হেনরি মুর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হেনরি মুর
Henry Moore in workshop Allan Warren.jpg
১৯৭৫ সালে মুর
জন্ম
হেনরি স্পেন্সার মুর

(১৮৯৮-০৭-৩০)৩০ জুলাই ১৮৯৮
মৃত্যুটেমপ্লেট:মৃত্যুর তারিখ এবং বয়স
শিক্ষালিডস স্কুল অব আর্ট, রয়্যাল কলেজ অব আর্ট
পরিচিতির কারণভাস্কর্য, অঙ্কন, গ্রাফিক্স, টেক্সটাইল
উল্লেখযোগ্য কর্ম
পুনরায় সংযুক্ত চিত্রসমূহ, ১৯৩০–১৯৮০-এর দশক
আন্দোলনব্রোঞ্জ ভাস্কর্য, আধুনিকবাদ
পুরস্কারওএম, সিএইচ, এফবিএ

হেনরি স্পেন্সার মুর ওএম সিএইচ এফবিএ (৩০ জুলাই ১৮৯৮-৩১ আগস্ট ১৯৮৬) ছিলেন একজন ইংরেজ শিল্পী। তিনি তার অর্ধ- বিমূর্ত বিশাল ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যের জন্য যেগুলো পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে গণপূর্ত শিল্প হিসেবে ছড়িয়ে আছে। ভাস্কর্যের পাশাপাশি, মুর প্রচুর চিত্রশিল্প নির্মাণ করেছেন, যার মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনবাসীদের বিমান আক্রমণ থেকে আশ্রয় নেওয়ার একটি চিত্র আছে, সাথে আছে কাগজে আঁকা আরও চিত্রলেখ।

তার আকৃতিসমূহ হচ্ছে সাধারণত মানব শরীরের বিমূর্ত আকার, সাধারণভাবে মা এবং সন্তানের অথবা শায়িত মূর্তির চিত্র। মুরের চিত্রসমূহ সাধারণত নারী মূর্তি ইঙ্গিত দেয়, ১৯৫০ সালের একটি পর্ব ব্যতীত যখন তিনি পারিবারিক দলের ভাস্কর্য তৈরি করেছিলেন। তার মূর্তিগুলো সাধারণত ছিদ্র করা থাকে অথবা ফাঁপা স্থানযুক্ত থাকে। অনেক ব্যাখ্যাকারী তার শায়িত মূতিগুলোর ঢেউখেলান আকৃতির সাথে তার জন্মস্থান ইয়র্কশায়ারের ভূচিত্র এবং পাহাড়সমূহের আকৃতির তুলনা করেছেন।

মুর জন্মগ্রহণ করেন ক্যাসলফোর্ডে, কয়লা খনির শ্রমিকের ঔরসে। তিনি তার খোদিত মার্বেল এবং বৃহদাকারের ব্রোঞ্জের বিমূর্ত ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেন, এবং যুক্তরাজ্যে আধুনিকবাদে একটি বিশেষ ধরণের আকৃতির প্রবর্তনে সহায়ক ছিলেন। পরবর্তী জীবনে বিশাল আকৃতির কাজ পূরণ তাকে করে তোলে অত্যন্ত ধনী। এতদ স্বত্বেও, তিনি সংযত জীবনযাপন করতেন; তার অর্জিত বেশিরভাগ অর্থই হেনরি মুর ফাউন্ডেশনের বৃত্তিতে জমা হয়, যা শিক্ষা এবং শিল্পচর্চায় উৎসাহদানের অনুকূলে এখনও কাজ করে যাচ্ছে।

জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম জীবন[সম্পাদনা]

হেনরি মুরের জন্ম ক্যাসলফোর্ড ইয়র্কশায়ারের ওয়েস্ট রাইডিং, ইংল্যান্ডে, মেরি বেকার এবং রেমন্ড স্পেন্সার মুরের ঘরে। তার পিতা ছিলেন আইরিশ এবং প্রথমে খনির ডেপুটি পদাসীন হন এবং তারপরে ক্যাসলফোর্ডের হোয়েলডেল কয়লাখনির অধস্তন-ব্যবস্থাপক হন। তিনি একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন সাথে তিনি ছিলেন সঙ্গীত এবং সাহিত্য অনুরাগী। তার ছেলেরা খনিতে কাজ করবে না এই প্রত্যয়ে তিনি তাদের অগ্রগতির জন্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে একটি পথ হিসেবে বিবেচনা করেন।[১] আট সন্তানের মধ্যে সপ্তম হেনরি ছিলেন এমন এক পরিবারের সদস্য যা প্রায়ই অসচ্ছলতার সাথে যুদ্ধ করত। তিনি ক্যাসলফোর্ডে শিশু এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন যেখানে তিনি কাদামাটির মূর্তি নির্মাণ এবং কাঠে খোঁদাই শুরু করেন। তিনি স্বীকার করেন যে এগার বছর বয়সে তিনি ভাস্কর হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সানডে স্কুলে পড়ার সময়ে মাইকেলএঞ্জেলোর অর্জনের কথা জানার পর।[২]

দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় ক্যাসলফোর্ড গ্রামার স্কুলে তিনি ভর্তি হন, যেখানে তার কয়েকজন ভাইবোন পড়ালেখা করেছেন, যেখানে তার প্রধানশিক্ষক শীঘ্রই তার প্রতিভা এবং মধ্যযুগের ভাস্কর্যে আগ্রহ লক্ষ্য করেন।[৩] তার অংকন শিক্ষক তার শিল্পজ্ঞান প্রসারিত করেন এবং তার অনুপ্রেরণায়, তিনি শিল্পকে তার পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর হন; সর্বপ্রথমে স্থানীয় শিল্প কলেজে ছাত্রবৃত্তির জন্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।[৪] মুরের প্রথম লিপিভুক্ত খোঁদাই কাজ- ক্যাসলফোর্ড সেকেন্ডারি স্কুলের স্কট সোসাইটির জন্যে একটি ফলক, এবং বিদ্যালয়ের যেসব ছাত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়তে গিয়েছিল তাদের সম্মানে একটি রোল অফ অনার- এই সময়ে নির্মিত হয়।[৫]

তার বাল্য প্রতিভা স্বত্বেও, মুরের বাবা-মা ভাস্কর হিসেবে তার প্রশিক্ষণের বিরুদ্ধে ছিলেন, যে পেশাকে তারা মনে করতেন চাকরির অল্প সুবিধার এক কায়িক পরিশ্রম হিসেবে। প্রশিক্ষণাধীন শিক্ষক হিসেবে সংক্ষিপ্ত এক সূচনার পর, মুর যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন সেখানে শিক্ষক পদে নিয়োগ পান।[৪] আঠার বছর বয়সে, মুর সেনাবাহিনীতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দেন। প্রিন্স অব ওয়েলস' ওন সিভিল সার্ভিস রাইফেলস সেনাদলে তিনি ছিলেন সবচেয়ে তরুণ এবং ১৯১৭ সালের ৩০ নভেম্বর বোরলন জঙ্গলে,[৬] ক্যাম্ব্রেইয়ের যুদ্ধে একটি গ্যাস আক্রমণে আহত হন।[৭] হাসপাতালে সুস্থ হওয়ার পর, তিনি যুদ্ধের বাকি সময়টা শারীরিক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন, যুদ্ধবিরতি সাক্ষর হওয়ার পর ফ্রান্সে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি স্মৃতিচারণ করেন, "আমার জন্যে যুদ্ধটা রোমানটিক একটি অস্পষ্টতায় কেটে যায় বীর হওয়ার প্রচেষ্টায়।"[৮] এই মনোভাব বদলে যায় যখন তিনি যুদ্ধের নাশকতার কথা মনে করেন এবং ১৯৪০ সালে তিনি তার বন্ধু আরথার সেলের কাছে একটি চিঠিতে লিখেন, যে "এক বা দুই বছর পর [যুদ্ধের পরে] খাকির একটি উর্দির দেখা জীবনে যতকিছু ভুল এবং অযথা এবং জীবন- বিরোধী তা নির্দেশ করতে শুরু করে। এবং এখনও সেই অনুভূতি বিদ্যমান আছে।"[৯]

