সেলিম মালিক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সেলিম মালিক
سلیم ملک
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসেলিম মালিক পারভেজ
জন্ম (1963-04-16) ১৬ এপ্রিল ১৯৬৩ (বয়স ৫৬)
কায়েরপোরা, লাহোর, পাকিস্তান
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক / স্লো-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯০)
৫ মার্চ ১৯৮২ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ টেস্ট২০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩৮)
১২ জানুয়ারি ১৯৮২ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ ওডিআই৮ জুন ১৯৯৯ বনাম ভারত
ওডিআই শার্ট নং
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৮১–১৯৯৯লাহোর
১৯৮২–২০০০হাবিব ব্যাংক লিমিটেড
১৯৯১–১৯৯৩এসেক্স
১৯৯১–১৯৯২সারগোদা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ১০৩ ২৮৩ ২৬৯ ৪২৬
রানের সংখ্যা ৫,৭৬৮ ৭,১৭০ ১৬,৫৮৬ ১১,৮৫৬
ব্যাটিং গড় ৪৩.৬৯ ৩২.৮৮ ৪৫.৯৪ ৩৬.৫৯
১০০/৫০ ১৫/২৯ ৫/৪৭ ৪৩/৮১ ১২/৭৮
সর্বোচ্চ রান ২৩৭ ১৪০ ২৩৭ ১৩৮
বল করেছে ৭৩৪ ৩,৫০৫ ৫,৭৮৪ ৫,৭৪৫
উইকেট ৮৯ ৯৩ ১৬০
বোলিং গড় ৮২.৮০ ৩৩.২৪ ৩৫.৩০ ২৯.৩৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ১/৩ ৫/৩৫ ৫/১৯ ৫/৩৫
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৬৫/– ৮১/– ১৬৭/– ১৪১/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ৫ অক্টোবর ২০১৭

সেলিম মালিক পারভেজ (উর্দু: سلیم ملک‎‎; জন্ম: ১৬ এপ্রিল, ১৯৬৩) লাহোরের কায়েরপোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক পাকিস্তানী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৯ সময়কাল পর্যন্ত পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়াও দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন সেলিম মালিক। দলে তিনি মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। স্কয়ার অঞ্চলেই তাঁর ব্যাটিংয়ের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। তাঁর লেগ ব্রেক বোলিংও বেশ কার্যকরী ছিল। শতাধিক টেস্ট খেলার অধিকারী সেলিম মালিকের কৃতিত্ব ম্লান হয়ে পড়ে। একবিংশ শতকের ঊষালগ্নে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম হিসেবে তিনি পাতানো খেলার সাথে জড়িত হয়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। সাবেক দলীয় সঙ্গী ইজাজ আহমেদের ভগ্নিপতি তিনি।[১]

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

মার্চ, ১৯৮২ সালে সেলিম মালিক তাঁর প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। করাচীতে দলের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল[২] প্রথম ইনিংসে ১২ রানে আউট হবার পর ডিক্লেয়ারকৃত দ্বিতীয় ইনিংসে মনোরম অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস করেন। ১৮ বছর ৩২৩ দিন বয়সে তাঁর এ সেঞ্চুরিটি অভিষেকে তৎকালীন দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে কৃতিত্ব প্রদর্শনের সুযোগ পায়।[৩]

১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে যান। হেডিংলিতে ৯৯ ও ওভালে ১০২ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস খেলেন। ইংরেজ পরিবেশের সাথে অনেকাংশেই নিজেকে খাঁপ খাইয়ে নেন। ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে বেশ কয়েক বছর এসেক্সের পক্ষে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯১ সালে ১,৯৭২ রান তুলে চমৎকার মৌসুম কাটান। এসেক্সের অ-ইংরেজ হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন সেলিম মালিক।[৪] যে-কোন ক্রিকেটারের তুলনায় টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অধিক সফলকাম ছিলেন। ১৯ ইনিংসে অংশ নিয়ে ৬০.৭০ গড়ে ১,৩৯৬ রান তুলেন।[৫]

