এটি একটি ভাল নিবন্ধ। আরও তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন।

মাটির ময়না

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মাটির ময়না
চলচ্চিত্রের পোস্টার
চলচ্চিত্রের পোস্টার
পরিচালকতারেক মাসুদ
প্রযোজকক্যাথরিন মাসুদ
রচয়িতাতারেক মাসুদ
চিত্রনাট্যকার
  • তারেক মাসুদ
  • ক্যাথরিন মাসুদ
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারমৌসুমী ভৌমিক
চিত্রগ্রাহকসুধীর পাল্‌সানে
সম্পাদকক্যাথরিন মাসুদ
প্রযোজনা
কোম্পানি
পরিবেশক
  • এমকেটু ডিফিউশন (আন্তর্জাতিক বিক্রয়, দক্ষিণ এশিয়া ব্যতীত)
  • মাইলস্টোন ফিল্ম অ্যান্ড ভিডিও (যুক্তরাষ্ট্র/কানাডা)
  • অডিওভিশন (দক্ষিণ এশিয়া)
  • অঅইসিএ প্রজেক্টস (যুক্তরাজ্য)
মুক্তি
দৈর্ঘ্য৯৮ মিনিট
দেশবাংলাদেশ
ভাষাবাংলা
নির্মাণব্যয়$৩,০০,০০০
আয়প্রা. $৪৬,৮৫২ (নিচে দেখুন)

মাটির ময়না (ইংরেজি: The Clay Bird) ২০০২ সালের বাংলাদেশী বাংলা যুদ্ধভিত্তিক নাট্য চলচ্চিত্র। এটি রচনা এবং পরিচালনা করেছেন তারেক মাসুদ। এটি তারেক পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তারেকের গল্প অবলম্বনে যৌথভাবে চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তারেক এবং ক্যাথরিন মাসুদ। চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে তারেক মাসুদের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। চলচ্চিত্রের মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নুরুল ইসলাম বাবলু, রাসেল ফরাজী, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, শোয়েব ইসলাম এবং লামিসা আর রিমঝিম।

পুরো চলচ্চিত্র জুড়ে ঐতিহাসিক ঘটনার উদ্ধৃতি থাকলেও সেগুলো একটি কিশোরের মানবিক অভিজ্ঞতায় প্রকাশিত হয়েছে। মাদ্রাসায় তার শিক্ষক, সহপাঠীদের আচরণ আর পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রটির কাহিনি এগিয়ে যায়। ফরাসি সরকারের প্রাথমিক অর্থায়নে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শুরু হয়েছিল। ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়। ক্যাথরিন মাসুদের প্রযোজনায় চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর বক্স অফিসে প্রায় $৪৬,৮৫২ মার্কিন ডলার আয় করে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে বহিষ্কারাদেশ বাতিলের পর ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল লেজার ভিশন চলচ্চিত্রটির ভিসিডি এবং ডিভিডি সংস্করণ মুক্তি দেয়। ২০০২ সালে প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে মাটির ময়না কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টর্স ফোর্টনাইট আয়োজনে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে ফিপরেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের পুরস্কার লাভ করে। ২০০৪ সালে চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পীশ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। এছাড়াও ২৪তম বাচসাস পুরস্কার অনুষ্ঠানে পাঁচটি বিভাগে পুরস্কার সহ বিভিন্ন দেশিয়-আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতে। এটি ২০০২ সালে ৭৫তম একাডেমি পুরস্কার অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশের নিবেদিত প্রথম চলচ্চিত্র।[১]

কাহিনিসংক্ষেপ[সম্পাদনা]

মাটির ময়না ষাটের দশকের শেষভাগে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বের অশান্ত সময়ের পটভূমিতে যুদ্ধ ও ধর্মের কারণে বিচ্ছিন্ন একটি পরিবারের গল্প।[২] পরিচালকের মাসুদের ছেলেবেলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্রটি আনু (নুরুল ইসলাম বাবলু) নামের এক কিশোর চরিত্রের জীবনের গল্পের মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। আনুর বাবা কাজি (জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়) একজন ধর্মান্ধ মুসলিম, যিনি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের অনুশীলন করতেন। আনুর মা আয়েশা (রোকেয়া প্রাচী) একসময় প্রফুল্ল মেয়ে ছিলেন, যিনি বিবাহের পর কাজির ধর্মান্ধতার কারণে ক্রমশ বশীভূত হয়ে পড়েন। আনুর ছোট বোন আসমা। কাজির কনিষ্ঠ ভাই মিলন পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এমন স্থানীয় রাজনীতিতে জড়িত। যিনি বামপন্থী চিন্তার অনুসারি। কাজির অপছন্দ স্বত্তেও তিনি আনুকে হিন্দু উৎসব আর নৌকা বাইচ দেখাতে নিয়ে যান। চলচ্চিত্রে লোকগান, পুঁথিপাঠ, চৈত্রসংক্রান্তি তথা চড়ক পূজা, সূচিকর্ম, গ্রামীণ মেলা, বাহাস ইত্যাদি আবহমান ধর্মনিরপেক্ষ বাংলার সংস্কৃতি চিত্র দেখানো হয়।[৩]

