চার্লি লিউইলিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
চার্লি লিউইলিন
1193422 Charlie Llewllyn.jpg
১৯০৫ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে চার্লি লিউইলিন
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৮৭৬-০৯-২৯)২৯ সেপ্টেম্বর ১৮৭৬
পিটারমারিৎজবার্গ
মৃত্যু৭ জুন ১৯৬৪(1964-06-07) (বয়স ৮৭)
চার্টসি
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম চায়নাম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৩)
২ মার্চ ১৮৯৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১২ আগস্ট ১৯১২ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৫ ২৬৭
রানের সংখ্যা ৫৪৪ ১১৪২৫
ব্যাটিং গড় ২০.১৪ ২৬.৭৫
১০০/৫০ ০/৪ ১৮/৫২
সর্বোচ্চ রান ৯০ ২১৬
বল করেছে ২২৯২ ৪৫৩৭২
উইকেট ৪৮ ১০১৩
বোলিং গড় ২৯.৬০ ২৩.৪১
ইনিংসে ৫ উইকেট ৮২
ম্যাচে ১০ উইকেট ২০
সেরা বোলিং ৬/৯২ ৯/৫৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/- ১৭৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

চার্লস বেনেট (বাক) লিউইলিন (ইংরেজি: Charlie Llewellyn; জন্ম: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬ - মৃত্যু: ৭ জুন, ১৯৬৪) পিটারমারিৎজবার্গে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম চায়নাম্যান বোলিং করতেন ‘চার্টসি’ ডাকনামে পরিচিত চার্লি লিউইলিন। ইংল্যান্ডে কৃষ্ণাঙ্গ ক্রিকেটের পথিকৃৎ ছিলেন তিনি।[১]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ইংরেজ পিতা ও সেন্ট হেলেনানের কৃষ্ণাঙ্গ মাতার বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর বয়সেই ক্রিকেটে অল-রাউন্ডার হিসেবে দক্ষতা প্রদর্শন করতে থাকেন। স্লো লেফট-আর্ম বোলিংয়ের পাশাপাশি মিড-অফে চমকপ্রদ ফিল্ডিং করতেন।

উনবিংশ শতকের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে অ-শ্বেতাঙ্গদেরকে প্রতিনিধিত্বমূলক দলে অংশগ্রহণে বাঁধার প্রাচীর গড়ে তুলে। উইলফ্রেড রোডস তাকে, সূর্যকিরণে পোড়া ইংরেজ খেলোয়াড়রূপে আখ্যায়িত করেন। তবে, লিউইলিনের দক্ষতা দল নির্বাচকমণ্ডলীর কঠিন বাঁধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। ফলশ্রুতিতে ১৩ এপ্রিল, ১৮৯৫ তারিখে নাটালের সদস্যরূপে ট্রান্সভালের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

যথাযথভাবে তার ক্রিকেট দক্ষতায় অভিভূত হবার প্রেক্ষিতে দল নির্বাচকমণ্ডলী নাটাল দলের সদস্যরূপে লর্ড হকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে খেলতে নামান। এভাবেই ২ মার্চ, ১৮৯৬ তারিখে ১৯ বছর ১৫৫ দিন বয়সে জোহেন্সবার্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার।

প্রথম টেস্টে কোন উইকেট লাভে ব্যর্থ হন লিউইলিন। ফলে সিরিজের বাদ-বাকী টেস্টে দল থেকে উপেক্ষিত হন। কিন্তু, ১৮৯৭-৯৮ ও ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমের কারি কাপে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে জাতীয় দলে খেলার জন্য পুণরায় আমন্ত্রিত হন। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। তবে, বিস্ময়করভাবে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি।

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৮৯৮-৯৯ মৌসুমের সিরিজ শেষে দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকে উপেক্ষিত হওয়াসহ আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চিতকল্পে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ইংরেজ কাউন্টি দল হ্যাম্পশায়ারের পেশাদার ক্রিকেটার মনোনীত হন। এক দশকেরও অধিক সময় এ দলে অবস্থান করে ২৭.৫৮ গড়ে ৮,৭৭২ রান ও ২৪.৬৬ গড়ে ৭১১ উইকেট লাভ করেন তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনের তুঙ্গে অবস্থানের প্রেক্ষিতে ১৯০২ সালে লিউইলিনকে ইংরেজ দলের সদস্যরূপে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলার জন্য নির্বাচিত করা হলেও মাঠে নামতে পারেননি। তবে, রঞ্জিতসিংজীর নেতৃত্বে ইংরেজ দলের সদস্য হিসেবে আমেরিকা সফর করেন।

১৯০২-০৩ মৌসুমে লিউইলিন দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসেন। সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে খেলেন তিনি। প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯০ রান তুলেন ও খেলায় নয় উইকেট পান। দ্বিতীয় টেস্টে দশ উইকেট ও তৃতীয় টেস্টে ছয় উইকেট নিয়ে সিরিজে ১৭.৯২ বোলিং গড়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেন। তাস্বত্ত্বেও তার এ স্মরণীয় সাফল্যের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

হ্যাম্পশায়ারে লিউইলিন তার আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে দেয়া অব্যাহত রাখেন। এ ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ১৯১০ সালে হ্যাম্পশায়ারের শেষ বছরে উইজডেন কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটার মনোনীত হন।[২] ১৯১১ সালে ইংল্যান্ডের এক্রিংটন ক্লাবে যোগ দেন। এরফলে প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে খেলেন তিনি।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯১২ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর থেকে নিয়ে এসে দক্ষিণ আফ্রিকা দল তাকে ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করায়। লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৭৫ ও একই মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও একটি অর্ধ-শতরান উপহার দেন।

ত্রি-দেশীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সর্বমোট ১৫ টেস্টে অংশ নেন। তন্মধ্যে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০ টেস্ট খেলেন তিনি। ২০.১৪ গড়ে ৫৪৪ রান ও ২৯.৬০ গড়ে ৪৮ উইকেট সংগ্রহ করেন। এরপরও লীগ ক্রিকেটে খেলা অব্যাহত রাখেন। ১৯৩৮ সালে ৬২ বছর বয়সে খেলার জগতকে বিদায় জানান লিউয়েলিন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬০ সালে উরুতে আঘাত পান। এ আঘাত জীবনের বাদ-বাকী সময়েও তাকে ভোগায়। ৭ জুন, ১৯৬৪ তারিখে সারের চার্টসি এলাকায় ৮৭ বছর বয়সে তার দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুর পরও লিউইলিন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান। তার পরিবার জনসমক্ষে দাবী করে যে, তিনি শ্বেতাঙ্গ ছিলেন না। তবে, তার মা ইংরেজ বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ ছিলেন।[৩]

লিউইলিন প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন। পরবর্তীতে নভেম্বর, ১৯৯২ সালে ওমর হেনরি ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামলে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় অ-শ্বেতাঙ্গ খেলোয়াড়ের মর্যাদা লাভ করেন।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Radcliffe Cricket Club History"। Radcliffe Cricket Club। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১২ 
  2. Full List on Cricinfo, Retrieved 11 July, 2017.
  3. Allen, Patrick (ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬)। "Charles Llewellyn - An early D'Oliveira"The CricketerESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২৩, ২০১৭ 
  4. Henry Reaches Half Century, BBC News

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]