কাতিপ চেলেবি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাতিপ চেলেবি
Map of the Indian Ocean and the China Sea was engraved in 1728 by Ibrahim Müteferrika.jpg
১৭২৮ সালে হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত উসমানীয় মানচিত্রবিদ ও প্রকাশক ইবরাহিম মুতেফেরিকা কর্তৃক অঙ্কিত ভারত মহাসাগরচীন সাগরের মানচিত্র। এটি কাতিপ চেলেবে বৈশ্বিক ভূগোল-এ চিত্রিত সিরিজের অন্যতম। মানচিত্র ও অঙ্কন নিয়ে এটি মুসলিম বিশ্বের প্রথম ছাপা গ্রন্থ।
জন্ম
মুস্তাফা বিন আবদুল্লাহ[১]

ফেব্রুয়ারি ১৬০৯
মৃত্যু১৬ সেপ্টেম্বর ১৬৫৭
কনস্টান্টিনোপল, উসমানীয় সাম্রাজ্য
অন্য নামহাজি কালফা, হাজি খলিফা
পেশাইতিবাসবিদ, ভূগোলবিদ

কাতিপ চেলেবি (তুর্কী: Hacı Halife), জন্মনাম মুস্তাফা বিন আবদুল্লাহ, পরবর্তীতে হাজি খলিফা বা কালফা নামে পরিচিত হন) (১৬০৯-১৬৫৭)[২][৩] ছিলেন একজন উসমানীয় পণ্ডিত, ইতিহাসবিদ ও ভূগোলবিদ। ১৭শ শতাব্দীতে উসমানীয় সাম্রাজ্যে বৈজ্ঞানিক লেখালেখির ক্ষেত্রে তাকে অন্যতম প্রধান বিবেচনা করা হয়।[২]

জীবনী[সম্পাদনা]

কাতিপ চেলেবি কনস্টান্টিনোপলে জন্মগ্রহণ করেন, এসময় তার নাম ছিল মুস্তাফা বিন আবদুল্লাহ।[২] পাঁচ বা ছয় বছর বয়সে তিনি পড়ালেখা শুরু করেন। চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি সাম্রাজ্যের রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ দেন।[৪] উসমানীয় সেনাবাহিনীর রসদ বিভাগের হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি ১৬২৪ সালে আবাজা মুহাম্মদ পাশার বিদ্রোহ দমনের সময় সেনাবাহিনীর সাথে যোগ দিয়েছিলেন।[৫] এছাড়াও তিনি ১৬২৩-১৬৩৯ সালের উসমানীয়-সাফাভি যুদ্ধের সময়ও সেনাবাহিনীর সাথে অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৬২৫ সালের বাগদাদ অভিযান ও এরজুরুম অবরোধ। ১৬২৮ সালে তিনি কনস্টান্টিনোপল ফিরে আসেন। পরের বছর তিনি পুনরায় বাগদাদ এবং হামাদান যান। ১৬৩৩-৩৪ সালে তিনি আলেপ্পো ছিলেন। এরপর তিনি হজের জন্য মক্কা সফর করেন। এরপরের বছর তিনি এরিভান হয়ে কনস্টান্টিনোপল ফিরে আসেন। এখানে তিনি রসদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বলাভ করেন। ১৬৪৫ সালে উত্তরাধিকারের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদের ফলে তিনি রাজধানীতে সচ্ছলভাবে বসবাস করতে সক্ষম হন এবং জ্ঞানসাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।[৫] কাতিপ চেলেবি ১৬৫৭ সালে মারা যান।[৫]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

তার অধিকাংশ গ্রন্থ ১৬৪৮ থেকে ১৬৫৭ সালের মধ্যে লেখা হয়েছে।[৫] তার সবচেয়ে খ্যাত রচনাকর্মের মধ্যে রয়েছে কাশফ আল-জুনুন আন আসামি আল-কুতুব ওয়াল-ফুনুন, (كشف الظنون عن أسامي الكتب والفنون)। এটি আরবি ভাষায় লিখিত গ্রন্থ সম্পর্কিত বিশ্বকোষ। এতে বর্ণানুক্রমে ১৪,৫০০ বইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।[৬][৭][৮]

তার আরেকটি সংক্ষিপ্ত রচনাকর্ম হল মিজান আল-হক ফি ইখতিয়ার আল-হক (ميزان الحق في اختيار الأحق)। এতে ইসলামি আইন, নৈতিকতা ও ধর্মতত্ত্বের উপর প্রবন্ধ রয়েছে। এতে তিনি ধূমপানকে অরুচিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। জেফ্রে লুইস কর্তৃক দ্য ব্যালেন্স অব ট্রুথ নামে এই গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।[৯]

দ্বিতীয় উসমানের হত্যার বর্ণনা[সম্পাদনা]

কাতিপ চেলেবি সুলতান দ্বিতীয় উসমানের হত্যার সাক্ষী ছিলেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ফেজলেকেতে দ্বিতীয় উসমানের হত্যাকান্ডের সবচেয়ে বেশি পূর্ণাং‌গ বিবরণ দিয়েছেন।[১০]

স্মরণ[সম্পাদনা]

ইজমিরের ইজমির কাতিপ চেলেবি বিশ্ববিদ্যালয় তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।[১১] এছাড়াও নিউটন-কাতিপ চেলেবি ফান্ড নামে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের মধ্যে বিজ্ঞান ও আবিষ্কার বিনিময় কর্মসূচি চালু রয়েছে।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Mathias Bernath; Felix von Schroeder (১৯৭৯)। Biographisches Lexikon zur Geschichte Südosteuropas। Oldenbourg Verlag। পৃষ্ঠা 270। আইএসবিএন 978-3-486-48991-0Mustafa bin 'Abdullah (= Mustafa Sohn des Abdullah, gewöhnlich Katib oder Haci Halife genannt) 
  2. Piterberg (2003), p. 46
  3. Shefer-Mossensohn (2015), pp. 64-65
  4. Shefer-Mossensohn (2015), pp. 65
  5. Piterberg (2003), p. 47
  6. Bekir Karliga, "The Horizon of Katip Celebi's Thought" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৯ অক্টোবর ২০১২ তারিখে in the MuslimHeritage.com
  7. Ruveyda Ozturk, Salim Ayduz, "A Jewel of Ottoman Naval History: The Book of Kâtip Çelebi on Naval Campaigns" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে in the MuslimHeritage.com
  8. "Ottoman Maritime Arsenals And Shipbuilding Technology In The 16th And 17th Centuries" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে in the MuslimHeritage.com
  9. Kâtip Çelebi (১৯৫৭)। The Balance of Truth। London।  Translated with an introduction and notes by G. L. Lewis.
  10. Ahmet Refik, Kâtip Çelebi, Kanaat Kütüphanesi, pages 41-42, 1932.
  11. "İzmir Kâtip Çelebi Üniversitesi"। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৫ 
  12. "Newton-Katip Çelebi Fund - British Council"। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০১৫ 

উৎস[সম্পাদনা]

Attribution
  •  এই নিবন্ধটি একটি প্রকাশন থেকে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্য যা বর্তমানে পাবলিক ডোমেইনেGriffithes Wheeler Thatcher (১৯১১)। "Hājjī Khalīfa"। চিসাম, হিউ। ব্রিটিশ বিশ্বকোষ (১১তম সংস্করণ)। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। [[বিষয়শ্রেণী:উইকিসংকলনের তথ্যসূত্রসহ ১৯১১ সালের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা থেকে উইকিপিডিয়া নিবন্ধসমূহে একটি উদ্ধৃতি একত্রিত করা হয়েছে]]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]