কাজি নিজের ধর্মীয় মূলবোধ থেকে আনুকে মাদ্রাসায় (ইসলামি বিদ্যালয়) পাঠিয়ে দেন। মাদ্রাসায় আনুর নিঃসঙ্গ ছাত্র রোকনের (রাসেল ফরাজী) সাথে তার পরিচয় ঘটে এবং বন্ধুত্ব হয়। অন্যান্য ছাত্রদের তুলনায় রোকনের ভূমিকা ভিন্ন।[৪] সে আনুকে একটি কাল্পনিক বল দিয়ে ক্যাচ খেলতে আমন্ত্রণ জানান। মাদ্রাসায় থাকাকালীন সময়ে আনুর বোন আসমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। আধুনিক ওষুধ সেবনে আনুর বাবা কাজির অস্বীকৃতি এবং নিজস্ব হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ফলে আসমা মারা যায়।

রাজনৈতিক উত্থান মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আনুর পরিবারে অভ্যন্তরীণ সংকট ঘটতে থাকে। রাজনৈতিক বিভাজন তীব্র হওয়ার সাথে সাথে আনুর মাদ্রাসায়ও মধ্যপন্থীচরমপন্থী মতবাদের বিকাশ ঘটতে থাকে এবং ক্রমবর্ধমান বিভাজন সৃষ্টি হয়। বিভক্তির একই চিত্র দেখা যায় আনুর পরিবারে ও তার স্বাধীনচেতা মা আয়েশার মধ্যে। ধর্মীয় উদারতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এবং ইসলামের দুর্বোধ্যতা প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত্রটি সংকটাপন্ন বিশ্বে সর্বজনীন প্রাসঙ্গিকতার অবতাড়না করে।

অভিনয়ে[সম্পাদনা]

তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদের মতে, চলচ্চিত্রটির প্রায় পুরোটুকু স্থানীয় অ-পেশাদার পরিবেশে ও স্থানীয় শব্দগ্রহণের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছে।

  • নুরুল ইসলাম বাবলু – আনু/আনোয়ার
  • রাসেল ফরাজী – মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন, আনুর বন্ধু
  • জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় – কাজি, আনুর বাবা
  • রোকেয়া প্রাচী – আয়েশা, আনুর মা
  • শোয়েব ইসলাম – মিলন, আনুর চাচা
  • লামিসা আর রিমঝিম – আসমা, আনুর ছোট বোন
  • মঈন আহমেদ – ইব্রাহীম, মাদ্রাসার শিক্ষক
  • এমডি মোসলেমউদ্দিন – বাকিউল্লাহ, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক
  • আবদুল করিম – হালিম মিয়া
  • শাহ্ আলম দেওয়ান – করিম মাঝি
  • গোলাম মাহমুদ – শাহীন
  • প্রদীপ মিত্র মিঠুন – উত্তম
  • অয়ন চৌধুরী – আনুর ৩য় বন্ধু
  • মাসুদ আলি খান – খান বাহাদুর
  • আমেনা খাতুন – মা
  • মনজিলা বেগম – রাতের কনসার্টের গায়িকা
  • আয়নাল মিয়া – দিনের কনসার্টে গায়ক
  • নাসিমা আক্তার – দিনের কনসার্টে গায়িকা
  • আবদুল মালেক – রাতের কনসার্টে সহযোগী
  • গুরুধান – রাতের কনসার্টে সহযোগী
  • নুরু মিয়া চিস্তি – রাতের কনসার্টে সহযোগী
  • শফিক – দিনের কনসার্টে সহযোগী
  • মজিবুর রহমান – দিনের কনসার্টে সহযোগী
  • ইমরান আলী সরকার – দিনের কনসার্টে সহযোগী
  • আবদুল কাদির – দিনের কনসার্টে সহযোগী
  • ইব্রাহিম বোয়াতী – নৌকার গায়ক
  • কামরুল – মাদ্রাসা শিক্ষার্থী
  • জসিম ১ – মাদ্রাসা শিক্ষার্থী
  • জসিম ২ – মাদ্রাসা শিক্ষার্থী
কলাকুশলী
  • অতিরিক্ত চিত্রগ্রহণ – মাকসুদুল বারী, রঞ্জন পালিত
  • প্রথম ক্যামেরা সহকারী – গেইতান রুশো
  • শব্দ গ্রহণ – ইন্দ্রজিত নিয়োগী
  • অতিরিক্ত শব্দ গ্রহণ – আবদুস সাত্তার রিপন, কেরামত আলী
  • শিল্প নির্দেশনা – কাজী রকিব, সিলভেইন নাহমিয়াস, তরুণ ঘোষ
  • পরিচ্ছদ পরিকল্পনা – মাসুদা কাজী, কাজী রকিব
  • শব্দ মিশ্রণ – রতন পাল

