ব্যাসিল বুচার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ব্যাসিল বুচার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্যাসিল ফিটজহার্বার্ট বুচার
জন্ম (1933-09-03) ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ (বয়স ৮৫)
পোর্ট মোর‌্যান্ট, বারবাইস,
ব্রিটিশ গায়ানা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১০৩)
২৮ নভেম্বর ১৯৫৮ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১০ জুলাই ১৯৬৯ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৫-১৯৬৬ব্রিটিশ গায়ানা
১৯৬০-১৯৭১বারবাইস
১৯৬৭-১৯৭১গায়ানা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৪ ১৬৯
রানের সংখ্যা ৩,১০৪ ১১,৬২৮
ব্যাটিং গড় ৪৩.১১ ৪৯.৯০
১০০/৫০ ৭/১৬ ৩১/৫৪
সর্বোচ্চ রান ২০৯* ২০৯*
বল করেছে ২৫৬ ২,২৫২
উইকেট ৪০
বোলিং গড় ১৮.০০ ৩০.৪২
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৩৪ ৫/৩৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৫/- ৬৭/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ব্যাসিল ফিটজহার্বার্ট বুচার (ইংরেজি: Basil Butcher; জন্ম: ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩) ব্রিটিশ গায়ানার বারবাইসের পোর্ট মোর‌্যান্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ও সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে গায়ানা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও লেগ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন ব্যাসিল বুচার

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

প্রথম আমেরিন্দীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করার গৌরব অর্জন করেন।[১] তৎকালীন ব্রিটিশ গায়ানার পোর্ট মোর‌্যান্টের ঠিক বাইরে অবস্থিত ইক্ষু খামার এলাকায় ব্যাসিল বুচারের জন্ম।[২][৩] ছোট্ট গ্রাম হলেও এ গ্রাম থেকেই প্রতিবেশী আলভিন কালীচরণের পরিবার, ভবিষ্যতের টেস্ট দলীয় সঙ্গী রোহন কানহাইজো সলোমন কাছাকাছি বসবাস করতেন।[২] শিক্ষা জীবন শেষ না করেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময়ে শিক্ষক, পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের কেরাণী, বীমাকর্মী ও উন্নয়ন কর্মকর্তা হরেকরকম পদে চাকুরী করেন। এ সময়ে পোর্ট মোর‌্যান্ট স্পোর্টস ক্লাবে খেলতেন।[৩]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে ভারত গমনের জন্যে ব্যাসিল বুচারকে মনোনীত করা হয়। ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস হলের সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২৮ নভেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ব্যাসিল বুচারের। খেলায় তিনি ২৮ ও অপরাজিত ৬৪ রান তুলেন। কানহাইয়ের সাথে রানার হিসেবে অংশ নেন ও গারফিল্ড সোবার্সের সাথে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন।[৪] তবে, খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।

ইডেন গার্ডেন্সে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ব্যাসিল বুচার তাঁর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ৩৩৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ইনিংসের তিনজন সেঞ্চুরিকারীর একজন ছিলেন। তিন ঘন্টারও অধিককাল ক্রিজে অবস্থান করে ১৫ চার সহযোগে ১০৩ রান তুলেন। এ সময়ে কানহাইয়ের সাথে ২১৭ রানের জুটি গড়েছিলেন তিনি।[৫] মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত চতুর্থ টেস্টে ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি হাঁকান। সাড়ে পাঁচ ঘন্টাকাল ক্রিজে অবস্থান করে ১০ চার সহযোগে ১৪২ রান তুলেন। এরফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ জয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন তিনি।[৬] সিরিজ শেষে ৬৯.৪২ গড়ে ৪৮৬ রান তুলেছিলেন তিনি।

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৬৩[সম্পাদনা]

১৯৬৩ সালের পূর্ব-পর্যন্ত রান খরায় ভুগতে থাকেন ব্যাসিল বুচার। অবশেষে, ১৯৬৩ সালে ইংল্যান্ড গমনে নিজেকে খেলার ধারায় নিয়ে আসতে সক্ষম হন। ঐ সিরিজে ৩৮৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, দলীয় ২২৯ রানের মধ্যে একাই করেছিলেন ১৩৩ রান। ফলশ্রুতিতে লর্ডস টেস্টটি ড্র করতে সক্ষম হয়। এ ইনিংসের বিরতিতে পত্র পাঠে জানতে পারেন যে, তাঁর স্ত্রী গায়ানায় গর্ভপাত করেছে।

মাঝেমধ্যেই দলের প্রয়োজনে লেগ স্পিন বোলিংয়ের অধিকার লাভ করতেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে পোর্ট অব স্পেনে সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে ইনিংসে ৫/৩৪ লাভ করেন।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

বিশ্বস্ত ডানহাতি মাঝারিসারির ধ্রুপদী ক্রীড়াশৈলীর অধিকারী ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁকে পরিগণিত করা হতো। ১৯৬০-এর দশকে তারকাসমৃদ্ধ ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটিং ধারাবাহিকতাকে শক্তিশালীকরণে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রিচি বেনো তাঁকে সর্বাপেক্ষা দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ব্যাটসম্যানরূপে আখ্যায়িত করেছেন যাকে আউট করা দুরূহ ব্যাপার।

দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭০ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর গায়ানায় অ্যালুমিনিয়াম সঙ্করায়িত আকরিক বক্সাইট প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Basil Butcher – the first Aboriginal to don "whites" for the West Indies…"Stabroek News। ৫ জুলাই ২০১১। 
  2. Roebuck, Peter (১৯ এপ্রিল ২০০৩)। "Butcher yearns for sweet success"The Age 
  3. "CRICKETER OF THE YEAR 1970: Basil Butcher"Wisden Almanack। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  4. "India's Big Task On Last Day" (54324)। The Times। ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৮। পৃষ্ঠা 15। 
  5. "Third Test: India v West Indies 1959/60 Match Summary"Wisden Almanack। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  6. "Fourth Test: India v West Indies 1959/60 Match Summary"Wisden Almanack। সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]