দ্বিতীয় সেলিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
দ্বিতীয় সেলিম
II Selim.jpg
উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাহেনশাহ
রাজত্ব ৭ই সেপ্টেম্বর ১৫৬৬১২ই/১৫ই ডিসেম্বর ১৫৭৪
পূর্বসূরী উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাহেনশাহ প্রথম সুলাইমান
উত্তরসূরী উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাহেনশাহ তৃতীয় মুরাদ
দাম্পত্য সঙ্গী নূরবানু সুলতান
সেলিমিয়া সুলতান
রাজবংশ উসমানীয় রাজবংশ
পিতা উসমানীয় সাম্রাজ্যের শাহেনশাহ প্রথম সুলাইমান
মাতা হুররেম সুলতান (রোক্সেলানা)
স্বাক্ষর

দ্বিতীয় সেলিম (উসমানীয় তুর্কি ভাষায়: سليم ثانى) (২৮শে মে ১৫২৪১২ই/১৫ই ডিসেম্বর ১৫৭৪)ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান, যিনি ১৫৬৬ সাল থেকে ১৫৭৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্য শাসন করেন। তিনি ১৫২৪ খ্রিস্টাব্দে ইস্তানবুলে জন্মগ্রহন করেন। তিনি সুলতান সুলেমান এবং হাসেকী হুররাম সুলতানের পুত্র ছিলেন।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

শাষনকাল[সম্পাদনা]

সিংহাসনে আরোহন[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় সেলিম সাধারণত মানুষের কাছে 'স্বর্ণকেশী সেলিম' নামে পরিচিত ছিলেন।

১৫৬৬ খৃষ্টাব্দে প্রথম সুলাইমানের ইন্তিকালের পর তাঁর পুত্র দ্বিতীয় সেলিম কনস্ট্যান্টিনোপলের মসনদে বসেন। সেলিমের সিংহাসন আরোহনের মাধ্যমে এশিয়া এবং ইউরোপ জুড়ে শান্তি নেমে আসে। তার শাষনামল থেকেই উসমানীয় খিলাফত আধুনিক হওয়া শুরু করে।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় সেলিম খুবই ধার্মিক, দয়ালু এবং নরম মনের মানুষ ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাকে খুবই ভালোবাসতো। তিনি ছিলেন একজন কবি এবং সাহিত্য প্রেমিক। তিনি শাষন কাজে কম আগ্রহী ছিলেন। ফলে, তিনি তার উজিরে আজম সোকল্লু মেহমেদ পাশাকে সাম্রাজ্য পরিচালনার ক্ষমতা দিয়েছিলেন।

সামরিক অভিযান[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় সেলিম এই প্রথম উসমানীয়া খলিফা যে কখনো নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তবে তাঁর উজিরে আযম সোকল্লু মেহমেদ বহু অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগে উসমানী সৈন্যরা বহু সামরিক অভিযানে বের হয়। ক্রীটস দ্বীপ জয়, আরব ও ইয়ামান পুনর্দখল এবং তিউনিসিয়া জয় দ্বিতীয় সেলিমের শাসনকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

১৫৭১ খৃষ্টাব্দে সেনাপতি লালা মুস্তাফা এবং বেলার বেগ ভেনিসের সেনাপতি ব্রাগাডিনোকে পরাজিত করে সাইপ্রাস জয় করেন।

১৫৭১ খৃষ্টাব্দে ভেনিসের প্ররোচনায় স্পেনরাজ, রোমের পোপ, স্যভয়ের ডিউক এবং মাল্টার নাইট মিলে অষ্ট্রিয়ার নৌ-সেনাপতি ডন জুয়ানের নেতৃত্বে লেপান্টো উপসাগরে উসমানী খিলাফাতের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। নৌ-সেনাপতি কাপুদান পাশা নিহত হলে উসমানী বাহিনী বিশৃংখল হয়ে পড়ে এবং পরাজয় বরণ করে।

ইতিপূর্বে তিউনিস উসমানী খিলাফাতের অধীনে ছিল। লেপান্টো যুদ্ধের বিপর্যয়ের পর অষ্ট্রিয়ার নৌ-সেনাপতি ডোন জুয়ান স্পেনের সাহায্য নিয়ে তিউনিস দখল করেন। ১৫৭৪ খৃষ্টাব্দে মুসলিম নৌ-সেনাপতি উলুজ আলীর নেতৃত্বে মুসলিমগণ তিউনিস পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

১৫৭৪ খৃষ্টাব্দে উসমানী সৈন্যদের দ্বারা তিউনিস পুনরুদ্ধার হয়।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

সেলিমের একমাত্র বিবাহিত স্ত্রী এবং হাসেকী সুলতান ছিলেন নুরবানু সুলতান। এছাড়া তার সন্তানদের মা হিসেবে উপপত্নী সেলিমিয়া সুলতানের নাম জানা যায়।

ছেলেঃ
  • সুলতান তৃতীয় মুরাদ
  • শাহজাদা মেহমেদ
  • শাহজাদা আব্দুল্লাহ
  • শাহজাদা জাহাঙ্গীর
  • শাহজাদা মুস্তাফা
  • শাহজাদা উসমান
  • শাহজাদা সুলাইমান
কন্যাঃ
  • ইস্মিহান সুলতান
  • গেভারহান সুলতান
  • শাহ সুলতান
  • ফাতমা সুলতান
  • আয়শা সুলতান

মৃত্যু[সম্পাদনা]

আট বছর শাষন করার পর তিনি ১৫ই ডিসেম্বর, ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ইস্তানবুলে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

তাকে হাজিয়া সোফিয়া মসজিদে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুর পর তার প্রথম সন্তান শাহজাদা মুরাদ সুলতান তৃতীয় মুরাদ হিসেবে সিংহাসনে আরোহন করেন।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]