ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুরের লোগো.svg
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর এর লোগো
ধরনবেসরকারি স্কুল ও কলেজ
স্থাপিত১৯৭৮
অধ্যক্ষকর্নেল কাজি শামীম হাছান, পিএসসি
ঠিকানা
রংপুর সেনানিবাস
, ,
শিক্ষাঙ্গনসেনানিবাসে
সংক্ষিপ্ত নামC.P.S.C.R.
অধিভুক্তিমাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর
ওয়েবসাইটcpscr.edu.bd

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর এর অধীনে পরিচালিত একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এবং রংপুর নগরের শহীদ মুখতার এলাহী চত্ত্বরের পশ্চিম পাশে রংপুর সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয় এবং বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হিসেবে সাধারণত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের সূচনা হয় ১৯৭৭ সালে বিগ্রেডিয়ার এম এ লতিফের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রংপুর ক্যান্টনমেন্টের অফিসারদের এবং ঐ এলাকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষার সুবিধার্থে। এখানে বিদ্যালয় শাখা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে, মহাবিদ্যালয় শুরু হয় ১৯৮১ সালে এবং ডিগ্রি পর্যায়ের শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। ইংরেজি মাধ্যমটি “দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ” নামে নামকরিত হয়ে একই অধ্যক্ষের আধীনে ২০১০ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর এটির জন্য আলাদা একজন অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার জাতীয় পর্যায়ে, আন্তঃ-ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল- কলেজ পর্যায়ে এবং বোর্ড পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

শিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদানের মাধ্যমে এটি ১৯৭৮ সালে এর যাত্রা শুরু করে। পরে, ১৯৮০ সালে এটি দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাদান শুরু করে এবং ১৯৮২ সালে শিক্ষার্থীরা এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শুরু করে। “দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ” টি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৯৫ সালে এতে ডিগ্রি পর্যায়ের সূচনা হয়। স্কুল, কলেজ শাখাগুলো দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে এস এস সি এবং এইচ এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ডিগ্রি লেভেলের পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে "জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়" এর অধীনে।

অবস্থান[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টির অবস্থান দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হতে আধা কিলোমিটার দূরে। এটি রংপুর নগরের ধাপ এলাকায় রংপুর সেনানিবাস সংলগ্নরূপে অবস্থিত। এর দুই দিকে রয়েছে মনোরম রংপুর গলফ ক্লাব। এর পূর্ব দিকে রয়েছে শহীদ মুখতার ইলাহী চত্তর তথা মেডিকেল মোড় এবং উত্তরাংশে রয়েছে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার। এর দক্ষিণে রয়েছে দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রংপুর আর্মি মেডিকেল কলেজ।

ক্যাম্পাস[সম্পাদনা]

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ভবনসমূহ।

বিদ্যালয়টি্র শিক্ষা কার্যক্রম মূলত দুইটি ভবন-কমপ্লেক্সে বিভক্ত। আয়তাকৃতির বিস্তীর্ণ মূল কমপ্লেক্সটিতে দুইটি পরস্পর সংযুক্ত ভবন রয়েছে। পশ্চিমভাগে বহুতল কলেজ ভবন ও পূর্বভাগে দ্বিতল স্কুল ভবনদ্বয় মুখোমুখি এমনভাবে সংযুক্ত যেন পুরো কমপ্লেক্সটিকেই আয়তাকৃতির দেখা যায়। এর মাঝে একটি খোলা মাঠ রয়েছে যা বিদ্যালয়ের মূল প্রাঙ্গণ ও এই মাঠের পশ্চিমাংশে থাকা উন্মুক্ত মঞ্চের দর্শক ধারনের কাজ করে থাকে। পুরো কমপ্লেক্সজুড়েই রয়েছে শিক্ষকদের চেম্বার ও শ্রেণীকক্ষ। এছাড়া স্কুল ভবনে বিদ্যালয়ের জরুরী অফিস সেকশন, অধ্যক্ষের কার্যালয় এবং স্কুল অংশের ল্যাবরেটরি রয়েছে। আর কলেজ ভবনে গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ল্যাবসমূহ, কলেজ সেকশনের বৈজ্ঞানিক ল্যাবসমূহ, শিক্ষকদের লাউঞ্জ, উপাধ্যক্ষ্যের কার্যালয় ও কয়েকটি বৃহৎ মিলনায়তন রয়েছে। ক্যাম্পাসের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে রয়েছে কেজি সেকশনের ভবন যেখানে মূলত প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলে। এর পাশে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রতিষ্ঠান "প্রয়াস"। প্রাঙ্গণের একাংশে রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মিলনায়তন যা অভ্যন্তরে সুদৃশ্য ম্যুরালদ্বারা অলংকৃত। যদিও সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ২য় প্রবেশ মুখের কাছে একটি নতুন, আধুনিক ও দর্শনীয় মিলনায়তন নির্মাণ করা হয়েছে।

