মজিদ খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মজিদ খান
ماجدخان
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামমজিদ জাহাঙ্গীর খান
জন্ম (1946-09-28) ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ (বয়স ৭৩)
লুধিয়ানা, পাঞ্জাব, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে ভারত)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি ব্যাটসম্যান
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ডানহাতি অফ ব্রেক
সম্পর্কজাহাঙ্গীর খান (বাবা)
আসাদ জাহাঙ্গীর খান (ভাই)
জাভেদ বার্কি (চাচাতো ভাই)
ইমরান খান (চাচাতো ভাই)
বায়েজিদ খান (পুত্র)
আহমেদ রাজা (চাচা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৪)
২৪ অক্টোবর ১৯৬৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৩ জানুয়ারি ১৯৮৩ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ )
১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ ওডিআই১৯ জুলাই ১৯৮২ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৬৩ ২৩ ৪১০ ১৬৮
রানের সংখ্যা ৩৯৩১ ৭৮৬ ২৭,৪৪৪ ৪,৪৪১
ব্যাটিং গড় ৩৮.৯২ ৩৭.৪২ ৪৩.০১ ২৮.২৮
১০০/৫০ ৮/১৯ ১/৭ ৭৩/১২৮ ২/৩১
সর্বোচ্চ রান ১৬৭ ১০৯ ২৪১ ১১৫
বল করেছে ৩৫৮৪ ৬৫৮ ৭,১৬৮ ২,৮১৭
উইকেট ২৭ ১৩ ২২৩ ৭১
বোলিং গড় ৫৩.৯২ ২৮.৭৬ ৩২.১৪ ২২.৬৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৪/৪৫ ৩/২৭ ৬/৬৭ ৫/২৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭০/- ৩/- ৪১০/- ৪৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো, ২১ আগস্ট ২০১৭

মজিদ জাহাঙ্গীর খান (উর্দু: ماجد جہانگیر خان‎‎; জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬) অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক প্রথিতযশা পাকিস্তানী ক্রিকেটার। পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়াও পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্বভারও গ্রহণ করেছেন। তার রাজত্বকালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ‘ম্যাজিস্টিক খান’ নামে আখ্যায়িত হতেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হতো। যে-কোন ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে পারতেন মজিদ খান। বিশেষ করে তৎকালীন দূর্ধর্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট-বোলারদের বিপক্ষে তার ভূমিকা ছিল অতীব প্রশংসনীয়।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ তারিখে পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার শৈশবকাল পাকিস্তানের অংশের পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরের অতিবাহিত হয়। তার বাবা জাহাঙ্গীর খান ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হবার পূর্বে ব্রিটিশ ভারতের পক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন। শুরুতে মজিদ খান পেস বোলার হিসেবে অংশ নিতেন।[১] কিন্তু পিঠের ব্যথা ও বোলিংয়ে কৌশলে সন্দিহান থাকায় অফ স্পিন বোলার ও ব্যাটসম্যানের দিকে ধাবিত হন। ব্রিটেনে গ্ল্যামারগন ও কেমব্রিজ, অস্ট্রেলিয়ায় কুইন্সল্যান্ড এবং পাকিস্তানে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স, রাওয়ালপিন্ডি ও পাঞ্জাবপ্রদেশের পক্ষে খেলেছেন।

মজিদের বাবা জাহাঙ্গীর খান ১৯৩৬ সালে এমসিসি বনাম কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলাচলাকালে বোলিংরত অবস্থায় পাখী মেরে ফেলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।[২][৩] বর্তমানে ঐ পাখীটি লর্ডসে ক্রিকেটে গ্রাউন্ডে অবস্থিত এমসিসি’র যাদুঘরে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত আছে।[৪] জাতীয় পর্যায়ে মজিদ খানের অন্তর্ভূক্তির প্রাক্কালে জাহাঙ্গীর খান দল নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধান ছিলেন। কিন্তু স্বচ্ছতা আনয়ণকল্পে পদত্যাগ করেন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে পাকিস্তানের পক্ষে মাঝারি সারিতে খেলতেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে সাদিক মোহাম্মদের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন।[৫][৬] স্লিপ ফিল্ডার হিসেবেও তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। অধিকাংশ ক্যাচই দেখতে সহজ ধরনের মনে হতো।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৮ বছরের টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে মাত্র ৬৩ টেস্টে অংশ নিতে পেরেছেন। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ ছিল তার। সামগ্রিকভাবে ৬৩ টেস্টে ৮ সেঞ্চুরি সহযোগে ৩৯৩১ রান তুলেন। প্রথম-শ্রেণীর-ক্রিকেটে সংগৃহীত ২৭০০০-এর অধিক রানে ৭৩ সেঞ্চুরি ও ১২৮টি হাফ-সেঞ্চুরি ছিল।[৭]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দল পাকিস্তান সফরে আসে। করাচীর জাতীয় স্টেডিয়ামে মজিদের টেস্ট অভিষেক ঘটে।[৮] ৩০ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে পাঁচ ব্যাটসম্যানের একজন হিসেবে মধ্যাহ্নবিরতির পূর্বেই সেঞ্চুরি করার গৌরবগাঁথা রচনা করেন। অন্যরা হচ্ছেন - ভিক্টর ট্রাম্পার, চার্লি ম্যাককার্টনি, ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান এবং ডেভিড ওয়ার্নার[৯] ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে করাচীতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১১২ বলে অপরাজিত ১০৮* রান তোলেন তিনি।[১০][১১]

