বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজের তালিকা
| বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদ এ্যাডজুটেন্ট জেনারেল শাখা সেনাসদর, ঢাকা সেনানিবাস | |
|---|---|
দায়িত্বরত মেজর জেনারেল মাসুদুর রহমান | |
| নিয়োগকর্তা | |
| ওয়েবসাইট | http://www.cadetcollege.army.mil.bd/ |
ক্যাডেট কলেজ সামরিক বাহিনী পরিচালিত বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধারণার সৃষ্টি হয় সামরিক বাহিনীতে যোগ্য কর্মকর্তা তৈরির চেতনা থেকে। বিসমার্ক প্রথম জার্মানিতে ক্যাডেট কলেজ ধারণার প্রবর্তন করেন। পরবর্তীকালে নেপোলিয়ান ফ্রান্সে এই ব্যবস্থা চালু করেন এবং সবশেষে পাকিস্তান ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এই শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। ইংল্যান্ডের উন্নতমানের পাবলিক স্কুলের সাথে এর আদর্শগত সামঞ্জস্য রয়েছে। ক্যাডেট কলেজ মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমানে মূলত পাকিস্তান ও বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এই দুইটি দেশেই ঠিক ক্যাডেট কলেজ নামীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে চলেছে। ক্যাডেট কলেজ বলতে বিশেষ ধরনের সামরিক স্কুল বোঝালেও সকল সামরিক স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই ক্যাডেট কলেজ বলা যাবে না। কেবল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেই এই নামটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]বিসমার্কের যুগে জার্মানিতে প্রথম ক্যাডেট কলেজ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। সামরিক বাহিনীতে যোগ্য কর্মকর্তা তৈরিতে অল্প বয়স থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু করানোটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করতে পারে। এই ধারণাই তৎকালীন ক্যাডেট কলেজ পদ্ধতির চালিকাশক্তি ছিল। নেপোলিয়নের যুগে ফ্রান্সে সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধির একটি অন্যতম উপাদান হিসেবে ক্যাডেট কলেজ পদ্ধতি গৃহীত হয়।
তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জেলার ফৌজদারহাটে ১৯৫৮ সালে। প্রথমে এ কলেজের নাম রাখা হয় ইস্ট পাকিস্তান ক্যাডেট কলেজ। পরবর্তীকালে কলেজের নাম হয় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। ১৮৫ একর জায়গার উপর এটি প্রতিষ্ঠিত এবং সেনা বাহিনীর প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। এর সকল অর্থের যোগান দিত রাষ্ট্র। কলেজ পরিচালনার মূল দায়িত্বভার ছিল চতুর্দশ ডিভিশনের জিওসি'র (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) হাতে।বর্তমানে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের হাউস সমূহ(ছাত্রাবাস) গুলোর নাম বদলানো হয়েছে।এই ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিচয় সূচক নাম হলো ফৌজিয়ান। প্রাদেশিক সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপর অর্থ যোগানের দায়িত্ব ছিল। মূলত আইয়ুব খানের উদ্যোগেই এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। নিউজিল্যান্ড সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইংল্যান্ডে বসবাস করছিলেন এবং সেখানকার পাবলিক স্কুলের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার নাম স্যার উইলিয়াম মরিস ব্রাউন। আইয়ুব খান ব্রাউনের সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে পূর্ব পাকিস্তানে ক্যাডেট কলেজ পরিচালনার ভার গ্রহণে আমন্ত্রণ জানান। এতে রাজি হয়ে ব্রাউন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন এবং ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি এই কলেজে দীর্ঘ ৭ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।
পড়াশোনার উচ্চ মান ও পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের জন্য ক্যাডেট কলেজ দ্রুত সুনাম অর্জন করে। এতে উৎসাহিত হয়ে পাকিস্তান সরকার আরও ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পাকিস্তান আরও কয়েকটি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তন্মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে গঠিত হয় আরও তিনটি ক্যাডেট কলেজ। ১৯৬৪ সালে খুলনা বিভাগে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, ১৯৬৫ সালে ময়মনসিংহ জেলায় মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজ এবং পরবর্তী বছর তথা ১৯৬৬ সালে রাজশাহী জেলায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিচয় সূচক নাম হলো শাহী ক্যাডেট। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা বিভক্ত হয়ে কয়েকটি জেলা গঠন করা হয় তখন মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজের নাম পরিবর্তন করে মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ রাখা হয়। এটি তখন নবগঠিত টাঙ্গাইল জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়।মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের ছাত্রদের পরিচয়সূচক নাম হলো মির্জাপুরিয়ান।
১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সরকারের উদ্যোগে ঢাকায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল নামে একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। এটি প্রতিষ্ঠায় অনেকাংশে ক্যাডেট কলেজের অনুকরণ করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পাবনা ও রংপুর জেলায় রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলটি কেবল মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ক্যাডেট কলেজ ও রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল দুটি একই ধারার আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও এদের মধ্যে কিছু মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান। ক্যাডেট কলেজ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত থাকে সরাসরি সেনা বাহিনী সদর দপ্তরের উপর। কিন্তু দেশের অন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর।