সাফল্যগাঁথা[সম্পাদনা]

১৯৮৭ সালে ব্যক্তিগত সেরা অবদান রাখেন একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ২৩৮ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় দলের সংগ্রহ ১৬১/৫ থাকা অবস্থায় ক্রিজে নামেন।[৬] জয়ের জন্য ৭৭ রানের মধ্যে তাঁর অবদান ছিল ৭২ রান। তিনি ৩৬ বল মোকাবেলা করেন। অপরাজিত থেকে দলকে ২ উইকেটের নাটকীয় জয় এনে দেন। তখনও ৩ বল বাকী ছিল।

অধিনায়কত্ব লাভ[সম্পাদনা]

পাকিস্তান দলকে ১২ টেস্টে নেতৃত্ব দেন। তন্মধ্যে ৭ টেস্টে জয় পায় তাঁর দল। অন্যদিকে, ওডিআইয়ে ৩৪ খেলা পরিচালনা করে ২১ খেলায় জয় এনে দেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সফরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

বিদেশ সফরের পর জালিয়াতির অভিযোগে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত হন। তবে, তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন ও খেলোয়াড়ী জীবন চালিয়ে যাবার অনুমতি প্রদান করা হয়। জানুয়ারি, ১৯৯৯ সালে সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

আজীবন নিষেধাজ্ঞা[সম্পাদনা]

মে, ২০০০ সালে বিচারপতি কাইয়ূমের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল কর্তৃক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁকে খেলা থেকে আজীবন নিষিদ্ধতা প্রদান করা হয়।[৭]

২৩ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে লাহোরের স্থানীয় আদালতের আপত্তির কারণে আজীবন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তুলে নেয়। সরকারী বিচারক মালিক মোহাম্মদ আলতাফ মালিকের স্বপক্ষে সিদ্ধান্ত প্রদান করে ও পাতানো খেলায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে নেয়া হয়।[৮]

নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়কাল[সম্পাদনা]

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পরপরই ৩ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে পিসিবি কর্তৃক দেশের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে প্রধান কোচের দায়িত্ব পাবার প্রস্তাবনায় সম্মতির কথা তিনি জানান। তবে পিসিবি এ ধরনের সম্মতির কথা অস্বীকার করে।[৯]

অক্টোবর, ২০১২ সালে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ পদের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বরাবরে সেলিম মালিক তাঁর আবেদনপত্র পেশ করেন। ঐ মাসের শুরুতে পিসিবি জাতীয় দলের জন্য ব্যাটিং কোচের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল।[১০]

বর্তমানে তিনি লাহোরে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য ক্রিকেট একাডেমি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও, দীর্ঘদিনের অংশীদার হামজা ইউসুফের সাথে ব্যক্তিগত ব্যবসা করে আসছেন।[১১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Ijaz Ahmed profile"CricketArchive 
  2. "Scorecard: Pakistan vs Sri Lanka"Cricinfo। ৫ মে ১৯৮২। 
  3. "Tests – Youngest to Score Century"Cricinfo। ৫ জুন ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৭ 
  4. "Most Runs in a Season for Essex"CricketArchive 
  5. "Performances by Opponent"Howstat 
  6. "Scorecard: India v Pakistan"Howstat। ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭। 
  7. "Malik guilty of match-fixing"BBC। ২৪ মে ২০০০। 
  8. "Saleem Malik's life ban lifted by local court"Cricdb। ২৩ অক্টোবর ২০০৮। ৪ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৭ 
  9. "PCB denies Malik appointment" 
  10. "Geo.tv: Latest News Breaking Pakistan, World, Live Videos"। ১৮ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ অক্টোবর ২০১৭ 
  11. "What Sachin Tendulkar's teammates and rivals from his debut Test have done since his arrival in 1989"। ১১ অক্টোবর ২০১৩। 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
জাভেদ মিয়াঁদাদ
পাকিস্তানী ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৯৩
উত্তরসূরী
রমিজ রাজা