১৯৭৩ সালে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে তার ওডিআই অভিষেক হয়।[১২] পাকিস্তানের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করার সম্মাননা লাভ করেন। ৩১ আগস্ট, ১৯৭৪ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি এ সাফল্য পান।[১৩][১৪][১৫] তার ঐ ১০৮ রানের ইনিংসটি ৯৩ বলে ১৬ চার ও এক ছক্কার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছিল।

১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করেন যা তার সর্বাপেক্ষা স্মরণীয় সময়কাল অতিবাহিত করেন। ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা সেরা বোলিং আক্রমণ রুখে দিয়ে সিরিজে ৫৩০ রান তোলেন। তন্মধ্যে জর্জটাউনে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৭ রান তোলেন। ফলে পাকিস্তান সমূহ পরাজয়ের কবল থেকে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যায়। অবশ্য পাকিস্তান ঐ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।[১৬]

জানুয়ারি, ১৯৮৩ সালে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন।[১৭] এরপূর্বে জুলাই, ১৯৮২ সালে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি।[১৮]

কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

১৯৬১-৬২ মৌসুমে লাহোরের পক্ষে খেলেন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান একাদশের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস সফরে যান। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৮৯ মিনিটে কৃতিত্বপূর্ণ ১৪৭ রান তোলেন। তন্মধ্যে রজার ডেভিসের এক ওভারে পাঁচটি ছক্কা হাঁকান তিনি। ক্লাবের সচিব উইল্ফ উলার মজিদের বাবা ড. জাহাঙ্গীর খানের সাথে কেমব্রিজে অবস্থানকালে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়েন। ফলশ্রুতিতে ১৯৬৮ সালে গ্ল্যামারগন কাউন্টির বিদেশী খেলোয়াড়রূপে তাকে চুক্তিবদ্ধ করেন।[১৯][২০][২১] ১৯৭২ সালে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে মৌসুমে ৭০ মিনিটে দ্রুততম সেঞ্চুরি করায় ওয়াল্টার লরেন্স ট্রফি লাভ করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ওয়েলস কাউন্টির অধিনায়কত্ব করেন। এসময়ে ২১টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সেঞ্চুরি সহযোগে ৯০০০-এর অধিক রান তোলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের কিংবদন্তীতুল্য সাবেক অধিনায়ক ও ফাস্ট-বোলার ইমরান খান[২২] এবং জাভেদ বার্কি[২৩] তার চাচাতো ভাই।[২৪] মজিদের সন্তান বায়েজিদ খানও পাকিস্তানের পক্ষে খেলেছেন।[২৫] হ্যাডলি পরিবারের তিন প্রজন্মের টেস্ট ক্রিকেটারদের পর তার পরিবারের অবস্থান দ্বিতীয়।[২৪][২৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম প্রশাসক মনোনীত হন। ১৯৯০-এর দশকে বোর্ডের সিইও হিসেবে নির্বাচিত হন।[২৬] বর্তমানে তিনি ইসলামাবাদে বসবাস করছেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Omar Noman, Pride and Passion: An Exhilarating Half Century of Cricket in Pakistan, OUP, Karachi, 1998, p. 120.
  2. BBC SPORT / Funny Old Game / An uneven contest, BBC, ৩০ জুন ২০০২, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  3. Five weird London museum exhibits, GreatWen, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  4. Wisden Almanack – 1937, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  5. 'Self-belief was my best attribute', ESPNCricinfo, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১১, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  6. Records / Test matches / Partnership records / Highest overall partnership runs by openers, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  7. Majid Khan, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  8. Australia in Pakistan Test Match, ESPNCricinfo, ২৪ অক্টোবর ১৯৬৪, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  9. Seervi, Bharath (৩ জানুয়ারি ২০১৭)। "Warner only fifth to score century before lunch on first day"। ESPNcricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৭ 
  10. Records / Test matches / Batting records / Hundred runs before lunch, ESPNCricinfo, ৩০ অক্টোবর ১৯৭৬, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  11. New Zealand in Pakistan Test Series – 3rd Test, ESPNCricinfo, ৩০ অক্টোবর ১৯৭৬, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  12. Pakistan in New Zealand ODI Match, ESPNCricinfo, ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  13. Prudential Trophy – 1st ODI, ESPNCricinfo, ৩১ আগস্ট ১৯৭৪, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  14. England v Pakistan – Prudential Trophy 1974 (1st ODI), CricketArchive, ৩১ আগস্ট ১৯৭৪, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  15. Who made the 1st century for Pakistan?, ItsOnlyCricket, ২৭ ডিসেম্বর ২০১০, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  16. Pakistan tour of West Indies, 1976/77 / Scorecard – Pakistan in West Indies Test Series – 3rd Test, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  17. India in Pakistan Test Series – 5th Test, ESPNCricinfo, ২৩ জানুয়ারি ১৯৮৩, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  18. Prudential Trophy – 2nd ODI, ESPNCricinfo, ১৯ জুলাই ১৯৮২, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  19. Brief profile of Majid Khan, CricketArchive, ডিসেম্বর ২০০৩, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  20. Wisden – Majid Khan – CRICKETER OF THE YEAR 1970, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  21. My Favourite Cricketer – The eternal idol, ESPNCricinfo, ১২ জুন ২০০৫, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  22. Imran Khan, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  23. Javed Burki, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  24. Bazid keeps it in the family, BBC, ২১ মে ২০০৫, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  25. Bazid Khan, ESPNCricinfo, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 
  26. Profile: Majid Khan, Lords, সংগ্রহের তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
আসিফ ইকবাল
পাকিস্তানী ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৭৫
উত্তরসূরী
আসিফ ইকবাল