১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার পর ক্যাডেট কলেজগুলো পরিচালনার দায়িত্ব কার উপর অর্পণ করা হবে, এ নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। অবশেষে ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে রাষ্ট্রপতির ক্যাডেট কলেজ ৮৯ নং অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রণীত হয়। এ অনুযায়ী জাতীয় শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রণয়ন সাপেক্ষে ক্যাডেট কলেজ পরিচালনার জন্য একটি অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ক্যাডেট কলেজ কাউন্সিল গঠিত হয়। এর মাধ্যমে ক্যাডেট কলেজ গভর্নিং বডিকে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়। এই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন শিক্ষা মন্ত্রী এবং কাউন্সিলের অধীনে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হন বিভাগীয় কমিশনার।
১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদে ক্যাডেট কলেজ আইন পাস করা হয়। এর মাধ্যমে ক্যাডেট কলেজ কাউন্সিলকে সরাসরি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আনা হয়। পুনর্বিন্যস্ত করা হয় গভর্নিং বডিসমূহ। প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিবকে কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করা হয়, গভর্নিং বডিসমূহের চেয়ারম্যান হন সামরিক বাহিনী উপ-প্রধান। তখন থেকে অনেকবার কাউন্সিল ও গভর্নিং বডিসমূহের চেয়ারম্যান পদে রদবদল হয়েছে, কিন্তু এর মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ একই রয়ে গেছে।
১৯৭৮ সাল থেকে পূর্বে প্রতিষ্ঠিত রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলগুলোতে ক্যাডেট কলেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে উক্ত বছরেই সিলেট ও রংপুরের রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল দুটিকে ক্যাডেট কলেজে রুপান্তরিত করা হয়। ১৯৮১ সালে বরিশাল ও পাবনা ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলটিকে গার্লস ক্যাডেট কলেজে রুপান্তরিত করা হয়। ১৯৮৩ সালে কুমিল্লা রেসিডেন্সিয়ালটিও রুপান্তরিত হয়। এভাবে বাংলাদেশে সর্বমোট ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ টিতে। অনেক দিন বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা এই ১০ টি-ই ছিল। ২০০৬ সালে সরকারের বিশেষ উদ্যোগে আরও দুইটি ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়, দুইটি কলেজই মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। এর একটি ফেনী জেলায় এবং অন্যটি জয়পুরহাট জেলায়। এর মধ্যে ৯ টি ছেলেদের ,৩ টি মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত "ক্যাডেট কলেজ"।
বর্তমান ক্যাডেট কলেজসমূহ
[সম্পাদনা]নিচে কলেজগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:[১] মেধা ও রেজাল্ট বা ফলাফল অনুযায়ী
| নং | নাম | প্রতিষ্ঠার তারিখ | অবস্থান | আয়তন | প্রথম অধ্যক্ষ |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ | এপ্রিল ২৮, ১৯৫৮ | ফৌজদারহাট, সীতাকুণ্ড উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলা | ১৮৫ একর | স্যার উইলিয়াম মরিস ব্রাউন |
| ২ | ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ | ১৮ অক্টোবর,
১৯৬৩ |
ঝিনাইদহ শহর থেকে ২ কিমি উত্তরে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে | ১০১ একর | লেফটেন্যান্ট কর্নেল এন ডি হাসান |
| ৩ | কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ | ১ জুলাই
১৯৮৩ |
কোটবাড়ি,কুমিল্লা | ৫২ একর | লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুরুল আনোয়ার |
| ৪ | মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ | ২৯ নভেম্বর,
১৯৬৩ |
মির্জাপুর,টাঙ্গাইল | ৯৫ একর | মাইকেল উইলিয়াম পিট |
| ৫ | সিলেট ক্যাডেট কলেজ | ১৫ মে
১৯৭৮ |
সিলেট | ৫২ একর | লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউদ্দিন |
| ৬ | রংপুর ক্যাডেট কলেজ | ১ জুলাই
১৯৭৯ |
রংপুর, আশরতপুর, রংপুর সদর উপজেলা | ৩৭ একর | কমান্ডার হাবিবুর রহমান |
| ৭ | বরিশাল ক্যাডেট কলেজ | ১ জুলাই ১৯৮১ | বরিশাল শহর থেকে ২০ কি.মি. দূরত্বে ঢাকা - বরিশাল মহাসড়কের পাশে। ইউনিয়ন-রহমতপুর, উপজেলা-বাবুগঞ্জ, জেলা-বরিশাল |
৫১ একর | মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন |
| ৮ | পাবনা ক্যাডেট কলেজ | আগস্ট ৭, ১৯৮১ | জালালপুর, পাবনা সদর উপজেলা | ৪৭ একর | সৈয়দ সলিমুল্লাহ |
| ৯ | ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ | ১৯৮২ | ময়মনসিংহ | ২৩ একর | করিম উদ্দিন আহমেদ |
| ১০ | ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ | ৭ জুন, ২০০৬ | পুরাতন বিমানবন্দর ফেনী পৌরসভা , ফেনী জেলা | ৪৯.৫ একর | ফয়জুল হাসান |
| ১১ | রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ | ১১ ফেব্রুয়ারি,
১৯৬৬ |
সারদা,চারঘাট,রাজশাহী | ১১০ একর | উইং কমান্ডার মোহাম্মদ সাঈদ |
| ১২ | জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ | ১৬ জুলাই,
২০০৬ |
জয়পুরহাট | ৫৭ একর | মোহাম্মদ আবু সাইদ বিশ্বাস |
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ প্রতিবেদক, নিজস্ব। "নেতৃত্বের কারিগর"। প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০২১।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ মার্চ ২০২২ তারিখে