আলজিয়ার্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আলজিয়ার্স
Algiers

الجزائر (আরবি)   
Dzayer tamaneɣt টেমপ্লেট:Ber icon   
Alger (ফরাসি)
City
Clockwise: Buildings along the Mediterranean coast of Algiers, Martyrs Memorial, Notre Dame d'Afrique, Ketchaoua Mosque, Casbah, the Grand Post Office and the Ministry of Finance of Algeria
Clockwise: Buildings along the Mediterranean coast of Algiers, Martyrs Memorial, Notre Dame d'Afrique, Ketchaoua Mosque, Casbah, the Grand Post Office and the Ministry of Finance of Algeria
Coat of arms of আলজিয়ার্সAlgiers
প্রতীক
নাম: Algiers the White; Algiers the Dazzling
আলজিয়ার্সAlgiers আলজেরিয়া-এ অবস্থিত
আলজিয়ার্সAlgiers
আলজিয়ার্স
Algiers
Location of Algiers within Algeria
স্থানাঙ্ক: ৩৬°৪৬′ উত্তর ৩°১৩′ পূর্ব / ৩৬.৭৬৭° উত্তর ৩.২১৭° পূর্ব / 36.767; 3.217স্থানাঙ্ক: ৩৬°৪৬′ উত্তর ৩°১৩′ পূর্ব / ৩৬.৭৬৭° উত্তর ৩.২১৭° পূর্ব / 36.767; 3.217
Country  আলজেরিয়া
Province Algiers Province
District Algiers District
সরকার
 • Wali (Governor) M. Mohamed Kebir Addou
আয়তন
 • City ৩৬৩ কিমি (১৪০ বর্গমাইল)
 • মেট্রো ১৮০০ কিমি (৭০০ বর্গমাইল)
সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪২৪ মিটার (১৩৯১ ফুট)
সর্বনিন্ম উচ্চতা ২ মিটার (৭ ফুট)
জনসংখ্যা (2011)[১][২]
 • City ৩৪,১৫,৮১১
 • ঘনত্ব ৯৪০০/কিমি (২৪০০০/বর্গমাইল)
 • মেট্রো ৫০,০০,০০০
 • মেট্রোর ঘনত্ব ২৮০০/কিমি (৭২০০/বর্গমাইল)
সময় অঞ্চল CET (ইউটিসি+1)
Postal codes 16000–16132
এলাকা কোড (+213) 021

আলজিয়ার্স (আরবি: الجزائر; ফরাসি ভাষায়: Alger‎) ভূমধ্যসাগরের উপকূলে আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স প্রদেশে অবস্থিত একটি শহর। এটি আলজেরিয়ার বৃহত্তম শহর ও রাজধানী এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার প্রধানতম সমুদ্র বন্দর।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

শহরটি দুইটি অংশে বিভক্ত। অপেক্ষেকৃত নীচু এলাকায় অবস্থিত অংশটি হল আধুনিক শহর। এই অংশটি ফরাসিরা নির্মাণ করে। এখানে প্রশস্ত রাস্তা, নাট্যমঞ্চ, ক্যাথিড্রাল, জাদুঘর, অপেরা হাউস, এবং বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। আলজিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় ও অনেকগুলি ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত। শহরের অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশে প্রাচীন শহর অবস্থিত। এর রাস্তাগুলি সরু ও পেঁচানো। ১৬শ শতকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সময়ে নির্মিত কাসবাহ নামের একটি দুর্গ এখানকার মূল ভবন এবং এই ভবনের নামে গোটা এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আলজিয়ার্সে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে নতুন নতুন শহরতলীর সৃষ্টি হয়। আলজিয়ার্সে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। দেশের রেলপথ ও সড়কপথের অন্যতম একটি কেন্দ্র এই শহর। চমৎকার পোতাশ্রয় এবং কৌশলগত অবস্থানের কারণে আলজিয়ার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর এবং ভূমধ্যসাগরের জাহাজগুলির জন্য একটি প্রধান জ্বালানি পুনঃসরবরাহকরণ স্টেশন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ ফিনিসীয়রা এই স্থানটিতে বসতি স্থাপন করে এবং একটি উপকূলীয় বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলে। পিউনিক যুদ্ধের পরে ইকোসিয়ুম নামে পরিচিত শহরটি ১৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। ৫ম শতকের মধ্যবর্তী সময় পর্যন্ত এটি রোমানদের অধীনে ছিল। এরপর এটি ভান্ডাল নামের জার্মান গোত্রের আক্রমণের শিকার হয়। ভান্ডালদের পরে বাইজেন্টীয়রা কিছুকাল এই শহর শাসন করে। তাদেরকে আবার ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে আরবেরা এসে উৎখাত করে। বর্তমান শহরটি ৯৫০ সালে বার্বার জাতির লোকেরা প্রতিষ্ঠা করে। এর পরে প্রায় ৫ শতক ধরে বিভিন্ন আরব, ইউরোপীয় ও বার্বার সামরিক নেতা শহরটির নিয়ন্ত্রণ লাভ করেন ও হারান। ১৫১০ শতকে স্পেন শহরটি দখল করে এবং পেনিয়োন নামের পোতাশ্রয়ের সম্মুখে অবস্থিত ক্ষুদ্র দ্বীপটিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ১৫১৮ সালে আলজিয়ার্স নিজেকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দাবী করে এবং স্পেনীয়দের হটিয়ে দেয়া হয়। উসমানীয়দের শাসনের সময় এটি পাশ্চাত্যে কুখ্যাত বারবারি জলদস্যুদের রাজধানীতে পরিণত হয়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে বারবারি জলদস্যুরা ইউরোপীয় ও মার্কিন জাহাজের উপর হামলা চালায়। ১৮১৫ সালে মার্কিন নৌ ক্যাপ্টেন স্টেফান ডেকাটুর আলজিয়ার্সের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালান এবং সেখানকার গভর্নরের কাছ থেকে একটি শান্তিচুক্তি আদায় করে নেন। কিন্তু এর পরও দস্যুবৃত্তি চলতে থাকে এবং ওলন্দাজ ও ব্রিটিশ যৌথ নৌবহর ১৮১৬ সালে আক্রমণ চালিয়ে প্রায় সমস্ত আলজেরীয় জাহাজ ধ্বংস করে ফেলে। এরপরও ১৮৩০ সাল পর্যন্ত আলজিয়ার্স একটি জলদস্যু বন্দর ছিল। ঐ বছর ফ্রান্স তার জাহাজগুলির উপর জলদস্যু আক্রমণের প্রতিশোধ হিসেবে প্রথমে আলজিয়ার্স শহর এবং তারপর সমগ্র আলজেরিয়া করায়ত্ত করে। আলজেরিয়া ফ্রান্সের একটি উপনিবেশে পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আলজিয়ার্স উত্তর আফ্রিকাতে মিত্রশক্তি এবং জেনারেল শার্ল দ্য গোলের স্বাধীন ফরাসি সরকারের সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করেছিল। ১৯৬২ সালে আলজেরিয়া স্বাধীনতা লাভ করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Population of the city proper according to the 2008 census"। Citypopulation.de। ১৫ জুন ২০১০-এ মূল থেকে আর্কাইভ। সংগৃহীত ২০১০-০৬-২৭ 
  2. "UN World Urbanization Prospects"। Esa.un.org। সংগৃহীত ২০১০-০৬-২৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]