জর্জ মাইকেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জর্জ মাইকেল
George Michael.jpeg
১৯৮৮ সালে ফেইথ ওয়ার্ল্ড ট্যুর মঞ্চে মাইকেল
প্রাথমিক তথ্য
জন্ম নাম Georgios Kyriacos Panagiòtou
জন্ম (১৯৬৩-০৬-২৫)২৫ জুন ১৯৬৩
East Finchley, লন্ডন, ইংল্যান্ড
উদ্ভব লন্ডন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ (বয়স ৫৩)
অক্সফোর্ডশায়ার, ইংল্যান্ড
ধরন Post-disco, dance-pop, blue-eyed soul, পপ
গায়ক, সুরকার, গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক
বাদ্যযন্ত্রসমূহ ভোকালস, গিটার, বাস, কীবোর্ড, পিয়ানো, ড্রামস, ঘাতবাদ্য, হর্ণ
কার্যকাল ১৯৮২ - ২০১৬
লেবেল Aegean, কলম্বিয়া, সনি
সহযোগী শিল্পী হোয়াম!, Band Aid, Aretha Franklin, এলটন জন, Mary J. Blige, Mutya Buena, Whitney Houston, Jody Watley
ওয়েবসাইট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
উল্লেখযোগ্য বাদ্যযন্ত্র
Piano
John Lennon model "Z" Steinway[১]

জর্জ মাইকেল একজন ইংরেজ পপ গায়ক, সুরকার, গীতিকার, রেকর্ড প্রযোজক এবং সমাজ সেবক ছিলেন। গ্রিক বংশদ্ভুত জর্জ মাইকেলের প্রকৃত নাম ছিলো জিওরগোস কিরিয়াকোস পানাইয়োতু। কিন্তু তিনি পেশাগতভাবে জর্জ মাইকেল নামেই সারাবিশ্বে পরিচিত। হোয়াম! ব্যান্ডের গায়ক থাকাকালীন সময়ে আশির দশকে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। ২০১০ সাল পর্যন্ত সারাবিশ্বে তার আ্যালবামের কপি ১০০ মিলিয়নের অধিক বিক্রি হয়েছে, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে সফল শিল্পীদের একজন করে তোলে। বিলবোর্ড হট ১০০ টপ অল-টাইম আর্টিস্টস এর মতে জর্জ মাইকেল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট ১০০ শিল্পীর মধ্যে ৪০তম। মাইকেল তার ৩০ বছরের সঙ্গীত জীবনে অনেক এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন, তিনি গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ডের জন্য ৮ বার মনোনীত হন এবং দুইবার জিতে নেন।

তার অন্যতম বিখ্যত গান কেয়ারলেস হুইসপার ১৯৮৪ সালে হোয়াম! ব্যান্ডের গায়ক থাকাকালীন সময়ে প্রকাশিত হয়। ১৭ বছর বয়সে তিনি এই গানটি তার বন্ধু অ্যান্ড্র রিজলির সাথে মিলে লিখেছিলেন। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত এই গানটি সারা বিশ্বে ৬০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয় এবং ২৫টি দেশে টপ চার্টের ১ নাম্বারে চলে আসে। [২] ১৯৮৪ সালে তার আরেকটি বিখ্যাত গান লাস্ট ক্রিসমাস প্রকাশ করেন, গানটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সারা বিশ্বে সাড়া পড়ে যায়। এটি ব্রিটেনের সর্বাধিক বিক্রিত গান। একই বছরে দুর্ভিক্ষ পীড়িত আফ্রিকার সাহায্য গঠিত ব্যান্ড এইড-এর সঙ্গে ডু দে নো ইটস ক্রিসমাস’ গানটিতে অংশ নেন মাইকেল। এটি বড়দিনের মৌসুমের এক নম্বর গান হিসেবে টপচার্টে অনেকদিন অবস্থান করে।

১৯৮১ সালে জর্জ মাইকেল তার বন্ধু অ্যান্ড্র– রিজলির সাথে হোয়াম! গঠন করেছিলেন। হোয়ামের মাধ্যমে গায়ক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে হোয়াম! ভেঙে যাবার পর মাইকেল সলো ক্যারিয়ার শুরু করেন, এবং একক ক্যারিয়ারেও পান সরাবিশ্বে ঈর্ষানীয় জনপ্রিয়তা।

১৯৮৭ সালে বের হওয়া তার প্রথম সলো আ্যালবাম ফেইথ সারা বিশ্বে ২০ মিলিয়নেরও অধিক কপি বিক্রি হয়। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে যুক্তরাজ্যের ইরাক অভিযানের দৃঢ় সমালোচনা করেছিলেন মাইকেল। এর আগের বছর বিষয়টি নিয়ে শুট দ্য ডগ নামের একটি একক আ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি, যেখানে টনি ব্লেয়ার এবং জর্জ ডব্লিউ. বুশকে বিদ্রুপ করে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। ২০০০ সালে প্রায় ১৭ লাখ পাউন্ড দিয়ে জন লেননের ব্যবহৃত পিয়ানোটি নিলামে কিনেছিলেন তিনি। পরের বছর আবার সেটি দান করে দেন বিটলস জাদুঘরে