সুবিধা[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের যুগপোযোগী শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি, শারীরিক, মানষিক এবং চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের পাশাপাশি দুইটি কম্পিউটার ল্যাব, এবং বিজ্ঞান বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত অন্যান্য ল্যাবরেটরি সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবল ও বাস্কেটবল খেলার প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে একটি মসজিদ, দুইটি পার্ক, ব্যাংক, ক্যান্টিন, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, উন্মুক্ত মঞ্চ, শহীদ মিনার, অভিভাবক শেডস ইত্যাদি। এর উত্তরাংশের সীমানা জুড়ে রয়েছে শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা। বিদ্যালয়টি অনাবাসিক।

সহশিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়টিতে সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। বিদ্যালয়ে সকল সহশিক্ষা কার্যক্রম মূলত হাউজ কেন্দ্রিক এবং অন্যান্য সকল শিক্ষা কার্যক্রম শ্রেনি ও শাখাভিত্তিক। বিদ্যালয়টিতে অনাবাসিক তিনটি হাউজ রয়েছে- যমুনা হাউজ, পদ্মা হাউজ ও তিস্তা হাউজ। বিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্রিকেট, ফুটবল, হ্যান্ডবল ও বাস্কেটবল দল রয়েছে। হ্যান্ডবল এই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। এছাড়াও এই বিদ্যালয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন দিবসে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এখানে নিয়মিত একটি দেয়ালচিত্র প্রতিযোগতা ও প্রদর্শনী আয়োজিত হয়। এখানে নিয়মিত একটি বাৎসরিক বিজ্ঞানমেলারও আয়োজন করা হয়। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং সশস্ত্র বাহিনী দিবসে এখানে সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে নিয়মিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উভয়েরই মধ্যে পৃথক ক্রিকেট ও ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়।

তবে সবথেকে বড় পরিসরে আয়োজিত হয় বিদ্যালয়ের বিখ্যাত বাৎসরিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম যা প্রায় সপ্তাহব্যাপী চলে। বিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমের সবথেকে বড় অনুষঙ্গ এই অনুষ্ঠানটি। প্রায় সারা বছর বিভিন্ন শিক্ষাকার্যক্রমে ব্যাস্ত থাকলেও এই সময়ে প্রায় সব শিক্ষার্থীই নিজস্ব হাউজের পক্ষে নানা ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশ নেয়। বিভিন্ন রকমের ফিল্ড অ্যাথলেটিক্স, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, এবং সর্বোপরি হাউসগুলোর মধ্যেকার প্রতিযোগিতা এর মূল আকর্ষণ। তিস্তাতরঙ্গ এই বিদ্যালয়ের একটি বার্ষিক প্রকাশনা সাময়িকী। এটি বঙ্গাব্দের হিসেবে প্রকাশিত হয়। সিপিএসসিআর ডিবেটিং ক্লাব বিদ্যালয়ের একটি বিশিষ্ট বিতর্কসংগঠন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সংঠনের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কর্পস, রোভার স্কাউট, বয়জ স্কাউট ও গার্লস গাইড।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]