ওয়াসিম বারি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
ওয়াসিম বারি
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম (১৯৪৮-০৩-২৩)২৩ মার্চ ১৯৪৮
ব্যাটিংয়ের ধরন ডানহাতি
বোলিংয়ের ধরন ডানহাতি
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ৮১ ৫১
রানের সংখ্যা ১৩৬৬ ৯৭১
ব্যাটিং গড় ১৫.৮৮ ১৭.০০
১০০/৫০ -/১১ -/৫
সর্বোচ্চ রান ৮৫ ৮৮
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২০১/২৭ ৫২/১০
উৎস: ক্রিকইনফো, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ওয়াসিম বারি (উর্দু: وسیم باری; জন্ম: ২৩ মার্চ, ১৯৪৮) সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানী ক্রিকেটার।[১] পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়েও পারদর্শীতাসহ ডানহাতে বোলিং করতে পারতেন। সুদীর্ঘ ১৭ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বাধিক টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও সিন্ধুর পক্ষে খেলেন তিনি।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

২৭ আগস্ট, ১৯৬৭ তারিখে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডসে তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটে। কলিন মিলবার্ন তাঁর প্রথম ডিসমিসালে পরিণত হয়েছিলেন। ব্যাট হাতে ইনিংস প্রতি ১৫.৮৮ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে ১১ নম্বরে ব্যাটিং করে অপরাজিত ৬০ রান তোলেন ও ওয়াসিম রাজা’র সাথে শেষ উইকেটে ১৩৩ সংগ্রহ করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেক হয়। ১৯৭৯ ও ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে অবতীর্ণ পাকিস্তান দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[২]

১৯৭১ সালে লিডসে এক টেস্টে ৮ ক্যাচ নিয়ে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ৪ ব্যাটসম্যানকে স্ট্যাম্পিং করে পুণরায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেন। ১৯৭৯ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ৮ ব্যাটসম্যানের ৭ জনই তাঁর ক্যাচে পরিণত হয়। ২৭টি স্ট্যাম্পিংসহ ২২৮টি ডিসমিসাল নিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে।[৩] ঐ সময়ে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশী ডিসমিসালের অধিকারী ছিলেন। তাঁর চেয়ে কেবলমাত্র এম এস ধোনি সবচেয়ে বেশী টেস্ট ক্যাচ ও স্ট্যাম্পিংয়ের অধিকারী।

অধিনায়কত্ব[সম্পাদনা]

ছয় টেস্টে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেন। তন্মধ্যে, ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে স্বদেশে সিরিজ ড্র হলেও ফিরতি সফরে ১৯৭৮ সালে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত সিরিজে অধিনায়কত্ব করে ড্র রাখতে সক্ষম হন। কিন্তু ইংল্যান্ড সফরে দুই টেস্টে পরাজিত হয় তাঁর দল ও বৃষ্টির কারণে তৃতীয় টেস্ট ড্রয়ে পরিণত হয়। ক্যারি প্যাকারের সিরিজের প্রেক্ষিতে শূন্যস্থান পূরণে পাকিস্তান দলে সংক্ষিপ্তকালের জন্য অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

মূল্যায়ণ[সম্পাদনা]

নীচের সারিতে ব্যাটিং করে তাঁর ব্যাটিং শক্তিমত্তার সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯-বার শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরত আসেন যা পাকিস্তানের রেকর্ডবিশেষ।[১] তাস্বত্ত্বেও ১১২ ইনিংসে ১,৩৬৬ রান তুলেছেন। তন্মধ্যে ৫০-ঊর্ধ্ব ইনিংস ছিল ছয়টি।

উচ্চমানের গ্লাভসম্যান হওয়া স্বত্ত্বেও সেরাদের কাতারে দাঁড়াতে পারেননি তিনি। রডনি মার্শ কিংবা জেফ্রি ডুজনের ন্যায় দর্শনীয় ভঙ্গীমার অধিকারী না হওয়া স্বত্ত্বেও তাঁরা স্বীকার করেছেন যে, বারি তাঁর সময়কালের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন।

১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২৫ দলের সদস্যরা একবাক্যে তাঁকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা প্রদান করে। ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংরেজ অধিনায়ক টনি গ্রেগের মতে, অধিকাংশ লোকই মনে করে যে, অ্যালান নট সেরা উইকেট-রক্ষক। কিন্তু নট নিজেই বিশ্বাস করতেন যে, বারি তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

অধিনায়ক ও দলের একমাত্র প্রকৃত ফাস্ট বোলার ইমরান খান বারির কর্মক্ষমতার উপর পরিপূর্ণভাবে আস্থা পোষণ করতেন। ইমরান তাঁকে ইংল্যান্ডের অ্যালান নটের তুলনায়ও এগিয়ে রাখতেন। তাস্বত্ত্বেও বেশ কয়েকবার তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। গ্লাভস খুলে রাখার পরও দুই দশকের অধিককাল টেস্টে অংশগ্রহণ ও স্ট্যাম্পের পিছনের থাকার অবদান অক্ষত ছিল।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৯৭ সালে দেশের স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে পিসিবি কর্তৃক আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন। স্ট্যাম্পের পিছনে কিংবা সামনে থেকে তুলনামূলকভাবে কম সফলতা পেলেও ৭০ ও ৮০-এর দশকে দলের অর্জনকে সমসাময়িক ক্রিকেটের তুলনায় সেরা ছিল। অবসর পরবর্তীকালে পাকিস্তানের দল নির্বাচকমণ্ডলীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পিসিবির সদস্য থাকাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১৬ সালের সিরিজে দলীয় ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত করে। তিনি সেপ্টেম্বর মাসে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়া ইন্তিখাব আলমের স্থলাভিষিক্ত হন।[৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Wasim Bari's Cricinfo Profile"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ 2016-9-11  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  2. Cricinfo 1979 World Cup stats for Pakistan
  3. "Wicketkeeping Records most Test Match dismissals in a career"। Cricinfo। ২ মার্চ ২০১৩। 
  4. "Bari replaces Alam as Pakistan team manager"Cricinfo। 2016-9-11। সংগ্রহের তারিখ 2016-9-9  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ=, |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
মুশতাক মোহাম্মদ
পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক
১৯৭৮
উত্তরসূরী
আসিফ ইকবাল