বিষয়বস্তুতে চলুন

তাবরিজ

তাবরিজ
تبریز
শহর
উপর থেকে ঘড়ির কাঁটার দিকে: শহরের দিগন্তরেখা, আরগ-ই-তাবরিজ, সা'আত টাওয়ার, কবিদের সমাধিসৌধ, নীল মসজিদ, এল-গোলু (শাহ গোলু) ও তাবরিজ বাজার.
ডাকনাম: অগ্রগামীদের শহর
তাবরিজ ইরান-এ অবস্থিত
তাবরিজ
তাবরিজ
স্থানাঙ্ক: ৩৮°০৪′ উত্তর ৪৬°১৮′ পূর্ব / ৩৮.০৬৭° উত্তর ৪৬.৩০০° পূর্ব / 38.067; 46.300
দেশইরান
অঞ্চলঅঞ্চল ৩
প্রদেশপূর্ব আজারবাইজন
শাহরেস্তানতাবরিজ
বখশকেন্দ্রীয় বখশ (তাবরিজ শাহরেস্তান)
সরকার
  মেয়রইয়াঘুব হোসিয়ার
  সিটি কাউন্সিল চেয়ারম্যানরাসুল বার্জি
  পার্লামেন্টআহমেদ আলিরেজাবেগি, জাহরা সাই, হোসেন ফারহাঙ্গি, শাহাবুদ্দিন বেমেগদ্দার, মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ইসমাইল সাইদী
আয়তন
  শহর৩২৫ বর্গকিমি (১২৫ বর্গমাইল)
  পৌর এলাকা৫১২ বর্গকিমি (১৯৮ বর্গমাইল)
  মহানগর১,৫০০ বর্গকিমি (৬০০ বর্গমাইল)
উচ্চতা১,৩৫১.৪ মিটার (৪,৪৩৩.৭ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১৬)
  পৌর এলাকা১৫,৫৮,৬৯৩[]
  মহানগর১৭,৭৩,০২৩[]
  অবস্থান৬ষ্ঠ
বিশেষণতাবরিজিয়ান, তাবরিজলি, তাবরিজি
সময় অঞ্চলইউটিসি+০৩:৩০ (আইআরএসটি), গ্রীষ্মকালীন ইউটিসি+০৪:৩০ (আইআরডিটি)
পোস্ট কোড৫১৩৬৮
এলাকা কোড০৪১
ওয়েবসাইটTabriz municipality

তাবরিজ (ফার্সি: تبریز) পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্র ইরানের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি নগরী। এটি প্রশাসনিকভাবে দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী।[] ভৌগোলিকভাবে শহরটি উর্মিয়া হ্রদের ৬০ কিলোমিটার পূর্বে, সমুদ্র সমতল থেকে ১৩৫০ থেকে ১৬০০ মিটার উচ্চতায়, তিন দিকে পর্বতবেষ্টিত একটি অঞ্চলে, কুরি নদীর উপত্যকাতে অবস্থিত। শহরের পশ্চিমভাগটি একটি সমভূমিতে উন্মুক্ত, যেটি ধীরে ধীরে ঢালু হয়ে উর্মিয়া হ্রদের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৬ সালের জনগণনার অনুযায়ী এখানে ১৭ লক্ষের বেশি অধিবাসী বাস করে, তাই জনসংখ্যার বিচারে এটি ইরানের পঞ্চম বৃহত্তম নগরী। এখানকার জলবায়ু মহাদেশীয় প্রকৃতির। গ্রীষ্মকালগুলি উত্তপ্ত ও শুষ্ক এবং শীতকালে অত্যন্ত ঠাণ্ডা পড়ে। নগরীটি একটি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত যেটিতে ঘনঘন ও তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। ইতিহাসে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পের কারণে তাবরিজ শহরটির ব্যাপক ক্ষতি হয়, যাদের মধ্যে ৭৯১, ৮৫৮, ১০৪১, ১৭২১, ১৭৮০ ও ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের ভূমিকম্পগুলি উল্লেখ্য। প্রত্যেকবারই ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরীকে পুনর্নির্মাণ করা হয়।

