বিষয়বস্তুতে চলুন

ঈদুল ফিতর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ঈদ-উল-ফিতর থেকে পুনর্নির্দেশিত)
ঈদুল ফিতর
عيد الفطر
ঈদুল ফিতরের নামাজ
অন্য নামরোজার ঈদ
পালনকারীমুসলিম বিশ্ব
ধরনইসলামি
তাৎপর্যরমজানের রোজার শেষের চিহ্ন
উদযাপনপরিবার এবং বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণ, চিরাচরিত মিষ্টি খাবার, সুগন্ধি ব্যবহার, নতুন জামাকাপড় পরা, উপহার দেওয়া, আনন্দ মিছিল, বিনোদন, খেলাধুলা, ইত্যাদি
পালনযাকাত উল ফিতর যাকাত, ঈদের নামাজ
তারিখ১লা শাওয়াল চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে
সম্পর্কিতরমজানে রোজা, ঈদুল আযহা

ঈদুল ফিতর (আরবি: عيد الفطر, অর্থ: “রোজা/উপবাস ভাঙার আনন্দ”) ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।[১] দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা৷ ধর্মীয় পরিভাষায় একে ‍ইয়াওমুল জায়েজ‍ (অর্থ: পুরস্কারের দিবস) হিসাবেও বর্ণনা করা হয়েছে৷ দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা সিয়াম সাধনার ও সামর্থ্য থাকলে ফিতরা(নির্দিষ্ট কিছু অর্থ যা গরীব মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া ) যাকাত (নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গরীব মানুষদের জন্য দিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সম্পদের জন্য ভিন্ন হিসাবে যাকাত দিতে হয় ) দেওয়ার পর ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দের সাথে পালন করে থাকে৷[২] এই দিনে সবাই সবাইকে “ঈদ মোবারক” বলে শুভেচ্ছা জানায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মে যে সব প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয় সেগুলির মধ্যে ঈদুল ফিত্‌র হচ্ছে কনিষ্ঠতম৷ এ মহান পুণ্যময় দিবসের উদযাপন শুরু হয় আজ থেকে মাত্র ১৩৮০ সৌর বছর পূর্বে৷ ইসলামের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মদীনাতে হিজরত-এর অব্যবহিত পরেই ঈদুল ফিত্‌র উৎসব পালন শুরু হয়৷ হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি হাদীস থেকে জানা যায়, নবী করিম (সা.) মদীনা আগমন করে দেখলেন মদীনাবাসীগণ দুই দিবসে আনন্দ-উল্লাস করে থাকে৷ মহানবী (সা.) জিজ্ঞাসা করলেন, এ দিবসদ্বয় কি? ওরা বলল, জাহেলী যুগ থেকেই এ দুটি দিবসে আনন্দ-উল্লাস করে থাকি৷ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, “আল্লাহ তোমাদেরকে উক্ত দিবসদ্বয়ের পরিবর্তে উত্তম দুটি দিবস দান করেছেন৷ দিবসদ্বয় হলো ঈদুল আযহার দিবস ও ঈদুল ফিত্‌রের দিবস৷ (সুনান আবূ দাউদ, কিতাবুল ঈদায়ন)’’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পারসিক প্রভাবে শরতের পূর্ণিমার নওরোয নামে এবং বসন্তের পূর্ণিমার মিহিরজান নামে উৎসব দুটি মদীনাবাসীরা বিভিন্ন ধরনের আনন্দ-আহ্লাদ, খেলাধুলা ও কুরুচিপূর্ণ রংতামাশার মাধ্যমে উদযাপন করত৷ উৎসব দুটির রীতি-নীতি, আচার-ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণরূপে ইসলামের আদর্শ পরিপন্থী৷ জরথুস্ত্র প্রবর্তিত নওরোয ছিল নববর্ষের উৎসব৷ কিন্তু এটি ছয়দিন ব্যাপী উদযাপিত হতো যার মধ্যে শুধুমাত্র একটি দিবস নওরোয-এ-আম্মা বা কুসাক ছিল সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট৷ অন্যান্য দিনগুলি ছিল সম্ভ্রান্ত ও উচ্চবিত্তের ব্যক্তিবর্গের জন্য সুনির্দিষ্ট৷ অনুরূপভাবে ৬ (ছয়) দিনব্যাপী মিহিরজান অনুষ্ঠানেও শুধুমাত্র একটি দিন সাধারণ, দরিদ্র মানুষেরা উপভোগ করতে পারত৷ শ্রেণি বৈষম্য, ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে কৃত্রিম পার্থক্য, ঐশ্বর্য-অহমিকা ও অশালীনতার পূর্ণ প্রকাশে কলুষিত ছিল এ দুটি উৎসব৷ ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত আরববাসীরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশে শুরু করল ঈদুল ফিত্‌র ও ঈদুল আযহা উৎসব উদযাপন৷ জন্ম নিল শ্রেণি বৈষম্য বিবর্জিত, পঙ্কিলতা ও অশালীনতামুক্ত সুনির্মল আনন্দে ভরা সুস্নিগ্ধ, প্রীতি-সঘন মিলন উৎসব ঈদুল ফিত্‌র৷ উল্লেখ্য যে, ইসলাম ধর্মীয় উৎসব বলে ঈদুল ফিত্‌র প্রধানত মুসলমানদের মধ্যেই সীমিত থাকে৷ তবে, ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম এবং ঈদের অর্থ আনন্দ বিধায় প্রকারান্তরে ঈদ সকল মানবের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে৷ [৩]

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

১৯৬৫ সালে পুরান ঢাকার ঈদের নামাজ

ঈদ বাংলাদেশে একটি খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসব৷ পুরাতন ঢাকা এই সময়ে তার জীবন মুখী এবং রঙিন উৎসব পর্যায়ে পরিচিত৷ যখনই পুরাতন ঢাকা ঈদ হয়, রাস্তা এবং বিল্ডিং গুলি রঙিন মুসলিন, গেঁড়া ফুল, ক্রাফট, বেলুন এবং প্যান্ডেল দিয়ে সাজানো হয়, যা একটি উৎসবময় এবং জীবনমুখী পরিবেশ সৃষ্টি করে৷ পুরাতন ঢাকায় ঈদ মেলা, ঈদ মিছিল এবং ঈদ শোভাযাত্রা সমস্তই জনপ্রিয় ঘটনার সুযোগ যা সঙ্গীত, নৃত্য, ইত্যাদির আয়োজন করা হয়৷ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে, ঈদুল ফিতর উদযাপন বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিন থেকে পাঁচ দিন ছুটি ঘোষণা করেছে। কিন্তু কার্যত সব স্কুল, কলেজ, অফিস এক সপ্তাহ বন্ধ থাকে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের জন্য এটি বছরের সবচেয়ে আনন্দের সময়। প্রধান শহরগুলি থেকে সমস্ত বহির্গামী পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অত্যন্ত ভিড় হয়ে ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরকারী বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ভাড়া বেড়ে যায়। ঈদের দিন, ঈদের নামাজ সারা দেশে, মাঠ, ঈদগাহ বা মসজিদের ভিতরের মতো খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজের পর, লোকেরা বাড়ি ফিরে, একে অপরের বাড়িতে যায় এবং শিরনি, সেমাই এবং অন্যান্য সুস্বাদু খাবার যেমন বিরিয়ানি, কোরমা, চপ, টিকিয়া, কাবাব, লুচি, মাছ ভাজা, রেজালা, ইত্যাদি খায়। দিনভর লোকেরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করে। এদিকে সমাজের ছোট সদস্যদের বড়দের পা স্পর্শ করার প্রথা, এবং বড়রা বিনিময়ে আশির্বাদ দেয় (কখনও কখনও একটি ছোট অর্থ উপহার হিসাবে)। অর্থ ও খাদ্য দরিদ্রদের দান করা হয়। গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক ধুমধাম করে ঈদ উৎসব পালন করা হয়। নিরিবিলি প্রত্যন্ত গ্রামগুলো জনাকীর্ণ হয়ে ওঠে। কোনো কোনো এলাকায় ঈদ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। নৌকা প্রতিযোগিতা, কাবাডিসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী খেলার পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবলের মতো আধুনিক খেলাও এই উপলক্ষে খেলা হয়। শহরাঞ্চলে, লোকেরা গান বাজায়, একে অপরের বাড়িতে যায়, পিকনিকের আয়োজন করে এবং বিশেষ খাবার খায়। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় আলোকিত হয় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজার, পার্ক। সিনেমা ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখা শহরাঞ্চলে ঈদ উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সব টিভি চ্যানেল এ উপলক্ষে বেশ কিছু দিন বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

