শান্তিনিকেতন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শান্তিনিকেতন আম্রকুঞ্জে সস্ত্রীক মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ, ১৯৪০
শান্তিনিকেতনে বসন্তোৎসবে বাউল সমাবেশ
পৌষমেলা বাজার

শান্তিনিকেতন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলাবোলপুর শহরের নিকট অবস্থিত একটি আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্র। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিভৃতে ঈশ্বরচিন্তা ও ধর্মালোচনার উদ্দেশ্যে বোলপুর শহরের উত্তরাংশে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা কালক্রমে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ নেয়।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময় শান্তিনিকেতন আশ্রমে অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মে এই আশ্রম ও আশ্রম-সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশের উপস্থিতি সমুজ্জ্বল। শান্তিনিকেতন চত্বরে নিজের ও অন্যান্য আশ্রমিকদের বসবাসের জন্য রবীন্দ্রনাথ অনিন্দ্য স্থাপত্যসৌকর্যমণ্ডিত একাধিক ভবন নির্মাণ করিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে আশ্রমনিবাসী বিভিন্ন শিল্পী ও ভাস্করের সৃষ্টিকর্মে সজ্জিত হয়ে এই আশ্রম একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনস্থল হয়ে ওঠে। ১৯৫১ সালে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাস[সম্পাদনা]

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭ - ১৯০৫) - শান্তিনিকেতনের প্রতিষ্ঠাতা

বিশ্বভারতী[সম্পাদনা]

দ্রষ্টব্য স্থল[সম্পাদনা]

শান্তিনিকেতন ভবন[সম্পাদনা]

শান্তিনিকেতন ভবন আশ্রমের সবচেয়ে পুরনো বাড়ি। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬৪ সালে এই বাড়িটি তৈরি করিয়েছিলেন। বাড়িটি দালান বাড়ি। প্রথমে একতলা বাড়ি ছিল। পরে দোতলা হয়। বাড়ির উপরিভাগে খোদাই করা আছে সত্যাত্ম প্রাণারামং মন আনন্দং মহর্ষির প্রিয় উপনিষদের এই উক্তিটি। তিনি নিজে বাড়ির একতলায় ধ্যানে বসতেন। তাঁর অনুগামীরাও এখানে এসে থেকেছেন। কৈশোরে বাবার সঙ্গে হিমালয়ে যাওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে কিছুদিন বাস করেন। ব্রহ্মচর্য বিদ্যালয় স্থাপনের সময়ও রবীন্দ্রনাথ কিছুকাল সপরিবারে এই বাড়িতে বাস করেন। পরে আর কখনও তিনি এটিকে বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করেননি। এখন বাড়িটির সামনে রামকিঙ্কর বেইজ নির্মিত একটি বিমূর্ত ভাস্কর্য রয়েছে। শান্তিনিকেতন ভবনের অদূরে একটি টিলার আকারের মাটির ঢিবি আছে। মহর্ষি এখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতেন। একসময় এই টিলার নিচে একটি পুকুরও ছিল।

উপাসনা মন্দির[সম্পাদনা]

উপাসনা গৃহ বা ব্রাহ্ম মন্দির। ১৮৯২ সালে এই মন্দিরের উদ্বোধন হয়। এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র দিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর তখন থেকেই ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসাবে প্রতি বুধবার সকালে উপাসনা হয়। মন্দির গৃহটি রঙ্গিনকাঁচ দিয়ে নান্দনিক নকশায় নির্মিত। আর তাই এস্থানিয় লোকজনের কাছে এটা কাঁচের মন্দিন নামেও পরিচিত।

ছাতিমতলা[সম্পাদনা]

মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন রায়পুরের জমিদারবাড়িতে নিমন্ত্রন রক্ষা করতে আসছিলেন তখন এই ছাতিমতলায় কিছুক্ষণ এর জন্য বিশ্রাম করেন এবং এখানে তিনি তার “প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি” পেয়েছিলেন । তখন রায়পুরের জমিদারের কাছথেকে ষোলো আনার বিনিময়ে ২০বিঘা জমি পাট্টা নেন । বর্তমানে ৭ই পৌষ সকাল ৭.৩০ ঘটিকায় এখানে উপাসনা হয় ।কিন্তু সেকালের সেই ছাতিম গাছ দুটি মরে গেছে। তারপর ঐ জায়গায় দুটি ছাতিম গাছ রোপণ করা হয়। সেই ছাতিম তলা বর্তমানে ঘেরা আছে সেখানে সাধারনের প্রবেশ নিশেধ।দক্ষিণ দিকের গেটে “তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ ও আত্মার শান্তি” এই কথাটি লেখা আছে। [[:চিত্র:]]

তালধ্বজ[সম্পাদনা]

তিনপাহাড়[সম্পাদনা]

দেহলী[সম্পাদনা]

নতুন বাড়ি[সম্পাদনা]

শালবীথি[সম্পাদনা]

আম্রকুঞ্জ[সম্পাদনা]

সন্তোষালয়[সম্পাদনা]

ঘণ্টাতলা[সম্পাদনা]

শমীন্দ্র পাঠাগার[সম্পাদনা]

গৌরপ্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

সিংহসদন[সম্পাদনা]

পূর্ব ও পশ্চিম তোরণ[সম্পাদনা]

চৈত্য[সম্পাদনা]

দিনান্তিকা[সম্পাদনা]

দ্বিজবিরাম[সম্পাদনা]

কালোবাড়ি[সম্পাদনা]

উত্তরায়ণ প্রাঙ্গন[সম্পাদনা]

শিল্পকীর্তি[সম্পাদনা]

রামকিঙ্কর বেইজ নির্মিত রবীন্দ্র-ভাস্কর্য, শান্তিনিকেতন

নন্দলাল বসুর শিল্পকর্ম[সম্পাদনা]

বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়-অঙ্কিত ভিত্তিচিত্র[সম্পাদনা]

রামকিঙ্কর বেইজের ভাস্কর্য[সম্পাদনা]

অন্যান্য শিল্পকর্ম[সম্পাদনা]

শ্রীনিকেতন[সম্পাদনা]

উৎসব-অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

নববর্ষ ও রবীন্দ্র জন্মোৎসব[সম্পাদনা]

ধর্মচক্র প্রবর্তন[সম্পাদনা]

গান্ধী পুণ্যাহ[সম্পাদনা]

রবীন্দ্র সপ্তাহ, বৃক্ষরোপণ ও হলকর্ষণ উৎসব[সম্পাদনা]

স্বাধীনতা দিবস[সম্পাদনা]

বর্ষামঙ্গল[সম্পাদনা]

শিল্পোৎসব[সম্পাদনা]

রাখীবন্ধন[সম্পাদনা]

শারদোৎসব[সম্পাদনা]

খ্রিষ্টোৎসব[সম্পাদনা]

মহর্ষি স্মরণ[সম্পাদনা]

পৌষ উৎসব[সম্পাদনা]

পৌষমেলা বা পৌষ উৎসব হল শান্তিনিকেতন-শ্রীনিকেতন অঞ্চলের প্রধান উৎসব।[১] দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষাগ্রহণ স্মরণে এই উৎসব পালিত হয়। উৎসব ও মেলা শুরু হয় প্রতি বছর ৭ পৌষ; চলে তিন দিন ধরে।[২]

বসন্তোৎসব[সম্পাদনা]

শ্রীনিকেতনের বার্ষিক উৎসব[সম্পাদনা]

দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ স্মরণ[সম্পাদনা]

বর্ষশেষ[সম্পাদনা]

অন্যান্য উৎসব[সম্পাদনা]

