ল্যান্স ক্লুজনার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ল্যান্স ক্লুজনার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামল্যান্স ক্লুজনার বোপানা
জন্ম (1971-09-04) ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ (বয়স ৪৭)
ডারবান, নাটাল প্রদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা
ডাকনামজুলু
উচ্চতা৫ ফুট ১১ ইঞ্চি (১.৮০ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৬৫)
২৭ নভেম্বর ১৯৯৬ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট৮ আগস্ট ২০০৪ বনাম শ্রীলঙ্কা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৪০)
১৯ জানুয়ারি ১৯৯৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯১-২০০৪কোয়াজুলু নাটাল
২০০২নটিংহ্যামশায়ার
২০০৪মিডলসেক্স
২০০৪-২০০৭ডলফিন্স
২০০৪-২০০৮নর্দাম্পটনশায়ার (দল নং ৪)
২০০৬-২০০৮রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার্স
২০১০মাউন্টেনিয়ার্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৪৯ ১৭১ ১৯৭ ৩২৪
রানের সংখ্যা ১৯০৬ ৩৫৭৬ ৯৫২১ ৬৬৪৮
ব্যাটিং গড় ৩২.৮৬ ৪১.১০ ৪২.৬৯ ৪০.০৪
১০০/৫০ ৪/৮ ২/১৯ ২১/৪৮ ৩/৩৪
সর্বোচ্চ রান ১৭৪ ১০৩* ২০২* ১৪২*
বল করেছে ৬৮৮৭ ৭৩৩৬ ৩১৭৩৫ ১৩৪৫৯
উইকেট ৮০ ১৯২ ৫০৮ ৩৩৪
বোলিং গড় ৩৭.৯১ ২৯.৯৫ ৩০.৪০ ৩১.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট ২০
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৮/৬৪ ৬/১২ ৮/৩৪ ৬/৪৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩৪/- ৩৫/- ৯৯/- ৮২/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ১০ মার্চ ২০১৭

ল্যান্স ক্লুজনার বোপানা (ইংরেজি: Lance Klusener Bopanna; জন্ম: ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১), নাটাল প্রদেশের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলে তিনি অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আগ্রাসী ব্যাটিং ও ফাস্ট মিডিয়াম সুইং বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষ ছিলেন ল্যান্স ক্লুজনারজুলু ভাষায় কথা বলতে পারেন, তাই তাঁর ডাক নাম জুলু

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। এরফলে তিনি ঐ সময়ে আইসিসি ওডিআই ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন। উচ্চ পর্যায়ের স্ট্রাইক রেট এবং ৪১.১০ ওডিআই ব্যাটিং গড় তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম একদিনের আন্তর্জাতিকে ব্যাটসম্যানের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯৬/৯৭ মৌসুমে কলকাতায় অনুষ্ঠিত টেস্টে ভারতের বিপক্ষে অভিষিক্ত হন। শুরুতে বোলার হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু অভিষেক টেস্টে মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের কাছে ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি চার দিতে বাধ্য হলেও নভেম্বর, ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি তাঁর সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৬৪ রানের বিনিময়ে ৮ উইকেট নিয়ে।[১] ল্যান্স ক্লুজনার প্রথম টেস্ট অভিষেকধারী হিসেবে পাঁচ-উইকেট তুলে নেন। সরকারের বর্ণবৈষম্য নীতি প্রবর্তনের ফলে ১৯৭০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল দক্ষিণ আফ্রিকার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে।[২][৩] পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার কর্তৃক দেশ পুণর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ১৯৯১ সালে আইসিসি দলটির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে। ভারতের বিপক্ষে তার এ বোলিং পরিসংখ্যানটি অদ্যাবধি যে-কোন দক্ষিণ আফ্রিকানের সেরা বোলিং। এছাড়াও, মার্চ, ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পরিসংখ্যানটি অভিষেকে যে-কোন বোলারের চতুর্থ সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।[৪] ২০০২ সালে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক কর্তৃক প্রণীত সর্বকালের শীর্ষ ১০০ বোলিংশৈলী প্রদর্শনের তালিকায় ক্লুজনারের বোলিং পরিসংখ্যানটিকে জর্জ বিসেটের ৫/৩৭-এর সাথে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।[৫]

হাঁটুর গোড়ালীতে আঘাতপ্রাপ্তির কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গন থেকে চলে যেতে বাধ্য হন তিনি।

কোচিং জীবন[সম্পাদনা]

২০০৯ সালের শেষদিকে ভারতীয় ক্রিকেট লীগের সাথে জড়িত ছিলেন। এরপর ২০১০-এর বসন্তে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা’র তত্ত্বাবধানে লেভেল-থ্রী কোচিং কোর্স সম্পন্ন করেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়ে আলাপ করেন। ক্লুজনার নিশ্চিত করেন যে আলোচনা চলছে।[৬] ২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিসিবি ক্লুজনারের কাছ থেকে সম্মতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।[৭] শেষ পর্যন্ত তিনি প্রস্তাবে সাড়া দেননি। স্ত্রীসহ বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে অস্বীকৃতি জানান।[৮]

জানুয়ারি, ২০১১-১২ মৌসুমে ডলফিন্সের অস্থায়ী প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এ দলেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন তিনি।[৯]

সম্মাননা[সম্পাদনা]

ক্লুজনার প্রধানত স্মরণীয় হয়ে আছেন একদিনের আন্তর্জাতিকে তাঁর অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া দল শিরোপা লাভ করলেও অকুতোভয় হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে ভোটের মাধ্যমে ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের মর্যাদা পান।[১০] এছাড়াও, ২০০০ সালে উইজডেন কর্তৃপক্ষ তাঁকে উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "2nd Test: India v South Africa at Kolkata, Nov 27 – Dec 1, 1996"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২০১১-১২-১৩ 
  2. André M. Louw (২০১০)। Sports Law in South Africa। Kluwer Law International। পৃষ্ঠা 9–9। আইএসবিএন 978-90-411-3314-4 
  3. Vashi, Ashish (২৬ মার্চ ২০০৯)। "Gandhi fought SA's racism in cricket"The Times of India। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  4. "Records / Test matches / Bowling records / Best figures in a innings on debut"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৪ অক্টোবর ২০১৩ 
  5. "Top 100 Bowlers of all time"Rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০১৭ 
  6. http://www.cricinfo.com/bangladesh/content/story/471481.html
  7. http://www.cricinfo.com/bangladesh/content/current/story/475371.html
  8. http://www.espncricinfo.com/bangladesh/content/story/475554.html
  9. Moonda, Firdose (২৫ জানুয়ারি ২০১২)। "Klusener appointed Dolphins interim coach"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০১২ 
  10. http://www.espncricinfo.com/ci/engine/match/65234.html

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]