পিংক ফ্লয়েড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
পিংক ফ্লয়েড
পাঁচজন পুরুষের একটি কালো এবং সাদা ছবির একটি ইটের প্রাচীর সামনে দাঁড়িয়ে।
জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে পিংক ফ্লয়েড, পাঁচ সদস্যের একমাত্র পরিচিত ছবি থেকে। উপরের ডানে থেকে: গিলমোর, মেইসন, ব্যারেট, ওয়াটার্স, রাইট
প্রাথমিক তথ্য
উদ্ভব লণ্ডন, ইংল্যান্ড
ধরন
কার্যকাল
  • ১৯৬৫–১৯৯৫
  • ২০০৫
  • ২০১২–২০১৪
লেবেল
ওয়েবসাইট pinkfloyd.com
প্রাক্তন সদস্যবৃন্দ

পিংক ফ্লয়েড (ইংরেজি ভাষায়: Pink Floyd) মূলত লন্ডন ভিত্তিক রক ব্যান্ড। তারা তাদের প্রোগ্রেসিভ এবং সাইকেডেলিক সঙ্গীতের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করে। দার্শনিক গানের কথা, স্বনিক পরীক্ষণ, সম্প্রসারিত কম্পোজিশন এবং বিস্তৃত লাইভ শোর কারণে তারা জনপ্রিয় সঙ্গীত ইতিহাসের সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে সফল এবং সাঙ্গীতিকভাবে প্রভাবশালী দল।

পিংক ফ্লয়েড গঠিত হয় ১৯৬৫ সালে, স্থাপত্য কলার শিক্ষার্থী সিড ব্যারেট - গিটার ও লিড ভোকাল, নিক মেইসন - ড্রাম্স, রজার ওয়াটার্স - বস ও ভোকাল, এবং রিচার্ড রাইট - কীবোর্ড ও ভোকাল কর্তৃক। ১৯৬০-এর দশকের শেষে তারা লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড সঙ্গীত প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে, এবং ব্যারেটের নেতৃত্বাধীনে দুটি চার্ট একক এবং দ্যা পাইপার অ্যাট দ্যা গেটস্ অব ডাউন (১৯৬৭) নামে একটি সফল আত্মপ্রকাশ অ্যালবাম মুক্তি দেয়। গিটারবাদক ডেভিড গিলমোর ডিসেম্বর ১৯৬৭ সালে পঞ্চম সদস্য হিসেবে যোগদান করেন; ব্যারেট এপ্রিল ১৯৬৮ সালে ড্রাগ ব্যবহারের কারনে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় ব্যান্ড ত্যাগ করেন। ওয়াটার্স ব্যন্ডের প্রাথমিক গীতিকার এবং ধারণাগত নেতা হয়ে ওঠেন, তাদের সমালোচনাপূর্ণ এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল দ্যা ডার্ক সাইড অব দ্যা মুন (১৯৭৩), উইশ ইউ ওয়ার হেয়ার (১৯৭৫), অ্যানিমেলস (১৯৭৭), দ্য ওয়াল (১৯৭৯) এবং দ্যা ফাইনাল কাট (১৯৮৩) অ্যালবামের ধারণা উদ্ভাবন করেন। তাদরে দ্যা ডার্ক সাইড অব দ্যা মুন এবং দ্যা ওয়াল হয়ে ওঠে সর্বকালের সেরা বিক্রি অ্যালবাম

সৃজনশীল উত্তেজনা পর, রাইট ১৯৭৯ সালে পিংক ফ্লয়েড ত্যাগ করেন, ১৯৮৫ সালে ওয়াটার্সও একই পথ অনুসরণ করেন। গিলমোর এবং মেইসন পিংক ফ্লয়েড হিসাবে নিজেদরে অব্যাহত রাখেন, রাইট একটি সেশন সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে তাদের সঙ্গে পুনরায় যোগদান করেন, পরবর্তীতে একজন ব্যান্ড সদস্য হিসেবে। তারা তিনজন আরো দুইটি অ্যালবাম উত্পাদিত করেন— অ্যা মৌমানট্রি ল্যাপ্‌স অব রিজন (১৯৮৭) এবং দ্যা ডিভিশন বেল (১৯৯৪)— এবং ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সঙ্গীত ভ্রমণ অব্যহত রাখেন। প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় পরে, গিলমোর, রাইট, এবং মেইসন পুনরায় ওয়াটার্সের সঙ্গে একত্রিত হন ২০০৫ সালে, বৈশ্বিক সচেতনতা অনুষ্ঠানের একটি অংশ লাইভ এইট নামে পিংক ফ্লয়েড হিসেবে সঞ্চালন করতে; গিলমোর এবং ওয়াটার্স পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে জানান পুনরায় একটি ব্যান্ড হিসাবে পুনর্মিলিত হবার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। ব্যারেট মারা যান ২০০৬ সালে, এবং রাইট ২০০৬ সালে। পিঙক ফ্লয়েডে চূড়ান্ত স্টুডিও অ্যালবাম দ্য এন্ডলেস রিভার (২০১৪), ওয়াটারকে ছাড়াই রেকর্ড করা হয়েছিল, এবং যা মূলত তাদরের অপ্রকাশিত উপাদানের উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে।