প্রাক-নির্মাণ[সম্পাদনা]

"চলচ্চিত্রটি আমার জীবনের প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রের মূলচরিত্র ছেলেবেলায় আমি যা ছিলাম। আমাকে এমন একটি মাদ্রাসায় পাঠানো হয়েছিল যেখানে আমি ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি এবং চলচ্চিত্রটি আমার অভিজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরেছে।"
— তারেক মাসুদ[৫]

বেশকিছু বছর ধরে ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) তারেকের মাদ্রাসায় (ইসলামিক বিদ্যালয়) শৈশবকালীন আত্মজীবনীমূলক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে[৬] একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন তারেক মাসুদক্যাথরিন মাসুদ[৭] এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত অশান্ত সময়, যখন বৃহত্তর ইসলামি রাষ্ট্র পাকিস্তানের পূর্ব শাখা হিসাবে দেশটি একটি শক্তিশালী ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মতবিরোধ ও সংস্কারকে দূরে রাখার প্রতিবাদী একটি ইসলামপন্থী সামরিক জান্তার মধ্যে বিভক্ত হয়েছিল।[৮] চলচ্চিত্রে সেই সময়ের ঐতিহাসিক ঘটনার তির্যক উল্লেখ থাকলেও তা মূলত একটি মানবিক, শিশুর দৃষ্টিতে দেখানো হয়েছে।[৯] ২০০০ সালের মে মাসে, চিত্রনাট্যের মানের ভিত্তিতে চলচ্চিত্র প্রযোজনার জন্য মাসুদ ফরাসি সংস্কৃতি ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং ইউরোপ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফন্ডস স্যুদ (দক্ষিণ তহবিল) অনুদান লাভ করে। প্রাপ্ত অনুদানের মধ্যে চলচ্চিত্র সংভার, ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরা সরঞ্জাম এবং নির্মাণ প্রযুক্তিগত গুণমান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণাগার সুবিধাগুলি অন্তর্ভূক্ত ছিল।[১০] পরবর্তীতে সহ-প্রযোজনা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশক হিসেবে প্যারিস ভিত্তিক প্রযোজনা ও পরিবেশন সংস্থা এমকেটু চুক্তিবদ্ধ হয়।[১১][১০] ক্যাথরিন মাসুদের সঙ্গে একাধিক প্রযোজক চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় অংশ নিয়েছিল, যেখানে নাথালিস ক্রেকুথার।

নির্মাণ[সম্পাদনা]

২০০০ সালের শেষের দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দেড় বছরব্যপী চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উচ্চাভিলাষী ব্যাপক মৌসুমি শুটিং এবং সময়ের প্রকাশনা নকশা জড়িত প্রকল্পে মাসুদ-ক্যাথরিন নিজেদের সমগ্র সঞ্চয়ের বিনিয়োগ ঘটান। পুরোপুরি অ-​​পেশাদারদের অভিনয়শিল্পীর সমন্বয়ে গঠিত চরিত্রগুলিতে পথশিশু, প্রকৃত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, লোকসঙ্গীতশিল্পী এবং গ্রামবাসীদের নেয়া হয়েছে। প্রথম বাংলাদেশী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে মাটির ময়না চলচ্চিত্রে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা এবং বাস্তব পরিবেশ ধরে রাখতে বিভিন্ন দৃশ্যে সরাসরি শব্দধারণ করা হয়েছিল।[১০] শীত, বর্ষা এবং বসন্তের মরসুমে ধামরাইফরিদপুরের গ্রামীণ পটভূমিসহ ছোট শহরের প্রকৃত অবস্থানে বছরব্যপী চলচ্চিত্রের দৃশ্যধারণ করা হয়।[১০] ২০০২ সালের প্রথমদিকে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ শেষ হয়।[১০]

নির্মাণ পরবর্তী[সম্পাদনা]

সঙ্গীত ও সাউন্ডট্র্যাক[সম্পাদনা]

সবগুলি গান লিখেছেন এ.টি. মাসুদ

নং.শিরোনামপরিবেশনকারীদৈর্ঘ্য
১."পাখিটা বন্দি আছে"মমতাজ 
২."পুথিপাঠ"শাহ আলম দেওয়ান 
৩."শেরে খোদা আলী সাবে"ইব্রাহীম বয়াতি 
৪."যদি ভেস্তে যাইতে চাও"আয়নাল মিয়া, মমতাজ৪:২২