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

জর্জ মাইকেল জন্ম গ্রহণ করেন নর্থ লন্ডনের ইস্ট ফিঞ্চলিতে।[৩][৪] তার বাবা কাইরিয়াকস পানাইয়াতো সাইপ্রাসে বেড়ে ওঠা গ্রিক বংশোদ্ভূত এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। পঞ্চাশের দশকে তার বাবা পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হন এবং নিজের আগের নাম বদলে জ্যাক পানোস নাম স্থির করেন। তার মা লেসলি অ্যাঙ্গন্ড (১৯৩৭-১৯৯৭) একজন ইংরেজ নতর্কী ছিলেন। মাইকেল তার শৈশবের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন নর্থ ওয়েষ্ট লন্ডনের কিংসব্যারিতে, যেখানে তার তার বাবা মা বাড়ি কিনে চলে আসেন তার জন্মের কিছুদিন পরেই। এবং মাইকেল কিংসব্যারি হাই স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তিনি কৈশরে তার পরিবারের সাথে রেডলেট, হার্টফোর্ডশায়ারে চলে আসেন এবং এখানেই তার সঙ্গীত জগতের বন্ধু আ্যন্ড্রু রিজেলির সাথে প্রথম সাক্ষাৎ হয়। মাইকেল সঙ্গীত ব্যবসার সাথে যুক্ত হন যখন তিনি ডিজে পার্টিতে কাজ শুরু করেন।

সমস্যাসঙ্কুল জীবন[সম্পাদনা]

সমকামী জর্জ মাইকেল দাপটের সাথে বিশ্ব সংগীত জগতকে শাসন করলেও ব্যক্তি জীবন ছিলো নানা সমস্যা এবং বিতর্কে জর্জরিত। ১৯৯৭ সালে মাকে হারান তিনি। তার আগে সমকামী প্রেমিক অ্যানসেলমো ফেলেপ্পা এইডসে মারা যান। তারপরই মাইকেল রচনা করেছিলেন তার বিখ্যাত গান 'জিসাস টু এ্যা চাইল্ড'। মাইকেল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ১৯৯৮ সালের ৭ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারলি হিলসের একটি পাবলিক টয়লেটে অশ্লীল অঙ্গীভঙ্গীর দায়ে প্রথম গ্রপ্তার হয়েছিলেন মাইকেল। সর্বশেষ ২০১০ সালে মাদক সেবন করে গাড়ি চালাতে গিয়ে লন্ডনের রাস্তায় দূর্ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে ৮ সপ্তাহের কারাবাস, ১৪০০ ইউরো জরিমানা এবং পাঁচ বছরের জন্য কেড়ে নেয়া হয়েছিলো গাড়ি চালানোর লাইসেন্স। [৫] সিম্ফোনিকা ট্যুর এ অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় কনসার্ট করতে এসে ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন মাইকেল এবং বেশ কিছুদিন হাসপাতালের আইসিউউ তে থাকতে হয়েছিলো। ২০১৩ সালের ১৬ মে হার্টফোর্ডশায়ারে গাড়ী দূর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন জর্জ মাইকেল। এই সময় তিনি গাড়ীতে যাত্রীর আসনে ছিলেন। দূর্ঘটনার পর পপ তারকাকে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে অতি দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো। [৬]

মিউনিখ, জার্মানির একটি কনসার্টে মাইকেল, ২০০৬

সম্পদ[সম্পাদনা]

সানডে টাইমস রিচ লিস্ট ২০১৫ এ প্রকাশিত রির্পোট অনুসারে পপ সুপারস্টার জর্জ মাইকেলের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় £১০৫ মিলিয়ন পাউন্ড[৭]

মৃত্যু[সম্পাদনা]

মাইকেল ২০১৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর তার অক্সফোর্ডশায়ারের নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় ৫৩ বছর বয়সে মারা যান। ক্রিসমাসের সকালে বন্ধু ফেডি ফাওয়াজ লাস্ট ক্রিসমাস গায়ককে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। [৮][৯][১০][১১][১২][১৩] তাৎক্ষনিকভাবে পপ স্টারের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে মাইকেলের মুখপাত্র মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ উল্লেখ করেছেন। সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Most Expensive Musical Instruments"Forbes। ১০ এপ্রিল ২০০৬। আসল থেকে ৮ ডিসেম্বর ২০১২-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ 
  2. http://www.independent.co.uk/arts-entertainment/music/news/george-michael-dead-careless-whisper-best-songs-wham-a7497381.html
  3. Biography George Michael: The Making of a Superstar Bruce Dessau, Sidgwick & Jackson, London 1989
  4. "George Michael-The history"। Twentyfive Live LLP. & Signatures Network। আসল থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ 
  5. http://www.dw.com/bn/%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A7%AE-%E0%A6%B8%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8/a-6005108
  6. http://www.bbc.com/news/uk-england-beds-bucks-herts-22571754
  7. Nightingale, Laura (২০১৫-০৪-২৭)। "The One Directions lads are already worth £25m each!"getsurrey। সংগৃহীত ২০১৬-১২-২৭ 
  8. http://www.telegraph.co.uk/news/2016/12/26/george-michael-died-alone-boyfriend-reveals-battled-secret-heroin/
  9. "George Michael's Boyfriend Fadi Fawaz Says He Found Singer Dead in Bed on Christmas Morning: 'I Will Never Forget'"Entertainment Tonight। সংগৃহীত ২০১৬-১২-২৭ 
  10. "'I will never stop missing you': George Michael's Australian boyfriend found him dead in bed"। সংগৃহীত ২০১৬-১২-২৭ 
  11. "George Michael, Pop Superstar, Has Died at 53"The New York Times (en-US ভাষায়)। সংগৃহীত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ 
  12. "George Michael: Pop superstar dies at 53"BBC News (en-GB ভাষায়)। ২০১৬-১২-২৬। সংগৃহীত ২০১৬-১২-২৭ 
  13. "Singer-Songwriter George Michael Dies at 53"The Hollywood Reporter। সংগৃহীত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]