নর্ম ও’নীল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নর্ম ও’নীল
নর্ম ও’নীল.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামনরম্যান ক্লিফোর্ড লুইস ও’নীল
জন্ম(১৯৩৭-০২-১৯)১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭
কার্লটন, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু৩ মার্চ ২০০৮(2008-03-03) (বয়স ৭১)
সিডনি, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ স্পিন
ভূমিকামাঝারিসারির ব্যাটসম্যান
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৫–১৯৬৭নিউ সাউথ ওয়েলস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪২ ১৮৮
রানের সংখ্যা ২৭৭৯ ১৩৮৫৯
ব্যাটিং গড় ৪৫.৫৫ ৫০.৯৫
১০০/৫০ ৬/১৫ ৪৫/৬৩
সর্বোচ্চ রান ১৮১ ২৮৪
বল করেছে ১৩৯২ ৭১৩১
উইকেট ১৭ ৯৯
বোলিং গড় ৩৯.২৩ ৪১.০১
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৪১ ৪/৪০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২১/০ ১০৪/০
উৎস: ক্রিকেটআর্কাইভ, ৬ জুন ২০১৮

নরম্যান ক্লিফোর্ড লুইস ও’নীল, ওএএম (ইংরেজি: Norm O'Neill; জন্ম: ১৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ - মৃত্যু: ৩ মার্চ, ২০০৮) নিউ সাউথ ওয়েলসের কার্লটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও ডানহাতে লেগ স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন নর্ম ও’নীল

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত খেলেন। পিছনের পায়ে ভর করে স্ট্রোকপ্লে খেলার অধিকারী ডানহাতি ব্যাটসম্যান নর্ম ও’নীল ১৮ বছর বয়সে নিজ রাজ্য দলে অভিষিক্ত হন। চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক ঘটেছিল।

খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে নর্ম ও’নীল অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সম্মুখসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ভারতীয় উপমহাদেশে তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি করে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। এরফলে অস্ট্রেলিয়া তাদের সর্বশেষ টেস্ট ও পাকিস্তানের মাটিতে ৩৯ বছরের মধ্যে সর্বশেষ টেস্ট জয় পেয়েছিল। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে তিনি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের স্বর্ণালী শিখরে অবস্থান করেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টাই হওয়া টেস্টে ১৮১ রান তুলেন। ঐ সিরিজ শেষে ৫৮.২৫ গড়ে রান তুলেন। ১৯৬১ সালে ইংল্যান্ড সফরে বেশ সাফল্য পান। ফলশ্রুতিতে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা লাভ করেন নর্ম ও’নীল।

এরপর থেকেই তাঁর খেলার ধারা নিম্নমূখী হতে থাকে। বিশেষতঃ স্নায়বিক চাপ ও ইনিংসের শুরুতে অস্বস্তিতে ভুগতে থাকেন তিনি। ক্রমাগত হাঁটুর সমস্যাসহ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার চার্লি গ্রিফিথের বোলিংয়ের বৈধতার বিষয়ে প্রচারমাধ্যমে নেতিবাচক বিতর্কের সাথে জড়ানোর পর ১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়।

এছাড়াও, নর্ম ও’নীল মাঝে-মধ্যে লেগ স্পিন বোলিং করতেন এবং তিনি তাঁর সময়কালে অন্যতম সেরা ফিল্ডাররূপে বিবেচিত হতেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেয়ার পর ক্রিকেট ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সন্তান মার্ক ও’নীল রাজ্য পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৩ মার্চ, ২০০৮ তারিখে সিডনিতে ৭১ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

এক নির্মাণশ্রমিকের সন্তান ছিলেন নর্ম ও’নীল। নিউ সাউথ ওয়েলসের কার্লটন এলাকায় তাঁর জন্ম। পারিবারিকভাবে বাবার পক্ষ থেকে ক্রিকেটের সাথে তাঁর কোন সম্পর্ক ছিল না। তবে, মাতৃসম্পর্কীয় কাকা রন ক্যাম্পিয়ন সিডনি গ্রেড ক্রিকেটে গ্লেব ক্লাবের পক্ষে খেলেছিলেন।

ও’নীল পরিবারের কাছে ক্যাম্পিয়ন ক্রিকেট অনুশীলন করতেন। ও’নীল তাঁর কাকার সাথে সাত বছর বয়স থেকে সঙ্গ দিতেন। প্রত্যেক মৌসুমের শেষে ব্যাটিংয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেন তিনি। ব্যাক্সলি প্রাইমারী স্কুলে অধ্যয়ন করতেন তিনি। বিদ্যালয় দলে ফিল্ডিং করতে অনীহা প্রকাশ করে খেলা থেকে বিরত থাকেন।

এরপর কোগারা ইন্টারমিডিয়েট হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখানে শিক্ষকের অ্যাথলেটিকসে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে অবস্থান করে ক্রিকেটে অংশ নেন। কিশোর অবস্থায় কিথ মিলারের খেলার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তাঁর কাকা সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিয়ে যান। ঐ দিন মিলার খেলেছিলেন। পিছনের পায়ে অবস্থান করে বলকে মারার বিষয়টি তাঁর বেশ মনে ধরে।[২]

কাকার ছত্রচ্ছায়ায় ও’নীল সিডনি গ্রেড প্রতিযোগিতায় সেন্ট জর্জ ক্রিকেট ক্লাবে যোগ দেন। ধীরে ধীরে তাঁর খেলার উত্তরণ ঘটতে থাকে। ১৬ বছর বয়সে প্রথম গ্রেডের দলে অন্তর্ভূক্ত হন। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখে ক্লাবের দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে জানায় যে, ধারাবাহিকতা না থাকা স্বত্ত্বেও তিনি ইচ্ছে করলে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলতে পারেন। এরফলে যথেচ্ছভাবে ব্যাটিং করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হন। তবে, সাত ইনিংসে তিনি মাত্র ১০৮ রান তুলেন। পরবর্তী মৌসুমে ১৫ ইনিংসের ১২টিতে লেগ বিফোর উইকেট ও তিনবার রান আউটের শিকার হন। ও’নীল তাঁর এ ব্যর্থতার জন্য অতি আগ্রাসী ভূমিকা গ্রহণ ও ধৈর্য্যহীনতার উন্নয়ন ঘটাতে না পারার কথা বলেন।