স্থানীয় নাম[সম্পাদনা]

১৯৪১ সালে ব্রিটেনে একটি মুসলিম পরিবারে ঈদ পালন
ভাষা নাম অর্থ
আচে Uroë Raya Puasa Rojar Id “উপবাস ভাঙার উৎসব”
আলবেনীয় Fitër Bajrami,
Bajrami i vogel
“বড় উৎসব”
আরবি عيد الفطر 'ইদ্ আল্‌-ফিত্‌র্‌ “উপবাস ভাঙার আনন্দ”
অসমীয়া ৰমজান ঈদ “রমজানের আনন্দ”
বাংলা রোজার ঈদ “উপবাসের আনন্দ”
বসনীয় Ramazanski Bajram
চীনা 開齋節(traditional)
开斋节(simplified)
খাই ছাই চিয়ে
“উপবাস সমাপ্তির উৎসব”
গ্রিক Σεκέρ Μπαϊράμ[৪][৫]
হাউসা Karamar Sallah “ছোট আনন্দ”
হিব্রু עיד אל-פיטר
হিন্দি छोटी ईद ছোটী ঈদ,
मीठी ईद মীঠী ঈদ
“ছোট আনন্দ”,
“মিষ্টি আনন্দ”
কাশ্মিরি لۄکٕٹ عیٖز “ছোট ঈদ”
মালয় Raya Aidilfitri
Malayalam ഈദുൽ ഫിത്ർ চেরিয়া পেরুন্নাল
পশতু کوچنې اختر ، کمکې اختر ، وړوکې اختر
ফার্সি جشن روزه‌گشا জাশ্‌নে রোযেহ্‌ গোশা
সিলেটি ꠞꠥꠎꠣꠞ ꠁꠖ রুজার ইদ “উপবাসের আনন্দ”
তামিল நோன்பு பெருநாள் নোণপু পেরুনাল
তুর্কি Ramazan Bayramı,
Şeker Bayramı
“রমজানের উৎসব”,
“মিষ্টির উৎসব”
উর্দু چھوٹی عید ছোটি 'ইদ্‌,
میٹھی عید মিঠি 'ইদ্‌
“ছোট আনন্দ”,
“মিষ্টি আনন্দ”

তারিখ[সম্পাদনা]

হিজরি বর্ষপঞ্জী অনুসারে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়৷[৬] তবে এই পঞ্জিকা অনুসারে কোনো অবস্থাতে রমজান মাস ৩০ দিনের বেশি দীর্ঘ হবে না৷ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের সমাপ্তিতে শাওয়ালের প্রারম্ভ গণনা করা হয়৷ ঈদের আগের রাতটিকে ইসলামী পরিভাষায় ‍‍লাইলাতুল জায়জা‌ (অর্থ: পুরস্কার রজনী) এবং প্রচলিত ভাষায় “চাঁদ রাত” বলা হয়৷ শাওয়াল মাসের চাঁদ অর্থাৎ সূর্যাস্তে একফালি নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ হয়, এই কথা থেকেই চাঁদ রাত কথাটির উদ্ভব৷ ইসলামি বিধানমতে ঈদের চাঁদ স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈদের ঘোষণা দিতে হয়৷ কোনো দেশের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা গেলে যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে সমগ্র দেশে ঈদের দিন নির্ধারণ করা হয়৷ দেশের উপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর এক থেকে তিন দিন পালিত হয়৷[৭]

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ঈদুল ফিতরের সাম্প্রতিক ও ভবিষ্যৎ তারিখ

ইসলামি সাল দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ঈদুল ফিতরের গ্রেগরীয় তারিখ
১৪৪৩ ৩ মে ২০২২
১৪৪৪ ২২ এপ্রিল ২০২৩
১৪৪৫ ১১ এপ্রিল ২০২৪

আনুষ্ঠানিকতা[সম্পাদনা]

মুসলিমরা ঈদুল ফিতরের দিন বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করে থাকে৷ ঈদের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ এবং এই দিনটির জন্য একটি নির্দিষ্ট নামাজও মনোনীত করা হয়েছে৷[৮] দান-খয়রাতের একটি বাধ্যতামূলক কাজ হিসেবে ‘ঈদের নামাজে’ যাবার আগে গবিব ও অভাবীকে অর্থ (যাকাত উল ফিতর নামে পরিচিত) প্রদান করা হয়৷[৯]

ঈদের নামাজ ও ঈদগাহ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত

ঈদের নামাজ জনসমাবেশের সঙ্গে একটি খোলা জায়গায় যেমন মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার বা মসজিদে আদায় করা হয়৷[৭] এই নামাজের জন্য কোনো আহ্বান (আযান) দেওয়া হয় না, এবং এটি শুধুমাত্র দুই রাকাতের মাঝে সীমাবদ্ধ, যার মধ্যে একটি পরিবর্তনশীল পরিমাণ তাকবির (“আল্লাহু আকবর” বলা) এবং নামাজের অন্যান্য উপাদান পালন ইসলামের শাখার ভিত্তিতে ভিন্ন হয়ে থাকে৷ ঈদের নামাজের পর খুতবা প্রদান করা হয় এবং তারপরে বিশ্বের সকল জীবের জন্য আল্লাহর ক্ষমা, দয়া, শান্তি ও আশীর্বাদের জন্য প্রার্থনা করা হয়৷ খুতবায় মুসলিমদের ঈদের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান, যেমন যাকাত পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়৷[১০] শুক্রবারের নামাজে যেখানে নামাজের আগে খুতবা দেওয়া হয়, সেখানে ঈদের খুতবা ঈদের নামাজের পরে প্রদান করা হয়৷ কিছু ইমাম বিশ্বাস করেন যে ঈদের খুতবা শোনা ঐচ্ছিক৷[১১] নামাজের পরে মুসলিমরা তাঁদের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতদের সাথে দেখা করে বা বাড়িতে যায়, মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবরে গিয়ে তাঁদের স্মরণ করেন অথবা কমিউনিটি সেন্টারে বা ভাড়া করা হলগুলোতে বড় সাম্প্রদায়িক উৎসব উদযাপন করে৷[৭]

সুন্নিমত[সম্পাদনা]

সুন্নিরা ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় জোরে জোরে এটি বলতে বলতে যায়:

আল্‌লাহু আক্‌বার্‌, আল্‌লাহু আক্‌বার্‌। লা ইলাহা ইল্‌লা ল্‌-লাহ্‌ ওয়াল্‌-লাহু আক্‌বার্‌, আল্‌লাহু আক্‌বার্‌ ওয়ালিল্‌-লাহি ল্-হাম্‌দ্

