ঢাকা মেট্রোরেল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ঢাকা মেট্রো
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসি) লোগো.png
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
অবস্থানঢাকা, বাংলাদেশ
পরিবহনের ধরনদ্রুতগামী গণপরিবহন ব্যবস্থা
লাইনের (চক্রপথের)
সংখ্যা
১ (নির্মাণাধীন)
৫ (পরিকল্পিত)
বিরতিস্থলের (স্টেশন)
সংখ্যা
১৬ (নির্মাণাধীন)
৮৮ (পরিকল্পিত)
দৈনিক যাত্রীসংখ্যা৬০,০০০ (প্রতি ঘণ্টায়)[১] (এমআরটি লাইন ৬)
প্রধান কার্যালয়ঢাকা, বাংলাদেশ
ওয়েবসাইটwww.dmtcl.gov.bd
চলাচল
সম্ভাব্য চালুর তারিখ২০২২
পরিচালক সংস্থাঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড
কারিগরি তথ্য
মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য২০.১ কিমি (নির্মাণাধীন)[২]
১০৮.৬৪১ (পরিকল্পিত)
রেলপথের গেজআদর্শ গজ
ঢাকা মেট্রো এমআরটি-৬ - এর কাজ চলছে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, পরীবাগে (আগষ্ট ২০২০)

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় নির্মাণাধীন শহরভিত্তিক রেল ব্যবস্থা হচ্ছে ঢাকা মেট্রো যা আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা সংক্ষেপে এমআরটি (MRT) নামে পরিচিত। ২০১৩ সালে অতি জনবহুল ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহন সমস্যা ও পথের দুঃসহ যানজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় যার অধীনে প্রথমবারের মত ঢাকায় মেট্রো রেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে প্রণীত সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা অনুসারে ঢাকায় নির্মিতব্য মেট্রো রেলের লাইনের সংখ্যা ৩টি থেকে বাড়িয়ে ৫টি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন ৬ (MRT Line-6) কে নির্বাচন করা হয়। ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রকল্প বর্ণনা[সম্পাদনা]

২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তথা মেট্রো রেল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য এমআরটি-৬ নামক ২০.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথকে নির্ধারন করা হয়। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে জাইকা দেবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু হলে দু'দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এমআরটি-৬ এর চূড়ান্ত রুট অ্যালাইনমেন্ট হলো- উত্তরা তৃতীয় ধাপ-পল্লবী-রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে (চন্দ্রিমা উদ্যান-সংসদ ভবন) খামারবাড়ী হয়ে ফার্মগেট-সোনারগাঁও হোটেল-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। এ রুটের ১৬টি স্টেশন হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়, মতিঝিল ও কমলাপুর। ট্রেন চালানোর জন্য ঘণ্টায় দরকার হবে ১৩.৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যা নেওয়া হবে জাতীয় গ্রিড থেকে। এর জন্য উত্তরা, পল্লবী, তালতলা, সোনারগাঁ ও বাংলা একাডেমি এলাকায় পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থাকবে।

২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি-৬ প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে শুরু হয় ঢাকা মেট্রোর নির্মাণকাজের সূচনা। এমআরটি-৬ এর স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় ২০১৭ সালের ২ আগস্ট। এদিন উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণ শুরু হয়।[৩] ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণ শুরু হয়।[৪] ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর এমআরটি-১ এবং এমআরটি-৫ নামক লাইন দু'টির নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এমআরটি-১ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত মোট ৩১.২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে। এ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান সরকার দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে। এমআরটি-১ প্রকল্পে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার হবে পাতাল পথে এবং কুড়িল থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার হবে উড়ালপথে। নতুন বাজার থেকে কুড়িল পর্যন্ত ৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রানজিশন লাইনসহ ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। এই মেট্রোরেলের ১২টি স্টেশন থাকবে মাটির নিচে এবং ৭টি থাকবে উড়াল সেতুর ওপর।[৫]

