টেলিটক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড
ধরনপাবলিক লিমিটেড কোম্পানি
শিল্পটেলিযোগাযোগ
প্রতিষ্ঠাকাল২০০৪
সদরদপ্তরসড়ক নং - ১৭, গুলশান-১, ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রধান ব্যক্তি
প্রকৌশলী মো:সাহাব উদ্দিন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক)
পণ্যসমূহটেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট,সফটওয়্যার
মালিকগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ওয়েবসাইটwww.teletalk.com.bd

টেলিটক বাংলাদেশের একমাত্র সম্পূর্ণ দেশীয় মালিকানাধীন এবং সরকারি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান । এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যার শতভাগ মালিকানা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর অর্থাৎ টেলিটকের মালিক বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ । বাংলাদেশের এই সিম কোম্পানিটি দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানের পাশাপাশি সুন্দরবন, পার্বত্য এলাকাসহ দুর্গম অঞ্চলে টেলিটকের নেটওয়ার্ক রয়েছে। মে ২০২১ অনুযায়ী, টেলিটক বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর যার গ্রাহক সংখ্যা ৫৮ লাখ ২০ হাজার।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

বাংলাদেশ টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ বোর্ডের অধীনে বিটিটিবির মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিসেবার অংশ হিসেবে টেলিটক প্রথমে “বিটিটিবি বি-মোবাইল” নামে আত্মপ্রকাশ করে। কোম্পানি আইন-১৯৯৪ মোতাবেক ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর এটি যাত্রা শুরু করে।[২] পরবর্তীতে এটি "টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড" নামে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ব্র্যান্ড নাম পরিবর্তন করে “টেলিটক” নামধারণ করে। এটি বাংলাদেশের একটি জিএসএম, জিপিআরএস, থ্রিজি ও ফোরজি ভিত্তিক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক কোম্পানি।

প্রদেয় সেবাসমূহ[সম্পাদনা]

টেলিটক বিভিন্ন ধরণের সেবা প্রদান করে। এসএমএস, ভয়েস এসএমএস, এসএমএস পুশ-পুল সার্ভিস, ফোনে কথা বলা, বিল প্রদান, মোবাইল টিভি, ভিডিও কল, সরকারি চাকরির ফি প্রদান, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ব্যবস্থাপনা এবং ডাটা সার্ভিস, টেলিটিউন, টেলিচারজ,টেলিশপ, মিসড কল এলার্ট, কল ব্লক প্রভৃতি সেবা প্রদান করে থাকে। ২জি, ৩জি, ৪জি মোবাইল ইন্টারনেট বা চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেট (তার বিহীন ব্রডব্যান্ড) সেবা চালু আছে প্রতিষ্ঠানটি। এটি প্রিপেইড, পোস্টপেইড ভিত্তিতে পরিষেবা প্রদান করে থাকে।

ইয়ুথ থ্রিজি[সম্পাদনা]

টেলিটকের একটি তরুণ গ্রাহক কেন্দ্রিক প্রাথমিক সেবা প্রদানকারী প্যাকেজ।

স্বাগতম[সম্পাদনা]

নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সাশ্রয়ী প্যাকেজ। এর কলরেট ও এস এম এস চার্জ কম।

আগামী[সম্পাদনা]

এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের জন্য টেলিটকের বিশেষ প্যাকেজ যা সাধারণত টেলিটক বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে ৷ কলরেট , এস এম এস চার্জ এবং ইন্টারনেট চার্জ খুবই কম।

বর্ণমালা[সম্পাদনা]

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে সাশ্রয়ী কলরেট ও ইন্টারনেট প্যাকেজ সমৃদ্ধ বিশেষ বর্ণমালা সিম প্রথম ২০১৫ সালে অমর একুশে বইমেলায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমূল্যে প্রদান করা হয়।

অপরাজিতা[সম্পাদনা]

নারীর ক্ষমতায়নের জন্য টেলিটকের বিশেষ প্যাকেজ "অপরাজিতা" যা শুধু নারী গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য।২০১৭ সালে এই প্যাকেজ প্রথম চালু করা হয়

মায়ের হাসি[সম্পাদনা]

প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের টেলিটক দিচ্ছে ফ্রি সিম যা মায়ের হাসি নামে পরিচিত। উক্ত সিমে সরকারের পক্ষ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা ও টেলিটক এর পক্ষ থেকে বিনামূল্যে টকটাইম দেয়া হয়

এই সিমে রয়েছে সাশ্রয়ী কল রেট এবং ডেটা প্যাকেজ।

শতবর্ষ প্যাকেজ[সম্পাদনা]

মুজিববর্ষ উপলক্ষে টেলিটক চালু করে টেলিটক শতবর্ষ প্যাকেজ এর সিম। যে কেউ নিকটস্থ দোকান কিংবা গ্রাহক সেবা থেকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে প্রথমবার নির্দিষ্ট রিচার্জের শর্তসাপেক্ষে বিনামূল্যে সরবরাহকৃত এই সিমটি সংগ্রহ করতে পারবে। সিমটিতে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রথম মাসে বিনামূল্যে এবং এরপর থেকে অতি স্বল্প মূল্যে টকটাইম ও ইন্টারনেট সুবিধা রয়েছে

বিনামূল্যে সীমাহীন অনলাইন ক্লাস ইন্টারনেট[সম্পাদনা]

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টেলিটক (আমাদের ফোন) শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা চালু করে। করোনা পরিস্থিতিতে টেলিটক শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস করার জন্য বিডিরেনজুম ফ্রী করে দেয়। যেকোনো প্যাকেজের টেলিটক সিমে শিক্ষার্থীরা ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ১০০ টাকা ব্যালেন্স এ থাকে এবং ফ্রী আনলিমিটেড বিডিরেন_জুৃম অনলাইন ক্লাস সেবাটি উপভোগ করতে পারে।[৩] [৪]

গ্রাহক নম্বর[সম্পাদনা]

টেলিটক গ্রাহকদেরকে নিচের নিয়মে নম্বর প্রদান করে থাকেঃ

+৮৮০ ১৫ XXXXXXXX

উদাহরণস্বরুপ +৮৮ ০১৫ ০০১২১১২১ এলো টেলিটক এর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের নাম্বার

যেখানে +৮৮০ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কোড। ১৫ হল টেলিটকের গ্রাহকদের জন্য সরকারের নির্ধারিত কোড। ৮ ডিজিট XXXXXXXX হল গ্রাহকের নম্বর।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]