মুক্তি[সম্পাদনা]

প্রদর্শনী[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ২০০২ সালের ১৫ মে ৫৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবের ডিরেক্টর্স ফোর্টনাইটে এটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী হয়।[১০][১২] ইউরোপ-আমেরিকায় বাণিজ্যিক মুক্তির পাশাপাশি চলচ্চিত্রটি পরবর্তী বছরগুলিতেও একাধিক উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। ২০০২ সালের আগস্টে এডিনবরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেকানাডার মন্ট্রিয়ল আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে[১৩], ৯ অক্টোবর স্পেনে সিটেজ চলচ্চিত্র উৎসবে[১৪] এবং মিশরের কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়।[১৫]

২০০৩ সালের ১১ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়।[১৬] সে বছর ৯ ফেব্রুয়ারি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়। ৫ এপ্রিলে নিউ ইয়র্কের ফিল্ম সেন্টার অব দ্য লিংকন সেন্টার এবং মিউজিয়াম অব মর্ডান আর্টের যৌথ আয়োজনে নিউ ডিরেক্টর্স/নিউ ফিল্ম উৎসবে চলচ্চিত্রটি নির্বাচিত হয়।[১০] ১৭ ডিসেম্বর ভারতের ৮ম কেরালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়।[১৭] ২০০৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হয়। ২৪ মার্চ একটি প্রেস স্ক্রিনিংও অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মাটির ময়না প্রদর্শিত হয়।[১৮] ২০১৬ সালে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি আরবের উদ্যোগে ভারত দুতাবাসে চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী আয়োজিত হয়।[১৯] ২০১৯ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের করাচিতে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন, করাচির আয়োজনে গেটে ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী আয়োজন করে।[২০]

বাণিজ্যিক মুক্তি[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি প্রথমে ফ্রান্সের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল। যদিও বাংলাদেশে প্রদর্শনী নিষিদ্ধকরণের কারণে প্রাথমিকভাবে চলচ্চিত্রটির কোনো বাণিজ্যিক প্রদর্শনী হয় নি। তবে পরবর্তীতে শুধুমাত্র দুইটি প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেয়েছিল।[২১] ২০০৪ সালের ৩০ এপ্রিল নিউ ইয়র্ক এবং সান ফ্রান্সিসকো উপকূল অঞ্চলের প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়।[১৫][২২] ২০০২ সালের অক্টোবরে এটি ঢাকার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। ২০০৩ সালের ৪ জুলাই প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র হিসেবে যুক্তরাজ্যে এটির বাণিজ্যিক মুক্তি দেয়া হয়। ১৪ আগস্ট বাংলাদেশে ৪-সপ্তাহ ব্যাপী প্রদর্শনীর কারণে এটি রেকর্ড করেছিল।[১০] ২০০৭ সালের ২৯ জুলাই ভারতের কলকাতায় চলচ্চিত্রটি বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পায়।[২৩]

বিতর্ক ও সেন্সরশিপ[সম্পাদনা]

কান চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়ার পর ফরাসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি চলচ্চিত্রটির বাংলাদেশের ইতিবাচক চিত্র এবং সহনশীল ঐতিহ্যের জন্য প্রশংসিত হলেও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বিবেচনায় মাটির ময়না চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করে।[৬][১০][২৪] এছাড়াও এটি মাদ্রাসা ব্যবস্থার বিকৃত চিত্র প্রদান করে বলে নিষেধাজ্ঞায় দাবী করা হয়েছিল।[২৫] নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বাংলাদেশর গণমাধ্যমগুলিতে এবং ইন্টারনেটে বিশাল প্রচারণা শুরু হয়েছিল যা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করেছিল। তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে মামলা দায়ের করেন এবং তাদের সপক্ষে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়।[১০] ফলে, ২০০২ সালের শেষের দিকে চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশে প্রদর্শিত হবার অনুমতি লাভ করে।

টেলিভিশন সম্প্রচার[সম্পাদনা]

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশন প্রচার কোম্পানি চ্যানেল ফোর চলচ্চিত্রটির যুক্তরাজ্য পরিবেশক আইসিএ থেকে সম্প্রচারের স্বত্ব কিনে নেয়। চলচ্চিত্রটি ২০০৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম বাংলাদেশী চলচ্চিত্র হিসেবে সম্প্রচারিত হয়।[১৫] পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা এবং ২০ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের টেলিভিশনে চলচ্চিত্রটি সম্প্রচারিত হয়েছিল।[২৬]

সমালোচকদের অভ্যর্থনা[সম্পাদনা]