ঈদের দিন ভোরে মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত করে থাকে৷ ইসলামিক বিধান অনুসারে ২ রাকাত ঈদের নামাজ ৬ তাকবিরের সাথে ময়দান বা বড় মসজিদে পড়া হয়৷ ফযরের নামাজের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় হয়৷ এই নামাজ আদায় করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব৷ ইমাম কর্তৃক শুক্রবারে জুম্মার নামাজের পূর্বে খুৎবা (ইসলামিক বক্তব্য) প্রদানের বিধান থাকলেও ঈদের নামাজের ক্ষেত্রে তা নামাজের পরে প্রদান করার নিয়ম ইসলামে রয়েছে৷ ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে খুৎবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত ; তা শ্রবণ করা নামাজীর জন্য ইসলামে ওয়াজিব৷ সাধারণত: ঈদের নামাজের পরে মুসলমানরা সমবেতভাবে মুনাজাত করে থাকে এবং একে অন্যের সাথে কোলাকুলি করে ঈদের সম্ভাষণ বিনিময় করে থাকে৷ ঈদের বিশেষ শুভেচ্ছাসূচক সম্ভাষণটি হলো, “ঈদ মুবারাক”৷ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া নামক স্থানে৷

প্রস্তুতি[সম্পাদনা]

মুসলমানদের বিধান অনুযায়ী ঈদের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার আগে একটি খেজুর কিংবা খোরমা অথবা মিষ্টান্ন খেয়ে রওনা হওয়া সওয়াবের (পুণ্যের) কাজ৷ ঈদুল ফিতরের ব্যাপারে ইসলামী নির্দেশসমূহের মধ্যে রয়েছে গোসল করা, মিসওয়াক করা, আতর-সুরমা লাগানো, এক রাস্তা দিয়ে ঈদের মাঠে গমন এবং নামাজ-শেষে ভিন্ন পথে গৃহে প্রত্যাবর্তন৷ এছাড়া সর্বাগ্রে অযু-গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার বিধানও রয়েছে৷ ইসলামে নতুন পোশাক পরিধান করার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিভিন্ন দেশে তা বহুল প্রচলিত একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে৷

ঈদযাত্রা[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ঈদযাত্রা

নিজের নাড়ির টানে চলে যাওয়া, নিজের পরিবার, নিজের নিকট নিজের নির্মিত নির্মাণ নিজে নিয়ন্ত্রিত নির্মাণ - নিজের নির্মাণ এবং নির্বাচন করা একটি প্রাকৃতিক ইচ্ছা। এছাড়াও ঢাকা শহরে ঈদের আগে অনেক স্থানে জনসমাবেশ হয়। এর ফলে সড়ক যাতায়াতের সমস্যা, দোকানের বিপন্নতা, খাদ্য-পানির সমস্যা, আর্থিক সমস্যা ইত্যাদি উৎপন্ন হয়।

গুলিস্তানের টাকার হাট[সম্পাদনা]

গুলিস্তানের টাকার হাট বাজার একটি বিখ্যাত প্রাক-ঈদ বাজার যেখানে লোকেরা তাদের বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের জন্য জামাকাপড়, জিনিসপত্র এবং উপহার কিনতে পারে। এটি একটি প্রাণবন্ত এবং রঙিন বাজার যা প্রতি বছর প্রচুর লোককে আকর্ষণ করে। এই হাট বাজারে অনেকে পুরনো নোট ও কয়েনও বিক্রি করেন। সালামির জন্য সাধারণত মানুষ এসব টাকা বিক্রি করে। পাওয়া যায় নতুন, কচকচে টাকা সস্তায়।

ঈদের বাজার[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী ঈদের বাজার

গুলিস্তানে অনেক জন ঈদের বাজারে যান যেখানে মানুষরা পোশাক, আকসেসরিজ এবং উপহার কিনতে পারেন। তার আগে একটি উত্সব মনে হয় যেখানে বিভিন্ন জিনিস বিক্রয় করা হয়। হ্যাঁ, বাংলাদেশে অনেক বড় ঈদের বাজার হয়। ইসলামিক উত্সব হিসাবে, ঈদ উপলক্ষে পুরো দেশে বিভিন্ন জায়গায় ঈদের বাজার অনুষ্ঠিত হয়।

মাঠ ও মসজিদের সালাতুল ঈদ[সম্পাদনা]

ঈদের নামাজের জন্য অনেক খোলা জায়গায় প্যান্ডেল করা হয়। প্যান্ডেল থাকে রঙিন যা উৎসব মুখর পরিবেশে সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের জাতীয় ঈদগাহটি প্রতিবছর ভিন্ন পদে সাজানো হয়। অনেক মসজিদ ও মাঠে বেলুন, রঙিন কাগজ, রঙিন কাপড়, ফুল, ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়।

মাঠে ঈদের নামাজ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি পরিচিত খোলা মাঠগুলির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সুভানবর্ষ মাঠ, মহাখালী মাঠ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মাঠ উল্লেখযোগ্য। আপনি যদি এই মাঠগুলির যেকোনটিতে নামাজ পড়তে যেতে চান তবে প্রথমে মাঠের নিকটবর্তী মসজিদে যাওয়া উচিত যাতে আপনি সঠিক নামাজ পড়তে পারেন।

মসজিদে ঈদের নামাজ[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে মসজিদেও ঈদের নামাজ হয়। বাংলাদেশের বেশিরভাগ মসজিদ ঈদের নামাজ পড়ার জন্য খোলা থাকে। এছাড়াও মসজিদ ছাড়াও কিছু জায়গায় ঈদের নামাজ হয় যেমন মাঠ, পার্ক ইত্যাদি।

বায়তুল মোকাররম[সম্পাদনা]

বাইতুল মোকাররমে ঈদের দিনটি অনেক উল্লাসপূর্ণ হয়। বাংলাদেশের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং লাখ লাখ মুসলিম এই ঈদ নামাজে অংশগ্রহণ করে।

রেড রোড, কোলকাতা[সম্পাদনা]

ঈদের নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছেন কোলকাতার মুসলমানরা, রেড রোড

কোলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এটি কলকাতার মহম্মদপুর, পার্ক স্ট্রিট এবং প্রিন্সেস স্ট্রিট থেকে সহজবোধ্য একটি স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

নাখোদা মসজিদ, কলকাতা[সম্পাদনা]

নাখোদা মসজিদ কোলকাতার উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। এখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

ফিতরা[সম্পাদনা]

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের রমযান মাসের রোজার ভুলত্রুটির দূর করার জন্যে ঈদের দিন অভাবী বা দুস্থদের কাছে অর্থ প্রদান করা হয়, যেটিকে ফিতরা বলা হয়ে থাকে৷ এটি প্রদান করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব৷ ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে৷[১২] তবে ভুলক্রমে নামাজ পড়া হয়ে গেলেও ফিতরা আদায় করার নির্দেশ ইসলামে রয়েছে৷ ফিতরার ন্যূনতম পরিমাণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট৷ সাধারণত ফিতরা নির্দিষ্ট পরিমাণ আটা বা অন্য শস্যের (যেমন: যব, কিসমিস) মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়৷ সচরাচর আড়াই সের আটার স্থানীয় মূল্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম ফিতরার পরিমাণ নিরূপণ করা হয়৷ স্বীয় গোলামের ওপর মালিক কর্তৃক ফিতরা আদায়যোগ্য হলেও বাসার চাকর/চাকরানি অর্থাৎ কাজের লোকের ওপর ফিতরা আদায়যোগ্য নয়; বরং তাকে ফিতরা দেয়া যেতে পারে৷ ইসলামে নিয়ম অনুযায়ী, যাকাত পাওয়ার যোগ্যরাই ফিতরা লাভের যোগ্য৷

ঈদ উৎসব[সম্পাদনা]

ঈদের দিনে সকালে প্রথম আনুষ্ঠানিকতা হলো নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া৷ ঈদের নামাজ সবার জন্য৷ নামাজের পর সবাই একসাথে হওয়া, দেখা করা৷ ঈদের দিনে সালামি (গুরুজন প্রদত্ত অর্থ) গ্রহণ করা প্রায় সব দেশেই রীতি আছে৷ তবে এর ধর্মীয় কোন বাধ্যবাধকতা বা রীতি নেই৷

