মুল্লা আলী আল-ক্বারী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

আলী ইবন সুলতান মুহাম্মাদ আল-ক্বারী[১][২] (আরবি: ملا علي القاري‎‎; পূর্ণ নামঃ নুরুদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন সুলতান মুহাম্মদ আল-হারাবী আল-ক্বারী; ৯৩০–১০১৬[৩]), যিনি মোল্লা আলী আল-ক্বারী নামে বেশি পরিচিত,[৩] ছিলেন হানাফি মাযহাবের একজন ধর্মীয় পণ্ডিত এবং উসমানীয় যুগে আরবি ভাষায় অন্যতম জনপ্রিয় লেখক।[৪] এছাড়াও হাদিস, ফিকহ, আইনবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ, আরবি ভাষাতাসাউফের অন্যতম ইমাম হিসেবে তিনি বিবেচিত।[১] তিনি একজন হাফিজ (কুরআনের মুখস্থকারী) এবং বিখ্যাত হস্তলিপিশিল্পী ছিলেন, যিনি প্রতি বছরে নিজের হাতে একটি করে কুরআন লিখতেন।

জন্ম[সম্পাদনা]

মুল্লা আলী ক্বারী-এর একাধিক জীবনী সংক্রান্ত তথ্যে জন্ম তারিখ অনুল্লেখ থাকলেও তার জন্মস্থান সম্পর্কে জানা যায় যে, তার জন্মগত দেশ ছিল খোরাসান-এর হেরাত শহরে। আর এই খুরাসানের বর্তমান নাম হল আফগানিস্তান। অতএব বলা যায় উত্তর-পশ্চিম আফগানিস্তানের হারিরুদ নদীর উপর অবস্থিত শহর 'হেরত' প্রদেশের রাজধানী হেরাত শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

শিক্ষার্জন[সম্পাদনা]

স্বীয় জন্মস্থানেই তিনি তাঁর প্রাথমিক ইসলামী শিক্ষা লাভ করেছিলেন। এরপরে জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি মক্কাতুল মুকাররমাহ ভ্রমণ করেন এবং পণ্ডিত শায়খ আহমদ ইবনে হাজার আল-হাইতামি মক্কির অধীনে অধ্যয়ন করেন এবং তিনি শেষ পর্যন্ত মক্কাতুল মুকাররমায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে তিনি অধ্যায়নের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যুতপত্তি অর্জন করেন।

কুরআনিক ক্যালিগ্রাফি[সম্পাদনা]

মুল্লা আলী ক্বারী সুন্দর হস্তাক্ষারের অধিকারী ছিলেন। তার হাতের লেখা সুন্দর ছিল। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য চর্চা আর অধ্যবসায়ের ফলে তিনি একজন স্মরণযোগ্য ক্যালিগ্রাফার হয়ে ওঠেন। তার এ ক্যালিগ্রাফি ছিল কুরআন ভিত্তিক অর্থাৎ এ ছিল 'কুরআনিক ক্যালিগ্রাফি'। এতে খ্যাতি অর্জন করেন। তার এ ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে নিজের জন্য জীবিকা নির্বাহ করতেন। যা দিয়ে অসচ্চলদেরকেও তিনি সাহায্য সহযোগিতা করতেন।

রচনাবলি[সম্পাদনা]

আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী বিভিন্ন খণ্ডে মিশকাতুল মাসাবিহ-এর ব্যখ্যাগ্রন্থ আল-মিরকাত, রচনা করেন। তিনি ইমাম কাজী আয়াজ-এর বিখ্যাত আশ শিফা গ্রন্থটির ভাষ্য লিখেন। এছাড়া ইমাম তিরমিজির শামাইল-এর উপরও ভাষ্য লিখেছিলেন তিনি। তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় রচনা হ'ল হিজবুল আজম নামে কুরআন ও হাদিস থেকে সংগৃহীত দুআ সমুহের একটি সংকলন বই। এটি সপ্তাহে প্রতিটি দিনের জন্য একটি করে অধ্যায় দিয়ে সাজিয়ে মোট সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত করে সন্নিবেশিত করা হয়েছে। তার এই দুআর বইটি মাঝে মধ্যে দালাইলুল খাইরাত-এর সাথে সংযোজিত পাওয়া যায়।

মৃত্যু[সম্পাদনা]

তিনি ১০১৪ হিজরির শাওয়াল মাসে পবিত্র মক্কা নগরীতে মৃত্যু বরণ করেন। তাকে 'জান্নাতুল মুয়াল্লা'র মধ্যে দাফন করা হয়। মুল্লা আলী ক্বারীর মৃত্যু সংবাদ মিশরের উলামায়ে কেরামদের কাছে যখন পৌছে, তখন তারা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে তার গায়েবানা জানাযা পড়েন। তার এই গায়েবানা জানাযায় প্রায় চার হাজারের মত লোক অংশ গ্রহণ করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Mulla 'Ali al-Qari - White Thread Press" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-১৫ 
  2. "শাইখ ফকীহ মোল্লা আলী আল-ক্বারী (রহঃ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী - ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব"islamqa.info। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-১৫ 
  3. "মুসলিম জাতির গৌরব ইমাম মালিক ও মোল্লা আলী কারী"www.jagonews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-১১-১৫ 
  4. Franke, Patrick (২০১৪-০৯-০১)। "ʿAlī al-Qārī"অর্থের বিনিময়ে সদস্যতা প্রয়োজনEncyclopaedia of Islam, THREE (ইংরেজি ভাষায়)। Brill। 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]