ভাস্কর হিসেবে সূচনা[সম্পাদনা]

একটি শায়িত মানুষের বাঁকান হাঁটু এবং ঘোরান মাথাসহ একটি পাঁথরের ক্ষোদিত মূর্তির সাদাকাল আলোকচিত্র
সবুজ পাথর থেকে ক্ষোদিত একটি শায়িত নারী মূর্তি, বাঁকান হাঁটু এবং ঘোরান মাথাসহ
মুরের শায়িত মূর্তি, ১৯৩০ সালের শায়িত নারী (নিচে), Chac Mool দ্বারা প্রভাবিত ছিল, এটির মত (ওপরে) Chichen Itza থেকে একটি

মহাযুদ্ধের পর, মুর তার পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রাক্তন-সৈন্য হিসেবে সরকারি অনুদান পান এবং ১৯১৯ সালে তিনি লিডস শিল্পকলা বিদ্যালয়ে (বর্তমানে লিডস শিল্পকলা কলেজ) ভর্তি হন, যা শুধুমাত্র তার ব্যবহারের জন্য একটি ভাস্কর্য স্টুডিও গড়ে তোলেন। কলেজে, তার দেখা হয় বারবারা হেপওয়ার্থের সাথে, একজন সহপাঠী যিনি নিজেও একজন খ্যাতনামা ব্রিটিশ ভাস্কর হয়ে উঠবেন, এবং তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে সাথে ভদ্র পেশাদারী এক প্রতিযোগিতা যা বহু বছর ধরে টিকে থাকে। লিডসে, মুর স্যার মাইকেল স্যাডলার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আধুনিক নির্মাণের সংগ্রহের সংস্পর্শেও আসেন, যার সুস্পষ্ট প্রভাব তার অগ্রগতিতে পড়ে।[১০] ১৯২১ সালে, লন্ডনের রয়াল কলেজ অব আর্টে পড়ালেখার জন্যে মুর একটি বৃত্তি পান, হেপওয়ার্থ এবং ইয়র্কশায়ারের অন্যান্য সমসাময়িকদের সাথে। লন্ডনে থাকাকালীন, মুর আদিম শিল্প এবং ভাস্কর্য সম্পর্কে তার জ্ঞান প্রসারিত করেন, ভিক্টোরিয়া ও অ্যালবার্ট জাদুঘর এবং ব্রিটিশ জাদুঘরে নৃতত্ত্ব সংগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করে।

মুর এবং হেপওয়ার্থ উভয়ের ছাত্রজীবনের ভাস্কর্যগুলো আদর্শ রোমান্টিক ভিক্টোরিয়ান শৈলী অনুসরণ করে, এবং প্রাকৃতিক আকার, ভূচিত্র আর প্রাণীদের বিশিষ্ট মূর্তি অন্তর্ভুক্ত করে। মুর পরে চিরায়ত ধারণার ব্যাপারে অস্বচ্ছন্দ হয়ে উঠেন; পরবর্তীতে প্রাচীনতার সাথে তার পরিচয় এবং কন্সট্যান্টিন ব্র্যাঙ্কুসি, জ্যাকব এপ্সটাইন, হেনরি গউডিয়ে-ব্রেজস্কা এবং ফ্র্যাঙ্ক ডবসনের মত ভাস্করেরা তাকে স্পষ্ট খোদাই পদ্ধতি, যেখানে উপাদানের খুঁত এবং যন্ত্রপাতির দাগ সমাপ্ত ভাস্কর্যের অংশ হয়ে দাঁড়ায় তার দিকে ঠেলে দেন। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে, মুর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে দ্বন্দ্বে পড়েন যারা এমন আধুনিক পদ্ধতির কদর করতেন না। ডারওয়েন্ট উডের (রয়াল কলেজের ভাস্কর্যের অধ্যাপক) নির্মিত এক অনুশীলনের সময়ে, মুরকে বলা হয়েছিল ডমেনিকো রসেলির দ্যা ভার্জিন এন্ড দ্যা চাইল্ডের মার্বেলের একটি রিলিফ অনুলিপি করতে,[১১] প্রথমে প্লাস্টারে কারুশিল্পটির ছাঁচ বানাতে, তারপর তাকে "পয়েন্টিং মেশিন" নামক এক যন্ত্রের সহায়তা নিয়ে, "পয়েন্টিং" নামক এক কৌশলে মার্বেলে পুনর্নির্মাণ করতে। এর বদলে, তিনি সরাসরি কারুশিল্পটি খোঁদাই করেন, উপরিভাগে এমনভাবে দাগ ফেলে যেমনটি পয়েন্টিং মেশিনের ফুঁটায় দাগ পড়বে।[১২]

১৯২৪ সালে, মুর ছয়মাসের একটি ভ্রমণ বৃত্তি পান যা তিনি উত্তর ইতালিতে মাইকেলেঞ্জেলো, জোত্তো দি বন্দোনে, জিওভানি পিসানো এবং আরও কতিপয় প্রাচীন গুরুদের মহান শিল্পকর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে ব্যায় করেন। এই সময়ে তিনি প্যারিসেও যান, আকাদেমি কলারসিতে সময়ানুগ-নকশার ক্লাসের সুবিধা নিয়ে, এবং ট্রকাডেরোতে, একটি টল্টেক-মায়া ভাস্কর্যসদৃশ আকৃতির প্লাস্টারের ছাঁচ, দ্যা চ্যাক মুল, যা তিনি পূর্বে বইয়ে চিত্রলিপি হিসেবে দেখছেন তা দর্শন করেন। তার ভাস্কর্যের প্রধান প্রসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে মুরের কাজের ওপরে শায়িত মূর্তিটির গভীর প্রভাব ছিল।[১৩]

হ্যাম্পস্টিড[সম্পাদনা]

লন্ডনে ফিরে এসে, মুর রয়াল শিল্পকলা কলেজে সাত বছরের শিক্ষক পদে যোগদান করেন। তাকে সপ্তাহে দুইদিন কাজ করতে হত, যার ফলে তিনি তার নিজের কাজে সময়ব্যায় করতে সক্ষম হন। তার প্রথম গণপূর্ত কাজ, দখিন হাওয়া (১৯২৮-২৯), ছিল ৫৫ ব্রডওয়েতে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের সদর দফতরের দেওয়ালের উপরে করা 'চার হাওয়ার' আটটি কারুশিল্পের একটি।[১৪] অন্য 'হাওয়ায়গুলো' সমসাম্যিক ভাস্কর যেমন এরিক গিল এবং মাটিসংলগ্ন শিল্পকর্মের নির্মাতা এপ্সটাইন দ্বারা খোদিত ছিল। ১৯২৮ দেখে মুরের প্রথম একক প্রদর্শনী, লন্ডনের ওয়ারেন গ্যালারিতে আয়োজিত।[১৫] ১৯২৯ সালের জুলাইয়ে, মুর বিয়ে করেন ইরিনা র‍্যাডেটস্কিকে, রয়াল কলেজের একজন অংকন শিক্ষার্থী। ইরিনা জন্ম নেন ১৯০৭ সালে কিয়েভে ইউক্রেনিয়-পোলিশ বাবামায়ের ঘরে। তার বাবা রুশ বিপ্লব থেকে ফেরত আসেননি এবং তার মা'কে প্যারিসে উদ্বাসিত করা হয় যেখানে তিনি একজন ব্রিটিশ সেনা অফিসারকে বিয়ে করেন। এক বছর পর ইরিনা'কে লুকিয়ে প্যারিসে আনা হয় এবং সেখানে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত, যার পরে তাকে বাকিংহ্যামশায়ারে তার সৎবাবার আত্মীয়দের কাছে বাস করার জন্য পাঠান হয়।

দখিন হাওয়া, ১৯২৮–২৯; মুরের প্রথম গণপূর্ত শিল্পকর্ম ছিল পোর্টল্যান্ড পাথরে খোদিত এবং মেদিচি চ্যাপেলের জন্য মাইকেলএঞ্জেলোর মূর্তি এবং চ্যাক মূলের মূর্তির প্রভাব দেখা যায়