ঈদের দিনে সেমাই সবচেয়ে প্রচলিত খাবার৷ এবং বিশেষ আরো অনেক ধরনের খাবার ধনী-গরিব সকলের ঘরে তৈরি করা হয়৷ এ উৎসবের আরো একটি রীতি হলো আশেপাশের সব বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া৷ এবং প্রত্যেক বাড়িতেই হালকা কিছু খাওয়া৷ এ রীতি বাংলাদেশে প্রায় সবাই-ই মেনে থাকে৷

বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম-প্রধান দেশে ঈদুল ফিতরই হলো বৃহত্তম বাৎসরিক উৎসব৷ বাংলাদেশে ঈদ উপলক্ষে সারা রমজান মাস ধরে সন্ধ্যাবেলা থেকে মধ্যরাত অবধি কেনাকাটা চলে৷ অধিকাংশ পরিবারে ঈদের সময়েই নতুন পোশাক কেনা হয়৷ পত্র-পত্রিকাগুলো ঈদ উপলক্ষে ঈদ সংখ্যা নামে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে থাকে৷ ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে৷ ঈদের দিন ঘরে ঘরে সাধ্যমতো বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়৷ বাংলাদেশের শহরগুলো থেকে ঈদের ছুটিতে প্রচুর লোক নিজেদের আদি নিবাসে বেড়াতে যায়৷ এ কারণে ঈদের সময়ে রেল, সড়ক, ও নৌপথে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়৷[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ধর্মীয় আচার[সম্পাদনা]

ফেতরা[সম্পাদনা]

ফিতরা বিতরণ

ফিতরা বা ফেতরা(فطرة) আরবী শব্দ, যা ইসলামে যাকাতুল ফিতর (ফিতরের যাকাত) বা সাদাকাতুল ফিতর (ফিতরের সদকা) নামে পরিচিত৷ ফিতর বা ফাতুর বলতে সকালের খাদ্যদ্রব্য বোঝানো হয় যা দ্বারা রোজাদারগণ রোজা ভঙ্গ করেন৷ যাকাতুল ফিতর বলা হয় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গরীব দুঃস্থদের মাঝে রোজাদারদের বিতরণ করা দানকে৷ রোজা বা উপবাস পালনের পর সন্ধ্যায় ইফতার বা সকালের খাদ্য গ্রহণ করা হয়৷ সেজন্য রমজান মাস শেষে এই দানকে যাকাতুল ফিতর বা সকাল‌ের আহারের যাকাত বলা হয়৷


পরিচ্ছন্নতা[সম্পাদনা]

কিছু সাধারণ স্ব-সজ্জিত ও পরিচ্ছন্নতা অনুশীলনের মধ্যে রয়েছে গোসল করা, দাঁত মাজা, নখ ছাঁটাই করা এবং পারফিউম লাগানো৷

প্রাইভেট পার্ট গ্রুমিং বলতে যৌনাঙ্গের এলাকা পরিষ্কার করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করাকে বোঝায়৷ সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ভাল স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য এই অনুশীলনটি পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ৷ পুরুষদের জন্য, গোপনাঙ্গের সাজসজ্জার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষ ধোয়া এবং প্রয়োজনে চুল ছাঁটা৷

হেয়ার গ্রুমিং হল সেলফ গ্রুমিং এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যার মধ্যে চুলের যত্ন নেওয়া, কন্ডিশনিং এবং যথাযথভাবে স্টাইল করা জড়িত৷ ঈদের আগে, অনেকেই এই অনুষ্ঠানের জন্য চুল কাটতে বা স্টাইল করার জন্য সেলুন বা দোকানে যান৷

ভোরে উঠা[সম্পাদনা]

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন অনান্য দিনের তুলনায় একটু তারাতাড়ি ওঠার জন্য উৎসাহিত করেছেন৷ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ভোরে উঠে এই বিশেষ উৎসবের প্রস্তুতি নেয়৷

ঈদের গোসল[সম্পাদনা]

ইসলামের পরিভাষায়, গোসল হল সমস্ত দেহ ধৌত করার মাধ্যমে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের একটি পন্থা৷ কতিপয় ধর্মীয় উপাসনা এবং আচার-আনুষ্ঠান পালনের পূর্বশর্ত হচ্ছে গোসল৷ ঈদের দিনে গোসল করা সুন্নত৷

মেসওয়াক[সম্পাদনা]

ঈদের সকালে ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা সুন্নত৷ ইসলামে পবিত্রতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ৷

সেরা পোশাক পরিধান করা[সম্পাদনা]

বিশ্বনবী মুহাম্মদ ঈদের জন্য তার সেরা পোশাক পরিধান করতেন৷ ঈদ মানে খুশি৷ ঈদে মুসলমানদের সেরা পোশাক পরা সাধারণ ব্যাপার৷ বাংলাদেশে বাঙালিরা ঐতিহ্যবাহী, রঙিন, নতুন ঈদের পোশাক পরতে পছন্দ করে৷ বাঙালি নারীরা ঈদে জন্য গোটা, জারদৌসি, পাথর, মতি, কাঁচ বা আয়নার ভারি কাজের, জমকালো, রঙিন পোশাক পরতে পছন্দ করেন, যেমন জামা, শাড়ি বা লেহেঙ্গা, গারারা, ইত্যাদি৷ গরমকালের ঈদে মেয়েরা মসলিন, রেশম বা সুতী কাপড়ের ওপর হালকা, আরামদায়ক ঢিলেঢালা পোশাক যেমন জামা, শাড়ি, কুর্তি, ফতুয়া, অথবা আংরাখা, কামিজ, ঘাগরা ইত্যাদি পরেন৷ ছেলেরা পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কাবলি অথবা আংরাখা, কুর্তা, আচকান, শেরওয়ানি, শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরেন৷ উপমহাদেশের অনেক জায়গায় নারীরা তাদের নিখুঁত ঈদের পোশাক তৈরি করতে দর্জির কাছে ছুটে যান৷ আড়ং এবং অন্যান্য দেশি ব্রান্ডগুলো প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে দেশী ও মর্ডান ফিউশনে জনপ্রিয় কালেকশন বের করে৷

রঙিন পোশাকে বাঙালির ঈদ আনন্দ

সুগন্ধি[সম্পাদনা]

সুগন্ধি ব্যবহারের রীতি ঈদের একটি বিশেষ অঙ্গ৷ সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত৷ সুগন্ধি হিসেবে আতর জনপ্রিয়৷ ঈদের আগে বাংলাদেশে আতর, টুপি ও সুরমার দোকান বসে৷ ভ্রাতৃত্ব দেখানোর জন্য বাঙালি মুসলমানরা ঈদগাহে একে অপরকে আতর ও সুরমা লাগিয়ে দেয়৷

মিষ্টি কিছু খাওয়া[সম্পাদনা]

ঈদের নামাজের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে মহানবী খেজুর খেয়ে যেতেন৷ ঈদের নামাজের আগে মিষ্টিমুখ করাতে উৎসাহিত করা হয়৷ বাঙালিদের মাঝে সেমাই খাওয়ার প্রচলন থাকলেও সুন্নতের দিক দিয়ে খেজুর খাওয়া উত্তম৷ চাঁনরাতে ঢাকাইয়ারা দুধে খুরমা ভিজিয়ে রাখে৷ উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে দুধে খেজুর বা দুধে খুরমা দিয়ে ঈদের প্রথম খাবার শুরু করার প্রচলন আছে৷ বড়ো বুজুর্গদের মতে ঈদে রোজা রাখা হারাম বোলে এই দুধে খুরমা, খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙা হয়৷

দুধ সেমাই
ঈদের মিষ্টি৷ লাচ্ছা সেমাই, পান্তুয়া, কালোজাম, সাদা চমচম ও সাদা ভোগ৷

পায়ে হেঁটে ঈদের নামাজে যাওয়া[সম্পাদনা]