পেশাদারী মূল্যায়ন
সমষ্টিগত স্কোর
উৎসমূল্যায়ন
মেটাক্রিটিক৭৫/১০০[২৭]
রটেন টম্যাটোস৮৯%[২৮]
পর্যালোচনা স্কোর
উৎসমূল্যায়ন
অলমুভি৪/৫ তারকা[২৯]
আলুসিনে৩.৫/৫ তারকা[৩০]
ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ৮.৬/১০ তারকা[৩১]
দ্য গার্ডিয়ান৫/৫ তারকা[৩২]
"সহজেই এই বছরের বা অন্য যে কোনও বছরের সেরা ছবি। সত্যজিৎ রায়ের ভাসমান সমতা এবং ইরানি পরিচালক আব্বাস কিয়ারোস্তামির কাজ দ্বারা সমানভাবে অনুপ্রাণিত মাসুদের অকপট তারল্য উল্লাসপূর্ণ হয়ে ওঠে।"

এলভিস মিচেল, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস[৯]

মূলত সমালোচক, দর্শক এবং চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছ থেকে মাটির ময়না ইতিবাচক পর্যালোচনা অর্জন করেছিল, যারা চলচ্চিত্রটির ঐতিহাসিক এবং সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন। চলচ্চিত্র পর্যালোচনা ওয়েবসাইট অলমুভিতে চলচ্চিত্রটি গড় ৪/৫ রেটিং লাভ করে।[২৯] ফরাসি চলচ্চিত্র ডেটাবেস আলোসিনেতে ১৩টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে গড় ৩.৫/৫ স্বীকৃত রেটিং রয়েছে।[৩০] চলচ্চিত্র পর্যালোচনা সমষ্টিগত ওয়েবসাইট রটেন টম্যাটোসে, চলচ্চিত্রটির ৭.৭৫/১০ গড় রেটিংয়ের পাশাপাশি ২৭টি পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৮৯% স্বীকৃত রেটিং রয়েছে। সাইটটির সমালোচনামূলক বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, "মাটির ময়না" চলচ্চিত্রে "একধরনের দ্বিগুণ বাগ্মিতা রয়েছে"।[২৮] মেটাক্রিটিক, যা এর পর্যালোচনাগুলিকে একটি ওজনদ্বার গড় রেটিং প্রদান করে, যেখানে চলচ্চিত্রটি ১৪ জন সমালোচকদের উপর ভিত্তি করে ৭৫ স্কোর লাভ করেছে, যেখানে "সাধারণত অনুকূলভাবে পর্যালোচনা" অন্তর্ভুক্ত।[২৭]

দ্য গার্ডিয়ানের পিটার ব্র্যাডশো বলেন, "শান্তভাবে দুর্দান্ত চলচ্চিত্রনির্মাণ মুসলিম ইতিহাসের মূল্যবান এবং স্বাধীনতা প্রবৃত্তি, ধর্মীয় গোঁড়ামিবাদ এবং পাশ্চাত্য ইসলামফোবিয়া উভয়ের একটি মূল্যবান ক্ষিপ্র প্রত্যাঘাত। এটি বছরের অন্যতম চলচ্চিত্র।"[৩২] দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আন হর্নাডে লিখেছেন, স্বল্পব্যায়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের জলপথে এবং শহরগুলিতে জীবনের চিত্রের গীতিধর্মিতা তুলে এনেছে, যার কিছু দৃশ্য দর্শকদের জঁ রনোয়ারের ১৯৫১ সালের ক্লাসিক ল্য ফ্লোভ চলচ্চিত্রের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।[৩৩] দ্য বস্টন গ্লোবের টাই বার লিখেছেন, মাটির ময়না নির্মল কল্পনার সাথে ফুটে উঠেছে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক অস্থিরতার সংযোগ।[৩৪] মার্কিন চলচ্চিত্র সমালোচক ফ্র্যাঙ্ক শেক দ্য হলিউড রিপোর্টারে লিখেছেন, চলচ্চিত্রের চরিত্রগুলির প্রতি নির্মাতাদের স্পষ্ট সহানুভূতি এবং তার বিষয় সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ জ্ঞান চলচ্চিত্রটিকে প্রাণবন্ত সত্যতা প্রদান করে। মাইকেল ও'সুলিভান দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনায় মন্তব্য করেন, "মাটির ময়না মানুষের অবস্থা সম্পর্কে বেশকয়েকটি সুন্দর এবং অলস প্রবণতায় আঘাত করে।[৩৫] ফিল্ম জার্নাল ইন্টারন্যাশনালের এরিক মন্ডারের মতে, চলচ্চিত্রটি নিজস্ব নাটকীয়তার জন্য কিছুটা সংযত হলেও অন্তত সমসাময়িক দর্শকদের কাছে প্রাসঙ্গিকভাবে বিশ্ব ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য অংশের উপর আলোকপাত করে। মুভি হ্যাবিটের মার্টি ম্যাপস, চলচ্চিত্রটিকে নৃবিজ্ঞানের একটি ভাল প্রয়াস হিসেবে মন্তব্য করেন।[৩৬] মার্কিন চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ ও সমালোচক ইলিয়াস সাওয়াদা বলেন, "মাটির ময়না একটি অবিশ্বাস্যরূপে নম্র অভিজ্ঞতা"।[৩৭] মার্কিন লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক ফিল হল ফিল্ম থ্রেটে এটিকে বাংলাদেশের দুর্দান্ত চলচ্চিত্র বলে মন্তব্য করেন। মার্কিন সাংবাদিক এবং ইতিহাসবিদ এলিয়ট স্টেইন বলেন, "সর্বপরি মাটির ময়না শৈশবের সরলতা ও বেঁচে থাকার অভিলাষের প্রতি সহানুভূতি – পাশাপাশি সত্যজিৎ রায়ের দুর্দান্ত পথের পাঁচালীর মতোন চিত্তাকর্ষক পরমানন্দ এবং স্বাভাবিক।[৩৮] বিবিসির জেমি রাসেলের মতে, যথেষ্ট দক্ষতার সাথে আনুর শৈশব মধ্য দিয়ে মাসুদ পরিবর্তনের সময়ে ক্রমবর্ধমান মৃদু প্রতিকৃতি তৈরি করেছিলেন।[৩৯] সিয়াটেল চলচ্চিত্র সমালোচক শন জামেকারের মতে, চলচ্চিত্রটি সুস্পষ্ট ও অধরা এবং প্রায় ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যগুলি সমন্বঢে কালজয়ী রচনা।[৪০] পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত জার্মান ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক জামাল মালিক, বলেন মাটির ময়নার গল্প একটি পাঠ্য কাঠামোয় উপস্থাপন করা হয়েছে যা ইউরোপিয় আর্ট ফিল্মের অনুরূপ।[৪১] ভারতীয় চলচ্চিত্রনির্মাতা অপর্ণা সেন চলচ্চিত্রটির প্রশংসা করেন।[৪২][৪৩]