মুরের সাথে বিবাহে ইরিনা নিরাপত্তা খুঁজে পান এবং শীঘ্রই তার জন্য পোজ দিতে শুরু করলেন। তাদের বিয়ের অল্প কিছুদিন পরেই, তারা হ্যাম্পস্টিডে ১১এ পার্কহিল রোড এনডব্লিউ৩-এর একটি স্টুডিওতে থাকতে যান, কতাাপয় আভা-গার্ড শিল্পী যারা সেখানে নিবাস শুরু করছিলেন তাদের ছোট কলোনিতে যোগদান করে। অল্পকিছুদিন পরেই, হেপওয়ার্থ এবং তার দ্বিতীয় স্বামী বেন নিকলসন মুরদের স্টুডিওর মোড়ে একটি স্টুডিওতে থাকতে আসেন, যখন নাউম গ্যাবো, রোল্যান্ড পেনরোজ, সিসিল স্টিফেনসন এবং শিল্প সমালোচক হারবার্ট রিডও সেই এলাকায় বাস করছেন (রিড এলাকাটিকে উল্লেখ করেন "ভদ্র শিল্পীদের একটি নীড়" হিসেবে)।[১৬] এটি রিডের প্রচারিত ধারণাগুলোর একটি দ্রুত পরনিষেকের দিকে নিয়ে যায়, যা জনগণের কাছে মুরের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। এলাকাটি ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন উদ্বাস্তু শিল্পী, স্থপতি এবং ডিজাইনারদের আমেরিকা যাওয়ার পথিমধ্যে থামার একটি স্থান হয়ে দাঁড়ায়- যাদের কেউকেউ পরবর্তীতে মুরের কাছ থেকে কাজ পাবেন।

১৯৩২ সালে, রয়াল কলেজে ছয় বছর শিক্ষকতার পর, মুর চেলসি শিল্পকলা বিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।[১৭] শৈল্পিকভাবে, প্যারিসে তাদের নিয়মিত ভ্রমণ এবং যেমন পাবলো পিকাসো, জর্জ ব্র্যাক, জা আরপ এবং আলবার্তো জিয়াকমেতি'র মত বিশিষ্ট প্রগতিশীল শিল্পীদের সংস্পর্শে আংশিক প্রভাবে পড়ে মুর, হেপওয়ার্থ এবং সেভেন অ্যান্ড ফাইভ সোসাইটির অন্যান্য সদস্যরা ধীরে ধীরে আরও বিমূর্ত শিল্প,[১৮] নির্মাণ করবেন। মুর অধিবাস্তববাদের সাথে খুনসুটি করেন, ১৯৩৩ সালে পল ন্যাশের আধুনিক শিল্প আন্দোলন "ইউনিট ওয়ান"-এ যোগদান করে। ১৯৩৪ সালে, মুর স্পেন ভ্রমণ করেন, তিনি ভ্রমণ করেন আল্টামিরার গুহা (যাকে তিনি বর্ণনা করেছেন "গুহাচিত্রের রাজকীয় একাডেমী" হিসেবে), মাদ্রিদ, টলেডো এবং প্যামপ্লোনা।[১৯]

মুর এবং ন্যাশ আন্তর্জাতিক অধিবাস্তব প্রদর্শনী, যা ১৯৩৬ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয় তার সংগঠন সমিতিতে ছিলেন। ১৯৩৭ সালে, রোল্যান্ড পেনরোজ মুরের কাছ থেকে একটি পাথরের বিমূর্ত "মা এবং সন্তান" কিনে নেন জা তিনি হ্যাম্পস্ট্যাডে তার বাড়ির সামনের বাগানে প্রদর্শন করে। শিল্পকর্মটি অন্যান্য বাসিন্দাদের কাছে বিতর্কিত প্রতিপন্ন হয় এবং স্থানীয় পত্রিকা শিল্পকর্মটির বিরুদ্ধে পরবর্তী দুই বছর ধরে একটি প্রচারণা চালায়। এই সময়ে মুর ধীরে ধীরে স্পষ্ট খোঁদাই থেকে ব্রোঞ্জ ছাঁচের দিকে ঝুঁকে পড়েন, প্রস্তুতিমূলক অংকনের বদলে প্রাথমিক নকশাকে কাঁদা বা প্লাস্টারের ছাঁচে ফেলে।

১৯৩৮ সালে, মুরের প্রথমবারের মত কেনেথ ক্লার্কের সাথে দেখা হয়।[২০] এই সময় থেকে, ক্লার্ক মুরের শিল্পকর্মে একজন অসম্ভাব্য কিন্তু প্রভাবশালী রক্ষক হয়ে উঠেন,[২১] এবং গ্রেট ব্রিটেনের শিল্প পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি শিল্পীর জন্যে প্রদর্শনী এবং কমিশন নিশ্চিত করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

আরও দেখুন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
নলে নারী এবং সন্তান (১৯৪০) (Art.IWM ART LD 759)
কয়লা চেহারায়. একজন খনি শ্রমিক একটি গামলা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছেন (১৯৪) (Art.IWM ART LD 2240)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনায় চেলসি শিল্পকলা বিদ্যালয়কে নরদ্যাম্পটনে অপসারিত করা হয় এবং মুর তার শিক্ষকতার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যুদ্ধের সময়ে, মুর বিমান আক্রমণ থেকে লন্ডনবাসীদের আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে ঘুমানোর শক্তিশালী চিত্র অংকন করেন।[২২] কেনেথ ক্লার্ক, ওয়ার আর্টিস্টস' অ্যাডভাইজরি কমিটির (ডব্লিউএএসি) সভাপতি, পূর্বে চেষ্টা করেছিলেন মুরকে একজন পূর্ণ বেতনের যুদ্ধ শিল্পী হিসেবে নিয়োগ দিতে এবং এখন আশ্রয় চিত্রের কয়েকটি কিনতে রাজি হন এবং পরবর্তীতে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহারের জন্যে চুক্তি করেন। ডব্লিউএএসি যেসব আশ্রয় চিত্র কিনে সেগুলো ১৯৪০ সালের শরত এবং ১৯৪১ সালের বসন্তের মধ্যে অঙ্কিত এবং ডব্লিউএএসি-এর পরিকল্পনা দ্বারা কেনা সবচেয়ে ভাল পণ্য বলে বিবেচিত হয়।[২৩] ১৯৪১ সালের আগস্টে ডব্লিউএএসি মুরকে ভাড়া করেন ইয়র্কশায়ারের হোয়েলডেল কয়লাখনি, যেখানে তার পিতা শতাব্দীর শুরুতে কাজ করেন, তার ভূগর্ভে কাজ কর্মরত খনি শ্রমিকদের চিত্র আঁকার জন্যে। মুর আশ্রয়স্থলের লোকদের চিত্র অংকন করেন নিস্ক্রিয়ভাবে বিপদ কেটে যাওয়ার জন্যে অপেক্ষারতভাবে আর খনি শ্রমিকদের আঁকেন কয়লামুখে আগ্রাসীভাবে কাজ করা অবস্থায়।[২৪] এইসব চিত্র যা, উদাহরণস্বরূপ ডব্লিউএএসি-এর ব্রিটেন অ্যাট ওয়ার প্রদর্শনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল যা উত্তর আমেরিকায় যুদ্ধের সময়ে সফর করে তা মুরের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বাড়াতে সাহায্য করে, বিশেষ করে আমেরিকায়।[২৩]

১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের হ্যাম্পস্টেডের বাড়ি বোমার শার্পনেলে আঘাত পাওয়ার পর, মুর এবং ইরিনা লন্ডন থেকে হার্টফোর্ডশায়ারের মাচ হ্যাডামের কাছাকাছি ছোট গ্রাম পেরি গ্রিয়ারের হগল্যান্ডস নামে একটি খামারবাড়িতে বাস করতে যান।[২৫] এটি হয়ে ওঠে মুরের বাকি জীবনের জন্যে তার বাড়ি এবং কর্মশালা। পরবর্তী জীবনে অসাধারণ সম্পত্তি অর্জনের পরেও, মুর কখনও আরও বড় স্থানে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি এবং কিছুসংখ্যক বাইরের দালান এবং স্টুডিও সংযোজন ব্যতীত, পরের বছরগুলোতে বাড়িটি অল্পই পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৪৩ সালে, তিনি নরদ্যাম্পটনের, সেইন্ট ম্যাথিউ'স গির্জা একটি কাজ পান, ম্যাডোনা এবং চাইল্ড এর মূর্তি খোঁদাই করার জন্যে; পরিবার-দলের ভাস্কর্যের গুরুত্মপূর্ণ ক্রমের এটি সর্বপ্রথম ভাস্কর্য ছিল।[২৬]