তাবরিজ উত্তর-পশ্চিম ইরানের বৃহত্তম শিল্পোৎপাদন, বাণিজ্য ও পরিবহন কেন্দ্র। এখানে মূলত গালিচা, বস্ত্র, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, পাদুকা, সিমেন্ট, কৃষিযন্ত্র, মোটরযান, খনিজ তেল পরিশোধন, খনিজ তেলজাত রাসায়নিক দ্রব্য, গৃহস্থালি বৈদ্যুতিক উপকরণ ও সাবান উৎপাদন করা হয়। শহরটি এর হস্তশিল্পগুলির জন্য, বিশেষ করে হাতে বোনা মাদুর ও গহনার জন্য বিখ্যাত। তাবরিজের মিষ্টান্ন, চকোলেট, শুকানো বাদাম ও ঐতিহ্যবাহী তাবরিজি রান্না সারা ইরানে উৎকৃষ্ট মানের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। শহরটি রেলপথের মাধ্যমে ইরানের রাজধানী তেহরন ও উত্তরের অঞ্চলগুলির সাথে সংযুক্ত। এখানে একটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরও আছে।

তাবরিজে মূলত আজারবাইজানি নৃগোষ্ঠীর লোকদের বাস, যাদের মাতৃভাষা আজারবাইজানি। তবে এখানকার অধিবাসীরা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ফার্সি ভাষায় স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারে।

তাবরিজে বহুসংখ্যক ঐতিহাসিক ভবন ও স্থাপনা বিদ্যমান, যেগুলি ইরানের প্রাচীন ইতিহাস জুড়ে দেশটির স্থাপত্যের বিবর্তনের সাক্ষী। এগুলির সিংহভাগই ইলখানীয়, সাফাভীয় ও কাজার রাজবংশের সাথে সম্পর্কিত। তাবরিজের বড় বাজারটিকে একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আরও আছে ১৫শ শতকে (১৪৬৫-১৪৬৬ খ্রিস্টাব্দে) নির্মিত একটি সুদৃশ্য নীল রঙের টালি দিয়ে তৈরি মসজিদ, যার নাম মাসজেদ-এ কাবুদ। ১৪শ শতকে (১৩২২ খ্রিস্টাব্দে) একটি পুরাতন ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের স্থানে নির্মিত নগরদুর্গটি তার সরল নকশা, আয়তন ও চমৎকার অবস্থায় সংরক্ষিত ইটের কাজের জন্য দর্শনীয়। আরও আছে ইরানের মঙ্গোল রাজবংশীয় শাসক মাহমুদ গাজানের ১২টি পার্শ্ববিশিষ্ট সমাধি। নতুন ভবনগুলির মধ্যে রেলস্টেশন ও ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তাবরিজ বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখ্য। শহরের কাছেই একটি গ্রীষ্মকালীন অবকাশযাপন কেন্দ্র অবস্থিত। ২০১৫ সালে বিশ্ব কারুকলা পরিষদ তাবরিজকে বিশ্ব গালিচা বয়ন নগরী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৮ সালে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা এটিকে একটি দৃষ্টান্তমূলক পর্যটক নগরী মর্যাদায় ভূষিত করে।