নতুন মৌসুমের দ্বিতীয় খেলায় ১৭ বছর বয়সী ও’নীল তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি করেন। পাঁচজন রাজ্য দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপস্থিতিতে পরবর্তী খেলায় তিনি ২৮ রান তুলেন ও রাজ্য দলে খেলার জন্য মনোনীত করেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেফিল্ড শিল্ডে অভিষেক ঘটে নর্ম ও’নীলের। দলের ইনিংস বিজয়ে তেমন কোন ভূমিকাই রাখতে পারেননি তিনি। খেলায় তিনি কোন রান করতে কিংবা কোন উইকেট দখলে ব্যর্থ হন। নিউ সাউথ ওয়েলস প্রথমে বোলিং করতে নামে। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৬/৪৯ থাকা অবস্থায় মিলার ও’নীলকে অনিয়মিত লেগ স্পিনার হিসেবে বোলিংয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানান। মূলতঃ অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের জড়তাকে দূর করতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তবে, স্বাগতিক দল তিন ওভারে ১৮ রান তুলে নেয়। শুরুতে নিচেরসারিতে মাঝামাঝি পর্যায়ে ব্যাটিংয়ের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছিল। কিন্তু, শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানেরা বিরাট সংগ্রহ দাঁড় করালে মিলার তাঁকে কিছুটা ওপরে নিয়ে আসেন। নতুন বলের দ্বিতীয়টিতে পরিস্কার বোল্ড হন তিনি। ও’নীল দল থেকে বাদ পড়েন ও ঐ মৌসুমে তাঁকে আর কোন খেলায় অংশ নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু, তিনি অমূল্য অভিজ্ঞতার ঝুলি থলেতে পুড়েন।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ও’নীলের পুণঃজন্ম ঘটে।মৌসুমের শুরুতে অনেক খেলোয়াড়ই ইংল্যান্ডে শেষ মুহুর্তের আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিচ্ছিলেন। এরপর ভারতীয় উপমহাদেশ গমনেরও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।[৩][৪] ও’নীলকে পুণরায় খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। মৌসুমের শুরুতে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৬০ ও অপরাজিত ৬৩ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, টেস্ট খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরে আসলেও তিনি তাঁর স্থান অক্ষত রাখেন। দুইবার এক অঙ্কের রান তোলার পর সাউথ অস্ট্রেলিয়া, ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ৬০ রানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, রে লিন্ডওয়াল একাদশ ও নীল হার্ভে একাদশের মধ্যকার একটি খেলায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হন তিনি। এ খেলাটি মূলতঃ জাতীয় দলের প্রস্তুতিমূলক খেলা ছিল।[৫] এরপর সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম সেঞ্চুরি ১২৭ রান তুলেন। ঐ মৌসুম শেষে ৪৩.৬১ গড়ে ৫৬৭ রান তুলেন। এ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন মূলতঃ তরুণ খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে টেস্টবিহীন খেলায় অংশ নিতে নিউজিল্যান্ড সফরে যান।[৬] একমাত্র টেস্ট খেলায় অংশ নিয়ে অপরাজিত ১০২ রান তুলে দলকে দশ উইকেটের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ঐ সফরে ৭২.৬৬ গড়ে ২১৮ রান তুলে শীর্ষস্থান অধিকার করেন। তাস্বত্ত্বেও, ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সফরে তিনি উপেক্ষিত হন। অন্তর্ভূক্তি না করার বিষয়ে ঐ দশকে সর্বাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তরূপে পরিগণিত হয়েছিল।[২][৭]

টেস্ট খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্বভার নিজ কাঁধে তুলে নেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমের শেফিল্ড শিল্ডে ৮৩.৭৫ গড়ে ১,০০৫ রান ও লেগ স্পিন বোলিং করে ২০.৪২ গড়ে ২৬ উইকেট দখল করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় বোলিং ও ব্যাটিং গড়ে শীর্ষস্থান দখল করেন নর্ম ও’নীল। ঐ মৌসুমের পূর্বে তিনি কোন প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেননি। ঐ গ্রীষ্মের উদ্বোধনী খেলায় কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৩/৭৪ পান। এরপর ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় ৫/৫১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করানোসহ ৩৩ ও অপরাজিত ৪৮ রান তুলে ছয় উইকেটের জয় এনে দেন। ফিরতি খেলায় ৩/৫২ ও দুইটি অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেন। এরপর ঐ মৌসুমে তিনি তাঁর প্রথম শতরান করেন। ১১৪ রান ও ৩/৪৪ নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দশ উইকেটের জয় এনে দেন। তবে, মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধ্বে নিজেকে বেশী মেলে ধরেন।[৩]

ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১৭৫, কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৪ ও ৪৮, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১২৫ ও অপরাজিত ২৩ এবং ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ২৩৩ রান তুলেন। চার ঘন্টার চেয়ে খানিকটা বেশী সময় নিয়ে ৩৮ চার সহযোগে ২৩৩ রান তুলেছিলেন তিনি।[৮] মাত্র বিশ বছর বয়সেই প্রথম নিউ ওয়েলসীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছেন নর্ম ও’নীল। চার ঘন্টার চেয়ে খানিকটা বেশী সময় নিয়ে ৩৮ চার সহযোগে ২৩৩ রান তুলেছিলেন তিনি।[৮] মাত্র বিশ বছর বয়সেই প্রথম নিউ ওয়েলসীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে শেফিল্ড শিল্ড মৌসুমে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছেন নর্ম ও’নীল। শেষ চার খেলায় ১২ উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ২/৫০ ও ৪/৪০ পান। ও’নীলের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর প্রেক্ষিতে রাজ্য দলটি উপর্যুপরী পঞ্চমবারের মতো শিরোপা লাভে সক্ষম হয়েছিল।[৯]

তাঁর এই অসাধারণ সাফল্যের বিষয়ে সাবেক টেস্ট লেগ স্পিনার বিল ও’রিলি তাঁকে ব্র্যাডম্যানের সাথে তুলনা করেন। পাশাপাশি সাবেক টেস্ট উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জ্যাক ফিঙ্গলটন দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁকে না নেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন যা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের জন্য বিরাট ক্ষত ছিল।[৭][১০]

ঐ সময়ে তাঁর নিয়োগকর্তা খেলায় অংশগ্রহণের জন্য কোনরূপ আর্থিক সহযোগিতা করার কথা প্রত্যাখ্যান করেন। বরঞ্চ, জোরপূর্বক তাঁকে প্রতিদিন সকাল ছয়টায় কাজে যোগদানের নির্দেশ দেন। ফলশ্রুতিতে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাবার কথা ভাবতে থাকেন। সেখানকার মুদি দোকানে তাঁকে যোগদান ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কথা জানানো হয়।[৭][৮] এছাড়াও, আনুষ্ঠানিকভাবে রথম্যান্সের অস্ট্রেলীয় সভাপতি স্যার রোনাল্ড আইরিশেরসাথে স্বাক্ষাৎকার শেষে অবস্থান করেন।[৭][৮] একই সময়ে ও’নীল আরও একটি প্রস্তাবনা পান। নিজ রাজ্যদলের বেসবলে খেলার জন্য মনোনীত হন ও ১৯৫৭ সালে নিখিল অস্ট্রেলীয় দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভূক্ত হন। নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিজ দলে পিচার ও শর্ট স্টপ অবস্থানে অভিজ্ঞতার জন্য এ প্রস্তাবনা পান। একটি টেস্ট খেলার জন্য ২৫ গুণেরও অধিক অর্থের পাশাপাশি যাতায়াত খরচ ও আনুসাঙ্গিক খরচাদি লাভের প্রস্তাবনা পান।[১১] তিনি রাজী হলেও আইরিশ তাঁকে এক সপ্তাহের বেশী সময় দিতে রাজী হননি।[১১]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ভবিষ্যতের টেস্ট খেলোয়াড় হিসেবে চিহ্নিত হবার ফলে ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সম্মিলিত একাদশের সদস্যরূপে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পার্থে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নেন নর্ম ও’নীল।[২][৩] খেলা শুরুর পূর্বে গণমাধ্যমে ও’নীলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়।[৭] সফরকারীরা তাঁর বিপক্ষে ফ্রেড ট্রুম্যানের ন্যায় বোলারদের শর্ট-পিচ বলের মোকাবিলার চিন্তা-ভাবনা করে। ও’নীলও তা হুকের সাহায্য মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেন।[৮] অন্যদিকে, জিম লেকারের স্পিনের বিপক্ষে সুইপ শট খেলেন।[৭] সাড়ে চার ঘন্টারও অধিক সময় পিচে স্বভাববিরুদ্ধভাবে ক্রিজে অবস্থান করে ১০৪ রান তুলেন।[৮] এরপর বল হাতে ফ্রেড ট্রুম্যান ও আর্থার মিল্টনকে আউট করে ২/৬৭ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।[৩][১২]

ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮৫ করার পর নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে অস্ট্রেলিয়া একাদশের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পান তিনি। টেস্ট শুরুর পূর্বে অনানুষ্ঠানিক খেলায় অংশ নেন। খেলায় তিনি এক ও দুই রান তুলেন। অস্ট্রেলিয়া দল ৩৪৫ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়।[৩]

টেস্ট অভিষেক পর্ব[সম্পাদনা]

তাস্বত্ত্বেও, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্টের সিরিজে অভিষিক্ত হন ও সবগুলো টেস্টেই অংশগ্রহণ করেন নর্ম ও’নীল। ব্রিসবেনে প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় নিম্নমূখী রানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক রিচি বেনো’র মতে, অন্যতম ধীরগতিসম্পন্ন ও বাজে ক্রিকেট খেলা দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন।[১৩] অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে সংগৃহীত ১৮৬ রানের মধ্যে ৩৪ রান তুলেন নর্ম ও’নীল। এরফলে অস্ট্রেলিয়া ৫২ রানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৭১ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন তিনি। খেলায় তাঁর দল আট উইকেটের ব্যবধানে জয় পায়। তন্মধ্যে, ৮৯ রানের জুটিতে করেন ৭১ রান। ইংল্যান্ডের লেগ তত্ত্বের বিপরীতে খেলেননি।[৩][৮] তবে এ টেস্টটি ইংল্যান্ডের ট্রেভর বেইলি’র সাড়ে সাত ঘন্টায় ৪২৬ বলে সংগৃহীত ৬৮ রানের কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে।[১৩][১৪][১৫]

ইংরেজ অধিনায়ক পিটার মে ও’নীলের ইনিংসটিকে আলোকচ্ছটারূপে বর্ণনা করেন।[১৬] অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজ ক্রিকেটার ইয়ান পিবলস সানডে টাইমসে প্রতিবেদন আকারে লিখেন যে, খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনালগ্নে থাকা অবস্থায় উইকেটে অবস্থান করে কিছুটা করে দেখাতে চালানোর প্রয়াস চালিয়েছেন। দর্শকদের উদ্দীপনা ও প্রতিপক্ষের প্রবল চাপকে মোকাবিলা করেছেন তিনি।[৮][১৭] উইজডেন মন্তব্য করে যে, ও’নীল খেলাটি রক্ষা করেছেন।[১৮] অন্যদিকে ও’নীল বলেছেন, খেলাটি অবিশ্বাস্য ছিল ও মাঠে তিনি ঘুমিয়ে যাবার উপক্রম ঘটিয়েছেন।[১৯]

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টটি বৃষ্টিবিঘ্নিত হওয়ায় ড্রয়ে পরিণত হয়। খেলায় তিনি ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর অ্যাডিলেডের চতুর্থ টেস্টে ৫৬ রান তুলেন। পঞ্চম টেস্টে অবশ্য শূন্য রান করেন। তাস্বত্ত্বেও, সিরিজ শেষে ৫৬.৪০ গড়ে ২৮২ রান তুলে অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ও অস্ট্রেলিয়া ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে।

সিরিজে তিনি দুই ওভার বোলিং করলেও কোন সফলতা পাননি। টেস্টের বাইরে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যথাক্রমে ১৫৫ ও ১২৮ রান করেন। ফলশ্রুতিতে, শেফিল্ড শিল্ডে উপর্যুপরী ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জয় করে নিউ সাউথ ওয়েলস দল।[৩][৯]

স্বর্ণালী শিখরে আরোহন[সম্পাদনা]

পরবর্তী মৌসুমে ও’নীল অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে পাকিস্তান ও ভারত সফরে যান। ৩৯ বছরের মধ্যে শেষ অস্ট্রেলীয় দল হিসেবে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট জয়ে সমর্থ হয়।[৪]

প্রথম টেস্টটি পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান - বাংলাদেশ) ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় তিনি দুই ও অপরাজিত ২৬ রান তুলে আট উইকেটে জয় এনে দেন।[৩][২০] লাহোরে দ্বিতীয় টেস্ট জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পূর্ব-পর্যন্ত এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ টেস্ট জয় ছিল।[৪] প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রানের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন তিনি। এরফলে অস্ট্রেলিয়া ২৪৫ রানে এগিয়ে যায়।[৩][২১] এরপর পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে শুজাউদ্দিনকে আউট করে প্রথম টেস্ট উইকেটের সন্ধান পান।[২০] চূড়ান্ত দিনে শেষ দুই ঘন্টায় ১২২ রানের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হয় অস্ট্রেলিয়া দল। তখন ক্রিজে নীল হার্ভে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানীরা অস্ট্রেলিয়ার জয়ের চেষ্টাকে নস্যাৎ করতে সময় অপচয়ের দিকেই অধিক নজর দেয়।[২১] হার্ভে ও ও’নীলের বামহাতি-ডানহাতি মিলনে এক রান নেয়ায় সাত মিনিটে মাত্র তিন রানের দরকার পড়ে।[২১] এর বিপরীতে হার্ভে বল স্ট্যাম্পের দিকে আসলে ৩৭ রানে নিজ উইকেট বিসর্জন দেন।[২১] এরপর বেনো ক্রিজে আসেন ও ও’নীলের সাথে জুটি গড়েন। ফলে দুইজনই ডানহাতি হওয়ায় মাঠে সময় অপচয়ের সুযোগ কমে আসে। বেনো পাকিস্তানী অধিনায়ক ইমতিয়াজ আহমেদকে সময় অপচয়ের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করার হুমকি প্রদান করেন। এরফলে তারা স্বাভাবিক পেস আক্রমণে ফিরে আসে।[২১] অল্প সময় বাকী থাকতে অস্ট্রেলিয়া তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করে। ও’নীল ৪৩ রান তুলেন।[৩][২২]

চূড়ান্ত টেস্টে দুই অঙ্কের কোঠা স্পর্শ করতে ব্যর্থ হলেও টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। সিরিজে শেষে তিনি ৭২.৬৬ গড়ে ২১৮ রান তুলেন।[৩][২০] আরেকটি প্রস্তুতিমূলক খেলায় সভাপতি একাদশের বিপক্ষে ও’নীল অপরাজিত ৫২ রান তুলেন। নিম্নমূখী রানের খেলায় অস্ট্রেলিয়া দল তিন উইকেট খরচ করেই ১১৬ রানের জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে।[৩]

পাকিস্তানে ও’নীলের সুন্দর ক্রীড়ানৈপুণ্যের কারণে করাচির ক্রিকেট অনুরাগী পরিবার তাদের নবাগত সন্তানের নাম রাখে অনিল। পরবর্তীকালে অনিল দলপত পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু ধর্মাবলম্বী হিসেবে ১৯৮০-এর দশকে টেস্ট উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।[৮]