পায়ে হেঁটে ঈদের নামাজে যাওয়া সুন্নত৷ বাঙালিরা দল বেঁধে ঈদের নামাজে যেতে পছন্দ করে৷

ঈদের দিন বাঙালির দল বেঁধে ঈদের জামাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা

ঈদের নামাজ[সম্পাদনা]

ঈদের নামাজের গুরুত্বের ব্যাপারে ইসলামী চিন্তাবিদগণ বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছেন৷ হানাফী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ওয়াজিব, মালিকি ও শাফেয়ী মাযহাব অনুসারে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং হাম্ববলী মাযহাব অনুসারে ঈদের নামাজ ফরজ৷ বাংলাদেশের বেশিরভাগ ঈদের নামাজের আগে বক্তা ইসলামের শিক্ষা ও ঈদকে ঘিরে নানা রকমের বক্তব্য রাখেন৷

ঈদ খুতবা[সম্পাদনা]

ঈদের খুতবা হবে নামাযের পর৷ ইবনে আববাস (রাঃ) ও ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম), আবূ বাক্র, উমার ও উসমান উভয় ঈদের নামায খুতবার আগে পড়তেন৷

ঈদের খুতবা৷ রাজারবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভিন্ন পথ অনুসরণ[সম্পাদনা]

ঈদের নামাজ থেকে ফিরে আসার জন্য ভিন্ন পথ অনুসরণ করা সুন্নত৷ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) ঈদের নামাজের জন্য যে পথ দিয়ে আসতেন তার থেকে ভিন্ন পথ থেকে আসতেন কারণ তিনি কীভাবে দেখতেন মানুষ কতদূর ঈদ উদযাপন করছে এবং ঈদের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আরও বেশি লোকের সাথে দেখা করতেন৷ ঈদে হাসি মুখে থাকা গুরুত্বপূর্ণ৷

আন্তর্জাতিক আচার[সম্পাদনা]

=== ঈদি ===

ঈদ উপহার সামগ্রী


ঈদি হলো এক ধরনের উপহার৷ এটি মুসলিম সমাজে প্রচলিত একটি ঈদ প্রথা৷ ঈদি অনেকটা বাংলার সালামির মতন হলেও কিছুটা ভিন্ন৷ প্রথমত ঈদি উপহার টাকা ছাড়াও অনেক কিছু হতে পারে৷ সালামির মতন শুধু বড়রা ছোটদের নয়, ছোটরাও বড়দের দিতে পারে৷ ঈদি অনেকটা বড়দিনের উপহার মতো৷

খাবার[সম্পাদনা]

ঈদের খাবার

ঈদ মানেই আনন্দ৷ ঈদে ঘোরাঘুরি, মেলামেশা ও নতুন পোশাকের পাশাপাশি ঈদের অন্যরকম আকর্ষনেই থাকে মুখরোচক সব বিশেষ খাবার আয়োজন৷ দেশ, সংস্কৃতি, জাতি ও পরিবার ভেদে ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের ভিন্নতা রয়েছে৷ এর মধ্যে তুরস্কের লোকুল, মরক্কোর তাজিন, আফগানিস্তানের বোলানি, বসনিয়ার তুফাহিযা, বাংলাদেশের সেমাই, উপমহাদেশ বিখ্যাত আফগানিস্তানের শীর খুরমা, মালয়েশিয়ার কেটুপাত ও ভারতের শাহি টুকরা উল্লেখযোগ্য৷ বড়দিনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদেও ঈদ বিস্কুট ও ঈদ কেকের মতন খাবারের প্রথা বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে৷

পোলাও

প্রিয়জনদের সাথে সাক্ষাৎ[সম্পাদনা]

বিশ্বজুড়ে পরিবার ও প্রীয়জনদের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ঈদুল ফিতর একটি বিশেষ দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ঈদুল ফিতরে অনেকেই ঈদ পার্টির আয়োজন করে৷ অনেকেই ঈদ পার্টিতে ভার্জিন মোহিতো পরিবেশন করে৷ অনেকে আয়োজন করে পার্টি ক্স্যকার্স, নাচ-গান ও ইন্ডোর গেমসের৷ অনেক সময় বাচ্চাদের জন্য পার্টি পিনাটারো আয়োজন দেখা যায়৷ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটির মধ্যে শেষ দিন গুলোতে অনেকেই এইসব আয়োজন করে৷

উপমহাদেশের ঈদুল ফিতর[সম্পাদনা]

চাঁদ রাত[সম্পাদনা]

চাঁদ রাতের ভির

চাঁদ রাত হল ঈদুল ফিতরের উৎসবের প্রাক্কালে দক্ষিণ এশিয়ার একটি ইসলামিক অনুষ্ঠান; এর অর্থ নতুন ইসলামী মাস শাওয়ালের জন্য একটি নতুন চাঁদের সাথে একটি রাতও হতে পারে৷ চাঁদ রাত হল উদযাপনের একটি সময় যখন পরিবার এবং বন্ধুরা রমজানের শেষ দিনের শেষে নতুন চাঁদ দেখার জন্য খোলা জায়গায় জড়ো হয়, যা শাওয়াল মাসের আগমন এবং ঈদের দিনকে নির্দেশ করে৷ একবার চাঁদ দেখা গেলে, লোকেরা একে অপরকে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা জানায়৷ মহিলা এবং মেয়েরা মেহেদী দিয়ে তাদের হাত সাজায় এবং লোকেরা ঈদের পরের দিন মিষ্টান্ন তৈরি করে এবং কেনাকাটার শেষ রাউন্ড করে৷ বাংলাদেশে চাঁদ দেখার সাথে সাথেই বিটিভিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ঈদের গান, “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” গানটি ছাড়া হয়৷ এই গানটি বাঙালিদের ঈদ সংস্কৃতির একটি বিশেষ অংশ৷ শিশুরা হাতে বানানো ঈদ কার্ড বিতরণ করে৷

ঈদগাহ[সম্পাদনা]

ঈদগাহ দক্ষিণ এশীয় ইসলামী সংস্কৃতিতে ব্যবহৃত একটি শব্দ যা দ্বারা খোলা আকাশের নিচে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার নামাজ আদায়ের জন্য সাধারণত শহরের বাইরে বা শহরতলীতে বড় ময়দানকে বোঝানো হয়৷

মেহেদী[সম্পাদনা]

ঈদকে ঘিরে প্রস্তুতির শেষ নেই৷ ঈদ অপূর্ণ থেকে যায় যদি হাত মেহেদীর রঙে রাঙা না হয়৷ বিশেষ করে চাঁদরাত হাতে মেহেদী লাগাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ের নারী ও শিশুরা৷ শুরু হয় মেহেদী দেয়ার প্রতিযোগিতা৷ কে কত সুন্দর করে হাত রাঙাতে পারে৷

মেহেদির সুন্দর নকশায় রাঙা হাত

বাজার[সম্পাদনা]

ঈদের বাজার ছাড়া ঈদ কল্পনা করা যায় না৷চাঁদ রাতের বাজার চাঁদ রাতের একটি বিশেষ অনুসঙ্গ৷ এইসব বাজারে ঈদ উপলক্ষে চুড়ি, ঝুমকা, টিকা, ঝাপটার মতন গয়না ও আনারকলি ও চুড়িদারের মতন পোশাক বিক্রি করা হয়৷ মহিলা শেষ কেনাকাটা করতে বাজারে ছুটে যায়৷ চুরি চাঁদ রাতের একটি বিশেষ অংশ৷ পুরান ঢাকায় চাঁদ রাত পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ঈদের বিশেষ বাজার বসে৷

কোলাকুলি[সম্পাদনা]