বর্তমান তাবরিজ নগরীটি যেখানে অবস্থিত, সেখানে একটি প্রাচীন বসতি ছিল, যার নাম তাউরিস। তাউরিস একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। এটি দিগ্বিজয়ী গ্রিক রাজার আলেকজান্ডারের এক সামরিক প্রশাসক আত্রোপাতেসের দ্বারা শাসিত আত্রোপাতেনে রাজ্যের রাজধানী ছিল।। খ্রিস্টীয় ৩য় শতকে এটি আর্মেনিয়ার রাজধানীতে পরিণত হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে শহরটি বহিরাগত শক্তি যেমন সেলজুক তুর্কি জাতি, মঙ্গোল জাতি, উসমানীয় তুর্কি জাতি ও রুশ জাতির আক্রমণের শিকার হয়েছে। ১৩শ শতকের শেষে এসে তাবরিজ মঙ্গোল রাজবংশ ইল-খান এর শাসক মাহমুদ গাজান ও তার উত্তরসূরীর রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৪শ শতকের শেষে ১৩৯২ সালে তুর্কি দিগ্বিজয়ী তৈমুর লং শহরটি দখল করেন। এর কয়েক দশক পরে কারা কৈউনলু নামের তুর্কমেন জাতির লোকেরা তাবরিজকে তাদের রাজধানী বানায়। তুর্কমেনদের অধীনে নীল মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। সাফাভিদ রাজবংশের শাসনামলে ১৫৪৮ সাল পর্যন্ত তাবরিজ তার প্রশাসনিক মর্যাদা বজায় রাখে। ঐ বছর শহ (রাজা) ১ম তাহমস্প তাঁর রাজধানী পশ্চিমে সরিয়ে কাজভিনে নিয়ে যান। এর পরের দুইশত বছর তাবরিজ ইরান ও তুরস্কের মধ্য বেশ কয়েকবার হাতবদল হয়। আধুনিক যুগের শুরুর দিকে তাবরিক ককেসাস, পূর্ব আনাতোলিয়া ও কেন্দ্রীয় ইরান এই তিনটি অঞ্চলের বিকাশে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। আধুনিক যুগে এটি ইরানের ইতিহাসে অতি-গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইরানি বড় নগরীগুলির মধ্যে তাবরিজ পাশ্চাত্যের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত, তাই ইরানের আধুনিকীকরণের বহু দিক তাবরিজ দিয়েই শুরু হয়। ১৮২৭ থেকে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রুশ সেনারা শহরটি দখল করে রেখেছিল। ১৯শ শতকের প্রথমার্ধে দুইটি পারস্য-রুশ যুদ্ধের ফলে কাজার রাজারা তাদের ককেসীয় অঞ্চলগুলি রুশদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। তার আগে তাবরিজ গোটা ইরানি ককেসাস অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল। ১৮৫০-এর দশকে বাহাই ধর্মবিশ্বাসের অগ্রদূত ইসলাম থেকে উৎসারিত ববী ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা বব ও তার হাজার হাজার অনুসারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯০৮ সালে তাবরিজ একটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ১ম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি ও সোভিয়েত সেনারা সাময়িকভাবে তাবরিজ দখল করে রাখে। ১৯২৫ সালে পর্যন্ত শহরটি কাজার রাজাদের আবাসস্থল ছিল। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় আবার শহরটি বিদেশী শক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল; এসময় মিত্রশক্তির দেশগুলি ইরান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নে সামরিক যোগানের রাস্তাটি সুরক্ষিত রাখার জন্য এই কাজটি করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন এখানে তার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করে এবং ১৯৪৬ সালে এটি একটি বামপন্থী বিপ্লবী আন্দোলনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। তাবরিজ এসময় আজারবাইজানের একটি স্বশাসিত অঞ্চলের রাজধানীতে পরিণত হয়। ১৯৪৬ সালের মার্চ মাসে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ইরান একটি চুক্তি করে যাতে যৌথ-মূলধন খনিজ তেল কোম্পানি সৃষ্টির বিনিময়ে সোভিয়েত সেনারা তাবরিজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। ২০শ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে শহরটির আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হয়। প্রশস্ত সড়ক, ভবন, ফোয়ারা ও জলাধারসহ গণউদ্যান, ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়। ২১শ শতকে এসেও তাবরিজ ইরানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

প্রাচীন যুগ

[সম্পাদনা]

আরব বিজয়

[সম্পাদনা]

মধ্যযুগ

[সম্পাদনা]

আধুনিক কাল

[সম্পাদনা]

প্রশাসনিক বিভাগ

[সম্পাদনা]

দর্শনীয় স্থান

[সম্পাদনা]

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

[সম্পাদনা]

বিখ্যাত সুফি দার্শনিক শামস্ তাব্রিজী (রহ:)।(মাওলানা জালালউদ্দিন রুমির আধ্যাত্মিক দীক্ষা গুরু)

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Statistical Center of Iran > Home"
  2. "Major Agglomerations of the World - Population Statistics and Maps"citypopulation.de। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  3. "جمعیت شهرهای ایران بر اساس سرشماری سال 1390"। Iramozesh.com। ১১ নভেম্বর ২০১২। ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