বিষয়বস্তুতে চলুন

গুলিস্তান, ঢাকা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঢাকা গুলিস্তানে পারাপারে ভিড়

গুলিস্তান হল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক সংযোগস্থলের ডাকনাম। গুলিস্তান নামটি এসেছে ফার্সি ভাষা থেকে, যার অর্থ 'ফুলের বাগান'। সরকারিভাবে গুলিস্তান নামে কোনো স্থান নেই। গুলিস্তান নামটি এসেছে মূলত এই স্থানের একটি সিনেমা হলের নাম থেকে।[]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ সম্পাদিত ঢাকাকোষে উল্লেখ আছে, গুলিস্তান সিনেমা হলের নাম অনুসারে এই জায়গার নাম হয়ে যায় গুলিস্তান।[] ব্রিটিশ আমলে উনবিংশ শতাব্দীতে গুলিস্তানের আশপাশ এলাকা ছিলো ঢাকার প্রাণকেন্দ্র। চলচ্চিত্রবিষয়ক খ্যাতিমান সাংবাদিক অনুপম হায়াৎ জানান, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কলকাতার চিত্র ব্যবসায়ী খান বাহাদুর ফজল আহমেদ দোশানি ঢাকায় চলে আসেন। ব্যবসায়ী খান বাহাদুর রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রমনার ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশনের উত্তরে ঢাকা জেলা ক্রীড়া মিলনায়তন এবং পল্টন মাঠের পাশে ১৯৫৩ সালে গুলিস্তান নামে একটি সিনেমা হল প্রতিষ্ঠা করেন। আগা খান এই সিনেমা হলের উদ্বোধন করেন। এটি ছিল ঢাকার প্রথম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আধুনিক প্রেক্ষাগৃহ। প্রথমে হলটির নাম ছিল লিবার্টি। পরে গুলিস্তান করা হয়। এখানে দেশি-বিদেশি সব সিনেমা দেখানো হতো। পুরান ঢাকার স্মৃতি নিয়ে লেখা ঢাকাপুরানগ্রন্থ-এ মিজানুর রহমান লিখেছেন,

১৯৫৫ সালে গুলিস্তান হলের ওপর তলায় নাজ নামে আরেকটি সিনেমা হল চালু হয়। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে চলচ্চিত্র এবং শিল্প-সংস্কৃতির জন্য গুলিস্তান খুব বিখ্যাত ছিল। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গুলিস্তানের মালিক পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং ১৯৭২ সালে তা দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে। ২০০৫ সালে তারা পুরোনো ভবনটি ভেঙে একটি নতুন শপিং কমপ্লেক্স স্থাপন করে।[]

সাম্প্রতিক সময়

[সম্পাদনা]

বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলিস্তানের সাথে সংযুক্ত যা এটিকে ব্যস্ত এবং জনবহুল করে তুলেছে। গুলিস্তানের সড়কের দুইপাশে প্রচুর পাইকারী ও খুচরো দোকান রয়েছে, যা দেশের অন্যতম বৃহতম জামাকাপড়ের যোগানের অন্যতম স্থান। প্রতিদিনের প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষ এই স্থানটিতে যাওয়া আসা করে। রাস্তাটি সর্বদা যানবাহন এবং পথচারীদের দ্বারা মুখরিত থাকে। ঢাকা শহরের অন্যতম প্রাচীন পরিবহন 'টমটম' দেখা যায় এই রাস্তায়। এই রাস্তার ঠিক মাঝখানে একটা মাজার আছে। একে বলা হয় "গোলাপ শাহের মাজার"। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই মাজারে তাদের ভক্তি প্রদর্শন করে এবং দান করে যাতে তাদের ইচ্ছা পূরণ হয়।[]

গুলিস্তানে একটি বড় বাসস্ট্যান্ড অবস্থিত যার নাম গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া) বাস স্ট্যান্ড।[] এখানকার অধিকাংশ মানুষ এবং যাত্রী সংখ্যা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা খুবই কম। বাসের ভিতরে আর ফাঁকা জায়গা না থাকায় মানুষ প্রায়ই বাসের উপরে উঠে যায়। দরজায় কিছু লোককে বাসের সাথে ঝুলতে দেখা যায়। বঙ্গ (বা বাংলা) বাজার এখানকার প্রধান কেনাকাটার একটি স্থান। এখানে কম মূল্যে নতুন এবং আধুনিক পোশাক পাওয়া যায়। বাংলাবাজারের ভেতরে শতাধিক দোকান রয়েছে। সরু পথের কারণে আশেপাশে ঘোরাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়ে। জায়গাটি এতই ঘনবসতিপূর্ণ ও গরম যে কমপ্লেক্সের ভিতরে বেশিক্ষণ থাকা কঠিন।

১১ কিলোমিটার দীর্ঘ গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী উড়ালসড়ক ২০১৩ সালের অক্টোবরে যানজট কমাতে এবং ভ্রমণের সময় স্বাভাবিক এক ঘন্টা থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটে কমাতে নির্মিত হয়েছিল।[] ওসমানি উদ্যান পার্ক,[] ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়, ঢাকা জিপিও, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, বায়তুল মোকাররম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এই রাস্তার নিকটে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 "'গুলিস্তান' নেই, তবু আছে ৬৪ বছর ধরে"প্রথম আলো। ১৮ জুন ২০১৭।
  2. Parveen, Shahnaz (১০ আগস্ট ২০০৮)। "History of Golap Shah's shrine still a mystery"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৯ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (Online) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৫ নভেম্বর ২০০৫
  3. Butler, Stuart John (২০০৮)। Bangladesh (6th সংস্করণ)। Lonely Planet। পৃ. ৬৮আইএসবিএন ৯৭৮-১৭৪১০৪৫৪৭৫
  4. Azad, Rafiqul (১২ অক্টোবর ২০১৩)। "PM opens Gulistan-Jatrabari flyover"। The Independent। ১০ জুন ২০১৫ তারিখে মূল থেকে (Online) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৩Oct 11 [2013]: ... 11-km-long [flyover] is being opened to traffic on Saturday ... The flyover connects ... the different link roads of Jatrabari and Gulistan areas, to ease traffic congestion ... The flyover will also help reduce .. travel time from the usual one hour, to a mere five minutes.
  5. "Recreation Facilities for the Middle Class of Dhaka City: A Research Report of Democracy Training Programme Batch 7 Under the Overall Supervision of Research And Social Survey Unit"Democracy Watch Bangladesh (DOC)। ২০০২। ২৭ জানুয়ারি ২০০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। Osmany Uddyan ... is situated at Dhaka's life center Gulistan area."