পরবর্তী বছরগুলিতে[সম্পাদনা]

পারিবারিক দল (১৯৫০) ব্রোঞ্জ, বারক্লে বিদ্যালয়, স্টিভেনেজ, হার্টফোর্ডশায়ার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পড়ে ম্রের প্রথম বিশাল আকারের কাজ।
হেনরি মুরের গ্যালারি, তেহরানে, শাভানু ফারাহ, মে ১৯৭১

যুদ্ধের পড়ে এবং পূর্ববর্তী কিছু গর্ভস্রাবের পরে, ইরিনা তাদের কন্যা মেরি মুরের জন্ম দেন মার্চ ১৯৪৬।[২৭] কন্যাটির নামকরণ করা হয় মুরের নামানুসারে, যিনি দুই বছর আগে মারা গেছেন। তার মায়ের প্রয়াণ এবং শিশুটির আগমন উভয়ই পরিবারের প্রতি মুরের মনোনিবেশ করে, যা তিনি প্রকাশ করেন তার প্রচুর "মা-এবং-সন্তান" শিল্পকর্ম নির্মাণের মাধ্যমে, যদিও শায়িত এবং অভ্যন্তরীণ/বাহ্যিক মূর্তিও জনপ্রিয় হিসাবে বিদ্যমান থাকে। একই বছরে, মুর প্রথম আমেরিকায় ভ্রমণ করেন যখন নিউ ইয়র্ক শহরের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টে তার শিল্পকর্মের একটি অতীতসম্পর্কীয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।[২৮]

যুদ্ধের আগে, মুরের কাছে শিক্ষাবিদ হেনরি মরিস এসেছিলেন, যিনি শিক্ষাকে সংস্কার করতে চাচ্ছিলেন তার গ্রাম কলেজ ধারণা দিয়ে। ক্যামব্রিজের কাছে ইম্পিংটনে তার দ্বিতীয় গ্রাম কলেজের জন্যে মরিস ওয়াল্টার গ্রোপিয়াসকে স্থপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন, এবং তিনি চাচ্ছিলেন মুর স্থানটিতে একটি প্রধান গণ ভাস্কর্য তৈরি করবেন। যাইহোক, কাউন্টি কাউন্সিল, গ্রোপিয়াসের নকশা পূর্ণ করতে অসক্ষম ছিল, এবং প্রকল্পটি গুটিয়ে নিল যখন গ্রোপিয়াস আমেরিকায় অভিবাসন করলেন। পুঁজির অভাবে, মরিসকে মুরের ভাস্কর্য বাতিল করতে হয়, যা প্রাথমিক নকশার চৌকাঠ ডিঙাতে পারেনি।[২৯] ১৯৫০ সালে মুর নকশাটি পুনঃব্যবহার করতে পারেন একই রকম একটি কাজের চুক্তির জন্যে, নতুন শহর স্টিভেনেজের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাহিরে। এইবার, কাজটি সম্পূর্ণ হয় এবং পারিবারিক দল হয়ে উঠে মুরের প্রথম বিশাল গণ ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য।[৩০]

১৯৫০ সালে, মুর ক্রমবরধমানভাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কাজের চুক্তি পেতে শুরু করেন। তিনি ১৯৫১ সালে ফেস্টিভাল অফ ব্রিটেনে শায়িত মূর্তিঃ ফেস্টিভাল প্রদর্শন করেন,[৩১] এবং ১৯৫৮ সালে প্যারিসে ইউনেস্কো দালানের জন্য মার্বেলের একটি বিশাল শায়িত মূর্তি নির্মাণ করেন।[৩২] সাধারণ জনগণের জন্য আরও অনেক শিল্পকর্মসহ, মুরের ভাস্কর্যের আকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে থাকে এবং মাচ হ্যাডহ্যামে তার সাথে কাজ করার জন্যে তিনি ক্রমবর্ধমান সংখ্যার সহকারী যেমন অ্যান্থনি ক্যারো[৩৩] এবং রিচার্ড ওয়েন্টওয়ার্থকে নিয়োগ করেন।[৩৪]

১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে, ঠিক পঁচিশ বছর আগে,[৩৫] শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, এনরিকো ফের্মির নেতৃত্বে পদার্থবিদদের দল সর্বপ্রথম নিয়ন্ত্রিত, স্বনির্ভর নিউক্লিয়ার চেইন প্রতিক্রিয়া অর্জন করার পর, যেখানে একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠের বসার স্থান ছিল, র‍্যাকেট কোর্টের নিচে যেখানে পরীক্ষানিরীক্ষা সঙ্ঘটিত হয় সেই স্থানটিতে মুরের নিউক্লিয়ার শক্তি-এর পর্দা উন্মোচিত হয়।[৩৬] একটি বৃহৎ, খোলা চকের মাঝখানে এই ১২ ফুট দীর্ঘ শিল্পকর্মটিকে প্রায়শ মনে করা হয় একটি মাশরুম মেঘের উপরে বিশালাকার মানব খুলি'র চিত্র, কিন্তু মুরের ব্যাখ্যা অনেক ভিন্ন ছিল। তিনি একবার এক বন্ধুকে বলেন যে তিনি আশা করেন দর্শকেরা "এর চারপাশ ঘুরে দেখবে, খোলা স্থানগুলো দিয়ে উঁকি দেবে, এবং হয়তবা তাদের মনে হবে তারা একটি ক্যাথেড্রালে আছে।"[৩৭] ইলিনয়ের শিকাগোতে, মুর বিজ্ঞানকে সম্মান দেখান একটি বিশাল ব্রোঞ্জের সূর্যঘড়ি দিয়ে, যার স্থানীয় নাম ম্যান এন্টারস দ্যা কসমস (১৯৮০), যা মহাকাশ অনুসন্ধান কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দিতে নির্মিত হয়েছিল।[৩৮]

ইংল্যান্ডে মুর তার স্টুডিওতে (১৯৭৫), অ্যালান ওয়ারেনের আলোকচিত্র

মুরের জীবনের শেষ তিন দশক ক্ষুদ্র প্রবাহে বয়; পুরো পৃথিবী জুড়ে বেশ কয়েকটি প্রধান অতীতসম্পর্কিত ঘটনা ঘটে, ১৯৭২ সালের গ্রীষ্মে ফ্লোরেন্সের মুখোমুখি ফোর্ট ডি বেল্ভেডেরের মাঠে সঙ্ঘটিত একটি খুবই বিশিষ্ট প্রদর্শনী উল্লেখযোগ্য। ১৯৫১ সালে জন রিডের প্রযোজনায় নেতৃত্বস্থানীয় তথ্যচিত্র "হেনরি মুর"-এর পর, তিনি বহু চলচিত্রে অতিথি ভূমিকায় উপস্থিত হন। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৬৪ সালে, আমেরিকান চলচিত্র নির্মাতা ওয়ারেন ফরমা কর্তৃক নির্মিত তথ্যচিত্র "৫ ব্রিটিশ ভাস্কর (কর্ম এবং আলাপ)"-এ মুরকে চিত্রিত করা হয়। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে, তার নির্মাণকে চিত্রায়ন করে এক বছরে প্রায় ৪০টি প্রদর্শনী হয়। কাজের চুক্তির সংখ্যা বাড়তে শুরু করল; তিনি ১৯৬২ সালে লন্ডনের সংসদ ভবনের কাছে কলেজ গ্রিনের জন্য ছুরির প্রান্ত দুই খণ্ড সম্পূর্ণ করেন। মুরের মতে, "যখন আমাকে হাউস অব লর্ডসের কাছে স্থান দেওয়া হয়েছিল... আমি স্থানটি এত পছন্দ করেছিলাম যে আমি যাওয়ার কষ্ট করিনি এবং হাইড পার্কে বিকল্প কোন স্থানের সন্ধানে যাইনি—একটি বিশাল পার্কে একটি একক ভাস্কর্য হারিয়ে যেতে পারে। হাউস অব লর্ডসের স্থানটি বেশ ভিন্ন ছিল। এটি একটি রাস্তার পাশে অবস্থিত যেখানে মানুষ হাঁটে এবং সেখানে কিছু বেঞ্চ আছে যেখানে তারা বসে গভীর চিন্তা করতে পারে।"[৩৯]

