মূলসর্বাস্তিবাদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
মূলসর্বাস্তিবাদ শাখার তিব্বতি বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ
Pipal.jpg
আদি
বৌদ্ধধর্ম
শাস্ত্র

গান্ধারীয় ধর্মগ্রন্থ
আগম
পালি আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থাবলি

সঙ্গীতি

১ম সঙ্গীতি
২য় সঙ্গীতি
৩য় সঙ্গীতি
৪র্থ সঙ্গীতি

সম্প্রদায়সমূহ

First Sangha
 মহাসাংঘিক
 ├ Ekavyāvahārika
 ├ Lokottaravāda
 ├ Bahuśrutīya
 ├ Prajñaptivāda
 └ Caitika
 Sthaviras
 ├ Mahīśāsaka
 ├ Dharmaguptaka
 ├ Kāśyapīya
 ├ Sarvāstivāda
 └ Vibhajyavāda
  └ থেরবাদ

মূলসর্বাস্তিবাদ (সংস্কৃত: मूलसर्वास्तिवाद; ঐতিহ্যগত চীনা: 根本說一切有部; পিনয়িন: Gēnběn Shuō Yīqièyǒu Bù) ছিল ভারতের একটি আদি বৌদ্ধ সম্প্রদায়। মূলসর্বাস্তিবাদের উৎপত্তি এবং সর্বাস্তিবাদ সম্প্রদায়ের সঙ্গে এর সম্পর্কে আজও সঠিক কিছু জানা যায় না। যদিও এ বিষয়ে অনেক কিছু অনুমান করা হয়। মূলসর্বাস্তিবাদ বিনয় শাখাটি তিব্বতি ও মোঙ্গোলিয়ানরা আজ পর্যন্ত রক্ষা করে চলেছেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভারতে[সম্পাদনা]

মূলসর্বাস্তিবাদ ও সর্বাস্তিবাদ শাখার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আছে। আধুনিক গবেষকরা মনে করেন, দুটি সম্পূর্ণ পৃথক সম্প্রদায়।[১] ইজিংয়ের মতে, মূলসর্বাস্তিবাদ সর্বাস্তিবাদ শাখা থেকে উৎপন্ন। কিন্তু বুটন রিনচেন ড্রাব বলেছেন, নামটি সকল বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ‘মূল’ বা শিকড় সর্বাস্তিবাদের প্রতি একটি শ্রদ্ধার্ঘ।[২] এই দুই সম্প্রদায় কিভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত তা নিয়ে গবেষক মহলে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। ভিক্ষু সুজাতো সেগুলির সারসংক্ষেপ করে বলেছেন:

গ্রেগরি কোপেনের মতে, মূলসর্বাস্তিবাদের উৎপত্তি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে এবং ভারতে এই মতবাদের পতন হয় সপ্তম শতাব্দীতে।[৪]

মধ্য এশিয়াতে[সম্পাদনা]

মধ্য এশিয়া অঞ্চলে ধর্মপ্রচারকদের কার্যকলাপের ফলে ওই অঞ্চলে মূলসর্বাস্তিবাদ মতবাদ প্রসারিত হয়েছিল। গবেষকরা মধ্য এশিয়ায় বৌদ্ধধর্ম প্রসারে তিনটি পৃথক প্রচারক কর্মপর্যায়ের উল্লেখ করে থাকেন। এগুলি কালানুক্রমিকভাবে নিম্নোক্ত তিন সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত:[৫]

  1. ধর্মগুপ্তক
  2. সর্বাস্তিবাদ
  3. মূলসর্বাস্তিবাদ

শ্রীবিজয়ে[সম্পাদনা]

সপ্তম শতাব্দীতে, ইজিং লিখেছিলেন, মূলসর্বাস্তিবাদ শ্রীবিজয় রাজ্যের (অধুনা ইন্দোনেশিয়া) সর্বত্র প্রধান মতবাদ ছিল। ইজিং শ্রীবিজয়ে ছয় বা সাত বছর ছিলেন। এই সময় তিনি সংস্কৃত শিখে সংস্কৃত থেকে চীনা ভাষায় ধর্মগ্রন্থগুলি অনুবাদ করেছিলেন। ইজিং বলেছেন, মূলসর্বাস্তিবাদ বিনয় এই অঞ্চলে সর্বত্র গৃহীত হয়েছিল।[৬] তিনি লিখেছেন, তিনি যা পড়েছেন এবং সেখানকার নিয়মকানুন ও উৎসব-অনুষ্ঠান সবই ছিল ভারতের মতো।[৭] ইজিং বর্ণনা করেছেন, দ্বীপগুলি প্রধানত ছিল ‘হীনযানী’। কিন্তু মেলায়ু রাজ্যে অসঙ্গেরযোগাচারভূমি-শাস্ত্র প্রভৃতি মহাযান মত প্রচলিত ছিল।

বিনয় পরম্পরা[সম্পাদনা]

মূলসর্বাস্তিবাদ বিনয় হল তিনটি বিদ্যমান বিনয় পরম্পরার একটি (অন্যগুলি হল ধর্মগুপ্তক ও থেরবাদ)। তিব্বতের সম্প্রাট রালপাচেন শুধুমার মূলসর্বাস্তিবাদ বিনয় অনুমোদন করেছিলেন। যেহেতু মোঙ্গোলিয়ান বৌদ্ধধর্ম তিব্বত থেকে গিয়েছিল, তাই মোঙ্গোলিয়ানরাও এই নিয়ম অনুসরণ করে।

মূলসর্বাস্তিবাদ বিনয় পাওয়া যায় তিব্বতি (নবম শতাব্দীর অনুবাদ) ও চীনা (অষ্টম শতাব্দীর অনুবাদ) সংস্করণে। এর কিছু কিছু অংশ সংস্কৃতেও পাওয়া যায়।

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Charles Willemen, Bart Dessein, Collett Cox. Sarvāstivāda Buddhist scholasticism. Brill, 1988. p.88.
  2. Elizabeth Cook. Light of Liberation: A History of Buddhism in India. Dharma Publishing, 1992. p. 237
  3. Sects & Sectarianism BETA: The origins of Buddhist Schools [১]
  4. Gregory Schopen. Figments and fragments of Māhāyana Buddhism in India. University of Hawaii Press, 2005. pp.76-77.
  5. Willemen, Charles. Dessein, Bart. Cox, Collett. Sarvastivada Buddhist Scholasticism. 1997. p. 126
  6. Coedes, George. The Indianized States of South-East Asia. 1968. p. 84
  7. J. Takakusu (১৮৯৬)। A Record of the Buddhist Religion : As Practised in India and the Malay Archipelago (A.D. 671-695)/I-Tsing.। Oxford: Clarendon. Reprint: New Delhi, AES 2005। আইএসবিএন 81-206-1622-7 [পৃষ্ঠা নম্বর]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]