এরপর পাঁচ-টেস্টের সিরিজে অংশ নেয়ার জন্য ভারত সফরে যান। ও’নীলের শুরুটা বেশ সাদাসিদেমানের হয়েছিল। প্রথম দুই টেস্টে মাত্র ৬০ রান তুলেন ও এ সময় ১-১ ব্যবধানে সমতায় ছিল উভয় দল। এরপর বোম্বের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ড্র হওয়া বড় সংগ্রহের খেলায় তিনি বামহাতে একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করে ১৬৩ রান তুলেন।[১৮] মাদ্রাজের চতুর্থ টেস্টে ইনিংসের ব্যবধানে জয়ী খেলায় তিনি ৪০ রান তুলেছিলেন। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ড্র হওয়া পঞ্চম টেস্টটিতে দলের চারজন খেলোয়াড় আঘাতপ্রাপ্ত কিংবা অসুস্থ ছিলেন। এছাড়াও, বেনো’র স্পিনও তেমন কাজ করছিল না। ও’নীল প্রথম ইনিংসে ১১৩ রান তুলে দলকে ১৩৭ রানের ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান। এরফলে ভারতকে সিরিজ সমতা থেকে বিরত রাখেন।[৩][২৩] সিরিজে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন। ৬২.৬৬ গড়ে ৩৭৬ রান তুলেন তিনি।[২০][২৩]

আহমেদাবাদে ভারতীয় সভাপতি একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে নিজস্ব সর্বোচ্চ ২৮৪ রান তুলেন।[৩] উপমহাদেশের টেস্ট সফরে আট খেলায় অংশ নিয়ে ৬৬.০০ গড়ে ৫৯৪ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন।[২][১৪]

অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমের শেষদিকে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে একটিমাত্র খেলায় অংশ নেন নর্ম ও’নীল। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৭৫ রান তুলে জয়লাভে ভূমিকা রাখেন ও নিজ দল উপর্যুপরী সপ্তমবার শিরোপা জয় করে। পরবর্তী গ্রীষ্মকালীন অস্ট্রেলিয়া মৌসুম শুরুর পূর্বে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভেলিয়ার্সের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। সেখানে ২১.৮৩ গড়ে ১৩৩ রান তুলেন।[৩]

১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন। নিজ রাজ্য দলের সদস্যরূপে অপরাজিত ১৫৬ রান তুলে সফরকারী দলের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন। ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১৮১ রান তুলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট রান তুলেন। তাঁর ইনিংস সম্পর্কে দলীয় সঙ্গী বব সিম্পসন মন্তব্য করেন যে, যদি ঈশ্বর আমাকে এক ঘন্টা কোনকিছু দেখার কথা বলতেন তাহলে আমি নরম্যান ও’নীল দেখার কথা অনুরোধ করতাম। তিনি তাঁর খেলার ধরন দেখাচ্ছিলেন।[২৪] অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ও’নীল করেন ২৬ রান। এ পর্যায়ে নিজেদেরকে তুলে ধরার পূর্বে অস্ট্রেলিয়া সমূহ পরাজয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে।[২৫] খেলাটি টাইয়ে পরিণত হয় যা ইতিহাসের প্রথম টাই টেস্ট ছিল।[৩] এটিই ও’নীলের খেলোয়াড়ী জীবনের স্বর্ণালী সময় ছিল। এ পর্যায়ে ১৪ টেস্টে অংশ নিয়ে ব্যাট হাতে ৬৭.৬৮ গড়ে রান তুলেন তিনি।[১৮]

এরপর নিজ রাজ্য দলের সদস্যরূপে সফরকারীদের বিপক্ষে ১১৪ রান তুলে ইনিংস ব্যবধানে জয় এনে দেন। দ্বিতীয় টেস্টে ৪০ ও শূন্য রান করলেও স্বাগতিকরা সিরিজে এগিয়ে যায়। সিডনিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে ৭০ ও ৭১ রান তুললেও পরাজিত হয় তাঁর দল।[৩] খুব স্বল্পসংখ্যক খেলোয়াড়দের অন্যতমরূপে ল্যান্স গিবসকে মোকাবিলা করেছিলেন নর্ম ও’নীল।[২৬] প্রথম ইনিংসে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক ও দ্বিতীয় ইনিংসে শীর্ষ দ্বিতীয় রান সংগ্রহকারী ছিলেন তিনি।[২৭]

অ্যাডিলেডের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৫ রান তুলেন। এক উইকেট বাকী থাকতে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। পঞ্চম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৮ রান তুলে সিরিজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে ছন্দপতন ঘটলেও অস্ট্রেলিয়া দুই উইকেটে জয়লাভ করে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয়।[৩][২০][২৮] সিরিজ শেষে তিনি ৫২.২০ গড়ে ৫২২ রান তুলেন।[১৪] ঐ গ্রীষ্মে নিয়মিতভাবে সুইপিংয়ে উইকেট বিলিয়ে দেয়ার বিষয়টি সর্বত্র মনোযোগ আকর্ষণ করে। পিছনে হাতকে প্রাধান্য দেয়ার ফলে বলের নিশানায় এগুতে না পারার ফলেই তা হয়েছিল।[২] এ সকল সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনে শীর্ষস্থানে ছিলেন। প্রথম ১৮ টেস্ট শেষে ৫৮.৩৫ গড়ে ১৩৯৮ রান তুলেন।[২০]

উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার[সম্পাদনা]

১৯৬১ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সদস্য নির্বাচিত হন। এ সফরের পূর্বে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে তাসমানিয়ার বিপক্ষে উপর্যুপরী খেলায় সেঞ্চুরি করেন তিনি। ইংরেজ গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে ৬০.০৩ গড়ে ১৯৮১ রান তুলেন। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকালে ডন ব্র্যাডম্যান, নীল হার্ভে ও বিল লরি’র অ্যাশেজ সফরে সংগৃহীত ২০০০ রানের মাইলফলক অল্পের জন্য স্পর্শ করতে পারেননি।

সফরের তৃতীয় খেলায় ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে খেলেন যা তাঁর দ্বিতীয় খেলা ছিল। কভার ড্রাইভের মাধ্যমে অপরাজিত ১০০ রান তুলেন। এরপর ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ৭৪ রান সংগ্রহের পর গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে দুই খেলায় ১২৪ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর এ ইনিংসগুলো উইজডেনের মতে মৌসুমের সেরা ছিল। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৭৩ রান ও লর্ডসে প্রথমবারের মতো খেলে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১২২ রান করেন যা কার্যতঃ টেস্ট শুরুর পূর্বেকার প্রস্তুতিমূলক খেলা ছিল। অস্ট্রেলিয়া ৬৩ রানে জয় পায়। পরের খেলায় সাসেক্সের বিপক্ষে হাঁটুতে আঘাত পান ও মাঠ থেকে চলে আসতে হয়। এরফলে উভয় ইনিংসের কোনটিতেই ব্যাট ধরতে পারেননি। ধারনা করা হয়েছিল যে, তাঁকে হয়তোবা বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হতে পারে।[২][৩][২৯]

