কমলাপুর মেট্রো স্টেশন
কমলাপুর মেট্রো স্টেশন হলো ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন ৬-এর একটি মেট্রো স্টেশন। এই স্টেশনটি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিকটে অবস্থিত। এটি ২০২৬ সালে চালু করা হবে এবং এমআরটি লাইন ৬-এর তৃতীয় পর্যায় হিসেবে সমন্বয় করা হবে।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]২০১৮ সালে কাজিমার সাথে সরকারি–বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে (পিপিপি) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘিরে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ করার প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর অধীনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের চারপাশে অবকাঠামো নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়; পরিকল্পনায় বহুতল আবাসন ভবন, হোটেল, শপিং মল, পাতাল ও উড়ালপথ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৩] ২০১৯ সালে সরকার কর্তৃক মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত এমআরটি লাইন ৬-এর রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিকল্পনা করা হয়।[৪] ২০১৯ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ স্টেশন ভবনের সামনে মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণে আপত্তি জানায়।[৫] ২০২০ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড ঢাকা মেট্রো রেলের এমআরটি লাইন ৬-এর সঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের যোগাযোগ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বর্তমান স্টেশনটি এমআরটি লাইন ৬-এর প্রস্তাবিত পথের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনটি ভেঙে ১৩০ মিটার উত্তরে নতুন জায়গায় তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।[৬] দেশের বিভিন্ন স্থপতি ও ব্যক্তিবর্গ এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে।[৭] ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে রেলওয়ে স্টেশনটি ভেঙ্গে ফেলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় কমলাপুর স্টেশন ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনে অদূর ভবিষ্যতে রেলওয়ে স্টেশনটি স্থানান্তর করা হতে পারে।[৮][৯] ভেঙ্গে ফেলার পরিবর্তে সরকার রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল, সাবওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বাস র্যাপিড ট্রানজিটের জন্য স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা করে। এগুলো সবই মাল্টিমোডাল হাবের অংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।[১০]
তবে কমলাপুরে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণের জন্য নিয়োজিত জাপানি ঠিকাদার কাজিমা কর্পোরেশন জানিয়ে দেয় যে এই রেলপথ কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলে তারা হাব নির্মাণ প্রকল্প থেকে সরে আসবে। কাজিমার সাথে সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ রেলওয়ে একাগ্রতা প্রকাশ করে।[ক] ফলস্বরূপ ডিএমটিসিএল সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সমস্যা সমাধান করতে তিনটি বিকল্প উপায় প্রস্তাব করে। প্রথম প্রস্তাবে ছিলো মাটির নিচে প্রস্তাবিত লাইন ১-এর স্টেশনের উপরে লাইন ৬-এর স্টেশন নির্মাণ করা। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিলো রেলওয়ে স্টেশন এলাকার বাইরে মেট্রো স্টেশনটি নির্মাণ করা। তৃতীয় প্রস্তাব অনুযায়ী স্টেশন নির্মাণের জন্য ডিএমটিসিএলকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ভূমি পেতে আবেদন করতে হতো।[১১] যখন মেট্রো নির্মাণের প্রকল্পের সাথে জড়িত ঠিকাদারদের সম্প্রসারণ প্রকল্পে যোগ দিতে বলা হয় তখন ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট ছাড়া অন্য সব ঠিকাদার অনাগ্রহ দেখানোয় সম্প্রসারণ প্রকল্প শুরু করতে দেরি হয়েছিলো।[১২] কমলাপুর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণে এর দৈর্ঘ্য সব মিলিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২১ কিলোমিটার। সম্প্রসারণের ফলে এমআরটি লাইন ৬-এর নির্মাণ সমাপ্তির তারিখ হয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে।[১৩] ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট স্টেশন প্লাজার পশ্চিমে সম্প্রসারণ কাজ শুরু করে।[১৪] ১ জুন ২০২৩ সাল অনুযায়ী তৃতীয় পর্যায়ের নির্মাণকাজের অন্তত ২.৩০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে।[১৫]
টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ বাংলাদেশ রেলওয়ে ও কাজিমার আপত্তির কারণ অজ্ঞাত। তবে রেলওয়ে সূত্রের মতে এই সম্প্রসারণ প্রকল্প হাব নির্মাণের সাথে সাংঘর্ষিক।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "লাইন ৬ যাত্রাপথ মানচিত্র" (পিডিএফ)। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "Metro rail route to be extended to Tongi"। ঢাকা ট্রিবিউন (ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ এপ্রিল ২০২৩। ২৮ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৩।
- ↑ হোসেন, আনোয়ার (২৫ নভেম্বর ২০২০)। "ভাঙা পড়বে ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর রেলস্টেশন"। প্রথম আলো। ৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ অধিকারী, তুহিন শুভ্র (৬ ডিসেম্বর ২০১৯)। "Metro Line-6 to link Kamalapur" [কমলাপুরকে যুক্ত করতে মেট্রো লাইন-৬]। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ সুলতানা, মুনিমা (৮ ডিসেম্বর ২০১৯)। "No project on front side of Kamalapur railway station: BR" [কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনে কোনো প্রকল্প নয়: বিআর]। দ্যফাইন্যান্সিয়ালএক্সপ্রেস.কম.বিডি (ইংরেজি ভাষায়)। ২৯ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ মোর্শেদ, আদনান জিল্লুর (২৯ নভেম্বর ২০২০)। "কমলাপুর স্টেশনকে বাঁচতে দিন"। প্রথম আলো। ৭ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ নভেম্বর ২০২০।
- ↑ রাজা, এন রায় (১১ জানুয়ারি ২০২১)। "কমলাপুর রেলস্টেশন না ভেঙে উন্নয়নের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের"। ভোরের কাগজ। ১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ অধিকারী, তুহিন শুভ্র (৩০ জানুয়ারি ২০২১)। "কমলাপুর স্টেশন ভাঙার অনুমোদন দিলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়"। দ্য ডেইলি স্টার। ১০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ "কমলাপুর স্টেশন ভাঙা হচ্ছে না"। আমাদের সময়। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ নভেম্বর ২০২২।
- ↑ আহমেদ, জাফর (৩০ নভেম্বর ২০২২)। "'All roads lead to Kamalapur': how the Dhaka area is set to be transformed into a multimodal transport hub" ['সমস্ত রাস্তা কমলাপুরের দিকে নিয়ে যায়': কীভাবে ঢাকা এলাকা একটি মাল্টিমোডাল পরিবহন হাবে রূপান্তরিত হতে চলেছে]। বিডিনিউজ২৪.কম (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ অধিকারী, তুহিন শুভ্র (২২ জানুয়ারি ২০২০)। "মেট্রো লাইন ৬ এর বর্ধিত পরিকল্পনা নিয়ে রেলওয়ের আপত্তি"। দ্য ডেইলি স্টার। ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "MRT-6 extension project implementation being delayed" [এমআরটি-৬ সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে]। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ মার্চ ২০২০। ১৫ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৩।
- ↑ "মেট্রোরেলে ব্যয় বাড়ছে ১১ হাজার ৫১৪ কোটি, সময় লাগবে আরও দেড় বছর"। জাগো নিউজ। ১৮ জুলাই ২০২২। ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "মেট্রোরেলের কমলাপুর অংশের নির্মাণকাজ শুরু"। দৈনিক ইনকিলাব। ১৩ জানুয়ারি ২০২৩। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "আগেভাগেই উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলবে মেট্রোরেল"। ঢাকা ট্রিবিউন। ১ জুন ২০২৩। ১ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০২৩।
