নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
কর্পোরেশন লোগো
ধরন
ধরনবাংলাদেশ এর
ইতিহাস
শুরু১৮৭৬ (নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা)
৫ মে ২০১১ (2011-05-05) (নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন)
নেতৃত্ব
মেয়রডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
নির্বাচন
ভোটদান ব্যবস্থাএফপিটিপি
সর্বশেষ নির্বাচন২২ ডিসেম্বর ২০১৬
সভাস্থল
নগর ভবন
ওয়েবসাইট
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি স্থানীয় সরকার সংস্থা। ১৮৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জ শহরের সার্বিক উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনা করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও কদমরসূল পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে ২৭ টি ওয়ার্ড সমন্বয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এটি বাংলাদেশের সপ্তম সিটি কর্পোরেশন। এর আয়তন ৭২.৪৩ বর্গ কিঃমিঃ।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ঘোষণা করা হয় ১৮৭৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর। পৌরসভা ঘোষণা কালে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ের এবং পশ্চিম পাড়ের স্থান সমূহকে তিনটি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়।এই তিনটি ওয়ার্ডের সর্বমোট আয়তন ছিলো প্রায় ৪.৫ বর্গমাইল। ওয়ার্ড গুলি যথাক্রমে

  1. ওয়ার্ড নং ০১ : শীতলক্ষ্যা, নয়ামাটি, নিতাইগঞ্জ, তাঁতিপাড়া, পত্নিপাড়া, সুতারপাড়া।
  2. ওয়ার্ড নং ০২ : কুটিপাড়া, নয়ামাটি, তাঁতিবাজার, উত্তর টানবাজার, গলাচিপা, পালপাড়া, চাষাড়া, খানপুর, মোকারবা, হাজীগঞ্জ, রওশনবাগ, বাবুরাইল।
  3. ওয়ার্ড নং ০৩ : মদনগঞ্জ, সোনাকান্দা, বন্দর, একরামপুর ও নবীগঞ্জ।

নারায়ণগঞ্জ ১৮৭৬ সালে পৌরসভায় পরিণত হলেও ব্রিটিশ ভারতে বিভিন্ন সময় জারিকৃত পৌর আইনের বিভিন্ন ধারা প্রাচীন কাল থেকেই নারায়ণগঞ্জে কার্যকর ছিল। ১৯৫২ সালে পৌরসভাকে ৭.৫ বর্গমাইলে বিস্তৃত করা হয়। ১৯৫৭ সালে পৌরসভাকে ২০ টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে পৌরসভাকে ১২টি ওয়ার্ডে পরিণত করা হয় এবং নারায়ণগঞ্জ ওয়ার্ডে তিনজন, বাকি সব ওয়ার্ডে দুইজন করে কমিশনার, দুইজন মনোনীত কমিশনার, একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন চেয়ারম্যানসহ সর্বমোট ২৯ জন সদস্য নিয়ে পৌর কমিটি গঠিত হয়। ১৮৭৬ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ঘোষণার পর প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মি.এইচটি ইউলসন। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভায় প্রথম এদেশীয় নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন খানঁপুর মহল্লার সৈয়দ মোহাম্মদ মালেহ। সে সময় তিনি একজন বিদ্ব্যান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অবশ্য এর পূর্বে ১৯০০ সালে মি. উইলসন পদত্যাগ করায় কিছু দিনের জন্য বাবু মহিমচন্দ্র গাঙ্গুলী চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। ১৯০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নারায়ণগঞ্জ শহরে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে প্রথম বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্হা চালু হয়। ১৯৯০ সালের জুলাই হতে এ সরবরাহ ব্যবস্থাটি ঢাকা ওয়াসার উপর ন্যস্ত হয়। ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে নারায়ণগঞ্জ পৌর নির্বাচনে শ্রমিক নেতা আলী আহম্মদ চুনকা আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোকা মহিউদ্দিনের জয়ী হন।

২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়লাভ করে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আলী আহম্মদের মেয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভি। পৌরসভা বিলুপ্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল ছিলেন।

২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা ও কদমরসূল পৌরসভাকে বিলুপ্ত করে ২৭টি ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। নারায়ণঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় শাহ কামালকে। ৩০ অক্টোবর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম বারের মতো সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভি মেয়র হিসেবে জয়লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নারী মেয়র।

ওয়ার্ডসমূহ[সম্পাদনা]

