কাইল জার্ভিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাইল জার্ভিস
Kyle Jarvis.jpg
২০১৩ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে কাইল জার্ভিস
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকাইল ম্যালকম জার্ভিস
জন্ম (1989-02-16) ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ (বয়স ৩১)
হারারে, জিম্বাবুয়ে
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কম্যালকম জার্ভিস (পিতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৭৬)
৪ আগস্ট ২০১১ বনাম বাংলাদেশ
শেষ টেস্ট১৯ জানুয়ারি ২০২০ বনাম শ্রীলঙ্কা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১০৫)
১২ অক্টোবর ২০০৯ বনাম কেনিয়া
শেষ ওডিআই৭ জুলাই ২০১৯ বনাম আয়ারল্যান্ড
ওডিআই শার্ট নং
টি২০আই অভিষেক
(ক্যাপ ২৮)
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ বনাম পাকিস্তান
শেষ টি২০আই২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বনাম আফগানিস্তান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০৯ -ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস
২০১২/১৩সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস
২০১৩ - ২০১৭ল্যাঙ্কাশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই টি২০আই এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১২ ৪৯ ২২ ৮১
রানের সংখ্যা ১২৬ ২২২ ৫৫ ১,০৯৮
ব্যাটিং গড় ১০.৫০ ৯.৬৫ ৭.৮৫ ১৪.৬৪
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/০ ০/১
সর্বোচ্চ রান ২৫* ৩৭ ২৭ ৫৭
বল করেছে ২,২৮৯ ২,৩৬২ ৪৪৮ ১৪,৬০৯
উইকেট ৪৬ ৫৮ ২৮ ৩১০
বোলিং গড় ২৭.৬০ ৩৬.০০ ২৩.৭৫ ২৫.৭০
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৭
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৬৪ ৪/১৭ ৩/১৫ ৭/৩৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/– ১১/– ৫/– ২২/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০

কাইল ম্যালকম জার্ভিস (ইংরেজি: Kyle Jarvis; জন্ম: ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৯) হারারে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী জিম্বাবুয়ীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ২০০৯ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করে চলেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলস, মিড ওয়েস্ট রাইনোস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করেন কাইল জার্ভিস

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

জিম্বাবুয়ের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ম্যালকম জার্ভিস তার পিতা। হারারেভিত্তিক সেন্ট জোন্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। সেখানে অবস্থানকালে রাগবি ও ক্রিকেটে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ২০০৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে দলের মূল বোলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এছাড়াও, জিম্বাবুয়ের পক্ষে অনূর্ধ্ব-১৯ রাগবি দলে খেলেছেন। তবে, নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে বেশ রান খরচ করলেও উইকেট পেতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

২০০৯ সাল থেকে কাইল জার্ভিসের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রয়েছে। দীর্ঘদেহী ও পেশীবহুল কাইল জার্ভিস এলোমেলো পেস বোলিংয়ে অভ্যস্ত ছিলেন।

অক্টোবর, ২০০৯ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে আন্তঃমহাদেশীয় কাপের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। কিকি স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দুই উইকেট লাভ করেন তিনি।[১]

লোগান কাপের অভিষেক খেলায় ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের সদস্যরূপে মিড ওয়েস্ট রাইনোসের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬/৬০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।[২]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

জানুয়ারি, ২০২০ সাল পর্যন্ত তেরোটি টেস্ট, ঊনপঞ্চাশটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও বাইশটি টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন কাইল জার্ভিস। ৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে হারারেতে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটার পূর্বেই জিম্বাবুয়ে দলের পক্ষে প্রথম ডাক পান। ২০০৯ সালে কেনিয়া দল ওডিআই সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে গমন করে। এ দলে তারকা উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান তাতেন্দা তাইবুকেও দলে রাখা হয়েছিল।[৩] হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওডিআইয়ের মাধ্যমে কাইল জার্ভিসের অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট দখল করেন তিনি।[৪] ঐ সিরিজে ওভার প্রতি ৫.৭৮ গড়ে পাঁচ উইকেট পান।[৫]

বাংলাদেশ গমন[সম্পাদনা]

২০০৯-১০ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে তাকে জিম্বাবুয়ে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে, পিঠের আঘাতের কারণে এ সফর থেকে স্বীয় নাম প্রত্যাহার করে নেন। হিথ স্ট্রিককে বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত করার পর জাতীয় দলের সম্মুখসারির বোলার হন। নিজ দেশে কেনিয়ার বিপক্ষে স্বমূর্তি ধারন করেন। এরপর, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। বেশ কয়েকবার ঘন্টাপ্রতি ১৪৫ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিং করেন।

