আবেস্তা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আবেস্তা
Avesta, translated by Ignacy Pietraszewski.jpg
ইগনাসিও কর্তৃক আবেস্তার ফরাসি অনুবাদ, বার্লিন, ১৮৫৮
তথ্য
ধর্মজরাথুস্ট্রবাদ
লেখকজরাথুস্ট্র
ভাষাআবেস্তা ভাষা

আবেস্তা বা জেন্দ আবেস্তা হল জরাথুস্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। এটি আবেস্তা ভাষায় রচিত।[১] আবেস্তাকে ফারসি ও ইংরেজি সহ অন্যান্য ভাষায়ও অনুবাদ করা হয়েছে। এর প্রাচীনতম অংশ হল গাঁথাসমূহ, যেগুলো স্বয়ং জরাথ্রুস্ট্র দ্বারা রচিত ধর্মীয় স্তবজ্ঞান। জরাথুস্ট্রবাদে আরও দুটি ধর্মীয় গ্রন্থ রয়েছে যার নাম দেওয়া হয়েছে দেনকার্দ এবং আরদাভিরাফ নমক। আবেস্তা বা জেন্দ আবেস্তা নামটি দ্বারা ধর্মীয় ভাষা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ উভয়কেই বোঝায়। জারথুস্ট্র ধর্মের বিশাল সাহিত্য (পারস্য/ইরানে আরব মুসলিমদের বিজয়ের আগে মূল ধর্ম) যে ভাষার আশ্রয় নিয়ে তৈরি হয়েছিল, তাকে 'আবেস্তা' বা 'আভস্তাই ভাষা' বলা হয়। উক্ত সাহিত্যে নবী জরাথুস্ট্র বা তাঁর সমসাময়িক অনুসারীদের ভাষার নাম কি ছিল বা কথ্য ভাষা কি ছিল তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায় নি। তবে ঐতিহ্য অনুসারে প্রমাণিত হয় যে সেই ভাষা ও সাহিত্যের নামটিও ছিল "অবিস্তক"। অনুমান করা হয় যে "বিদ" (জানা) এই শব্দের মূলধাতু, যার অর্থ 'জ্ঞান' বা 'প্রজ্ঞা'।

আবেস্তা সাহিত্য দীর্ঘকাল ধরে রচিত হয়েছিল। প্রথমদিকে এই সাহিত্য মৌখিক আকারে ছিল (অলিপিবদ্ধ) তবে পরে তা লিপিবদ্ধ হয়। সময়ের প্রবাহে এই বিশাল সাহিত্যের একটি বৃহৎ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে এখনও এর অনেক অংশ সুরক্ষিত আছে। আবেস্তা তার বর্তমান আকারে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত সামগ্রীর সংকলন। এই সংকলিত উপাদানের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময়ে রচিত হয় এবং এগুলির প্রকৃতিও একে অপরের থেকে অনেক আলাদা। তদুপরি, কেবলমাত্র আভস্তাই ভাষার সামগ্রীটিকে 'আবেস্তা' হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এটিতে ধর্মীয় বিষয়বস্তু ছাড়াও সাধারণ (অ-ধর্মীয়) সামগ্রী রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি আবেস্তার সামগ্রিক সামগ্রিকে আলাদাভাবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। জিন কেলেনস আবেস্তাকে ইয়াসনা, ইয়াশ্ত, ভিসপেরাদ (ইয়াজাতা),[২][৩] ভেন্দিদাাদ, সিরোজা, নিয়াশ, আফরিংগান, বিবিধ (খন্ধ), গাহ এবং খোরদেহ আবেস্তা[২] নামক বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন।

হিন্দুধর্মের ঋগ্বেদের সঙ্গে আবেস্তার শক্তিশালী ভাষাগত মিল রয়েছে।

ঋগ্বেদের সঙ্গে সমজাতীয় পরিভাষা[সম্পাদনা]

ঋগ্বেদের পাণ্ডুলিপি পাতা (১.১.১-৯)
ইয়াস্না ২৮.১ (বদলেইয়ান এমএস জে২)