২৭টি ওয়ার্ড সমন্বয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হয়।

ওয়ার্ড নং এলাকা সীমানা আয়তন জনসংখ্যা
০১ পাইনাদী (পূর্ব), মিজমিজি বাতান পাড়া উত্তরে- ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দক্ষিণে-তিতাস গ্যাস লাইন, পূর্বে- নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক, পশ্চিমে- ধনুহাজী রোড ৩.৭০ বর্গ কিলোমিটার ৩৬,৫৯২ জন
০২ পাইনাদী (পশ্চিম), মিজমিজি (দক্ষিণ পাড়া), মিজমিজি (পশ্চিম পাড়া), মিজমিজি (সাহেব পাড়া) উত্তরে- ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, দক্ষিণে-পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানাল পাড়/উত্তর কদমতলি, পূর্বে- ধনুহাজী রোডের পশ্চিম পাড়, পশ্চিমে- ফতুল্লা থানার ভূইগড় মৌজা ৩.৫০ বর্গ কিলোমিটার ২৫,৫৮৫ জন
০৩ নিমাই কাশারি, নয়া আটি, বাগমারা, সানার পাড় উত্তরে- ঢাকা জেলার ডগাইর ও জোকা মৌজা, দক্ষিণে-ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, পূর্বে- নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক, পশ্চিমে- ঢাকা জেলার ডগাইর মৌজা ২.১০ বর্গ কিলোমিটার ৩৫,৯৪৭ জন
০৪ শিমরাইল, আটি, উত্তর আজিবপুর উত্তরে- ঢাকা জেলারজোকা মৌজা, দক্ষিণে-আজিবপুর রোড (শীতলক্ষ্যা নদী পর্যন্ত), পূর্বে- শীতলক্ষ্যা নদী, পশ্চিমে- নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা সড়ক ৩.৬৫ বর্গ কিলোমিটার ২৩,৩৮৫ জন
০৫ দক্ষিণ আজিবপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ কলাবাগ (দক্ষিণ), সিদ্ধিরগঞ্জ কলাবাগ পশ্চিম), সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো ২.০৯ বর্গ কিলোমিটার ১৮,৪২১ জন
০৬ শুমিলপাড়া (আদমজী ই পি জেড সহ), বাগপাড়া, মন্ডলপাড়া ৩.১৭ বর্গ কিলোমিটার ২৫,১০০ জন
০৭ কদমতলি উত্তরপাড়া, কদমতলি দক্ষিণ পাড়া, নয়া পাড়া ২.৬২ বর্গ কিলোমিটার ২১,৮৮৮ জন
০৮ ভূঁইয়াপাড়া, আরাম্বাগ, টাকখানা, বাড়ইপাড়া, এনায়েতনগর, ধনকুন্ডা ৩.৪৩ বর্গ কিলোমিটার ১০,৫৬৮ জন
০৯ জালকুড়ি পশ্চিম পাড়া, জালকুড়ি মধ্য পাড়া, জালকুড়ি উত্তর পাড়া ৬.১০ বর্গ কিলোমিটার ২৭,১৩৮ জন
১০ বাগপাড়া, ২ নং ঢাকেশ্বরী কটন মিলস, আরামবাগ,রসুলবাগ, মীরপাড়া,চিত্তরঞ্জন কটন মিল এলাকা, আজিম মার্কেট,কো-অপারেটিভ, পাঠানটুলী, ওয়াটার ওয়ার্কস সড়কের অংশ বিশেষ যা আজিম মার্কেটের, খাল হতে এসিআই এর উত্তর পার্শ্ব পর্যন্ত ১.৫৫ বর্গ কিলোমিটার ২০,৪৮৯ জন
১১ ১.৭৩ বর্গ কিলোমিটার ২৪,৫৫০ জন
১২ ১.৬১ বর্গ কিলোমিটার ৪০,১৮৭ জন
১৩ ২.১৭ বর্গ কিলোমিটার ৪৭,০৭৯ জন
১৪ ১.২৭ বর্গ কিলোমিটার ২৯,৪৩১ জন
১৫ ১ নং গেট, ২নং গেট, রেলী বাগান, ডাইলপট্টি, টানবাজার, মীনাবাজার, নয়ামাটি, থানা-পুকুরপাড়, সাহা পাড়া, ডিআইটি ১.৬৮ বর্গ কিলোমিটার ২৪,০৯৬ জন
১৬ দেওভোগ, তাঁতীপাড়া, বাবুরাইল, বউ-বাজার, জিমখানা, বেপারীপাড়া ১.৪৯ বর্গ কিলোমিটার ৩৪,৪৯৬ জন
১৭ পাইকপাড়া, ভূইয়াপাড়া, জল্লারপাড়া, নামাপাড়া, নয়াপাড়া, কাচারি গল্লি, ঋষিপাড়া
১৮ শহীদ নগর, নিতাইগঞ্জ, তামাকপট্টি, শহীদ বাপ্পী সড়ক
১৯
২০
২১
২২
২৩ স্বল্পেরচক উত্তরাংশ, মাঠপাড়া/ সরকারী কদম রসুল কলেজ,বাগবাড়ী, কবিলার মোড়, রসুলবাগ জি. এ রোড, পূব পড়া, নবীগঞ্জ কবরস্থান ও কদম রসুল দরগাহ এরিয়া উত্তরে - নবীগঞ্জ ফেরি ঘাট রোড ( নবীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড থেকে নবীগঞ্জ ফেরিঘাটের রোড)

দক্ষিণে- স্বল্পেরচক কবরস্থান রোড, পূর্বে- মদনগঞ্জ টু মদনপুর হাইওয়ে ( সমরক্ষেত্র মাঠ থেকে নবীগঞ্জ কবরস্থান পর্যন্ত), পশ্চিমে- শীতলক্ষ্যা নদী ( সি. এ. ডি থেকে নবীগঞ্জ দরগাহ ঘাট পর্যন্ত)

২৪
২৫ উওর লক্ষনখোলা, দক্ষিণ লক্ষনখোলা, সোমবাড়ীয়া বাজার, চৌরাপাড়া'র একাংশ নিয়ে গঠিত
২৬
২৭

[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Narayanganj City Corporation"ncc.gov.bd