প্রথম বিদেশ সফরে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে বাংলাদেশ গমনার্থে তাকে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।[৬] এ সফরে ব্যক্তিগতভাবে সুবিধে করতে পারেননি তিনি। চার খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র পাঁচটি উইকেট পান। এরজন্যে তাকে ১৬১ রান খরচ করতে হয়েছিল। ওভারপ্রতি রান দেন ৬.০০ যা খণ্ডকালীন বোলার ম্যালকম ওয়ালারের ৭.৫০-এর তুলনায় ভালো ছিল। ৩২.২০ গড়ে বোলিং করেন তিনি।[৭]

৪ আগস্ট, ২০১১ তারিখে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে হারারেতে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় কাইল জার্ভিসের। ছয় বছর বিরতির পর জিম্বাবুয়ে দল টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে ফিরে আসে। এরপর, ২০১১ সালের শেষদিকে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি করে টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৬৪ লাভ করেছিলেন।[৮]

ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন[সম্পাদনা]

এরপর মার্চ, ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমনার্থে তাকে জিম্বাবুয়ে দলে রাখা হয়। বার্বাডোসের ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫/৫৪ নিয়ে নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ঐ সফরের ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নেন তিনি।

এপ্রিল, ২০১৩ সালে সফরকারী বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে খেলেন। দুই টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩৩.৩৩ গড়ে নয় উইকেট লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৪/৪০ পান। এছাড়াও তিনটি ওডিআই নিয়ে গড়া সিরিজের দুইটি খেলায় তার অংশগ্রহণ ছিল। তবে, ৩৮.৩৩ গড়ে তিনি মাত্র তিন উইকেট সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এরপর, টি২০আইয়ে তাকে খেলানো হয়নি।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

আগস্ট, ২০১৩ সালে বোর্ডের সাথে আর্থিক সংঘাতের কারণে খেলার জগৎ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। ১৮ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে কাইল জার্ভিস তার অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার ক্লাবের পক্ষে ক্রিকেট খেলায় মনোনিবেশের কথা জানান।[৯][১০]

প্রথম মৌসুমে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে তেমন সফলতা পাননি। কিন্তু পরবর্তী মৌসুমে ৬২ উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের চ্যাম্পিয়নশীপে উত্তরণ ঘটান। তবে, হাত ভেঙ্গে গেলে আকস্মিকভাবে তার ঐ মৌসুম শেষ হয়ে যায়। প্রথম বিভাগেও বেশ ভালো খেলা উপহার দেন। ২০১৬ সালে ৫১ উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের শীর্ষ বোলারে পরিণত হন ও কোচ অ্যাশলে জাইলসের কাছ থেকে ভূয়সী প্রশংসা কুড়ান। সারের বিপক্ষে ছয় উইকেট নিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে পৌঁছে দেন।

সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে ল্যাঙ্কাশায়ার থেকে চলে আসেন ও জিম্বাবুয়ে ফিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পুণরায় অংশ নেন।[১১] অক্টোবর, ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবার জন্যে তাকে জিম্বাবুয়ে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।[১২] খেলায় তিনি ১/৪০ পান। এরপর, ২০১৮-১৯ মৌসুমে বাংলাদেশ গমন করেন। ৫/৭১ ও ২/২৭ লাভ করেন তিনি।

ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলায়ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। জিম্বাবুয়ের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে রাগবি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ICC Intercontinental Cup, 2009-2010/11 Zimbabwe XI v Kenya ESPNCricinfo. Retrieved 14 December 2011
  2. Mashonaland Eagles v Mid West Rhinos Logan Cup 2009/10 CricketArchive. Retrieved 14 December 2011
  3. Taibu back in national team ESPNCricinfo. Retrieved 14 December 2011
  4. Kenya in Zimbabwe ODI Series – 1st ODI ESPNCricinfo. Retrieved 14 December 2011
  5. Records / Kenya in Zimbabwe ODI Series, 2009/10 – Zimbabwe / Batting and bowling averages ESPNCricinfo. Retrieved 14 December 2011
  6. Taibu back in national team ESPNCricinfo. Retrieved 14 December 2011
  7. Records / Zimbabwe in Bangladesh ODI Series, 2009/10 – Zimbabwe / Batting and bowling averages ESPNCricinfo Statsguru. Retrieved 14 December 2011
  8. "New Zealand tour of Zimbabwe, 2011/12 / Scorecard: Only Test"ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০১২ 
  9. http://www.espncricinfo.com/zimbabwe/content/story/663245.html
  10. http://www.thestandard.co.zw/2013/08/18/formerzim-batsman-carlisle-backs-players/
  11. "Jarvis leaves Lancashire to resume Zimbabwe career"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  12. "West Indies in for Test series"NewsDay। NewsDay। ১১ অক্টোবর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১১ অক্টোবর ২০১৭ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]