ধন বৃদ্ধির সাথে সাথে, মুর তার উত্তরাধিকার সম্পর্কে দুশ্চিন্তা করতে শুরু করেন। তার কন্যা মেরি'র সাহায্য নিয়ে, তিনি ১৯৭২ সালে হেনরি মুর ট্রাস্ট গঠন করেন, তার সম্পত্তিকে মৃত্যুকর থেকে রক্ষা করার নিমিত্তে। ১৯৭৭ সালের মধ্যে, তিনি প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ড আয়কর দিচ্ছিলেন; তার করের বোঝা কমাতে, তিনি ইরিনা এবং মেরিকে অছি হিসেবে হেনরি মুর ফাউন্ডেশন স্থাপন করেন একটি নিবন্ধিত দানশালা হিসেবে। ফাউন্ডেশনটি স্থাপিত হয় দৃশ্য শিল্পের প্রতি বিশেষ করে মুরের শিল্পকর্মের প্রতি জনগণের সমাদর বাড়াতে। বর্তমানে এটি তার বাড়ি এবং পেরি গ্রিনের সম্পত্তিসহ একটি গ্যালারি, ভাস্কর্য পার্ক এবং কয়েকটি স্টুডিও পরিচালনা করে।[৪০]

১৯৭৯ সালে জার্মানিতে হেনরি মুর অপ্রত্যাশিতভাবে পরিচিত হয়ে উঠেন যখন তার ভাস্কর্য লার্জ টু ফর্মস বন-এর ১৯৯০ সালের অক্টোবরে জার্মান পুনরেকিত্রিকরণের পূর্বে পশ্চিম জার্মানির রাজধানী ছিল, জার্মান চ্যান্সেলারির সামনের উঠোনে স্থাপিত হয়।[৪১]

মুর ১৯৮৬ সালের ৩১ আগস্ট মারা যান (৮৮ বছর বয়সে) হার্টফোর্ডশায়ারের মাচ হ্যাডামের কাছে তার পেরি গ্রিনের বাড়িতে। তাকে সেইন্ট টমাস গির্জার গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।[৪২]

আর্ট অব অন্টেরিওর হেনরি মুরের সংগ্রহ পৃথিবীতে তার শিল্পকর্মের সবচেয়ে বৃহৎ গণসংগ্রহ

নির্মাণশৈলী[সম্পাদনা]

স্ট্রুটগার্টে মুরের ব্রোঞ্জের সাজান শায়িত নারী ১৯৫৭-৫৮ (ডাই লিজেন্ডে"), তার প্রথমদিকের শায়িত মূর্তিগুলোর উদাহরণ

মুরের সাক্ষর হচ্ছে একটি শায়িত মূর্তি। মুরের এই আকৃতির আবিষ্কার, ল্যুভর জাদুঘরে তার দেখা টল্টেক-মায়ান মূর্তির প্রভাবে প্রভাবিত, তাকে নিয়ে যায় বর্ধিত বিমূর্তকরণের দিকে যখন তিনি তার চিন্তা নকশার উপাদান নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার দিকে নিয়ে গেলেন। মুরের প্রথমদিকের শায়িত মূর্তিগুলো প্রধানত ভর নিয়ে কাজ করে, আর তার পরেরদিকের কাজগুলো ভাস্কর্যের দৃঢ় উপাদানগুলোর সাথে শুধু তাদের আশেপাশের ফাঁকা স্থানের বৈপরিত্বই দেখায় না, বরং তাদের মধ্যের ফাঁকা স্থান যেহেতু তিনি মূর্তিগুলোকে খোলা জায়গা দিয়ে বিদ্ধ করতেন।

প্রথমদিকের মূর্তিগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে বিদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে বাঁকা অংগসমূহ দেহ থেকে বিচ্যুত হয়ে আবার সংযুক্ত হয়েছে। পরবর্তীগুলো, আরও বিমূর্ত মূর্তিগুলো প্রায়শই ফাঁকা স্থান দ্বারা আকারের মাধ্যমে সরাসরি দেহের ভেতর দিয়ে বিদ্ধ হয়েছে, যার মাধ্যমে মুর অবতল এবং উত্তল আকৃতি নিয়ে গবেষণা এবং অদলবদল করেন। এইসব আরও চরম ভেদন বারবারা হেপওয়ার্থের ভাস্কর্যগুলির সাথে সমান্তরালে বিকশিত হয়।[৪৩] হেপওয়ার্থ সর্বপ্রথম একটি ধড় বিদ্ধ করেন মুরের প্রথমদিকের একটি প্রদর্শনীর সমালোচনা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার পরে। টেট-এর প্লাস্টারের শায়িত মূর্তি: ফেস্টিভাল (১৯৫১), মুরের পরের ভাস্কর্যগুলোর বৈশিষ্ট্যমন্ডিতঃ একটি বিমূর্ত নারী মূর্তি শূন্যগর্ভ দ্বারা অন্তঃবিদ্ধ। যুদ্ধের পরের কাজগুলোর মধ্যে, এই ভাস্কর্যের বেশকিছু ব্রোঞ্জের ছাঁচ আছে। মুরের ভাগ্নি যখন জিজ্ঞেস করলেন কেন তার ভাস্কর্যের এমন সাধারণ উপাধি আছে, তিনি উত্তর দিলেন,

"প্রতিটি শিল্পেরই একটি নির্দিষ্ট রহস্য থাকা উচিৎ এবং দর্শকদের কাছে একটি দাবী থাকা উচিৎ। একটি ভাস্কর্য বা চিত্রকে খুব স্পষ্ট একটি নাম দেওয়ার মানে হচ্ছে সেই রহস্যটির একটি অংশ কেড়ে নেওয়া যাতে দর্শক পরবর্তী শিল্পের দিকে সরে যায়, যা সে এইমাত্র দেখল তার অর্থ কি তার ব্যাপারে কোন গভীর মনোনিবেশ না করে। সবাই মনে করে সে (পুরুষ বা নারী) দৃষ্টিপাত করে, কিন্তু আসলে তারা তা করেনা, জানো।" [৪৪]

মুরের প্রথমদিকের কাজগুলোর নিবদ্ধ ছিল স্পষ্ট খোদাইয়ে, যাতে ভাস্কর্যের আকৃতি বিবর্ধিত হয় শিল্পীর পাথরের ওপরে বারবার ছুড়ি চালান। ১৯৩০ সালে আধুনিকবাদের দিকে মুরের রূপান্তর বারবারা হেপওয়ার্থের সাথে সমান্তরাল; দুজন একে অন্যের সাথে এবং হ্যাম্পস্ট্যাডে বসবাসরত আরও কিছু শিল্পীর সাথে নতুন ধারণা বিনিময় করেন। মুর প্রতিটি ভাস্কর্যের জন্য প্রস্তুতিমূলক নকশা এবং অংকন তৈরি করেন। নকশার বইগুলোর বেশিরভাগ টিকে আছে এবং মুরের বিকাশের অন্তর্দৃষ্টি সরবরাহ করে। তিনি নকশায় প্রচুর গুরুত্ম আরোপ করেন; বৃদ্ধ বয়সে, যখন তিনি বাতে আক্রান্ত ছিলেন, তিনি চিত্র আঁকা অব্যহত রাখেন।[৪৫]