উপমহাদেশের মানুষরা ঈদের দিনে খুশিতে এঁকে অপরকে কোলাকুলি বা আলিঙ্গন করে৷ এতে ভ্রাতৃত্ব, প্রেম ও ভালোবাসা বাড়ে৷

দাওয়াত[সম্পাদনা]

দাওয়াত মানে নেমন্তন্ন৷ উপমহাদেশের মুসলমানরা নিজের প্রিয়জনকে দাওয়াত দেয় বা পরিজনদের দাওয়াত খেতে যায়৷ জাতি, ধর্ম, বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে সবাই ঈদের দাওয়াতে ও মেহফিলে অংশগ্রহণ করে৷ থাকে রকমারি সুস্বাদু খাবার, জা সংস্কৃতি, অঞ্চল ও পরিবার ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে৷ খাবারে বিরিয়ানি, ফিরনি, জর্দা, মুসাল্লাম, কাবাব, কোর্মা ইত্যাদি মুঘল খাবার জনপ্রিয়৷

বাংলার ঈদোৎসব[সম্পাদনা]

বাঙালিরা উৎসব প্রিয়৷ কথায় আছে “বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ”৷ উৎসব বাঙালির প্রাণশক্তির বিকাশ৷ ঈদুল ফিতর বাঙালিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব৷ ঈদ শব্দটি আরবিতে “আ'উদ” বলা হয়, ফিতর বা ফেতর কে বলা হয় “ফিতরা'”৷ বাংলায় এই উৎসবকে বিভিন্ন নাম দাওয়া হয়েছে, যেমন: ঈদুল ফিতর, ঈদুল ফেতর, শাওয়ালের ঈদ, রোজার ঈদ, ইত্যাদি ইত্যাদি৷ ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম অধিকারে এলেও নামাজ, রোজা ও ঈদোৎসবের প্রচলন হয়েছে তার বেশ আগে থেকেই৷ ঈদে বাঙালিরা নানা রকম আচার পালন করে থাকে৷ সালাম ও সালামি বাঙালিদের ঈদের একটি বড় অংশ৷ পায়ে ছুঁয়ে সালাম করলে বড়রা খুশি হয়ে কিছু টাকার দাওয়ার সালামি প্রথা শত শত বছর ধরে বাংলার মাটিতে পালন করা হচ্ছে৷ বাংলাদেশে ঈদের জন্য সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়৷ ঈদের নামাজের খোলা ময়দানে রঙিন প্যান্ডেল করা হয়৷ অনেক জায়গায়ই বিশেষ ডিল এবং ডিসকাউন্ট অফার দেওয়া হয় ঈদ উপলক্ষে৷ ঈদের জন্য বিশেষ নাটক ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা টেলিভিশনের বিনোদন জগত৷ নবাবি আমল থেকে বাঙালিদের জাদুর খেলা দেখা, চিড়িয়াখানা ও সার্কাসে যেয়ে আনন্দ উপভোগের দারা ঈদ উৎযাপন করার কথা জানা যায় ইতিহাস থেকে৷

লোকাচার[সম্পাদনা]

ঈদ সংখ্যা

ঈদ-শারদীয় সংখ্যা, গুলিস্তান, ঢাকা

ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশের পত্র-পত্রকার বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেন৷ বাংলা ভাষার সাময়িকপত্রে ঈদ সংখ্যার চর্চা নতুন নয়, বরং এটি বিশ শতকেরই প্রায় সমান বয়সী৷ সে অর্থে এটি বাঙালিদের শত বছরের একটি ঐতিহ্য৷ যেহেতু ওই সময়ে কলকাতা ছিল বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রাজধানী, সেহেতু এটি শুরু হয়েছে কলকাতা থেকেই৷ পরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ঈদ সংখ্যা প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়৷

ঈদ মেলা

বিগ জনস ঈদ মেলা, বার্মিংহাম

পুরান ঢাকায় ঈদ মেলার ধারণার উৎপত্তি৷ এটি ঢাকাইয়া (পুরান ঢাকার স্থানীয় বাঙালি) দ্বারা শুরু হয়েছিল৷ এখন ঈদ মেলা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি বাঙালি সংস্কৃতির ঈদ উদযাপনের একটি বিশাল অংশ৷ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এই ঈদ মেলায় এসে একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে৷ চক বাজারের ঈদ মেলাই আসল ঈদ মেলা৷ দেখবেন ঢাকিরা ঢাক পিটিয়ে ঈদের পরিবেশ তৈরি করছে৷ বাংলার গ্রামাঞ্চলে ঈদ মেলা একটি বড় আকর্ষণ৷ এই গ্রামের ঈদ মেলায় বিভিন্ন ধরনের দোকানে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খেলনা যেমন মাটির পুতুল, মাটির হাঁড়ি, লাটিম এবং অন্যান্য আধুনিক দিনের খেলনা যেমন গাড়ি, বারবি ডল, বল ইত্যাদি বিক্রি হয়৷ কিছু দোকানে খই, মুড়ি, মন্ডা, চিড়া, ইত্যাদির মতো খাবারের গুচ্ছ বিক্রি হয়৷ মোয়া ও অন্যান্য বাঙালি মিষ্টি এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প যেমন নকশিপাখা, নকশি কথা, মৃৎপাত্রের পাশাপাশি বাংলা বাদ্যযন্ত্র যেমন একতারা, ডুগডুগি, বাশি ইত্যাদি কেনাকাটা করতে পছন্দ করে গ্ৰামবাংলার মানুষেরা৷

নৃত্য অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বা শহুরে সংস্কৃতিও প্রভাব ফেলেছে ঈদ উৎসবে৷ বিশ শতকের ত্রিশ-চল্লিশ দশকে ঢাকায় ঈদের দিন রমনা, আরমানিটোলা বা অন্যান্য মাঠে ‘খটক’ নাচ অনুষ্ঠিত হতো৷হিজরা নাচ ছিল ঢাকার বাবু কালচারের অঙ্গ, যা যুক্ত হয়েছিল ঈদ উৎসবের সঙ্গে৷ এখনো ঈদ উপলক্ষে নাচ গান ও সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজন করা হয়৷

লোকক্রীড়া ঈদে খেলাধুলার আয়োজনো করা হয়ে থাকে৷ হা-ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা ইত্যাদি গ্ৰামিন খেলা উভয় খেলোয়াড় ও দর্শকদের পর্যাপ্ত আনন্দ দেয়৷ এর পাশাপাশি ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদি খেলারও আয়োজন করা হয়৷

ঘোড়া দৌড় ঈদসহ নবাব পরিবারের নানা পার্বণে ঘোড়দৌড়ের উল্লেখ লক্ষ করা যায়৷ এখন বাংলাদেশের কিছু জায়গায় ঈদের নামাজের পর বাংলার

ঈদ নাটক ঈদ নাটক হল একটি প্রচলিত বাংলা সংস্কৃতির অংশ৷ এটি প্রায়শই ঈদের পর্বে টেলিভিশনে প্রচারিত হয়৷ এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষেরা ইসলামিক সন্ধ্যা, ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আযহা, মুহররম, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, শোক-নৃত্য, গ্রামীন, জীন্স, ফ্যাশন, কৌতুক, পরিবার, প্রেম, গৃহ-নির্মাণ, ইন্টারনেট, রোমান্টিক, নায়িকা-নায়েকের মধ্যে সম্পর্ক ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে নাটক প্রচারিত হয়৷

ঈদ শোভাযাত্রা হল একটি বাংলাদেশী পরম্পরা৷ এটি ঈদ উপলক্ষে উদ্বোধন করা হয়৷ ঈদ শোভাযাত্রার ইতিহাস বেশ কম পরিচিত৷ এটি বাংলাদেশের স্কুল এবং কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সম্মান করা এবং একটি জাতীয় উৎসব হিসাবে পরিচিত৷ এটি প্রথম বার বাংলাদেশের জাতীয় স্কুল এবং কলেজে উদ্বোধন করা হয়৷ প্রথম ঈদ শোভাযাত্রা ১৯৮৯ সালে উদ্বোধন করা হয়৷ এর পরে এটি বাংলাদেশের জাতীয় উৎসব হিসাবে পরিচিত হয়৷