প্রশংসা[সম্পাদনা]

২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর তারেক মাসুদের ৬২তম জন্মদিবসে গুগল ডুডলে তারেক মাসুদকে স্মরণ করা হয়। যেখানে মাটির ময়না চলচ্চিত্রের মাটির পাখি ব্যবহৃত হয়েছে।[৪৪][৪৫]

পুরস্কার এবং মনোনয়নের তালিকা
সংগঠন অনুষ্ঠানের তারিখ বিভাগ প্রাপক এবং মনোনীত ফলাফল তথ্যসূত্র
কান চলচ্চিত্র উৎসব ১৫ মে ২০০২ ডিরেক্টরস' ফোর্টনাইট অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র বিভাগে ফিপরেস্কি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের পুরষ্কার তারেক মাসুদ বিজয়ী [৪৬]
মারাকেশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ২২ সেপ্টেম্বর ২০০২ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তারেক মাসুদ মনোনীত
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্য তারেক মাসুদ, ক্যাথরিন মাসুদ বিজয়ী [৪৭][৪৮][৪৯]
চ্যানেল আই চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৩ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তারেক মাসুদ বিজয়ী [৪৮]
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি ২০০৩ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তারেক মাসুদ, ক্যাথরিন মাসুদ বিজয়ী [৫০]
শ্রেষ্ঠ পরিচালক তারেক মাসুদ বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার তারেক মাসুদ বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার তারেক মাসুদ বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চিত্রসম্পাদক ক্যাথরিন মাসুদ বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক কাজী রাকিব বিজয়ী
কারা চলচ্চিত্র উৎসব ১৭ ডিসেম্বর ২০০৩ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তারেক মাসুদ বিজয়ী [৪৮][৫১][৫২]
শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত মৌসুমী ভৌমিক বিজয়ী [৫৩]
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০০৪ শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী রাসেল ফরাজী বিজয়ী [৫৪]
শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী (বিশেষ পুরস্কার) নুরুল ইসলাম বাবলু বিজয়ী
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার তারেক মাসুদ বিজয়ী
ডিরেক্টর্স গিল্ড অব গ্রেট ব্রিটেন ২০০৪ বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্রে অসামান্য পরিচালনা অর্জন তারেক মাসুদ মনোনীত [৫২]

হোম মিডিয়া[সম্পাদনা]

