এমআরটি লাইন ৪

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট লাইন ৪
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থিতিপ্রস্তাবিত
মালিকসড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ
অঞ্চলবৃহত্তর ঢাকা, বাংলাদেশ
বিরতিস্থল
স্টেশন
মানচিত্রে রং গাঢ় নীল (#053E98)
পরিষেবা
ধরনদ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা
ব্যবস্থাঢাকা মেট্রোরেল
পরিচালকঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড
ডিপোমদনপুর, বন্দর উপজেলা
ইতিহাস
চালুর পরিকল্পনাডিসেম্বর ২০৩০
কারিগরি তথ্য
রেলপথের দৈর্ঘ্য১৬ কিলোমিটার (৯.৯ মা)
ট্র্যাকসংখ্যা
বৈশিষ্ট্যউড়াল ও পাতাল
ট্র্যাক গেজ১,৪৩৫ মিলিমিটার (৪ ফুট   ইঞ্চি) আদর্শ গেজ
বিদ্যুতায়ন৭৫০ ভি ডিসি থার্ড রেল১,৫০০ ভি ডিসি ওভারহেড ক্যাটেনারি
চালন গতি১০০ কিমি/ঘ (৬২ মা/ঘ)
সর্বোচ্চ উচ্চতা১৩ মিটার (৪৩ ফু)

এমআরটি লাইন ৪ ঢাকা মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত একটি দ্রুত গণপরিবহন রেলপথ, এটি মহানগরীর প্রধান রেলওয়ে স্টেশন থেকে বন্দর উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই রেলপথ ২০৩০ সালের মধ্যে নির্মিত হওয়ার কথা রয়েছে যা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) দ্বারা পরিচালিত হবে। দক্ষিণ কোরিয়া এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

২০০৫ সালে বিশ্ব ব্যাংক একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করে যেখানে বাংলাদেশ সরকারকে ঢাকায় একটি গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। একই বছরে মার্কিন পরামর্শক ফার্ম লুই বার্জার গ্রুপ ঢাকার জন্য একটি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা তৈরি করে।[১] বিশ্ব ব্যাংক এই পরিকল্পনাটি তৈরি করতে সহায়তা করেছিলো যেখানে ঢাকায় পাঁচটি এমআরটি লাইন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।[২] সেই পাঁচটি মেট্রো রেলপথ হলো এমআরটি লাইন ১, এমআরটি লাইন ২, এমআরটি লাইন ৪, এমআরটি লাইন ৫এমআরটি লাইন ৬[৩] ২০১৭ সালে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এমআরটি লাইন ৪ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।[৪] ১ অক্টোবর ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জকে ঢাকা মেট্রো নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে একটি লিখিত অনুরোধ জমা দেন।[৫] যদিও এমআরটি লাইন ৪ প্রকল্পের মাধ্যমে কমলাপুরের সাথে শহরকে সংযুক্ত করার একটি বিদ্যমান পরিকল্পনা ছিলো যার অধীনে নারায়ণগঞ্জ–বাহাদুরাবাদ ঘাট রেলপথের সমান্তরালে একটি পাতাল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়।[৬] কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীসেবা বাড়ানোর জন্য চলমান ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প ও ঢাকা–যশোর রেলপথ নির্মাণের কারণে সেখানে এমআরটি লাইন ৪ নির্মিত হলে মেট্রো সেবা লাভজনক করার মতো সেখানে যাত্রী পাওয়া যাবেনা আশঙ্কা করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) যাত্রাপথ সংশোধন করে মদনপুরে এর গন্তব্য পরিবর্তন করে।[৭] ২০২৩ সালে উচ্চ ব্যয়ের কারণে সরকার এমআরটি লাইন ৪ নির্মাণের উদ্দেশ্যে করা জাপানের সাথে চুক্তি থেকে সরে আসে।[৪] সরকার এমআরটি লাইন ৪-এর তহবিলের দাতা খুঁজে বের করার জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।[৮] ইআরডি বিশ্বব্যাংক, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্ভাব্য দাতা হিসেবে খুঁজে পায়।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. রহমান, শামীম (২৩ ডিসেম্বর ২০২২)। "পুরোটাই উড়ালপথে নির্মাণ ভারতের 'মেট্রো ম্যান' শ্রীধরনের পরামর্শে"বণিক বার্তা। ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ 
  2. জামান, শেখ শাহরিয়ার (২৫ ডিসেম্বর ২০২২)। "মেট্রোরেল ছিল বিরাট এক চ্যালেঞ্জ"বাংলা ট্রিবিউন। ২৫ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ 
  3. "এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন হচ্ছে"কালের কণ্ঠ। ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৩ 
  4. রহমান, আরিফুর (৯ এপ্রিল ২০২৩)। "South Korea to finance construction of Kamalapur-Narayanganj route"প্রথম আলো (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৩ 
  5. শরীফ, শাহেদ (৩ ডিসেম্বর ২০১৯)। "মেট্রোরেলের আওতায় আসছে নারায়ণগঞ্জ"বাংলা ট্রিবিউন। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৩ 
  6. বায়রন, রেজাউল করিম; অধিকারী, তুহিন শুভ্র (১৫ অক্টোবর ২০১৯)। "Dhaka Metro Rail: Two more lines to cost Tk 93,800cr"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২১ 
  7. "ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেলে যাত্রী না মেলার শঙ্কায় পাল্টে যাচ্ছে গতিপথ"আমাদের সময়। ৪ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৩ 
  8. কবির, এফএইচএম হুমায়ন (১ এপ্রিল ২০২৩)। "Govt plans to start construction of MRT-2 and MRT-4"দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৪ আগস্ট ২০২৩ 
  9. অধিকারী, তুহিন শুভ্র (১ মে ২০২৩)। "Metro Line-2, -4: Japan, S Korea, WB show interests"দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৮ আগস্ট ২০২৩