অঞ্চল ভেদে ঈদের লোকাচার[সম্পাদনা]

অঞ্চল ভেদে ঐতিহ্যের ভিন্নতা থাকলেও বাঙালিরা পরিবার ও প্রীয়জনদের সাথেই ঈদ উৎযাপন করতে পছন্দ করে৷ শহরাঞ্চলে চোখ ধাঁধানো, জমকালো, সুন্দর আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়৷ শহর, মফস্বল, গ্ৰাম, সব জায়গাতেই যুবকদের দারা চলন্ত ট্রাকে সাউন্ড বক্সের আয়োজন করা হয়৷ ঈদে আত্মীয় স্বজনরা একসাথে হয়ে গল্প গুজব করে৷ ছোটরা অন্দর খেলা করে৷ বড়রাও আড্ডা দেয়, সুন্দর স্মৃতি তৈরি করে৷ বিয়ের পরে নতুন দম্পতিদের প্রথম ঈদকে বাঙালিরা বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকে৷

ঈদ আলোকসজ্জা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ঢাকা[সম্পাদনা]

ধানমন্ডি ঈদগাহ, ঢাকা

মেলা পুরান ঢাকার ঈদের বিষয় কথা হলে ঈদের মেলার কথা আসবেই৷ ঈদ মেলা ঢাকাইয়াদের গর্ব৷ বলা হয়ে থাকে মুঘল আমল থেকে এই মেলা হয়ে আসছে৷

বাংলার ঐতিহ্য ঈদ মেলা

নাটকীয় সাজ ঐতিহ্যটি তরুণদের জন্য তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার এবং তাদের ফ্যাশন সেন্স প্রদর্শনের একটি উপায় হিসাবে কাজ করে৷ অনেকে তাদের পোশাকের পরিকল্পনা করতে সপ্তাহ কাটায়, যার মধ্যে প্রায়ই জটিল সূচিকর্ম, প্রাণবন্ত রং এবং ঐতিহ্যবাহী গয়না অন্তর্ভুক্ত থাকে৷ পুরান ঢাকায় ঈদ উদযাপনের সময়, তরুণদের বর-কনের সাজে দেখা একটি সাধারণ দৃশ্য৷ এই ঐতিহ্য বহু প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং আজও প্রচলিত রয়েছে৷

ভটভটি ঈদুল ফিতর উদযাপনের জন্য৷ ঢাকাইয়া সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় বাহনের আবির্ভাব ঘটেছে যেমন ভটভটি একটি মোটর যা কেরোসিন ব্যবহার করে যা পানিতে ঘুরতে পারে, পাশাপাশি ড্রাম-গাড়ি৷ ঢাকাইয়া সংস্কৃতি ঈদ উদযাপনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব৷ ঈদের সময়, ঢাকা এবং বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ ঢাক ঢোল বাজানো এবং রঙিন ভটভটি গাড়ির ব্যবহার সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে জড়িত হওয়া সাধারণ৷ ঈদের নামাজ এবং অন্যান্য উত্সব অনুষ্ঠানের সময় প্রায়শই ঢাক বাজানো হয়, যখন ভটভটি গাড়ি একটি উজ্জ্বল সজ্জিত বাহন যা উত্সব চলাকালীন শহরের আশেপাশে লোকজনকে পরিবহন করতে ব্যবহৃত হয়৷ ঢাক এবং ভোটভোটি গাড়ি উভয়ই ঢাকাইয়া সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক, এবং ঈদ উদযাপন এবং অন্যান্য উত্সব অনুষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত৷

ঈদ মিছিল ঈদ মিছিল হল একটি রঙিন মিছিল যা ঈদের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়৷ প্রথম ঈদ মিছিল একটি বিশাল সাফল্য ছিল, এবং তখন থেকে ঢাকায় একটি বার্ষিক ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে, স্থানীয় এবং পর্যটকদের একইভাবে প্রচুর ভিড়৷ আজ ঐতিহ্যবাহী এবং আধুনিক পারফরম্যান্সের মিশ্রণ রয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের ঈদের ছুটির অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান৷ ঈদ মিছিলে অংশ নেওয়া লোকেরা প্রায়শই রঙিন এবং উত্সবের পোশাক পরেন৷ অনেক অংশগ্রহণকারী রঙিন ফেস পেইন্ট, গয়না এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক দিয়ে নিজেদেরকে সাজান৷ এই সমাবেশ একটি প্রাণবন্ত এবং উত্সব অনুষ্ঠান, এবং অংশগ্রহণকারীদের দ্বারা পরিধান করা রঙিন পোশাক উদযাপনের পরিবেশে যোগ করে৷ অনেক লোক তারযুক্ত পোশাক এবং মুখোশ পরেন৷ ট্রাকগুলি প্রায়শই রঙিন ব্যানার, চিহ্ন এবং অন্যান্য সজ্জা দিয়ে সজ্জিত করা হয় এবং প্যারেডের উত্সব পরিবেশের একটি কেন্দ্রীয় অংশ৷ কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীরা প্রায়শই ট্রাকে চড়ে, ভিড়ের দিকে দোলা দেয় এবং ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ও নাচের রুটিন পরিবেশন করে৷ ট্রাকগুলি বড় বাদ্যযন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম যা পারফরম্যান্সে ব্যবহৃত হয় পরিবহনের জন্যও ব্যবহৃত হয়৷ এটা সম্ভব যে ঈদ মিচিলে কিছু অংশগ্রহণকারী আড্ডা বা ট্রাকে খেলা খেলতে পারে, তবে এটি প্যারেডের কেন্দ্রীয় অংশ নয়৷ মিছিলের মূল আকর্ষণ হল সঙ্গীত, নৃত্য এবং অন্যান্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদযাপন করা৷

ঘোড়ার গাড়ি ঈদে পুরান ঢাকার ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি বা টাঙ্গায় চড়ার ঐতিহ্য বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গভীরে নিহিত একটি সাংস্কৃতিক চর্চা৷ ঢাকা শহর, যেটি একসময় মুঘল সাম্রাজ্যের সময় বাংলার রাজধানী ছিল, ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে৷ ঈদের সময়, লোকেরা তাদের সেরা পোশাক পরে এবং শুভেচ্ছা এবং উপহার বিনিময় করার জন্য বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে দেখা করার রেওয়াজ৷ পুরান ঢাকায় ঈদের সময় যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় উপায় হল ঘোড়া বা ঘোড়ার গাড়ি, যা টাঙ্গা নামেও পরিচিত৷ এই ঐতিহ্যটি মুঘল যুগ থেকে শুরু হয় যখন অভিজাতরা বিশেষ অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য ঘোড়া ও গাড়িতে চড়ত৷ বর্তমানে ঈদের সময় ঘোড়া বা টাঙ্গায় চড়া মর্যাদা ও প্রতিপত্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়৷ উৎসবে অংশ নেওঞ্জয়ার জন্য অনেকে ঘোড়ার গাড়ি বা টাঙ্গা ভাড়া করেন৷ পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো ঘোড়ার খুরের আওয়াজে আর গাড়ির শব্দে ভরে যায় যখন মানুষ মসজিদ, বাজার, বাড়িঘরে যায়৷ ঢাকার আধুনিকায়ন ও নগরায়ণ সত্ত্বেও এই ঐতিহ্য টিকে আছে এবং উন্নতি লাভ করেছে৷ এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্থিতিস্থাপকতা এবং স্থায়ী প্রকৃতির একটি প্রমাণ৷

ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি

চট্টগ্রাম[সম্পাদনা]

