মাটির ময়না

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মাটির ময়না
Matirmoina.jpg
পরিচালক তারেক মাসুদ
প্রযোজক ক্যাথরিন মাসুদ
রচয়িতা তারেক মাসুদ,
ক্যাথরিন মাসুদ
অভিনেতা নুরুল ইসলাম বাবু,
রাসেল ফরাজী,
জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়,
রোকেয়া প্রাচী,
শোয়েব ইসলাম,
লামিসা রিমঝিম
চিত্রগ্রাহক Sudheer Palsane
বণ্টনকারী অডিওভিশন/এমকে২
মুক্তি ২০০২
দৈর্ঘ্য ৯৮ মিনিট
ভাষা বাংলা

মাটির ময়না (ইংরেজি নাম: The Clay bird) তারেক মাসুদ পরিচালিত একটি বাংলা চলচ্চিত্র। ছবিটি ২০০২ সালে মুক্তি পায়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বেগের পটভূমিতে তারেক মাসুদের মাদ্রাসায় জীবনের অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে ঐতিহাসিক ঘটনার উদ্ধৃতি থাকলেও সেগুলো একটি কিশোরের মানবিক অভিজ্ঞতায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদ্রাসায় তার শিক্ষক, সহপাঠীদের আচরণ আর পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্কের ভিতর দিয়ে চলচ্চিত্রটির কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে। ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে পুরষ্কুত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছিল। বহিষ্কারাদেশ বাতিল হবার পর ২০০৫ সালের ১৬ই এপ্রিল ডিভিডি ভার্সন প্রকাশিত হয়। মাটির ময়না চলচ্চিত্রটি প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে "শ্রেষ্ঠ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র" বিভাগে একাডেমি পুরস্কার প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বাংলাদেশের মনোনয়ন লাভ করে।

কাহিনীর সারাংশ[সম্পাদনা]

ষাটের দশকের উত্তাল সময়ের প্রেক্ষাপট হতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগের সময়ের একটি পরিবার কিভাবে যুদ্ধ ও ধর্মের কারণে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় তার গল্প নিয়ে তৈরি এ চলচ্চিত্র। পরিচালকের নিজের ছোটবেলার কাহিনীর জীবনের উপর ভিত্তি করে এ ছবির কাহিনী গড়ে উঠেছে। অত্যন্ত ধার্মিক বাবা কাজী সাহেব তাঁর ছোট্ট ছেলে আনুকে পড়াশোনার জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে দেন। দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের পাশাপাশি আনুর মাদ্রাসাতেও চরম ও মধ্যপন্থী মতবাদের বিকাশ ঘটতে থাকে। বিভক্তির এই একই চিত্র দেখা যায় গোঁড়া ধার্মিক কাজী ও তাঁর স্বাধীনচেতা স্ত্রী আয়েশার মধ্যে । ধর্মীয় উদারতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ইসলামের দুর্বোধ্যতা এ সব কিছু মিলিয়ে মাটির ময়না জাগতিক দ্বন্দ্বের একটি দৃশ্যমান প্রতিকৃতি।

চরিত্রায়নে[সম্পাদনা]

তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদের মতে, চলচ্চিত্রটির প্রায় পুরোটুকু স্থানীয় অ-পেশাদার পরিবেশে ও স্থানীয় শব্দগ্রহণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফিতে বাংলাদেশের আকর্ষণীয় ঋতু বৈচিত্র্য ও উতসবের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

  • আনু - নুরুল ইসলাম বাবলু
  • রোকন - রাসেল ফরাজী
  • কাজী - জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
  • আয়েশা - রোকেয়া প্রাচী
  • মিলন - শোয়েব ইসলাম
  • আসমা - লামিসা আর. রিমঝিম
  • ইবরাহিম - মঈন আহমেদ
  • হেডমাষ্টার - মোঃ মোসলেমউদ্দিন
  • করিম মাঝি - শাহ্ আলম দেওয়ান
  • হালিম মিয়া - আবদুল করিম

কলা কুশলী[সম্পাদনা]

  • পরিচালনা - তারেক মাসুদ
  • প্রযোজনা - ক্যাথরিন মাসুদ
  • চিত্রনাট্য - তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ
  • প্রধান সিনেমাটোগ্রাফী - সুধীর পালসনে
  • অতিরিক্ত সিনেমাটোগ্রাফী - মাকসুদুল বারী, রঞ্জন পালিত
  • সম্পাদনা - ক্যাথরিন মাসুদ
  • শব্দ গ্রহণ - ইন্দ্রজিত নিয়োগী
  • শিল্প নির্দেশনা - কাজী রকিব, সিলভেইন নাহমিয়াস, তরুণ ঘোষ
  • সঙ্গীত পরিচালক - মৌসুমী ভৌমিক
  • শব্দ সংযোগ - রতন পাল

সম্মাননা ও পুরস্কার[সম্পাদনা]

চিন্তামগ্ন আনু
  • ফিপরেস্কি ইন্টারন্যাশনাল ক্রিটিকস্ এওয়ার্ড, কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ২০০২;
  • সেরা চলচ্চিত্র ও ২ টি অন্য পুরস্কার, কারাফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, পাকিস্তান ২০০৩;
  • সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা পরিচালক, চ্যানেল আই ফিল্ম এওয়ার্ড, ২০০৩;
  • সেরা চলচ্চিত্র ও ৫ টি অন্যান্য পুরস্কার, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি, ২০০৩;
  • বিদেশী ভাষার অস্কার পুরস্কারের জন্য বাংলাদেশের প্রথম মনোনীত চলচ্চিত্র;
  • ফরাসি সরকারের সাউথ ফান্ড কর্তৃক স্ক্রিপ্ট (চিত্রনাট্য) এওয়ার্ড।

বিতর্ক ও সেন্সরশিপ[সম্পাদনা]

মাটির ময়না বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে কান ফিল্ম ফেস্টিভালের জন্য নির্বাচিত হয় এবং ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগের সূচনা চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সময় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড মনে করে ছবিটি বাংলাদেশে প্রদর্শনের জন্য অতিরিক্ত স্পর্শকাতর। তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মামলা করেন এবং তাদের সপক্ষে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়। ফলে, ২০০২ সালের শেষের দিকে চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশে প্রদর্শিত হবার অনুমতি লাভ করে।

ডিভিডি[সম্পাদনা]

মাটির ময়নার ডিভিডি লেজার ভিশন থেকে প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল। এতে দু’ঘণ্টার অতিরিক্ত তথ্যচিত্র যোগ হয়েছে যাতে দৃশ্যধারণ, সাক্ষাৎকার ও দর্শকদের মতামত স্থান পেয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইণ্টারএ্যাকটেড ডিভিডি হিসেবে বিবেচিত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

তথ্যসূত্রঃ[সম্পাদনা]