কিন্তু, পাঁচদিন পর আরোগ্য লাভ করায় এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট খেলার জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়। ৮২ রান করায় অস্ট্রেলিয়া দল ৫১৬/৯ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ৩২১ রানে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে অল-আউট করা যায়নি। খেলাটি ড্র হয়। তিনি তাঁর ক্রীড়াশৈলী অক্ষুণ্ন রাখেন ও পরবর্তী টেস্ট শুরুর পূর্বে কেন্টের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৪ রান তুলেন।[৩]

ক্রিকেটের স্বর্গরাজ্য লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। অপ্রত্যাশিত বাউন্সে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেননি নর্ম ও’নীল।[৩০] খেলায় তিনি এক ও শূন্য রানে আউট হন। নিম্নমূখী রানের খেলায় অস্ট্রেলিয়া পাঁচ উইকেটে পরাভূত হয়।[৩]

কাউন্টি খেলাগুলোয় নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ১৬২ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দেন তিনি। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ২৭ ও ১৯ রান তুলতে সক্ষম হন। টেস্টে জয়ী হয়ে ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ১৪২ রান তুলেন। কিন্তু, রান সংখ্যা সমান হওয়ায় টাই হলেও স্বাগতিক দল চার উইকেট হাতে রেখে ড্র করে।[৩]

কারিগরী ত্রুটি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে[২] ওল্ড ট্রাফোর্ডের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৭ রান করেন। খেলায় স্বল্প ব্যবধানে জয়ী হয়ে অস্ট্রেলিয়া ১-১ রাখে ও অ্যাশেজ নিজেদের কাছে রেখে দেয়। চূড়ান্ত টেস্টকে সামনে রেখে ও’নীল ক্রমাগতভাবে রানের চাকা সচল রাখেন। চার ইনিংসের তিনটিতেই অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেন।[৩] ওভালের পঞ্চম টেস্টে ১১৭ রান করে নিজস্ব প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। খেলাটি ড্র হয়।[২][২০] একজন দর্শকের কাছ থেকে সৌভাগ্যসূচক মুদ্রা উপহার হিসেবে লাভ করেন ও ১৯ রানে সেকেন্ড স্লিপে আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান।[৮][৩১]

টেস্টগুলোয় অংশ নিয়ে ৪০.৫০ গড়ে ৩২৪ রান সংগ্রহ করেন। এরপর ১৯৬২ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননা পান।[২][১৪][২০] টেস্ট সিরিজের পর সফরের শেষদিকে পাঁচ ইনিংসের চারটিতেই অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। প্রথম-শ্রেণীর খেলাবিহীন মাইনর কাউন্টিজের বিপক্ষে ১৩৮ রান তুলে ইংরেজ ভূমি ত্যাগ করেন নর্ম ও’নীল। সকল প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে সাতটি শতক হাঁকান তিনি।[২৪] ২,০১৯ রান তুলে লরি’র পর দ্বিতীয় স্থান দখল করেন।[১৬]

দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন[সম্পাদনা]

এ সফরের পরপরই তাঁর স্বাভাবিক ক্রীড়াশৈলী নিচেরদিকে চলে যেতে থাকে। ইনিংসের শুরুতেই অস্থিরতায় ভুগতে থাকেন। ফলশ্রুতিতে ‘নার্ভাস নর্ম’ ডাকনামে আখ্যায়িত হন। এছাড়াও ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তির ফলে বেশ ভুগছিলেন ও খেলোয়াড়ী জীবন শেষের দিকে চলে যায়। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে কোন দল অস্ট্রেলিয়া সফরে আসেনি; পুরোপুরিই ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত ছিল।[৪] নিউ সাউথ ওয়েলস একাধারে নবমবারের মতো শেফিল্ড শিল্ডের শিরোপা জয় করে।[৯] তবে, ও’নীলের জন্য বেশ খারাপ মৌসুম অতিবাহিত হয়। মাত্র ২৫.১৩ গড়ে ৩৭৭ রান তুলেন ও কেবলমাত্র দুইবার পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।[৩]

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়া ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম টেস্ট খেলতে নামে। গত মৌসুমে তেমন ভূমিকা রাখতে না পারলেও ও’নীল নতুন গ্রীষ্মকাল শুরু করেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সম্মিলিত একাদশের সদস্যরূপে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজদের বিপক্ষে ১৫ ও ২/৩০ লাভ করার মধ্য দিয়ে। ডেক্সটার ও টম গ্রাভেনি তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[৩] এক বছরের মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরি পান। নিজ রাজ্য দলের সদস্যরূপে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেন।[৩] টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ও’নীল পুরোপুরি খেলায় মনোনিবেশ ঘটান। ডেক্সটার একাদশকে ইনিংস ব্যবধানে হারাতে নিউ সাউথ ওয়েলসকে সহায়তা করেন। খেলায় তিনি ১৪৩ রান তোলাসহ টম গ্রেভেনি ও শীর্ষস্থানীয় ব্যাটসম্যান কলিন কাউড্রেকে আউট করে ২/৩৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।[৩]

ব্রিসবেনের গাব্বায় ড্র হওয়া প্রথম টেস্টে ৫৬ রান তুলেন নর্ম ও’নীল। কিন্তু পরবর্তী দুই খেলায় ২০ রানের কোঠা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হন।[২০] স্বীয় স্ত্রী কর্তৃক সৌভাগ্যসূচক লেবু মোজা উপহার দেয়ার পর অ্যাডিলেডের ড্র হওয়া চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০০ রান তুলেন।[৮] খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করার পনেরো টেস্টের মধ্যে এটিই তাঁর সর্বশেষ সেঞ্চুরি ছিল।[২০] খেলা চলাকালীন অ্যালান ডেভিডসন আহত হলে[৩২] ও’নীলের উপর বোলিংয়ের দায়িত্ব বর্তায়। ৪৯ রান দেন তিনি যা তাঁর সর্বাধিক ব্যয়বহুল ছিল।[২০] সিডনির পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে ৭৩ রান তুলেন।

সিরিজ শেষে ৩৪.৪৪ গড়ে ৩১০ রান করেন। সিরিজ শুরুর পূর্বে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ৫৩.৮০। সিরিজে তৃতীয় ও পঞ্চম টেস্টে একটি করে মোট দুই উইকেট লাভ করেন নর্ম ও’নীল।[২০] ফ্রেড টিটমাস ও ডেক্সটার তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[১২] টেস্টের বাইরেও ও’নীল হিমশিম খাচ্ছিলেন। টেস্ট ইনিংস বহির্ভূত খেলায় আট ইনিংসে মাত্র একবার ২৫ রান তুলেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে সংগৃহীত ৯৩ রান দলের পরাজয়বরণকে আটকাতে পারেনি। ভিক্টোরিয়া শেফিল্ড শিল্ড জয় করে ও নিউ সাউথ ওয়েলসের ধারাবাহিক নবম শিরোপা জয়ের পর বাঁধাগ্রস্ত করে।[৯]

মৌসুম শেষে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভেলিয়ার্সের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। অধিকাংশ খেলাই প্রাদেশিক দলগুলোর বিপক্ষে ছিল। সাত খেলায় অংশ নিয়ে সিরিজে বেশ ভূমিকা রাখেন। ৪১.৫৪ গড়ে ৫৪১ রান তুলেন। তন্মধ্যে, একটি সেঞ্চুরি ও চারটি অর্ধ-শতকের ইনিংস ছিল তাঁর। এছাড়াও, বোলিং করে ৫৩.২৯ গড়ে ৭ উইকেট পান।[৩]

