ইমতিয়াজ আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইমতিয়াজ আহমেদ
ইমতিয়াজ আহমেদ.jpeg
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম(১৯২৮-০১-০৫)৫ জানুয়ারি ১৯২৮
লাহোর, পাঞ্জাব,
ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩১ ডিসেম্বর ২০১৬(2016-12-31) (বয়স ৮৮)
লাহোর, পাঞ্জাব, পাকিস্তান
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
১৬ অক্টোবর ১৯৫২ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১৬ আগস্ট ১৯৬২ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৪-৪৭উত্তর ভারত
১৯৪৫-৪৭উত্তর অঞ্চল (ভারত)
১৯৪৭পাঞ্জাব
১৯৪৮-৪৯পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৫০পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটিজ
১৯৫৩-৬৪কম্বাইন্ড সার্ভিসেস
১৯৬০রাওয়ালপিন্ডি
১৯৬০উত্তর অঞ্চল (পাকিস্তান)
১৯৬৯-৭২পাকিস্তান বিমানবাহিনী
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪১ ১৮০
রানের সংখ্যা ২,০৭৯ ১০,৩৯৩
ব্যাটিং গড় ২৯.২৮ ৩৭.৩৮
১০০/৫০ ৩/১১ ২২/৪৫
সর্বোচ্চ রান ২০৯ ৩০০*
বল করেছে ২৭৭
উইকেট
বোলিং গড় - ৪১.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ০/০ ২/১২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭৭/১৬ ৩২২/৮২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬

ইমতিয়াজ আহমেদ (উর্দু: امتیاز احمد‎‎; জন্ম: ৫ জানুয়ারি, ১৯২৮ - মৃত্যু: ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬) ব্রিটিশ ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট পাকিস্তানী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। টেস্ট দলের অধিনায়কেরও দায়িত্ব পালন করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। পাকিস্তানের প্রথম নিয়মিত উইকেট-রক্ষকের মর্যাদা পান। এছাড়াও ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

লাহোরের ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন ও সেখান থেকেই স্নাতকধারী হন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করলেও মাঝে-মধ্যে শীর্ষসারিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে নামতেন তিনি। ১৯৪৪-৪৫ থেকে ১৯৭২-৭৩ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। ভারত বিভাজনের পূর্বে ১৬ বছর বয়সে উত্তর ভারতের পক্ষে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে।

৬ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী একাদশের সদস্যরূপে কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে অংশ নেন। ফলো-অনে থেকেও তিনি অপরাজিত ত্রি-শতক হাঁকান। এ অর্জনটি কেবলমাত্র আরও দু’জন করতে পেরেছিলেন।[২] এছাড়াও রঞ্জী ট্রফিতে খেলেছেন তিনি।

১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডে সফরকারী যে-কোন উইকেট-রক্ষক হিসেবে প্রথমবার ১০০০ রান ও ১০০ প্রথম-শ্রেণীর ডিসমিসাল করার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

পাকিস্তান দলের প্রথম টেস্ট উইকেট-রক্ষক ছিলেন তিনি। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ১৯৫২ থেকে ১৯৬২ সময়কালে ৪১ টেস্টে অংশ নিয়ে দুই সহস্রাধিক রান করেছেন।

আবদুল হাফিজ কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের উদ্বোধনী টেস্টে ভারত সফরে দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৬ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে দিল্লিতে ভারতের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। প্রথম তিন টেস্টে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও চেন্নাইয়ের চতুর্থ টেস্টে হানিফ মোহাম্মদের কাছ থেকে গ্লাভস নিজের করায়ত্ত্ব করেন।

অক্টোবর, ১৯৫৫ সালে লাহোরে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ রানের মনোজ্ঞ দ্বি-শতক করেন। এ দ্বি-শতকটি বিশ্বের যে-কোন উইকেট-রক্ষকের মধ্যে প্রথম ছিল। মজিদ খান ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ওয়েস হলের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানোর বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন যাত তাঁকে খেলতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

১৯৬২ সালে পাকিস্তান দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ওভালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ খেলা পর্যন্ত উইকেটের পিছনে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন শেষ করেন।

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে চার টেস্টে নেতৃত্ব দেন। ২৯ গড়ে ২,০৭৯ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ৭৭ ক্যাচ ও ১৬ স্ট্যাম্পিং করেন।

অবসর[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর ১৩ বছর পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতিরও দায়িত্বে ছিলেন। এরপর কোচের দায়িত্বে থাকেন ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের উন্নয়নে প্রায় এক দশক সময় অতিবাহিত করেন। তাঁর সর্বশেষ কৃতিত্ব ছিল পাকিস্তানে মহিলাদের ক্রিকেট প্রবর্তন করা। সেখানে ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পরামর্শক হিসেবে তিন বছর ব্যয় করেন।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রাইড অব পারফরম্যান্স পুরস্কারে ভূষিত হন।[৩] এরপর পাকিস্তান বিমান বাহিনী থেকে অবসর নেয়ার পর আজীবন সম্মাননা পুরস্কার হিসেবে ‘তমঘা-ই-ইমতিয়াজ’ পুরস্কার লাভ করেন। দীর্ঘ ২৭ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শেষে উইং কমান্ডার হিসেবে অবসর নেন তিনি।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

৮৮ বছর বয়সে ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে লাহোরে তার দেহাবসান ঘটে। নিজ জন্মদিনের পাঁচদিন পূর্বে বুকের প্রদাহে আক্রান্ত হন তিনি। মৃত্যুর পূর্ব-পর্যন্ত তিনিই পাকিস্তানের বয়োঃজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার ছিলেন।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Imtiaz Ahmed dies aged 88" [৮৮ বছর বয়সে ইমতিয়াজ আহমদের দেহাবসান]। ইএসপিএন ক্রিকইনফো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  2. "India Prime Minister's XI v Commonwealth XI, 1950–51" [ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী একাদশ বনাম কমনওয়েলথ একাদশ, ১৯৫০-৫১]। ক্রিকেট আর্কাইভ.কম (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৬ 
  3. "Pride of Performance Award info for Imtiaz Ahmed" [ইমতিয়াজ আহমদের প্রাইড অব পারফরম্যান্স পুরস্কার গ্রহণ]। স্পোর্টস.গভ.পিকে (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৬ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


পূর্বসূরী
ফজল মাহমুদ
পাকিস্তানী ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৬১-১৯৬২
উত্তরসূরী
জাভেদ বার্কি