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

  • মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭ - ১৯০৫) – ব্রাহ্ম শীর্ষনেতা ও জমিদার। ১৮৬৩ সালে শান্তিনিকেতনের গোড়াপত্তন করেন।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১ – ১৯৪১) – দিকপাল বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, সংগীতস্রষ্টা ও দার্শনিক। ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন ব্রহ্মবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, কালক্রমে যা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ ধারণ করে।
  • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১ - ১৯৫১) - প্রবাদপ্রতিম চিত্রকর ও ভাস্কর। বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ।
  • ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় – ধর্মতত্ত্ববিদ, ব্রহ্মবিদ্যালয়ের স্বল্পকালীন শিক্ষক।
  • জগদানন্দ রায় – বিশ্বভারতীর গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষক।
  • বিধুশেখর শাস্ত্রী – সংস্কৃত পণ্ডিত, বিশ্বভারতীর বিশিষ্ট গবেষক।
  • হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়বঙ্গীয় শব্দকোষ গ্রন্থের প্রণেতা, শান্তিনিকেতনে বাংলা ও সংস্কৃতের শিক্ষক।
  • ক্ষিতিমোহন সেন – বিশিষ্ট ভারততত্ত্ববিদ। রবীন্দ্রনাথের নির্দেশে একাধিক ভারতীয় ভাষা শিক্ষা করে বাংলা ও ভারতের লোকসাহিত্যের নানা নিদর্শন পুনরুদ্ধার করেন।
  • শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু (১৮৮২ - ১৯৬৬) – বিশিষ্ট চিত্রকর ও ভাস্কর। শান্তিনিকেতনের অলংকরণে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।
  • সুরেন্দ্রনাথ কর – বিশিষ্ট চিত্রকর। শান্তিনিকেতনের অঙ্কন শিক্ষক। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি বাড়ির নকশা অঙ্কন করেছিলেন।
  • রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর – রবীন্দ্রনাথের জ্যৈষ্ঠ পুত্র। বিশিষ্ট স্থপতি ও কৃষিবিজ্ঞানী। রবীন্দ্র-কীর্তি সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
  • প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় – বিশ্বভারতীর অধ্যাপক। রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ রবীন্দ্রজীবনী–র রচয়িতা। রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক আরও অনেক গ্রন্থও।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন: সংক্ষিপ্ত পরিচয়, অনাথনাথ দাস, আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, পৃ. ৫৭
  2. শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন পরিচয়, কমলাপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়, সুবর্ণরেখা, শান্তিনিকেতন, পৃ. ৬২-৬৩

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  • রবীন্দ্রজীবনকথা; প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়; আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা; অগ্রহায়ণ, ১৩৮৮
  • শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন:সংক্ষিপ্ত পরিচয়; অনাথনাথ দাস; আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা; ১৯৮৮
  • শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতন পরিচয়; কমলাপ্রসন্ন চট্টোপাধ্যায়; প্রকাশক – সুতপা মুখোপাধ্যায়, গুরুপল্লী (দক্ষিণ), শান্তিনিকেতন; পরিবেশক – সুবর্ণরেখা, শান্তিনিকেতন, ১৪১৩ বঙ্গাব্দ

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

শান্তিনিকেতন সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে হলে উইকিপিডিয়ার সহপ্রকল্পগুলোতে অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন:

Wiktionary-logo-en.svg সংজ্ঞা, উইকিঅভিধান হতে
Wikibooks-logo.svg পাঠ্যবই, উইকিবই হতে
Wikiquote-logo.svg উক্তি, উইকিউক্তি হতে
Wikisource-logo.svg রচনা সংকলন, উইকিউৎস হতে
Commons-logo.svg ছবি ও অন্যান্য মিডিয়া, কমন্স হতে
Wikivoyage-Logo-v3-icon.svg ভ্রমণ নির্দেশিকা, উইকিভয়েজ হতে
Wikinews-logo.png সংবাদ, উইকিসংবাদ হতে