পরবর্তী ১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে ও’নীলের সূচনালগ্নটি তেমন ভালো হয়নি। প্রথম ছয় ইনিংসের মধ্যে মাত্র একবার ১২ রান করেছিলেন। তাস্বত্ত্বেও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য তাঁকে দলে রাখা হয়। ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ৮২ ও অপরাজিত ১৯ রান করেন। ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়। এরপরও তিনি তাঁর খেলার ধারা অব্যাহত রাখেন। ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৩৬ ও অপরাজিত ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসে আঘাতের কারণে রিটায়ার হার্ট হতে বাধ্য হন। এরফলে দ্বিতীয় টেস্টে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। অবশ্য ঐ টেস্টে অস্ট্রেলিয়া আট উইকেটে জয় পায়।[৩][২০][৩৩] আরোগ্যলাভের পর দলে ফিরে আসেন। পরবর্তী দুই টেস্টের প্রত্যেকটিতেই অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেন। সিরিজ শেষে ৪০.৭১ গড়ে ২৮৫ রান ও ৩২.৩৩ গড়ে তিন উইকেট পান তিনি।[২০] এছাড়াও, শিল্ডের বাদ-বাকী খেলায় অংশ নিয়ে আরও দুইটি অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেছিলেন।[৩]

১৯৬৪ সালে ইংল্যান্ড সফরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলে নর্ম ও’নীলকে রাখা হয়। উত্তর গোলার্ধ্বের দেশে যাবার পূর্বে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকান। প্রথম দুই ইনিংসে ১৬ রান করতে ব্যর্থ হলেও গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৬৫ ও অপরাজিত ১০৯ রান করেন। এরপর টেস্ট শুরুর পূর্বেকার প্রস্তুতিমূলক খেলায় ১৫১ ও অপরাজিত ১৭ রান করেন। এমসিসি দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া একাদশ নয় উইকেটে জয় তুলে নেয়। তবে, প্রথম দুই টেস্টে ৯৮ রান সংগ্রহের পর হাঁটুর আঘাতের কারণে তৃতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।[৩][২০][৩৪] সিরিজের ড্র হওয়া অন্যান্য টেস্টের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া জয় পায়। তাস্বত্ত্বেও, এ সময়ে চারটি প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়ে প্রত্যেকটিতেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ১৩৪ ও নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে ৯০ রানের ইনিংস ছিল তাঁর।[৩]

সিরিজের শেষ দুই টেস্টে খেলার জন্য দলে ফিরে আসেন। সিরিজ শেষে ৩১.২০ গড়ে মাত্র ১৫৬ রান সংগ্রহ করেন। পাঁচ টেস্টে অংশ নিয়ে কোনবারই পঞ্চাশ রানের ইনিংস কিংবা উইকেট লাভে সক্ষম হননি ও’নীল। এছাড়াও, কেন্টের বিপক্ষে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন ও ইংরেজ গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের শেষদিকে আরও দুইবার অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেছেন।[৩]

এরপর ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে উপমহাদেশে আসেন। উপমহাদেশের পূর্ববর্তী সফরে শীর্ষস্থানে থাকা নর্ম ও’নীলের অবস্থা আরও শোচনীয় পর্যায়ে আসে। মাদ্রাজের প্রথম টেস্টে জয়ী হওয়া অস্ট্রেলিয়া দলে খেলে ৪০ ও ০ রান করেন। বোম্বের কোন ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি। ক্রমাগত বমির কারণে তাঁকে হাসপাতালে প্রেরণ করতে হয়েছিল।[৩৫] আঘাতে জর্জড়িত অস্ট্রেলিয়া দল সিরিজে এগিয়ে যেতে পারেনি। সিরিজের বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কলকাতায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টসহ পাকিস্তানে একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। দেশে ফিরে আসার পর খুব কমই ঘরোয়া মৌসুমের খেলায় অংশ নেন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে চলে যান। পাঁচটি ঘরোয়া খেলায় অংশ নিয়ে ৫৯.৫০ গড়ে ৩৫৭ রান সংগ্রহ করেন। তন্মধ্যে, সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।[৩]

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। জ্যামাইকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে স্বীয় শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেন। প্রায়শঃই এ সফরে তাঁকে আঘাতে জর্জড়িত থাকতে দেখা যেতো।[১৪] তবে, চার বছর পূর্বেকার ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সমানে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন।[২০] বিভিন্নভাবে তাঁর সূচনা হয়। সাতটি টেস্ট ইনিংসের ছয়টিতেই ২০-এর অধিক রান তুললেও কোনটিকেই বড় অঙ্কের কোঠায় নিয়ে যেতে পারেননি।[২০]

প্রথম টেস্টে ওয়েস হলের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন ও হাসপাতালে নেয়ার পর এক্স-রেতে চির ধরা পড়ে।[৩৬] দ্বিতীয় টেস্টে চার্লি গ্রিফিথের বলে আহত হলে ও’নীলকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।[৩৬] বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নিয়ে ৫১ ও অপরাজিত ৭৪ রান করেন। এটিই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এছাড়াও সিরিজে একবারই পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের দেখা মেলে তাঁর। এ সিরিজে ৪৪.৩৩ গড়ে ২৬৬ রান তুলেন।[২০] ভাঙ্গা হাতের কারণে পঞ্চম টেস্টে অংশ নিতে পারেননি তিনি।[৩৭] তবে, বল হাতে বেশ সফলতা পেয়েছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবনে সংগৃহীত ১৭ টেস্ট উইকেটের নয়টি পান এ সিরিজ থেকে। ২৫.৫৫ গড়ে এ উইকেটগুলো লাভ করেন। তন্মধ্যে, ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে লেগ স্পিন বোলিং করে নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৪/৪১ দাঁড় করান।[১৪][২০] ঐ খেলার প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক দলের নিচেরসারির ব্যাটসম্যানদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান। জ্যাকি হেনড্রিক্স, ওয়েস হল, চার্লি গ্রিফিথ ও ল্যান্স গিবস তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।[১২]

বিতর্কিত ভূমিকা[সম্পাদনা]

ঐ সফর শেষে ও’নীল প্রতিপক্ষীয় ক্ষুরধার পেস বোলার চার্লি গ্রিফিথের বিপক্ষে বল ছুঁড়ে মারার অভিযোগ সংবাদপত্রে তুলে ধরে বির্তকের কেন্দ্রবিন্দুতে উপনীত হন।[৩৭][৩৮] বেশ কয়েকজন অস্ট্রেলীয়দের অন্যতম হিসেবে গ্রিফিথের বোলিং ভঙ্গীমা বেশ মনোযোগের সাথে অবলোকন করেন। সিডনিভিত্তিক ডেইলি মিররে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করতে থাকেন। ঐ সকল প্রতিবেদনে গ্রিফিথকে সন্দেহাতীতভাবে বল ছুঁড়ে মারার অভিযোগ আনেন। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, স্বাগতিক দল তাঁকে খেলার সুযোগ দিয়ে ভুল করেছে। ও’নীল আরও মন্তব্য করেন যে, যদি তাঁকে এভাবে বল ছুঁড়ে মারার বিষয়ে অনুমতি দেয়া হয়, তাহলে যে-কাউকে তিনি হত্যা করতে পারেন।[৮][৩৭] এছাড়াও, তিনি তাঁর এ জাতীয় অবৈধ বোলিংয়ের মুখোমুখি না হবার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।[৩৯] যখন ডেইলি মিরর তাদের প্রতিবেদনগুলো লন্ডনের ডেইলি মেইলে প্রেরণ করলেও অস্ট্রেলীয়দের বিমানে উঠার পূর্ব-পর্যন্ত তা প্রকাশ না করার শর্ত তুলে ধরে।[৪০] সফরকালীন চুক্তি অনুযায়ী খেলোয়াড়দেরকে কোন মন্তব্য প্রদান করা থেকে বিরত থাকার কথা থাকলেও ও’নীল তা ভঙ্গ করেন।[৮][৩৭]