এমআরটি-৫ নির্মাণ প্রকল্পে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার মধ্যে ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা দেবে জাপান আর বাকি ১২ হাজার ১২১ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের মোট ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার হবে পাতাল পথে আর বাকি সাড়ে ৬ কিলোমিটার হবে উড়াল পথে। এ রুটে মোট ১৪টি স্টেশন হবে, যার মধ্যে ৯টি হবে পাতাল আর ৫টি হবে উড়ালপথে।[৫]

যাত্রাপথের মানচিত্র[সম্পাদনা]

মার্চ ২০২০ অনুযায়ী, মেট্রোরেলের যাত্রাপথগুলোর সর্বশেষ মানচিত্র:

এমআরটি লাইন ৬
উত্তরা উত্তর
উত্তরা মধ্য
উত্তরা দক্ষিণ
পল্লবী
মিরপুর ১১
মিরপুর ১০
কাজিপাড়া
শ্যাওড়াপাড়া
আগারগাঁও
বিজয় সরণি
ফার্মগেট
কারওয়ান বাজার
শাহবাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সচিবালয়
মতিঝিল
কমলাপুর
এমআরটি লাইন ১ (বিমানবন্দর যাত্রাপথ)
বিমানবন্দর
বিমানবন্দর টার্মিনাল ৩
খিলক্ষেত
যমুনা ফিউচার পার্ক
নতুন বাজার
উত্তর বাড্ডা
বাড্ডা
হাতিরঝিল পশ্চিম
রামপুরা
মালিবাগ
রাজারবাগ
কমলাপুর
এমআরটি লাইন ১ (পূর্বাচল যাত্রাপথ)
নতুন বাজার
যমুনা ফিউচার পার্ক
বসুন্ধরা
পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি
মাস্তুল
পূর্বাচল পশ্চিম
পূর্বাচল মধ্য
পূর্বাচল পূর্ব
পিতলগঞ্জ
এমআরটি লাইন ৫ (উত্তর যাত্রাপথ)
হেমায়েতপুর
বালিয়ারপুর
বিলামালিয়া
আমিনবাজার
গাবতলী
দারুস সালাম
মিরপুর ১
মিরপুর ১০
মিরপুর ১৪
কচুক্ষেত
বনানী
গুলশান ২
নতুন বাজার
ভাটারা
এমআরটি লাইন ৫ (দক্ষিণ যাত্রাপথ)
গাবতলী
টেকনিক্যাল
কল্যাণপুর
শ্যামলী
কলেজগেট
আসাদগেট
রাসেল স্কয়ার
পান্থপথ
সোনারগাও
হাতিরঝিল পশ্চিম
নিকেতন
রামপুরা
আফতাবনগর পশ্চিম
আফতাবনগর মধ্য
আফতাবনগর পূর্ব
দাশেরকান্দি
এমআরটি লাইন ২
গাবতলী
এমব্যাংকমেন্ট রোড
কল্যাণপুর
বসিলা
মোহাম্মাদপুর
সাত মসজিদ রোড
ঝিগাতলা
ধানমন্ডি ২
সায়েন্স ল্যাবরেটরি
নিউ মার্কেট
নীলক্ষেত
আজিমপুর
পলাশী
শহীদ মিনার
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স
গোলাপ শাহ মাজার
বঙ্গভবন
মতিঝিল
আরামবাগ
কমলাপুর
মুগদা
মান্ডা
ডেমরা
চট্টগ্রাম রোড

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ODhaka Metrorail to carry 60,000 people per hour"Bdnews24। ২৬ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৬ 
  2. "Metro rail route faces modification"The Daily Star। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৬ 
  3. "মেট্রোরেলের স্টেশন ও উড়ালপথ নির্মাণকাজ উদ্বোধন"। দৈনিক জনকন্ঠ। ২ আগস্ট ২০১৭। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২০ 
  4. "মেট্রোরেলের কাজ কবে শেষ, জানালেন কাদের"। দৈনিক প্রথম আলো। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২০ 
  5. "লক্ষ কোটি টাকায় হবে আরও দুটি মেট্রোরেল"। BDNews24.com। ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ২২ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মার্চ ২০২০ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]