পিংক ফ্লয়েড আমেরিকান ১৯৯৬ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেইমের এবং ২০০৫ সালে ইউকে মিউজিক হল অব ফেইমের অর্ন্তভুক্ত হয়। ২০১৩ সালের হিসাবে, ব্যান্ডটির প্রায় ২৫০ মিলিয়ন রেকর্ড বিক্রি হয়েছিল, যার মধ্যে ৭৪.৫ মিলিয়ন কেবল যুক্তরাষ্ট্রে।

৭০-এর দশকে প্রগ্রেসিভ রক ধারায় পিংক ফ্লয়েড এর প্রভাব অনেক, সে সময়কার জেনেসিস বা ইয়েস এর মত ব্যান্ড দলগুলো তাদের দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত। কিংবা এ যুগের নাইন ইঞ্চ নেইল্‌স বা ড্রিম থিয়েটার এর নাম উল্লেখ করা যায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৬৩–৬৭: প্রারম্ভিক বছর[সম্পাদনা]

গঠন[সম্পাদনা]

রজার ওয়াটার্স, নিক মেইসন, রিচার্ড রাইটবব ক্লোজ মিলে টি সেট নামে একটি গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। তাদের খুব একটা পরিচয় ছিল না, তবে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড জগতে হরহামেশাই বাজাতেন। সিড ব্যারেট যখন এই গ্রুপে যোগ দেন তখনই পিংক ফ্লয়েড নামে একটি শক্তিশালী ব্যান্ড গঠনের স্বপ্ন দানা বাঁধতে শুরু করে। এভাবেই ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা তাদের। অবশ্য বব ক্লোজ প্রথম অ্যালবাম বের হওয়ার আগেই দল ছেড়ে গিয়েছিলেন। সে সময় দলের প্রধান কণ্ঠশিল্পী ও লিড গিটার বাদক ছিলেন সিড ব্যারেট। কিন্তু ব্যারেট এর অস্থিরতা ও অস্থিতিশীল আচরণ দলের অন্যান্যদের নতুন সদস্য খুঁজতে বাধ্য করে। এ কারণেই মূলত অন্যান্যরা ডেভিড গিলমোর কে দ্বিতীয় ভোকাল ও লিড গিটারিস্ট হিসেবে নেন। ১৯৬৮ সালে ব্যারেট ব্যান্ড ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বেইস গিটারিস্ট, গীতিকার ও গায়ক রজার ওয়াটার্স ই ছিলেন ব্যান্ড এর সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার নেতৃত্বেই পরবর্তী বেশ কয়েকটি অ্যালবাম বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করে। সবচেয়ে প্রশংসিত অ্যালবামগুলো ছিল দ্য ডার্ক সাইড অফ দ্য মুন, উইশ ইউ ওয়্যার হেয়ার, এনিম্যালস এবং রক অপেরা খ্যাত দ্য ওয়াল[১]

সদস্য[সম্পাদনা]

  • রজার ওয়াটার্স – ভোকাল, বেস গিটার, রিদম গিটার (১৯৬৫–১৯৮৫, ২০০৫)
  • ডেভিড গিলমোর – ভোকাল, লিড এবং রিদম গিটার, বেস গিটার, কিবোর্ড (১৯৬৭–১৯৯৫, ২০০৫, ২০১২–২০১৪)
  • নিক মেইসন – ড্রাম, পারাকশন (১৯৬৫–১৯৯৫, ২০০৫, ২০১২–২০১৪)
  • রাইট – ভোকাল, পিয়ানো, কীবোর্ড, সিন্থেজাইজার (১৯৬৫–১৯৭৯, ১৯৮৭–১৯৯৫, ২০০৫; মৃত্যু ২০০৮)
  • সিড ব্যারেট – ভোকাল, লিড ও রিদম গিটার (১৯৬৫–১৯৬৮; মৃত্যু ২০০৬)

ডিস্কোগ্রাফি[সম্পাদনা]

স্টুডিও অ্যালবাম

ভ্রমণ[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

উৎস[সম্পাদনা]

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যচিত্রসমূহ
  • CreateSpace (in English) (Streaming video). Pink Floyd: Meddle. Sexy Intellectual.
  • John Edginton (Director) (in English) (Colour, NTSC, DVD). Pink Floyd: The Story of Wish You Were Here. Eagle Rock Entertainment.
  • Matthew Longfellow (Director) (in English) (Colour, Dolby, NTSC, DVD). Classic Albums: The Making of The Dark Side of the Moon. Eagle Rock Entertainment.
  • Pink Floyd (in English) (Colour, NTSC DVD). Pink Floyd – Then And Now. Pride.
  • Pink Floyd (in English) (Colour, NTSC, DVD). Pink Floyd – Whatever Happened To Pink Floyd?. Sexy Intellectual.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]