাঠী হয়েছে বলে অন্য একটি জনশ্রুতি আছে।

অন্যভাবে কথিত আছে যে, এককালে সন্ধ্যা নদীর তীরে গাছপালা, বন বাদারে আবৃত গ্রামটির নয়নাভিরাম দৃশ্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। স্বরূপে তার পরিচিয়ের বিস্মৃতিএবং বিস্তর ঘটে। যার কারণে স্থানটির নাম হয় স্বরূপকাঁটি বা স্বরূপকাঠী। স্বরূপ অর্থ স্বীয় বা নিজ রূপ এবং কাঁটি বা কাঠি অর্থ একনর কন্ঠহার (সোনারকাটিঁ)। ১৯৮৫ সালে শর্ষিণার বিখ্যাত পীর, এ অঞ্চলের বুজর্গ অলি, মহান সাধক হজরত মাওলানা নেসার উদ্দিন(রঃ)-এর নামে স্বরূপকাঠী থানার নাম পরিবর্তন করে নেছারবাদ থানা রাখা হয়।

অর্থনীতি[সম্পাদনা]

ব্যবসা বানিজ্য

নেছারাবাদ উপজেলা মূলত ব্যবসা সফল এলাকা। কৃষি পন্যের উৎপাদন সন্তোষজনক হলেও কাঠ ব্যবসার জন্য স্বরূপকাঠীর নাম দেশব্যপী পরিচিত। কাঠ ব্যবসা এখানকার প্রধান ব্যবসা হলেও বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বিভিন্ন কুটির শিল্পের মাধ্যমে ব্যবসা-বানিজ্যে ব্যপক প্রসার ঘটেছে। এ এলাকায় প্রচুর পরিমানে মালবাহী ট্রলার রয়েছে। যা এ এলাকা ছাড়াও দেশের সব প্রান্তে মালামাল পরিবহন কাজে নিয়োজিত আছে।

প্রধান শস্য[সম্পাদনা]

পেয়ারা, আমড়া, সুপারি, নারিকেল, কলা, পান।

জনসংখ্যা[সম্পাদনা]

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার জনসংখ্যা ৩১৯৩৫৯ জন। পুরুষ২১২২৩২ জন ও মহিলা ১০৭১২৭ জন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  1. মহাবিদ্যালয় ৭ টি
  2. মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৪টি
  3. সরকারি প্রা: বিদ্যালয় ১৪টি
  4. রেজি: প্রাথ: বিদ্যালয় ৪৩টি
  5. মাদ্রাসা২১টি

কৃতী ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন,

শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম:-

ক। শহীদ সুভাষ চন্দ্র হালদার খ। শহীদ মোঃ আবু জাফর মন্টু গ। শহীদ মোঃ আলী হোসেন ঘ। শহীদ নির্মল চন্দ্র হালদার ঙ শহীদ আলমগীর বাহাদুর চ। শহীদ আবুল কালাম আজাদ ছ। শহীদ কাজী শামসুল হক

সরকারী হাসপাতাল[সম্পাদনা]

  • নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • স্বরূপকাঠি উপজেলার বর্তমান এম পি হলেন জনাব আলহাজ মোহাম্মদ শাহ আলম।
  • স্বরূপকাঠি উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন জনাব মোহাম্মদ এস এম মুইদুল ইসলাম মুহিদ।
  • স্বরূপকাঠি উপজেলার বর্তমান ভাইস-চেয়ারম্যান হলেন জনাব আমিনুল ইসলান রন।
  • এনায়েত হোসেন খান (রাজনীতি ) সাবেক এম পি ইউনিয়ন অফ ক্লারিক্যাল এ্যাসিট্যান্স অফ সেক্রেটারিয়েট ইন ইস্ট পাকিস্তান নামক এক শক্তিশালী সংগঠনের জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন।
  • মোঃ জয়নুল আবেদীন (আইনজীবী-রাজনীতি) মহকুমা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন, ২০১৪)। "এক নজরে নেছারাবাদ উপজেলা"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। সংগৃহীত ২৪ মার্চ, ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]