দেওয়াল কারুশিল্প নং ১, (১৯৫৫), বাউসেন্ট্রাম, রটার্ডাম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, মুরের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্যগুলো বিশাল আকৃতির হয়ে উঠল, যা বিশেষ করে জনসাধারণের জন্যে কাজের জন্য উপযুক্ত ছিল। ব্যবহারিক দিক থেকে, তিনি স্পষ্ট খোঁদাই বেশিরভাগই ত্যাগ করেন, এবং কিছু সহকারী নিয়োগ দেন প্রাথমিক নকশার উপর ভিত্তি করে বৃহৎ মূর্তি নির্মাণে সাহায্য করার জন্যে। ১৯৪০ এর শেষের দিকে, তিনি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন বর্ধিতভাবে প্রতিমালেপের মাধ্যমে, ব্রোঞ্জে চূড়ান্ত কাজটির ছাঁচ ফেলার আগে কাদামাটি বা প্লাস্টারে হৃত মোমের পদ্ধতি ব্যবহার করে আকৃতি তৈরির মাধ্যমে। এইসব প্রাথমিক নকশা প্রায়শই শুরু হত মুরের হাতে তৈরি ছোট আকৃতির দ্বারা- একটি পদ্ধতি যা তার শিল্পকর্মে একটি প্রানবন্ত অনুভব দেয়। এগুলো দেহ থেকে আসে। মাচ হ্যাডামে তার বাড়িতে, মুর প্রাকৃতিক বস্তুর একটি সংগ্রহশালা নির্মাণ করেন; খুলি, পানিতে ভাসমান কাঠ, নুড়ি পাথর, পাথর এবং ঝিনুক, যা তিনি প্রাণবন্ত আকৃতির জন্যে উদ্দীপনা যোগাত। তার বৃহৎ কাজের জন্য, তিনি সাধারণত, একটি অর্ধবৃহৎ, কার্যকর মূর্তি তৈরি করতেন চূড়ান্ত মূর্তির জন্যে আনুপাতিক হারে আকৃতি বৃদ্ধি করে এবং একটি ব্রোঞ্জের ঢালাই কারখানাছাঁচ ফেলার আগে। মুর প্রায়শই পুরো প্লাস্টারের আকৃতিটি সংশোধন করতেন এবং ছাঁচে ফেলার আগে পৃষ্ঠতলের চিহ্ন যোগ করতেন।

মুর তার পেশাজীবনে অন্তত তিনটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণের স্থাপত্য ভাস্কর্য তৈরি করেন। ১৯২৮ সালে, তার নিজের স্ব-বর্ণিত "চরম সংরক্ষণ" ব্যতীত, তিনি তার প্রথম জনসাধারণের জন্যে কাজের চুক্তি পান লন্ডনের ৫৫ ব্রডওয়ের লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড দালানের জন্যে ওয়েস্ট উইন্ডের জন্য, জ্যাকব এপ্সটাইন অ্যান্ড এরিক গ্রিল কোম্পানিতে যোগদান করে। ১৯৫৩ সালে, তিনি লন্ডনের নিউ বন্ড স্ট্রিটের টাইম-লাইফ দালানের জন্যে একটি চার অংশের কংক্রিটের পর্দা তৈরি করেন, এবং ১৯৫৫ সালে মুর তার প্রথম এবং একমাত্র ইটে খোঁদাই করা শিল্পকর্ম "দেওয়াল কারুশিল্প" তৈরি করেন রটেরড্যামের বাউসেন্ট্রিয়ামে। ইটের কারুশিল্পটি ১৬,০০০ ইট দিয়ে তৈরি হয়েছিল মুরের নির্দেশনায় দুইজন ওলন্দাজ রাজমিস্ত্রির দ্বারা।

ফিটজউইলিয়াম জাদুঘর, ক্যামব্রিজে, বৃহৎ শায়িত মূর্তি (১৯৮৪, ১৯৩৮ সালের একটি ছোট নকশার উপর ভিত্তি করে)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণাম, হলোকস্ট, এবং পারমানবিক বোমার যুগ মধ্য-১৯৪০ সালের ভাস্কর্যে একটি অনুভূতি প্রবেশ করায় যে শিল্পকে তার প্রাক-সাংস্কৃতিক এবং প্রাক-মূলদ উৎসে ফিরে যাওয়া উচিৎ। সেই স্ময়ের সাহিত্যে, জঁ-পল সার্ত্র্‌র মত লেখকেরা একটি অভিন্ন হ্রাস দর্শন প্রবর্তন করতেন।[৪৬] নিউ ইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে উত্তম আধুনিকতাবাদী ভাস্করদের মধ্যে একজন, আলবার্তো জিয়াকোমেটির একটি প্রদর্শনীতে সূচনা বক্তব্যে, সারত্রে "ইতিহাসের সূচনা এবং সমাপ্তি" নিয়ে কথা বলেন।[৪৭] অবরোধ থেকে অপরাজিত হয়ে ইংল্যান্ডের উদয় হওয়ার সম্পর্কে মুরের বোধ সহনশীলতা এবং ধারাবাহিকতার বৈশিষ্ট্যমন্ডিত শিল্পকর্মের দিকে মনোনিবেশ নিয়ে যায়।[৪৬]

উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

Abstract sculpture made of rusting steel
এন্থনি ক্যারো'র ড্রিম সিটি, (১৯৯৬), মরিচা ধরা ইস্পাত, ইয়র্কশায়ার ভাস্কর্য উদ্যান

মুরের খ্যাতির চরম সীমার সময়ে যে সব ভাস্কর উদিত হন, এবং তার মৃত্যুর পরে, নিজেদেরকে তার ছায়ার নিচে খুঁজে পান। ১৯৪০ সালের শেষের দিকে, মুর একজন পৃথিবীখ্যাত যশস্বী ব্যাক্তি ছিলেন; তিনি ব্রিটিশ ভাস্কর্যের এবং সাধারণ ভাষায় ব্রিটিশ আধুনিবাদের কণ্ঠস্বর ছিলেন। পরবর্তী প্রজন্মকে প্রতিনিয়ত তার সাথে তুলনা করা হত, এবং তার উত্তরাধিকার, তার "প্রতিষ্ঠার" পরিচয়পত্র এবং তার অবস্থানকে আক্রমণ করে প্রতিক্রিয়া জানায়। ১৯৫২ সালে ভেনিস বিয়েনালে, আটজন নতুন ভাস্কর তাদের ভীতির জ্যামিতি নির্মাণ করেন মুরের সহনশীলতা, ধারাবাহিকতা,[৪৮] ব্রিটিশ প্যাভিলিয়নের বাইরে অবস্থিত তার ব্রোঞ্জের বৃহৎ যুগল খাড়া মূর্তির ধারণার পেছনের আদর্শের সরাসরি বিরোধিতা করে, এবং ভেতরের আরও অমসৃণ এবং আরও কৌণিক শিল্পের শক্তিশালী বৈপরীত্য দেখান।[৪৯]

তারপরও ব্রিটিশ এবং আন্তর্জাতিক উভয়ের কয়েক প্রজন্মের খ্যাতনামা ভাস্করদের উপরে মুরের সরাসরি প্রভাব ছিল। যেসব শিল্পী তাদের কাজে মুরের গুরুত্ম স্বীকার করেছেন তারা হলেন স্যার এন্থনি ক্যারো,[৫০] ফিলিপ কিং,[৫১] এবং আইজ্যাক উইটকিন,[৫২] তাদের তিনজনই মুরের সহকারী ছিলেন। অন্যান্য শিল্পী যারা তার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তারা হলেন হেলেইন ব্লুমেনফিল্ড, ড্র্যাগো মারিন চেরিনা, লিন চ্যাডউইক, এডুয়ারডো পাওলজ্জি, বারনার্ড মেডোস, রেগ বাটলার, উইলিয়াম টার্নবুল, রবার্ট এডামস, কেনেথ আর্মিটাজ এবং জেফরি ক্লার্ক।[৫৩]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

