কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ
স্যাপার কলেজ
140
স্যাপার কলেজের লোগো
নীতিবাক্যকথা নয় কাজ এবং এসো শিক্ষাব্রতে যাও সবার তরে
ধরনক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ন্ত্রিত
স্থাপিত১৯৯৫ (1995)
ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক
স্টেশন কমান্ডার ও কমান্ড্যান্ট, ইসিএসএমই, কাদিরাবাদ সেনানিবাস
অধ্যক্ষপ্রফেসর মোঃ আবদুল্লাহ
পরিচালকস্টেশন স্টাফ অফিসার, কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট, নাটোর
শিক্ষার্থী১২০০ জন
অবস্থান
দয়ারামপুর, নাটোর
,
সংক্ষিপ্ত নামস্যাপার কলেজ

কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের একটি ঐতিহ্যবাহী বেসরকারী কলেজ। এই কলেজটি কাদিরাবাদ সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত।

অবস্থান[সম্পাদনা]

নাটোর জেলা তথা উত্তরবঙ্গের গৌরব উত্তরা গণভবন থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম, আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছয় কিলোমিটার এবং রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান বনপাড়া থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে,দয়ারামপুর ইউনিয়ন পরিষদে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজের অবস্থান।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৯৮৩ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স কোরের লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আবদুল কাদির এর নামানুসারে এই সেনানিবাসের নামকরণ করা হয় কাদিরাবাদ সেনানিবাস। সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পরে ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী "কোর অফ ইঞ্জিনিয়ার্স" এর সদস্যদের বিশেষ উপাধি "স্যাপার" শব্দ নিয়ে ব্রিগেডিয়ার এম. মফিজুর রহমান কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। "কথা নয় কাজ এবং এসো শিক্ষাব্রতে যাও সবার তরে" মনোগ্রাম নিয়ে কলেজটি তার যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় এ কলেজটি অধিগ্রহণ করে পরিচালনার দায়িত্ব কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এর উপর ন্যাস্ত করে। সম্পুর্ণ গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠা কলেজটি উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হবার গৌরব অর্জন করেছে।

কোর্সসমূহ[সম্পাদনা]

এই কলেজে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কোর্স চালু আছে।

একাডেমিক কার্যক্রম[সম্পাদনা]

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি[সম্পাদনা]

মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী একাদশ শ্রেণীতে প্রতিবছর বিজ্ঞান, মানবিক এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করানো হয়। সরকারী বিধি মোতাবেক অনলাইনে শুধুমাত্র টেলিটক মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করতে পারে। ভর্তির ফলাফল প্রার্থীর ব্যবহৃত নম্বরে (মনোনীতদের) এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

আসন সংখ্যাঃ

  • বিজ্ঞানঃ৩০০
  • মানবিকঃ ১২০
  • ব্যবসায় শিক্ষাঃ ১২০

পাঠ্য বিষয় নির্বাচন[সম্পাদনা]

পাঠ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষের মতামত চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

শ্রেণীশিক্ষা কার্যক্রম[সম্পাদনা]

শ্রেনী কার্যক্রমে অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক। কোন ছাত্র ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত না হলে অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। শ্রেণীকক্ষে নিয়মিত ফলপ্রসূ পাঠদান, পড়া আদায় এবং নিয়মিত মাসিক পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারাই এই কলেজের মূল লক্ষ্য। ছাত্র ছাত্রী শিক্ষাবোর্ডের বিধি মোতাবেক শ্রেণী কার্যক্রমে শতকরা ৬০ ভাগের বেশি উপস্থিত না হলে তাকে ডিসকলেজিয়েট ঘোষণা করা হয় এবং পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না।

ছাত্র ছাত্রীদের মুল্যয়ন[সম্পাদনা]

একাদশ শ্রেণীতে প্রথম পর্ব এবং বর্ষোন্নয়ন পরীক্ষাতে ৩৩ শতাংশ নম্বর পেলে ছাত্রছাত্রীরা দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে পারে। দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রাক নির্বাচনী এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফর্ম পূরণ করতে হয়।

সোসাইটি ক্লাস এবং অন্যান্য[সম্পাদনা]

ক্লাস রুটিন অনুযায়ী প্রতি বৃহস্পতিবার সোসাইটি ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্লাসে সাধারণ জ্ঞান, গণিত অলিম্পিয়াড, কুইজ প্রতিযোগীতা, ভাষা প্রতিযোগীতা, চিত্রাঙ্কন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেনাসদর কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১২ তে কলেজটি রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ২০১৩ সালে জাতীয় মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় কলেজ ছাত্রী সামিয়া জাহান শামা মেধা তালিকায় স্থান অর্জন করে এবং সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় জাপান সফর করে। নিয়মিতভাবে প্রতিবছর বার্ষিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তঃহাউজ টূর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সামরিক ভূমি এবং সেনানিবাস অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত জরিপে এই কলেজটি বরাবরই সেরা দশ এর মধ্যে অবস্থান করে।

খেলাধুলা[সম্পাদনা]

শিক্ষার্থীদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশ ঘটানোর লক্ষে আন্তঃহাউজ ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন[সম্পাদনা]

সৃজনশীলতা ও ত্যাগী মনোভাব অর্জনের জন্য বিএনসিসি (সেনাবাহিনী), রোভার স্কাউট, গার্লস ইন গাইড চালু আছে।

গ্রন্থাগার[সম্পাদনা]

এ কলেজে সুসজ্জিত গ্রন্থাগার আছে। লাইব্রেরী কার্ড জমাদান সাপেক্ষে যে কেউ প্রয়োজনীয় বই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইস্যু করে নিতে পারে। লাইব্রেরিতে দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকার ব্যবস্থা রয়েছে। লাইব্রেরিতে পৃথক পৃথক টেবিলে বসে পুস্তক এবং পত্র পত্রিকা পাঠ করা যায়।

আবাসিক ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কলেজের পাশে মানসম্মত মেস আছে। প্রতিটি মেস শিক্ষকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

তথসূত্র[সম্পাদনা]

  • ২০১৪ সালের কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজের প্রসপেকটাস।