আর্থার মিল্টন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
আর্থার মিল্টন
আর্থার মিল্টন.jpg
২০০৭ সালের গৃহীত স্থিরচিত্রে আর্থার মিল্টন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামক্লিমেন্ট আর্থার মিল্টন
জন্ম(১৯২৮-০৩-১০)১০ মার্চ ১৯২৮
বেডমিনস্টার, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২৫ এপ্রিল ২০০৭(2007-04-25) (বয়স ৭৯)
ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক৩ জুলাই ১৯৫৮ বনাম নিউজিল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৮ জুন ১৯৫৯ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬২০
রানের সংখ্যা ২০৪ ৩২১৫০
ব্যাটিং গড় ২৫.৫০ ৩৩.৭৩
১০০/৫০ ১/– ৫৬/১৬০
সর্বোচ্চ রান ১০৪* ১৭০
বল করেছে ২৪ ৮৪১৪
উইকেট ৭৯
বোলিং গড় ৪৬.০৭
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৬৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/– ৭৬০/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্লিমেন্ট আর্থার মিল্টন (ইংরেজি: Arthur Milton; জন্ম: ১০ মার্চ, ১৯২৮ - মৃত্যু: ২৫ এপ্রিল, ২০০৭) ব্রিস্টলের বেডমিনস্টার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা[১] ও ফুটবলার ছিলেন।[২] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে ইংল্যান্ড দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন আর্থার মিল্টন

ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল খেলার জগতেও সমান দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন তিনি। ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে আর্সেনালের পক্ষে ফুটবল খেলেছেন। এছাড়াও, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ব্রিস্টল সিটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিয়েছেন। ওয়েম্বলিতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[৩]

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

ব্রিস্টলের বেডমিনস্টার এলাকায় আর্থার মিল্টনের জন্ম। ব্রিস্টলেই কথাম গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন পর্ব শেষ করেন। প্রকৃতি প্রদত্ত সহজাত ক্রীড়াবিদ হিসেবে বেড়ে উঠেন। ক্রিকেট, ফুটবল ও রাগবি ইউনিয়নে বিদ্যালয়ের অধিনায়ক মনোনীত হন। গণিতে অসাধারণ মেধাবী ছিলেন। কিন্তু, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের চেয়ে খেলাধূলাতেই অধিকতর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৮ থেকে ১৯৭৪ সময়কালে কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। স্ট্যাপলটন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতে থাকেন। এরপর গ্লুচেস্টারশায়ার দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন। জুন, ১৯৪৮ সালে প্রতিপক্ষ নর্দান্টসের বিপক্ষে গ্লুচেস্টারশায়ারের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে আর্থার মিল্টনের। এরপর থেকে পরবর্তী ২৬ বছরেরও অধিক সময় দলের পক্ষে খেলেন। ১৯৭৪ সালে অবসর গ্রহণের পূর্বে ৫৮৫ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত অ্যাশেজ সিরিজে দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও একই পর্যায়ে ছিলেন। তবে, আঘাতের কারণে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন আর্থার মিল্টন। ১৯৫৮ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ছয় টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার।

৩ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে হেডিংলিতে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অভিষেক ঘটে আর্থার মিল্টনের। ক্রিকেট ও রাগবি - উভয় স্তরের খেলায় পারদর্শী অপর দ্বৈত আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এম. জে. কে. স্মিথের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামেন তিনি। ঐ ইনিংসে তিনি অপরাজিত ১০৪ রানের মনোজ্ঞ ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন।[৩] ডব্লিউ.জি. গ্রেসের পর গ্লুচেস্টারশায়ারের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেক টেস্টেই ইংল্যান্ডের পক্ষে সেঞ্চুরি করার কৃতিত্ব প্রদর্শনে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। এছাড়াও, প্রথম ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে পুরো টেস্টে ফিল্ডিং করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিং করার পর ইংল্যান্ডের পক্ষে ব্যাটিং করে অপরাজিত ছিলেন। এরপর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিল্ডিং করতে নামেন। ঐ টেস্টে ইংরেজ দল ইনিংস ও ৭১ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।[৪]

সিরিজের চতুর্থ টেস্টে দলের বাইরে ছিলেন। কিন্তু ওভাল টেস্টে তাকে পুণরায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় অভিষিক্ত হন তিনি। ঐ মৌসুমের শীতকালে ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। সিডনিতে অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলার সুযোগ পান। মেলবোর্নের তৃতীয় টেস্টে তাকে বেশ প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। ভাঙ্গা আঙ্গুল নিয়ে দেশে ফিরে যান। ১৯৫৯ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে অংশ নেন। লর্ডসে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের মাধ্যমে তার সংক্ষিপ্ত টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের অকাল সমাপ্তি ঘটে।