২০০৫ সালের ডিসেম্বরে, ২ টন (২.০ লং টন; ২.২ শর্ট টন) শায়িত মূর্তি (১৯৬৯-৭০) - ৩ মিলিয়ন পাউন্ডে বিমা করান - হেনরি মুর ফাউন্ডেশনের মাটি থেকে থেকে ক্রেন দিয়ে উঠিয়ে একটি ট্রাকে তোলা হয় এবং এখন পর্যন্ত তা উদ্ধার করা যায়নি।[৫৪] ২০১২ সালে সূর্যঘড়ি (১৯৬৫) নামে একটি ভাস্কর্য এবং আরেকটি শিল্পের ব্রোঞ্জ নির্মিত একটি স্তম্ভ, এগুলোও ফাউন্ডেশনের সীমানা থেকে, চুরির দায়ে দুইজনকে এক বছরের জন্য জেল দেওয়া হয়।[৫৫] ২০১৩ সালের অক্টোবরে গ্লেনকিন ভাস্কর্য উদ্যানে মুরের চারটি শিল্পকর্মের একটি, খাঁড়া মূর্তি (১৯৫০), আনুমানিক ৩ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের, চুরি হয়ে যায়।[৫৫][৫৬]

সাজান উপবিষ্ট নারী ১৯৫৭-৫৮, ইয়র্ক শায়ার ভাস্কর্য উদ্যান

২০১২ সালে, লন্ডন বরো অব টাওয়ার হ্যামলেটস-এর পরিষদ সাজান উপবিষ্ট নারী ১৯৫৭-৫৮-এর আরেকটি সংস্করণ বিক্রি করার ঘোষণা দেন, একটি ১.৬ টন ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য।[৫৭] মুর, একজন খ্যাতনামা সমাজতান্ত্রিক, ভাস্কর্যটি এটির বাজার মুল্যের একটি ভগ্নাংশে বিক্রি করেন প্রাক্তন লন্ডন কাউন্টি কাউন্সিলের কাছে এই ভেবে যে ভাস্কর্যটি সর্বসাধারণের জন্যে একটি স্থানে প্রদর্শিত হবে এবং যারা একটি সামাজিকভাবে বঞ্চিত এলাকার অধিবাসীদের জীবন সমৃদ্ধ করবে। ওল্ড ফ্লো ডাকনামে, এটাকে স্থাপন করা হয় ১৯৬২ সালে স্টিফোর্ড কাউন্সিল এস্টেটে কিন্তু এটিকে ভাংচুর করা হয় এবং ইয়র্কশায়ার ভাস্কর্য উদ্যানে ১৯৯৭ সালে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টাওয়ার হ্যামলেটস পরিষদ সাজান উপবিষ্ট নারীকে ক্যানারি ঘাটের ব্যাক্তিগত জমিতে সরিয়ে নেওয়ার বিবেচনা করে কিন্তু তার পরিবর্তে বিক্রির জন্যে "অন্য পন্থা অন্বেষণ"-এর সিদ্ধান্ত নেন।[৫৮] ঘোষণাটির প্রতিক্রিয়ায় দ্যা গার্ডিয়ানে একটি খোলা চিঠি প্রকাশিত হয়, শিল্পীর মেয়ে মেরি মুর, টেট গ্যালারীর পরিচালক স্যার নিকোলাস সেরোটা, চলচিত্র নির্মাতা ড্যানি বয়েল, এবং জেরেমি ডেলারের মত শিল্পীদের দ্বারা সাক্ষরিত। চিঠিটিতে বলা হয় যে শিল্পকর্মটির বিক্রয় "হেনরি মুরের মূল বিক্রয়ের মর্মের বিরুদ্ধে যায়।[৫৯]

জনপ্রিয়তা[সম্পাদনা]

বর্তমানে, হেনরি মুর ফাউন্ডেশন হার্টফোর্ডশায়ারে শিল্পীর পেরি গ্রিনের প্রাক্তন বাড়ি, ৭০ একর (২৮ হেক্টর) ভাস্কর্য ভূমি সাথে তার সংস্কার করা বাড়ি এবং স্টুডিও পরিচালনা করে পর্যটন স্থান হিসেবে। এটি লিডসের হেনরি মুর ইন্সটিটিউটও পরিচালনা করে, যা প্রদর্শনী এবং আন্তর্জাতিক ভাস্কর্য নিয়ে গবেষণা কর্ম আয়োজন করে। ইউকে'তে মুরের শিল্পকর্মে জনসাধারণের আগ্রহের পতন কয়েকজন বোধ করেন কিন্তু সাম্প্রতিককালে তা পুনর্জীবিত হয়েছে ২০১০ সালে নিয়ে টেট ব্রিটেনে এবং কিউ'তে মুর আর যথাক্রমে ২০০৭ এবং ২০১১ সালে হ্যাটফিল্ডে হেনরি মুরকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে। যে ফাউন্ডেশনে তিনি অর্থদান করতেন তা যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিদেশে বৃত্তিদান করে এবং প্রদর্শনী কর্মসূচীর মাধ্যমে সমসাময়িক শিল্প প্রচারণায় গুরুত্মপূর্ণ ভূমিকা রাখে।[৬০]

সংগ্রহ[সম্পাদনা]

Photograph of a large bronze abstract sculpture, in front of a glass and concrete building.
তিন প্রণালির শিল্প নং ২(তীরন্দাজ),(১৯৬৪–৬৫) ১৯৬৬ সাল থেকে ন্যাথান ফিলিপস স্কোয়ারেটরোন্টো সিটি হলের সামনে স্থাপিত আছে

ইংল্যান্ড[সম্পাদনা]

পৃথিবীতে মুরের শিল্পকর্মের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত এবং পেরি গ্রিন, হার্টফোর্ডশায়ারে মুরের চল্লিশ বছরের নিবাসের গৃহ এবং ভূমির ৬০ একর জমিতে অবস্থিত। জায়গাটি এবং সংগ্রহ বর্তমানে হেনরি মুর ফাউন্ডেশনে মালিকানায় আছে।[৬১]

২০০৬-এর ডিসেম্বরে, হেনরি মুর ফাউন্ডেশনের আঙিনায় চোর ঢোকে এবং মুরের শায়িত মূর্তির ছাঁচ ১৯৬৯-৭০ (এলএইচ ৬০৮) চুরি করে - একটি ৩.৬ মিটার (১২ ফু) দীর্ঘ, ২.১ টন (২.১ লং টন; ২.৩ শর্ট টন) ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য। ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায় যে তারা একটি ক্রেন ব্যাবহার করে শিল্পকর্মটিকে একটি চোরাই সমতল ট্রাকে নামায়। এর উদ্ধারে তথ্য চেয়ে ফাউন্ডেশন একটি ভাল পরিমাণের পুরষ্কার ঘোষণা করে। ২০০৯ সালের মে মাসের মধ্যে, একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বলেন যে তারা বিশ্বাস করেন শিল্পকর্মটিকে, একসময় যার মুল্য ছিল ৩ মিলিয়ন পাউন্ড (ইউএস ডলার ৫.৩ মিলিয়ন); সম্ভবত টুকরো ধাতুর জন্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, প্রায় ৫,০০০ পাউন্ডের জন্যে।[৬২][৬৩] ২০১২ সালের জুলাই মাসে, ২২ ইঞ্চি (৫৬০ মিমি) ব্রোঞ্জের সূর্যঘড়ি ১৯৬৫, ৫০০,০০০ পাউন্ড মুল্যের, মুর ফাউন্ডেশন থেকে চুরি হয়ে যায়।[৬৪] সেই বছরের শেষের দিকে, বিবিসি'র ক্রাইমওয়াচ টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বিশদ অনুসরণ করে, শিল্পকর্মটি উদ্দার করা হয়, এবং চোরদের বার মাসের জেল দেওয়া হয়।[৬৫]

মুর টেট গ্যালারিকে ৩৬টি ভাস্কর্য উপহার দেন, সাথে চিত্রশিল্প, প্রাথমিক নকশা এবং অন্যান্য শিল্পকর্ম।[৬৬]

টরোন্টো[সম্পাদনা]

টরোন্টোর আর্ট গ্যালারি অব অন্টেরিওতে হেনরি মুর ভাস্কর্য কেন্দ্র উন্মুক্ত হয় ১৯৭৪ সালে। এটি পৃথিবীতে জনসাধারণের জন্যে মুরের শিল্পকর্মের সবচেয়ে বৃহৎ সংগ্রহ, এর বেশিরভাগই ১৯৭১ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে তার দ্বারা দান করা। ১৯৬৬ সাল থেকে মুরের তিন প্রণালীর শিল্প নং ২ (তীরন্দাজ) টরোন্টো সিটি হলের ন্যাথান ফিলিপস স্কয়ারে স্থাপিত।[৬৭]

