নেপাল জাতীয় ক্রিকেট দল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
নেপাল
নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের লোগো
নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের লোগো
আইসিসি সদস্যপদ অনুমোদন ১৯৮৮
আইসিসি সদস্য মর্যাদা সহযোগী সদস্য (টি২০আই মর্যাদাপ্রাপ্ত)
আইসিসি উন্নয়ন অঞ্চল এশিয়া
বিশ্ব ক্রিকেট লীগ বিভাগ দ্বিতীয়
অধিনায়ক পারস খডকা
কোচ জগৎ তামাতা
আনুষ্ঠানিকভাবে ১ম খেলা ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ ব বাংলাদেশ, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া
টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিক
খেলার সংখ্যা
জয়/পরাজয় ২/২
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট
খেলার সংখ্যা
জয়/পরাজয় ২/০
লিস্ট এ ক্রিকেট
খেলার সংখ্যা ১২
জয়/পরাজয় ৪/৮
টুয়েন্টি২০ ক্রিকেট
খেলার সংখ্যা ২৩
জয়/পরাজয় ১৩/১০
আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব
অংশগ্রহণ ২ (২০০১-এ প্রথম)
সেরা ফলাফল প্রথম রাউন্ড, ২০০১, ২০১৪
আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০
অংশগ্রহণ ১ (২০১৪-এ প্রথম)
সেরা ফলাফল প্রথম রাউন্ড, ২০১৪
২৪ জানুয়ারি,২০১৫ হিসাবে

নেপাল জাতীয় ক্রিকেট দল বা নেপাল ক্রিকেট দল (নেপালি: नेपाली राष्ट्रिय क्रिकेट टिम) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় নেপাল দেশের জাতীয় দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছে। ১৯৯৬ সাল থেকে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)’র সহযোগী সদস্যভূক্ত দেশ। এরপূর্বে ১৯৮৮ সাল থেকে আইসিসি’র অনুমোদনপ্রাপ্ত সদস্য দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করতো।[১] নেপাল ক্রিকেট সংস্থার মাধ্যমে নেপাল দলটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে দলের অধিনায়কত্ব করছেন পরশ খাদকাকোচের দায়িত্ব পালন করছেন জগৎ তামাতা।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রাণা রাজবংশের আমলে নেপালে ক্রিকেট খেলার সূচনা ঘটে। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে তাঁরা দেশে ফিরে ক্রিকেট খেলার ন্যায় রাজকীয় ক্রীড়ার প্রচলন ঘটায়। কেবলমাত্র অভিজাত সম্প্রদায়ের মাঝেই এ খেলা সীমাবদ্ধ রাখা হতো। ১৯৪৬ সালে নেপাল ক্রিকেট সংস্থা গঠিত হয়।[২] ১৯৫১ সালে নেপালী জনগণ রাণা পরিবারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করলে ক্রিকেট খেলা সাধারণ জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬১ সালে নেপাল ক্রিকেট সংস্থা (সিএএন) জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার অংশ হয়। এরফলে ক্রিকেটকে সমগ্র নেপালে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগী ভূমিকা নেয়া হয়। কিন্তু ১৯৮০-এর দশক পর্যন্ত রাজধানী কাঠমান্ডু এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল।[২]

আইসিসি সদস্যপদ[সম্পাদনা]

যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে কাঠমান্ডুর বাইরে ১৯৮০-এর দশকে[২] ক্রিকেট খেলাকে বিস্তৃত করা হয়। ১৯৮৮ সালে নেপাল আইসিসি’র অন্যতম অনুমোদনপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯০-এর শুরুতে আঞ্চলিক ও জেলা প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে বড় ধরণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়গুলোতে ক্রিকেটের প্রসারে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করা হয়।[২]

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং দলীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগের শৈথিল্যসহ আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবী জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ নেপালকে সহযোগী সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[১] একই বছর কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো জাতীয় দল অংশগ্রহণ করে। প্রথম রাউন্ডে ছয় দলের মধ্যে চতুর্থ স্থান দখল করে। ব্রুনাই এবং জাপান তাদের কাছে পরাজিত হয়।[৩]

সাফল্যগাঁথা[সম্পাদনা]

১৯৯৬ সাল থেকে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি প্রতিটি এসিসি ট্রফি,[২] এসিসি টুয়েন্টি২০ কাপ, ২০০১ আইসিসি ট্রফি[৪] এবং দুইটি আইসিসি আন্তঃমহাদেশীয় কাপ[২] প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সাম্প্রতিককালে আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাই পর্বে নেপাল দলের সম্পৃক্ততা রয়েছে। নেপাল বর্তমানে ২০১৩ সালের আইসিসি বিশ্ব ক্রিকেট লীগ ডিভিশন থ্রী প্রতিযোগিতা বিজয়ী। এরফলে তারা নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। ২৭ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে নেপাল ক্রিকেট দল বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এরফলে দলটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রথম বড় ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০[সম্পাদনা]

দলটি ২০১৩ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ বাছাইপর্বে ৩য় স্থান অধিকার করে। এরফলে তারা বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের আইসিসি বিশ্ব টুয়েন্টি২০ প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ১৬ দলের অংশগ্রহণে অন্য দশটি পূর্ণাঙ্গ সদস্যদের সাথে অংশগ্রহণ করে। গ্রুপ-পর্বে নেপাল দল বাংলাদেশ, হংকংআফগানিস্তানের মোকাবেলা করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Nepal at CricketArchive
  2. Encyclopedia of World Cricket by Roy Morgan, Sports Books Publishing, 2007
  3. 1996 ACC Trophy at CricketEurope
  4. 2001 ICC Trophy at Cricinfo

আরও দেখুন[সম্পাদনা]