অবসর[সম্পাদনা]

এরপর আর্থার মিল্টনকে আর টেস্ট আঙ্গিনায় দেখা যায়নি। তবে, কাউন্টি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন ও প্রভূতঃ সফলতা পান। ডানহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে ৭৯টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন তিনি। ফুটবল মাঠে অসম্ভব দৌঁড়ুতেন যা ক্রিকেটেও এর প্রভাব পড়ে। দ্রুতগতিসম্পন্ন ফিল্ডার হিসেবে ৭৫৮ ক্যাচ তালুবন্দী করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। ১৯৫১ সাল থেকে স্বাভাবিক গতিতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেটে দ্রুতলয়ে রান সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দৌঁড়ুতেন।

৩২০০০-এর অধিক প্রথম-শ্রেণীর রান সংগ্রহ করলেও তুলনামূলকভাবে কম গড়ে ৩৩.৬৬ রান তুলেছেন। ষোলো মৌসুমে সহস্রাধিক রান তুলেছেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে ১০১৭টি ইনিংস খেলেছেন যা কাউন্টি দলটির রেকর্ডবিশেষ। ৩৯ বছর বয়সেও সাতটি সেঞ্চুরি সহযোগে দুই সহস্রাধিক রান তুলেন। ১৯৬৮ সালে গ্লুচেস্টারশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচের দায়িত্বে ছিলেন আর্থার মিল্টন।

ফুটবলে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

লীগ ফুটবলে মাত্র বারো খেলায় অংশগ্রহণের পর আর্থার মিল্টনকে ইংল্যান্ড দলে খেলার জন্য মনোনীত করা হয়। একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২৮ নভেম্বর, ১৯৫১ তারিখে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত খেলাটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে প্রথম বিভাগ ফুটবলে অংশ নেন ও আর্সেনালের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন। তবে, এর পরপরই ড্যানি ক্ল্যাপটন ও ডেরেক ট্যাপস্কটের কাছ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে থাকেন।

সব মিলিয়ে আর্সেনালের পক্ষে ৮৪ খেলায় অংশ নিয়ে ২১ গোল করেছিলেন তিনি। আরও দুই মৌসুম খেলার পর ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ সালে ব্রিস্টল সিটিতে £৪,০০০ পাউন্ড-স্টার্লিংয়ের বিনিময়ে স্থানান্তরিত হন। দলটিকে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তরণের সহায়তা করেন। ব্রিস্টলের পক্ষে ১৫ খেলায় অংশ নেয়ার পর ১৯৫৫ সালের গ্রীষ্মে ফুটবল থেকে অবসর নেন ও ক্রিকেট খেলায় মনোনিবেশ ঘটান তিনি।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

সর্বশেষ ফুটবলার ও বারোজন খেলোয়াড়ের অন্যতম ও জীবিত ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইংল্যান্ডের পক্ষে ক্রিকেট ও ফুটবল - উভয় খেলায় অংশ নিয়েছিলেন আর্থার মিল্টন। বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, আর্থার মিল্টন ধ্রুপদী ক্রীড়াশৈলী ও স্বাচ্ছন্দ্য মেজাজে রান তুলতে পছন্দ করতেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

আর্সেনালে থাকাকালে জোয়ান নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ব্রিস্টলে ডাকপিওনের চাকুরী নেন। সেখানে তিনি ঘোড়দৌড় খেলায় অংশ নিতেন। এছাড়াও তিনি গল্ফ, স্নুকার ও বিলিয়ার্ডস খেলতেন। ২০০২ সালে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক এমএ ডিগ্রী লাভ করেন।

২৫ এপ্রিল, ২০০৭ তারিখে ব্রিস্টলে ৭৯ বছর বয়সে আর্থার মিল্টনের দেহাবসান ঘটে। নিজ গৃহে অবস্থানকালে হৃদযন্ত্র ক্রীয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। স্ত্রী ও তিন পুত্রকে রেখে যান।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sporting Life report on Milton's death"। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  2. "Off-side – a cricketing XI that made strides in football"International Cricket Council। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুন ২০১৮ 
  3. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 121। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  4. Cricinfo.com

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]