বাংলাদেশে ২০২২ সালের থেকে চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব শুরু হয়৷ ঈদের আগে বাংলাদেশে লোকেরা ব্যাংকে ছুটে যায় নতুন কচকচে টাকা র জন্য৷ ঈদে জামাই তার বৌকে নিয়ে বৌয়ের বাপের বাড়ি তথা নাইয়রে যাবার প্রথা আছে৷ এ নিয়ে একটি জনপ্রিয় আঞ্চলিক গানও আছে, নাম “নাইয়র নিবা নিবা গরি”৷ শশুর বাড়ী গিয়ে জামাই ছোটদের কচকচে নতুন নোটের সালামি দেয়৷ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাবার হলো ছানার পোলাও৷ চট্টগ্রামের মানুষরা সেমাই, পায়েস ও পোলাও মাংসের পাশাপাশি কালাভুনা, লাল ভুনা, নল্লির ঝোল, দই পটোল এর মতন খাবারের আয়োজন করা হয়৷ মেয়েরা সারাদিনের বিশেষ খাবার আয়োজন শেষে নিজেদের সাজানোর কাজে ব্যস্ত হয়৷ স্ত্রী চাঁদরাতে ও ঈদের বাজারে কেনা গয়না, পোশাক পরে, সাজগোজ করেই নিজের স্বামীর কাছে ঈদের দিন প্রথম দেখা দেয়৷

নাওর, জয়নুল আবেদীন

সিলেট[সম্পাদনা]

সিলেট শাহী ঈদগাহ
সাদা হান্দেশ আর নুনগড়া

হান্দেশনুনগড়া সিলেটের ঐতিহ্যের মূল অংশ৷ এছাড়াও বিরন পোলাও, বিরিয়ানি, ঈদ চিকেন রোস্ট, খিল্লি পান, আলপাইন বিরিয়ানি ইত্যাদি সিলেটি খাবার বেশ খাওয়া হয়৷ সিলেটের মানুষরা বেলুন, ব্যানার, পার্টি ফ্যান, কাগজ, কার্ডবোর্ড ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজানো হয়৷ ঈদে ঈদি (উপহার) ও ঈদের ডালা উল্লেখযোগ্য৷


বরিশাল[সম্পাদনা]

বরিশাল লঞ্চ

ঢাকায় বসবাসকারী বরিশালের মানুষরা জনপ্রিয় ঢাকা টু বরিশাল লঞ্চে চেপে ঈদ যাত্রা করে৷ এই লঞ্চ এখন ঈদের কল্পনার সাথে মিশে গিয়েছে৷ ঈদে বরিশালে নানা রকমের মিষ্টি পিঠা, চুটকি সেমাই, বিসকি, চিংড়ি মালাই কারি, ইলিশ বরিশালির মতন ইত্যাদি সব বরিশালের ঐতিহ্যবাহী খাবার খাওয়া হয়৷ বরিশালে জাঁকজমকপূর্ণ ঈদের কেনাকাটা হয়৷ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে শিশুদের বিনোদনের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)-এর তত্ত্বাবধায়নে নগরীর সিএনবি রোড বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম পার্ক, আমানতগঞ্জ সুকান্ত বাবু শিশু পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান সংলগ্ন গ্রীন সিটি পার্ক, আবদুর রব সেরনিয়াবাত (কালী বাড়ি রোড) সড়কস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা কাঞ্চন পার্ক, বান্ধ রোড মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, নগরীর আমতলার মোড় স্বাধীনতা পার্ক, কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন ৩০ গোডাউন বদ্ধভূমি, আমানতগঞ্জ সড়ক শহীদ শুক্কুর-গফুর পার্ক, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কস্থ (সদর রোড) পাবলিক স্কায়ার, বরিশাল জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধায়নে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার দূর্গা সাগর দিঘী বিনোদন কেন্দ্রগুলোকে সাজানো হয় নতুন সাজে৷

খুলনা[সম্পাদনা]

ঈদ বাজার, বাংলাদেশ

খুলনায় চাঁদ রাত থেকেই অলিতে গলিতে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে৷ দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়াও বাঙালীর ঈদ সংস্কৃতির একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ঈদ উপলক্ষে খুলনার মফস্বলে ঐতিহ্যবাহী ঈদ আনন্দ মেলার মাঠ হয়৷ সাত দিন ব্যাপী এই মেলা চলে৷ মেলায় বায়োস্কোপ, চরকি, ঘোড়া সহ বিভিন্ন রাইড দোকান পাটের আয়োজন করা হয়৷ আয়োজকরা বলেন, গ্ৰামের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই মেলার আয়োজন৷

উত্তরবঙ্গ[সম্পাদনা]

উত্তরবঙ্গে ঈদের একটি বিশেষ মিষ্টি খাবার হলো শাহী ভাপা পিঠা৷ উত্তরবঙ্গে ঈদ মানেই চামড়ি খেলা৷ উত্তরবঙ্গে ঈদ-পর্বের সময় গ্রামের যুবকরা ঈদের এই বিশেষ খেলা দেখায়৷ দর্শকরাও বেশ আগ্ৰহ নিয়ে দেখে৷

কলকাতা[সম্পাদনা]

কলকাতায় বাংলাদেশের শহরের মতোনই ঈদ হয়৷ বাংলাদেশের মতই ঈদের জন্য বিশেষ আলোকসজ্জা ও যুবকদের দারা চলন্ত ট্রাকে সাউন্ড বক্সের আয়োজন করা হয়৷ ঈদের আগে প্রচুর ভীর হয় কোলকাতার নিউ মার্কেটে৷ বাংলাদেশের মানুষরাও ছুটে যায় অপার বাংলায় কেনাকাটার জন্য৷

নিউ মার্কেটে একটি পোশাকের স্টল, কোলকাতা

ময়মনসিংহ[সম্পাদনা]

ময়মনসিংহে ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্র মানুষদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়৷ ঈদে গ্ৰামবাংলায় মুর্শিদি ও মারফতি গানের আসর বসে৷

বাঙালির ঈদ আনন্দ

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Elias, Jamal J. (১৯৯৯)। Islam। Routledge। পৃষ্ঠা 75আইএসবিএন 0415211654। সংগ্রহের তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০১২ 
  2. "মহানবী (সা.)-এর যুগে ঈদের উৎসব | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১১ 
  3. https://bn.banglapedia.org/index.php/%E0%A6%88%E0%A6%A6%E0%A7%81%E0%A6%B2_%E0%A6%AB%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%B0
  4. "Δημοτικό Συμβούλιο Κω:Χρόνια Πολλά για τη μουσουλμανική γιορτή «Σεκέρ Μπαϊράμ» - Kosnews24.gr" 
  5. "Εκδηλώσεις - Δήμος Ιάσμου - www.iasmos.gr"। ৩০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৬ 
  6. Ghamidi, Javed Ahmad। Mizan: A Comprehensive Introduction to Islam। Lahore: Al-Mawrid। 
  7. "Eid al-Fitr 2019: Everything you need to know"। Al Jazeera। ৩ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ জুন ২০১৯ 
  8. Heiligman, Deborah (২০০৯)। Celebrate Ramadan and Eid al-Fitr with Praying, Fasting, and Charity। National Geographic Children's Books। আইএসবিএন 978-0792259268। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩১ অক্টোবর ২০২০ 
  9. "Articles and FAQs about Islam, Muslims"Islamicfinder.org। ২৮ আগস্ট ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০১৩ 
  10. Gaffney, Patrick D. "Khutba." Encyclopedia of Islam and the Muslim World. p. 394.
  11. "Eid Gebete"Diegebetszeiten.de (জার্মান ভাষায়)। ৭ জানুয়ারি ২০২০। ২৩ জুন ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০২০ 
  12. "Articles and FAQs about Islam, Muslims"Islamicfinder.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০৮-১১ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]