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে অভিযোগ তুলে ধরে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড প্রত্যুত্তরে জানায় যে, তারা প্রকাশিত মন্তব্যগুলো যাচাই করে দেখছে। তবে, এ সফর শেষে ও’নীলের চুক্তিনামা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি থেমে যায়। তাস্বত্ত্বেও, এসিবি খেলোয়াড়দের লেখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। ফলে সফর শেষ হবার তিন মাস পরই তারা মন্তব্য করতে পারবে।[৩৯] দেশে ফেরার পর দৃশ্যতঃ ও’নীলের বিষয়টি অন্যতম ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।[৩][১৮]

টেস্টের বাইরে ও’নীল আঞ্চলিক দলগুলোর বিপক্ষে তিন খেলায় দৃঢ়ভাবে নিজস্ব ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। প্রত্যেকটি দলের বিপক্ষেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং বার্বাডোসের বিপক্ষে তিনটি ইনিংসে যথাক্রমে ১২৫, ১২৫ ও ১০১ রান তুলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

পরবর্তী মৌসুমে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক উপেক্ষিত হন ও পাঁচ-টেস্টের সিরিজ খেলার জন্য ইংল্যান্ড সফর থেকে বাদ পড়েন। নিউ সাউথ ওয়েলসে ফিরে ৩৯.৪২ গড়ে ৪৭৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দুইটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি।[৩]

১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়া থেকেও বাদ দেয়া হয়। এরফলে, তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তবে, শিল্ডের খেলায় অংশ নিলেও সতীর্থ সাবেক দলীয় সঙ্গীরা ভারত মহাসাগরের অপর প্রান্তে অবস্থান করছিলেন। ৭৪.১০ গড়ে ৭৪১ রান তুলে সফলতম মৌসুম অতিবাহিত করেন তিনি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১১৭ রান তুলে মৌসুম শুরু করেন। ফিরতি খেলায় দুইবার ৭৮ রান তুলেন। এরফলে তাঁর দল ১৩ রানের নাটকীয় জয়লাভে সমর্থ হয়। এরপর ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১২৮ ও অপরাজিত ২২ রান তুলেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬০ ও ৮০ রান সংগ্রহ করে মৌসুম শেষ করেন। তন্মধ্যে, দলের প্রথম ইনিংসের অধিকাংশ রানই তাঁর ঝুলিতে ছিল।[৩]

ফলশ্রুতিতে, ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে অস্ট্রেলীয় দ্বিতীয় একাদশের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য মনোনীত হন তিনি। দুইটি আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিয়ে ১৭.২৫ গড়ে ৬৯ রান তুলেন। এছাড়াও, অকল্যান্ডের বিপক্ষে ১০১ ও অপরাজিত ৫৮ রান তুলেন। এটিই তাঁর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরি ছিল।[৩]

হাঁটুর আঘাতের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে এসে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন নর্ম ও’নীল।

বিশিষ্ট লেখক ইডব্লিউ সোয়ানটনের মতে, অত্যন্ত সুন্দর ব্যাটিংয়ের অধিকারী ব্যাটসম্যান হওয়া স্বত্ত্বেও শুরুর দিকের প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি তিনি।[৮]

নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে ৬১ খেলায় অংশ নিয়েছেন নর্ম ও’নীল।[২৪] ৫২.৬১ গড়ে ৫৪১৯ রান তুলেন। সেন্ট জর্জের পক্ষে গ্রেড প্রতিযোগিতায় ৬১.৫৭ গড়ে ৩৮৭৯ রান সংগ্রহ করেন। এরপর ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে সাদারল্যান্ডের পক্ষে খেলার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রথম দিনেই নতুন ক্লাবের পক্ষে ১৬৮ রান তুলেন তিনি।[১৪][৩৮]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

ব্যবসায়িকসূত্রে সিগারেট বিক্রেতা ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট ধারাভাষ্যকর্মের সাথে জড়িত হন।

১৯৫৪ সালের ব্রিটিশ এম্পায়ার ও কমনওয়েলথ গেমসে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ট্র্যাক ও ফিল্ড বিভাগের রিলে বিষয়ে স্বর্ণপদকধারী জেন ওয়ালেস নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই পুত্র ও এক কন্যা ছিল।[১৬] তাঁদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মার্ক ও’নীল ১৯৮০-এর দশকে নিউ সাউথ ওয়েলস ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে খেলেছেন।[৮][১৪][৩৮] রিচি বেনো, ব্যারি জার্মানরে স্টিলের সাথে পল মলন নামীয় ঘোড়দৌড়ের যৌথ মালিকানায় পরিচালনা করেন। ১৯৬১ সালে এটি জয় করে।[৪১]

৭১ বছর বয়সে দীর্ঘদিন কণ্ঠনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নর্ম ও’নীলের দেহাবসান ঘটে।[৪২]

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

দীর্ঘ ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী ছিলেন নর্ম ও’নীল। টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সূচনালগ্নে তাঁকে ডন ব্র্যাডম্যানের সাথে তুলনা করা হতো। তিনি তাঁর সেরা সময়ে দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোক খেলতেন। দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। পিছনের পায়ে ভর রেখে উঁচুমানের পেসকে মোকাবিলা করে রান সংগ্রহে এগিয়ে যেতেন। পায়ের কারুকাজের জন্য পরিচিতি পেয়েছেন। স্পিন বোলিং রুখতেই তা করতেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে নিজের ওজনকে ভারসাম্য করতে ব্যবহার করেছেন। সচরাচর, ধীরগতিসম্পন্ন বোলারদের বলকে সুইপ করতে অধিক পছন্দ করতেন।[১৬][১৮][২৪] প্রায়শঃই ডানহাতে ভর দিয়ে খেলতেন। ব্যাটের হাতলে দুই হাতের বেশ দূরত্ব ছিল তাঁর। এরপর ডান কাঁধ স্কয়ারের দিকে রেখে বোলারকে মোকাবিলা করতেন।

বিখ্যাত ইংরেজ ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক ওয়ালি হ্যামন্ড বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ও’নীল তাঁর দেখা সেরা অল-রাউন্ড ব্যাটসম্যান ছিলেন।[১৮]

ও’নীলের দীর্ঘ গড়ন, শক্তিমত্তা ও চমৎকার দৃষ্টিভঙ্গী তাঁর শৈশবের আদর্শ কিথ মিলারের সাথে মিল ছিল। ব্র্যাডম্যানের সাথে তুলনা করা হলেও ও’নীল বেশ লম্বা ও মোটা ছিলেন। ব্র্যাডম্যান তাঁর ধৈর্যশক্তির জন্য পরিচিতি পেলেও তিনি তাঁর ব্যতিক্রম ছিলেন। এছাড়াও, ইনিংসের শুরুতে নিশানা বরাবর বল মোকাবিলা করার বিষয়ে সমালোচিত হয়েছেন।[১৬]