নীচে ঋগ্বেদ এবং আবেস্তার তুলনামূলক ভাষাগত বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত সমজাতীয় পদগুলির একটি তালিকা দেওয়া হল। উভয় সংগ্রহই প্রোটো-ইন্দো-ইরানীদের থেকে পৃথক হয়ে (আনুমানিক দ্বিতীয় সহস্রাব্দ খ্রিস্টপূর্ব) তাদের নিজ নিজ ভারতীয় ও ইরানি শাখায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরের প্রস্তাবিত সময় থেকে নেওয়া।[৪][৫][৬]

বৈদিক সংস্কৃত আবেস্তা সাধারণ অর্থ
অপ অবন "জল," অপস "জলাদি"[৬]
অপাং নপাত, অপাম নপাত অপাম নপাত "জলের সন্তান"[৬]
আর্যমন আইর্যমন "আর্যত্ব" (সাহি:** "আর্য সম্প্রদায়ের সদস্য")[৬]
ঋত আশা/আর্ত "সক্রিয় সত্য", থেকে "আদেশ" ও "ন্যায়নিষ্ঠতা" পর্যন্ত[৫][৬]
অথর্বন আত্রাউয়ান, আতাউরুন অতর "পুরোহিত"[৫]
অহি অঝি, (অজি) "ড্রাগন, সাপ", "নাগ"[৬]
দাইবা, দেব দাএব, (দাএউয়া) একটি স্বর্গত শ্রেণী
মনু মনু "মানুষ"[৬]
মিত্র মিথ্র, মিত্র "শপথ, অঙ্গীকার"[৫][৬]
অসুর অহুর আরেকটি আত্মার শ্রেণী[৫][৬]
অসুর মেধা (असुर मेधा) অহুর মাজদা "জ্ঞানের প্রভু"[৭]
সর্বতৎ হাউরুউয়াতাত "অক্ষত", "পরিপূর্ণতা"[৮][৯][১০]
সরস্বতী (আরদ্রাবী শুরা অনাহিতা, आर्द्रावी शूरा अनाहिता) হরক্সবইতি (অরদুউই সুরা অনহিতা) একটি বিতর্কিত (সাধারণত পৌরাণিক হিসেবে বিবেচিত) নদী, একটি নদী দেবী[১১][১২]
সৌম্য, সোম হোম একটি দেবতুল্য গাছ[৫][৬]
সূর্য, স্বর হবর, ক্সবর সূর্য, পাশাপাশি গ্রিক হেলিওস, লাতিন সোল, ইংরেজি. সান-এর সমজাতীয়[৮]
তপতি তপইতি সম্ভাব্য আগুন/সৌরদেবী; দেখুন তবিতি (একটি সম্ভাব্য হেলেনাইজড সিথিয়ান নাম)। লাতিন তেপিও এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি পরিভাষার সমজাতীয়। [৮]
ভ্রত্র-/ব্রত্রগ্ন/ব্রিত্রবন বেরেথ্র, বেরেত্র (তুলনা. বেরেথ্রগ্ন, বেরেথ্রয়ন) "বাঁধা"[৫][৬]
যম যিম সৌরদেবতা বিবসবান্ত,বিউউয়াহুউয়ান্তের পুত্র[৬]
ইয়জন, যজ্ঞ ইয়স্ন, বস্তু: ইয়জত "উপাসনা, উৎসর্গ, অর্ঘ্য"[৫][৬]
গন্ধর্ব গন্দরেও "স্বর্গীয় সত্ত্বা"[৬]
নসত্য নঘইথ্য "যমজ বৈদিক দেবতা যারা ঊষা, চিকিৎসা আর জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত"[৬]
অমরত্ব অমেরেতত "অমরত্ব"[৬]
পোসা অপাওশা "'খরার দৈত্য'"[৬]
আশ্মান আসমান "'আকাশ, সর্বোচ্চ স্বর্গ'"[৮]
অঙ্গিরা মন্যু অংরা মইন্যু "'ধ্বংসাত্মক/দুষ্ট আত্মা, আত্মা, রাগ, প্রবৃত্তি, আবেগ, ক্রোধ, ঐশী জ্ঞানের শিক্ষক'"[৬]
মন্যু মনিয়ু "'রাগ, ক্রোধ'"[৬]
সর্ব হর্ব "'রুদ্র, বৈদিক বাতাসের দেবতা, শিব'"[৮]
মধু মদু "'মধু'"[৬]
ভুত বুইতি "'প্রেত'"[৬]
মন্ত্র মন্থ্র "'পবিত্র জাদুবাক্য'"[৬]
অরমতি অরমইতি "'পুণ্য'"
অমৃত অমেশা "'অমরত্বের নির্যাস'"[৬]
অমৃত স্পন্দ (अमृत स्पन्द) অমেশা স্পেন্তা "'অমরত্বের পবিত্র নির্যাস'"
সুমতি হুমাতা "'শুভ চিন্তা'"[৬][৮]
সুক্ত হুক্ত "'শুভ বাক্য'"[৬]
নরাসংস নইরিয়সঙ্ঘ "'প্রশংসিতমানব'"[৬]
বায়ু বাইইউ "'বাতাস'"[৬]
বজ্র বয্র "'বিদ্যুৎচমক'"[৬]
ঊষা উশাহ "'ভোর'"[৬]
অহুতি অজুইতি "'অঞ্জলি'"[৬]
পুরমধি পুরেন্দি[৬]
ভগ বগ "'"প্রভু, পৃষ্ঠপোষক, সম্পদ, সমৃদ্ধি, ভাগ্যের ভাগীদার / ভাগ্যবান'"[৬]
উসিজ উসিজ "'"পুরোহিত'"[৬]
ত্রিত্ব থ্রিত "'"তৃতীয়'"[৬]
মাস মাহ "'"চাঁদ, মাস'"[৬]
বিবস্বন্ত বিবনহবন্ত "'" জ্বলে ওঠা, প্রভাতী'"[৬]
দ্রুহ দ্রুজ "'"দুরাত্মা'"[৬]


তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Boyce 1984, পৃ. 1।
  2. Boyce 1984, পৃ. 3।
  3. Boyce 1984, পৃ. 2।
  4. Gnoli, Gherardo (মার্চ ২৯, ২০১২)। "INDO-IRANIAN RELIGION"Encyclopædia Iranica। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ১০, ২০১৮ 
  5. Muesse, Mark W. (২০১১)। The Hindu Traditions: A Concise Introduction (ইংরেজি ভাষায়)। Fortress Press। পৃষ্ঠা 30-38। আইএসবিএন 978-1-4514-1400-4। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  6. ড় ঢ় য় কক Griswold, H. D.; Griswold, Hervey De Witt (১৯৭১)। The Religion of the Ṛigveda। Motilal Banarsidass Publishe। পৃষ্ঠা 1-21। আইএসবিএন 978-81-208-0745-7। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২১ 
  7. The Sacred Books of the East: The Zend-Avesta, pt. I (ইংরেজি ভাষায়)। Clarendon Press। ১৮৮০। পৃষ্ঠা LVIII। সংগ্রহের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  8. Muir, John (১৮৭৪)। Original Sanskrit Texts on the Origin and History of the People of India, Their Religion and Institutions (ইংরেজি ভাষায়)। Oricntal Publishers and Distributors। পৃষ্ঠা 224। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  9. Quiles, Carlos; Lopez-Menchero, Fernando (২০০৯)। A Grammar of Modern Indo-European: Language and Culture, Writing System and Phonology, Morphology, Syntax, Texts and Dictionary, Etymology (ইংরেজি ভাষায়)। Indo-European Association। পৃষ্ঠা 741। আইএসবিএন 978-1-4486-8206-5। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  10. Bonar, Horatius (১৮৮৪)। The Life and Work of the Rev. G. Theophilus Dodds: Missionary in Connection with the McAll Mission, France (ইংরেজি ভাষায়)। R. Carter। পৃষ্ঠা 425। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  11. Kainiraka, Sanu (২০১৬)। From Indus to Independence - A Trek Through Indian History: Vol I Prehistory to the Fall of the Mauryas (ইংরেজি ভাষায়)। Vij Books India Pvt Ltd। আইএসবিএন 978-93-85563-14-0। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ 
  12. Kala, Aporva (২০১৫)। Alchemist of the East (ইংরেজি ভাষায়)। Musk Deer Publishing। আইএসবিএন 978-93-84439-66-8। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১