২০০৪ সালের ১৬ জুন চলচ্চিত্রটির ফরাসি প্রযোজক, পরিবেশক এবং বিশ্ব বিক্রয় প্রতিনিধী এমকেটু ওয়ার্নার ব্রাদার্স হোম এন্টারটেইনমেন্ট ফ্রান্সের অধীনে চলচ্চিত্রের ডিভিডি প্রকাশ করেছে (কেবল অঞ্চল ২ এর জন্য উপযুক্ত)।[৫৫] ২০০৫ সালের ১৫ এপ্রিল মাটির ময়নার ভিসিডি এবং ডিভিডি সংস্করণ লেজার ভিশন থেকে বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়।[১৫] এতে দুই ঘণ্টা ব্যাপী অতিরিক্ত তথ্যচিত্র যুক্ত হয়েছে যাতে দৃশ্যধারণ, সাক্ষাৎকার ও দর্শকদের মতামত রয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিভিডি হিসেবে বিবেচিত।[১৫] চলচ্চিত্রটির উত্তর আমেরিকা পরিবেশক মাইলস্টোন ফিল্মস ২০০৫ সালের শেষে ডিভিডি সংস্করণে চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেয়।[৫৬]

পূর্ববর্তী কাহিনি[সম্পাদনা]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "PRESS CONFERENCE STATEMENT" (ইংরেজি ভাষায়)। ctmasud.site.aplus.net। ৪ নভেম্বর ২০০২। ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  2. আউয়াল, সাজেদুল। "তারেক মাসুদ তাঁর লোকচলচ্চিত্র"কালি ও কলম। ১১ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  3. ব্র্যাডশো, পিটার (২৩ মে ২০০২)। "দ্য ক্লে বার্ড" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য গার্ডিয়ান। ১০ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  4. দত্ত, নন্দিতা (৭ অক্টোবর ২০১১)। "'Matir Moyna' is rooted in socio-political space" (ইংরেজি ভাষায়)। নিউজ ১৮। ১২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  5. কুলকার্নি, প্রনব (২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯)। "Social screenplay" (ইংরেজি ভাষায়)। দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  6. ওয়ালসন, মিশেল (১৫ জুন ২০০৭)। "On a Fault Line" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ব্রাউন অ্যালামনাই। ২০২০-০৭-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  7. ঘোষ, বিকাশ (১১ জুলাই ২০০৩)। "Clay Bird explores Pakistan strife" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ৫ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  8. "দ্য ক্লে বার্ড : মাটির ময়না ২০০২" (ইংরেজি ভাষায়)। এনসাইক্লোপিডিয়া.কম। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  9. মিচেল, এলভিস (৫ এপ্রিল ২০০৩)। "FILM FESTIVAL REVIEWS; A Child Copes With Dad's Zealotry"দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  10. "The Story of 'Matir Moina'" (ইংরেজি ভাষায়)। ctmasud.site.aplus.net। ২০০২। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  11. সাইমন, কামার আহমাদ (৭ ডিসেম্বর ২০১৭)। "'মাটির ময়না' থেকে 'শিকলবাহা', 'অন্যদিন'–এ..."দৈনিক প্রথম আলো। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  12. "Quinzaine 2002"quinzaine-realisateurs.com (ইংরেজি ভাষায়)। কান: ডিরেক্টর্স ফোর্টনাইট। ১৫ মে ২০০২। ২৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  13. "Montreal World Film Festival Edition 2002" (ইংরেজি ভাষায়)। ইউনিফ্রান্স। ২০০২। ২৩ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  14. "সিটেজ ২০০২" (ইংরেজি ভাষায়)। সিটেজ চলচ্চিত্র উৎসব। ২০০২। ২৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  15. "মাটির ময়না" (ইংরেজি ভাষায়)। মাটির ময়না (প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট)। ২০০২। ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  16. "Palm Springs International Film Festival 2003" (ইংরেজি ভাষায়)। মুবি। ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  17. "Kerala International Film Festival 2003" (ইংরেজি ভাষায়)। ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ। ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  18. "Matir Moina opens Bangladesh film fest at Shilpakala" (ইংরেজি ভাষায়)। ডেইলি সান। ১১ ডিসেম্বর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  19. "সৌদি আরব রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ভারত দুতাবাসে প্রয়াত তারেক মাসুদ পরিচালিত মাটির ময়না প্রদর্শিত"। বর্তমান প্রতিদিন। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  20. "Bangladeshi film 'Matir Moina' screened" (ইংরেজি ভাষায়)। করাচি: দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল। ২৭ এপ্রিল ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  21. রাজু ২০১৪, পৃ. ১৯৮।
  22. কুরিয়েল, জোনাথন (৩০ এপ্রিল ২০০৪)। "দ্য ক্লে বার্ড" (ইংরেজি ভাষায়)। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল। ১৬ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  23. রহমান, প্রসূন (১৩ আগস্ট ২০১৫)। "কলকাতায় যখন মাটির ময়না"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  24. বয়ার ২০১০, পৃ. ৪৫৭।