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

নিজস্ব খেলার ধরন ও বিনোদনীয় মূল্যমানের কারণে নর্ম ও’নীল খ্যাতির শিখরে অবস্থান করেছেন। দলীয় সঙ্গী অ্যালান ডেভিডসন তাঁর প্রসঙ্গে মূল্যায়ন করেছেন যে, একবার উইকেটে স্থির হয়ে যাবার পর তিনি সর্বাধিক প্রাণবন্ত খেলোয়াড়ে পরিণত হন, তিনি গতিময়। বলকে আক্রমণ করতেন যা অন্যান্যরা প্রতিরক্ষাকর্মে চিন্তা করতে থাকতেন। তাঁর বিস্ময়কর দক্ষতা ও কৌশল ছিল। পিছনের পায়ে ভর করে ফাস্ট বোলারদের পাশ দিয়ে চলে যেতো - নিঃসন্দেহে আপনি চিন্তা করতে পারবেন না সেগুলো দেখতে কেমন ছিল। তাঁর অস্ট্রেলীয় ও নিউ সাউথ ওয়েলসের অধিনায়ক রিচি বেনো মন্তব্য করেন যে, তিনি অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা বিনোদনকারী ছিলেন।[৮]

ও’নীলের খেলার ধরন সম্পর্কে ব্রিটিশ লেখক ইডব্লিউ সোয়ানটন মন্তব্য করেছেন যে, তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনের কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তিনি মারা যাননি।[৮] উইজডেনের স্মরণীকায় বলা হয় যে, ও’নীলের উচ্চমানের ইনিংসগুলো প্রভূত্বমূলক সৌন্দর্য্যে ভরপুর। তাঁর স্ট্রোকগুলো দর্শনীয়, আপন শক্তিতে ভরপুর।[২]

খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে ও’নীল স্নায়ুর চাপে ভুগতেন ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি পান যা বিশেষতঃ ইনিংসের সূচনালগ্নে। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীমূলক ’ইন্স এন্ড আউটস’ শীর্ষক গ্রন্থে ব্যাটিংকে একাকী ব্যবসা পরিচালনার সাথে তুলনা করেছেন। এতে তিনি কখনো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটকে বিষণ্ন ও একাকীত্বে ভরপুর হিসেবে বর্ণনা করেন।[৮]

কভার অঞ্চলে দক্ষ ফিল্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন নর্ম ও’নীল। শক্তিশালী ও নিখুঁত বল ছোঁড়ার কারণে উইজডেন কর্তৃক স্বপ্নীল বল ছোঁড়ার অধিকারীত্ব লাভ করেন যা তিনি বেসবল খেলা থেকে আহরণ করেছেন। ১৯৫৭ সালে নিখিল অস্ট্রেলীয় বেসবল দলের কার্যকরী খেলোয়াড় হিসেবে তিনি নামাঙ্কিত হন।[৭] তাঁর সক্ষমতাকে মেজর লীগ বাস্কেটবলের স্কাউটে তুলে ধরা হয়।[১৬]

নীল হার্ভে’র অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত কভার অঞ্চলে উভয়ে অবস্থান করতেন। ঐ অবস্থানে তাঁরা তাঁদের সময়কালে সেরা জুটিরূপে গণ্য করা হতো।

পরিসংখ্যান[সম্পাদনা]

  ব্যাটিং[৪৩] বোলিং[৪৪]
প্রতিপক্ষ খেলা রান গড় সর্বোচ্চ ১০০ / ৫০ রান উইকেট গড় সেরা
ইংল্যান্ড ১৯ ১০৭২ ৩৯.৭০ ১১৭ ২/৭ ১৭৬ ৮৮.০০ ১/৭
ভারত ৪১৬ ৫২.০০ ১৬৩ ২/০ ১১১ ১১১.০০ ১/৪১
পাকিস্তান ২১৮ ৭২.৬৬ ১৩৪ ১/০ ৪১ ৪১.০০ ১/৩৭
দক্ষিণ আফ্রিকা ২৮৫ ৪০.৭১ ৮৮ ০/৩ ৯৭ ৩২.৩৩ ১/২
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৮৮ ৪৯.২৫ ১৮১ ১/৫ ২৪২ ১০ ২৪.০০ ৪/৪১
সর্বমোট ৪২ ২৭৭৯ ৪৫.৫৫ ১৮১ ৬/১৫ ৬৬৭ ১৭ ৩৯.২৩ ৪/৪১

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Home of CricketArchive"। Cricketarchive.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৪-০৮-০৭ 
  2. "Wisden 1962:Norm O'Neill"Wisden। ১৯৬২। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০০৭ 
  3. ড় ঢ় য় কক কখ "Player Oracle NCL O'Neill"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০০৯ 
  4. "Statsguru – Australia – Tests – Results list"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০০৭ 
  5. Pollard, pp. 113–114.
  6. Haigh, p. 104.
  7. Haigh, p. 118.
  8. Haigh, Gideon (৭ মার্চ ২০০৮)। "Obituary: Norman O'Neill"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  9. Williamson, Martin। "A history of the Sheffield Shield"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩০ নভেম্বর ২০০৭ 
  10. Fingleton, p. 213.
  11. Haigh, p. 121.
  12. "Player Oracle NCL O'Neill"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২০ আগস্ট ২০১৩ 
  13. Benaud, p. 155.
  14. Cashman; Franks; Maxwell; Sainsbury; Stoddart; Weaver; Webster (১৯৯৭)। The A-Z of Australian cricketers। পৃষ্ঠা 229–230। 
  15. Haigh, pp. 119–122.
  16. "Norm O'Neill"The Daily Telegraph। ৫ মার্চ ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  17. Haigh, p. 120.
  18. "Norm O'Neill"The Times। ৫ মার্চ ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  19. Haigh, p. 122.
  20. "Statsguru – NC O'Neill – Tests – Innings by innings list"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৫ জুন ২০০৭ 
  21. Haigh, p. 130.
  22. Benaud, pp. 164–167.
  23. Benaud, pp. 170–171.
  24. Hodgson, Derek (১৩ মার্চ ২০০৮)। "Norm O'Neill"The Independent। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০০৮ 
  25. Haigh, p. 144.
  26. Haigh, p. 150.
  27. Haigh, p. 333.
  28. Piesse, p. 197.
  29. Haigh, p. 160.
  30. Haigh, pp. 163–164.
  31. Haigh, p. 217.
  32. Benaud, p. 204.
  33. Piesse, p. 204.
  34. Haigh, p. 197.
  35. Haigh, p. 207.
  36. Haigh, p. 229.
  37. Haigh, p. 233.
  38. Pollard, Jack (১৯৬৯)। Cricket the Australian Way। পৃষ্ঠা 32। 
  39. Haigh and Frith, p. 139.
  40. Haigh, p. 234.
  41. Haigh, p. 215.
  42. "Batting prince Norm O'Neill dies"। Fox Sports। ৩ মার্চ ২০০৮। ৩০ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০০৮ 
  43. "Statsguru – NC O'Neill – Test matches – Batting analysis"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০০৮ 
  44. "Statsguru – NC O'Neill – Test Bowling – Bowling analysis"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০০৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]