কামিনীকুমার ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

কামিনীকুমার ঘোষ (জানুয়ারি ১, ১৮৮৮ - এপ্রিল ২৪, ১৯৭১) যিনি রায় সাহেব নামে পরিচিত, একজন বাঙালি সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা, চট্টগ্রামের শিক্ষা বিস্তারে যার অবদান চির স্মরণীয়।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

কামিনীকুমার ঘোষ ১৮৮৮ সালের ১লা জানুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯০৬ সালে এন্ট্রেন্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি বৃত্তিসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি ১৯০৮ এ উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯১০ সালে গণিতে অনার্স পাশ করেন। ১৯১২ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইন বিষয়ে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯১৩ সালে কলকাতা থেকে ফিরে তিনি তার চাচা বঙ্গচন্দ্র ঘোষের সাথে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি বিয়ে করেছিলেন বাশখালী উপজেলার পালেগ্রাম চৌধুরীবাড়ীর কন্যা শৈলবালাকে। ব্যক্তিগত ভাবে তিনি ১১ সন্তানের জনক ছিলেন।

১৯২১ সালে তিনি মহাত্মা গান্ধীর ভারত শাসন আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি আইন পেশা ছেড়ে দেন এবং আন্দোলনে সর্বাত্মক ভাবে জড়িয়ে যান। অনেকের মনে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের আন্দোলনের অন্যতম নায়ক।

সমাজসেবা এবং শিক্ষা বিস্তার[সম্পাদনা]

তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামনে সাতকানিয়াতে ছিল মাত্র হাতে গোনা কত গুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার এই শূন্যতা অনুধাবন করে তিনি উদ্যোগ নেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার। তিনি শুরু করেন এস বি ঘোষ ইনস্টিটিউট (উচ্চবিদ্যালয়) এবং এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি হাসপাতাল। সাতকানিয়া-বাশঁখালী এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে তিনি গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ১৯২৯ সালে সঙ্গীদের সহযোগীতায় তিনি স্থাপন করেছিলেন আমিলাইষ-কাঞ্চনা বঙ্গচন্দ্র ঘোষ নামে একটি ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয়। পরে এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতকানিয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন কামিনীকুমার। যা এখন চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

কর্ম জীবন[সম্পাদনা]

কামিনীর সমাজসেবামূলক ও শিক্ষা প্রসারণমূলক কর্মকান্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকার তাকে রায় সাহেব খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি ২৮ বছর চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাত বছর সভাপতি ছিলেন। ১৬ বছর তিনি চট্টগ্রাম জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য, কাঞ্চানার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বেঞ্চ কোর্টের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২৪ই এপ্রিল শনিবার বেলা ১২টায় পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী দোহাজারী ক্যাম্প থেকে কাঞ্চনায় আক্রমণ চালায়। হানাদার বাহিনী কামিনীকুমারের বাড়িতে আক্রমণ করলে বাড়ীর লোকজন বৃদ্ধ কামিনীকুমারকে বাড়ীর শৌচাগারে লুকিয়ে রাখে, পরবর্তীতে কামিনীকুমার শৌচাগার থেকে বেড়িয়ে বাড়ীতে যাওয়ার পথে এক রাজাকার তাকে সনাক্ত করে এবং হানাদার বাহিনী গুলি করে তাকে হত্যা করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]