  25. "'Banned' Bangladesh film for Oscars" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি নিউজ। ৬ নভেম্বর ২০০২। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  26. "মাটির ময়না: মুক্তির তথ্য" (ইংরেজি ভাষায়)। আইএমডিবি। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  27. "দ্য ক্লে বার্ড (২০০৪)"মেটাক্রিটিক (ইংরেজি ভাষায়)। ১৩ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  28. "দ্য ক্লে বার্ড (মাটির ময়না)"রটেন টম্যাটোস (ইংরেজি ভাষায়)। ১৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  29. "মাটির ময়না"অলমুভি (ইংরেজি ভাষায়)। ২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  30. "মাটির ময়না"আলোসিনে (ইংরেজি ভাষায়)। ২২ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  31. "মাটির ময়না (২০০২)"ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজ (ইংরেজি ভাষায়)। ৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  32. ব্র্যাডশো, পিটার (৪ জুলাই ২০০৩)। "দ্য ক্লে বার্ড" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য গার্ডিয়ান। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০২০ 
  33. হর্নাডে, অ্যান (২৮ মে ২০০৪)। "'Clay Bird': Bangladesh And the End of Innocence" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  34. বার, টাই (৩০ জুলাই ২০০৪)। "'Clay Bird' intelligently explores religious faith" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য বস্টন গ্লোব। ১৪ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  35. ও'সুলিভান, মাইকেল (২৮ মে ২০০৪)। "A 'Bird' That Doesn't Quite Sing" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। ১৪ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  36. ম্যাপস, মার্টি (১৪ জুলাই ২০০৪)। "দ্য ক্লে বার্ড" (ইংরেজি ভাষায়)। মুভি হ্যাবিট। ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  37. সাওয়াদা, ইলিয়াস (৪ জুন ২০০৪)। "দ্য ক্লে বার্ড : মাটির ময়না" (ইংরেজি ভাষায়)। নাইট্রেট অনলাইন। ৩ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  38. স্টেইন, এলিয়ট (২০ এপ্রিল ২০০৪)। "দ্য ক্লে বার্ড" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ভিলেজ ভয়েস। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  39. রাসেল, জেমি (৩ জুলাই ২০০৩)। "দ্য ক্লে বার্ড (মাটির ময়না) (২০০৩)" (ইংরেজি ভাষায়)। বিবিসি। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  40. শন, জামেকার (১৯ আগস্ট ২০০৪)। "Closed minds and open hearts collide in Islamic-focused 'The Clay Bird'" (ইংরেজি ভাষায়)। সিয়াটল পোস্ট ইন্টেলিজেন্সার। ১২ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  41. মালিক ২০০৭, পৃ. ১৩৭।
  42. "মাটির ময়নার প্রশংসায় অপর্ণা সেন"ভোরের কাগজ। ১৪ জানুয়ারি ২০১৮। ১২ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  43. "ঢাকায় এসে মাটির ময়নার প্রশংসা করলেন অপর্ণা সেন"জাগো নিউজ। ১৪ জানুয়ারি ২০১৮। ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  44. "গুগল ডুডলে 'মাটির ময়না'"দৈনিক প্রথম আলো। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮। ১২ জুলাই ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২০ 
  45. "Tareque Masud's 62nd Birthday"গুগল। ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  46. "FIPRESCI Awards 2002" (ইংরেজি ভাষায়)। ipresci.org। ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  47. "মারাকেশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব পুরস্কার ২০০২"। ২০ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  48. "পুরষ্কার ও স্বীকৃতি" (ইংরেজি ভাষায়)। তারেক মাসুদ। ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  49. "মারাকেশ, মরক্কো" (ইংরেজি ভাষায়)। ctmasud.site.aplus.net। ২২ সেপ্টেম্বর ২০০২। ৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  50. জোয়াদ ২০১০
  51. কার্লেকার, মালাবিকা (৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৬)। "Soulful story of loss: The acclaimed film Matir Moina (The Clay Bird), which was banned in Bangladesh (for a few months), is now available on DVD" (ইংরেজি ভাষায়)। দ্য ট্রিবিউন (ভারত)। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  52. "তারেক মাসুদ: জীবন ও কর্ম"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ১৩ আগস্ট ২০১১। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  53. "Lecture by Moushumi Bhowmik" (ইংরেজি ভাষায়)। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। ২৫ মার্চ ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  54. "জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তদের নামের তালিকা (১৯৭৫-২০১২)"বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন। পৃষ্ঠা ১৬। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুলাই ২০২০ 
  55. "L'Oiseau d'argile (2002) - DVD" (ফরাসি ভাষায়)। dvdfr। ১৬ জুন ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 
  56. "দ্য ক্লে বার্ড" (ইংরেজি ভাষায়)। মাইলস্টোন ফিল্মস। ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০ 

উৎস[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]