পরিচিতি[সম্পাদনা]

বীর আবক্ষ মূর্তি, হেনরি মুর অ্যালেক্সান্ডার স্টোডারট নির্মিত ১৯৯২

১৯৪৮ সালে, মুর ভেনিস বিয়েনেল-এ আন্তর্জাতিক ভাস্কর্য পুরষ্কার পান।[৬৮] তিনি ১৯৫১ সালে নাইটহুড প্রত্যাখ্যান করেন কারণ তিনি মনে করেন যে পদকটি তাকে সাংগঠনিক ব্যক্তিতে পরিণত করবে এবং "এরকম একটি পদবী হয়তবা আমার সহশিল্পীরা যাদের আমার মত একই লক্ষ্য আছে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।[৫৩] তবে তিনি ১৯৫৫ সালে দ্য কম্প্যানিয়ন অব অনার, ১৯৬৩ সালে দ্য অর্ডার অব মেরিট এবং ১৯৬৮ সালে এরাসমাস প্রাইজ জেতেন।

তিনি ন্যাশনাল গ্যালারি এবং টেট গ্যালারি উভয়ের অছি ছিলেন।[৬৯] পরবর্তী প্রতিষ্ঠানটির একটি অংশ শুধুমাত্র তার শিল্পকর্ম প্রদর্শনী করবে তার দেওয়া এই প্রস্তাবটি কিছু শিল্পীর মধ্যে অসন্তুষ্টির সৃষ্টি করে। ১৯৭৫ সালে, তিনি টার্নার সমিতির প্রথম সভাপতি হন,[৭০] যা প্রতিষ্ঠিত হয় একটি ভিন্ন জাদুঘরের প্রচারণার জন্যে যাতে টার্নারের সম্পূর্ণ অর্পিত অর্থ[৭১] একত্র করা যেতে পারে, ন্যাশনাল গ্যালারি এবং টেট গ্যালারি দ্বারা যে লক্ষ্য পরাস্ত হয়।

লন্ডন শহরকে দেওয়া মুর এবং তার সাম্প্রতিক শিল্প সমিতি ১৯৬৭ সালে ছুরি প্রান্ত দুই খণ্ড ১৯৬২-৬৫ হাউসেস অব পার্লামেন্টেের বিপরীতে এবিংডন স্ট্রিট গার্ডেনে স্থাপিত, যেখানে ওয়েস্টমিনিস্টারের সংবাদ প্রতিবেদনের পটভূমিতে এর নিয়মিত উপস্থিতি এটিকে ব্রিটেনে মুরের সবচেয়ে বিশিষ্ট শিল্পে পরিণত করে। ছুরির দুই প্রান্ত ১৯৬২-৬৫ ২০১১ সালে সংসদীয় শিল্প সংগ্রহ দ্বারা এর ক্রয়ের আগ পর্যন্ত বিতর্কিত ছিল।[৭২]

শিল্প বাজার[সম্পাদনা]

তার পেশাজীবনের শেষের দিকে, মুর নিলামে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল জীবিত শিল্পী ছিলেন। ১৯৮২ সালে, তার মৃত্যুর চার বছর আগে, নিউ ইয়র্কের সদবি একটি ৬ ফুট শায়িত মূর্তি (১৯৪৫), ১.২ মিলিয়ন ইউএস ডলারে বিক্রি করেন সংগ্রাহক ওয়েন্ডেল চেরির কাছে। যদিও ৪.১ মিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি রেকর্ড প্রথম ১৯৯০ সালে ধার্য হয়, মুরের শিল্পবাজারের পরবর্তী বছরের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অবনতি ঘটে। ২০১২ সালে, তার আত-ফুটের ব্রোঞ্জের শায়িত মূর্তি: ফেস্টিভাল (১৯৫১) ক্রিস্টিতে ১৯.১ মিলিয়ন ইউএস ডলারে রেকর্ড পরিমাণে বিক্রি হয়, ফ্রান্সিস বেকনের পরে তাকে ২০শ শতাব্দীর দ্বিতীয় ব্যয়বহুল ব্রিটিশ শিল্পীতে পরিণত করে।[৭৩]

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Grohmann, 16.
  2. "1898–1925: Childhood and Education"। Henry Moore Foundation। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জানুয়ারি ২০১৭ 
  3. Grohmann, 15.
  4. Berthoud, 19
  5. Berthoud, 16–19
  6. "Oxford Dictionary of National Biography"। ২৬ এপ্রিল ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৯ 
  7. Beckett et al.
  8. Wilkinson, Alan G. (২০০২)। Henry Moore: Writings and Conversations। University of California Press। পৃষ্ঠা 41। আইএসবিএন 0-520-23161-9 
  9. "Letter to Arthur Sale, 30 April 1940"। Imperial War Museum। ৮ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৭ 
  10. "Henry Moore: Life and Work"। Museum of Modern Art। ২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  11. Allemand-Cosneau, Claude; Fath, Manfred; Mitchinson, David (১৯৯৬)। Henry Moore। Nantes: Musée des Beaux Arts। পৃষ্ঠা 63। আইএসবিএন 3-7913-1662-1 
  12. Berthoud, 61–2
  13. "Henry Moore: Biography 1916–1925"। Henry Moore Foundation। ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  14. Cork, Richard (১৯৮৫)। Art Beyond the Gallery in Early 20th Century England: In Early 20th Century England। Yale University Press। পৃষ্ঠা 249। আইএসবিএন 0-300-03236-6 
  15. Berthoud, 88
  16. "Henry Moore: Sculptor"। Modernism 101। ১০ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  17. Grohmann, 30.
  18. "The Seven and Five Society"। Tate। ২৬ জুলাই ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  19. Rojas, Laurie (৩০ অক্টোবর ২০১৩)। "Henry Moore Revisits Spain"The Art Newspaper। ৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  20. Berthoud, 172
  21. Beckett et al., 6.
  22. "Insight at end of the Tunnel"। Tate। ৯ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ আগস্ট ২০০৮ 
  23. Brain Foss (২০০৭)। War paint: Art, War, State and Identity in Britain, 1939–1945। Yale University Press। আইএসবিএন 978-0-300-10890-3 
  24. Art from the Second World War। Imperial War Museum। ২০০৭। আইএসবিএন 978-1-904897-66-8 
  25. Berthoud, 192–193
  26. "Henry Moore"। Guggenheim Collection। ১ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  27. "Henry Moore: The Human Dimension". HMF Enterprises, 1991. 83. আইএসবিএন ০-৮৫৩৩১-৬১০-৪
  28. Beckett et al., 96.
  29. Berthoud, 221–222
  30. Berthoud, 261
  31. Wilkinson, 275.
  32. "Moore, Henry ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৬ জুন ২০১৯ তারিখে". UNESCO. Retrieved on 16 August 2008.
  33. Anthony Caro ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে. Tate exhibition catalogue, 2005. Retrieved on 20 September 2008.
  34. Wentworth. tate.org.uk. Retrieved on 20 September 2008.
  35. 3:36 p.m., 2 December 1967. In: McNally, Rand. "Illinois; Guide & Gazetteer". Illinois Sesquicentennial Commission. University of Virginia, 1969. 199.
  36. Beckett et al., 221.
  37. Sachs, Robert G. "Henry Moore, sculptor". In "The Nuclear Chain Reaction-Forty Years Later". University of Chicago. Retrieved on 11 November 2007. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ নভেম্বর ২০০৭ তারিখে
  38. Enscripted on the plaque at the base of the sculpture.
  39. Chamot, Mary; Farr, Dennis; Butlin, Martin. "Henry Moore ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে". "The Modern British Paintings, drawings and Sculpture", Volume II. London: Oldbourne Press, 1964. 481. Retrieved on 5 September 2008.
  40. Kennedy, Maev. "A hush falls over Henry Moore country ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে". The Guardian, 22 April 1999. Retrieved on 24 September 2008.
  41. "GHDI - Image"ghi-dc.org। ৩০ জুলাই ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৯ 
  42. Alexander Davis, 1986 - 1991, Volume 4 of Henry Moore Bibliography ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে, Alexander Davis, Henry Moore Foundation, 2009, p. 140, আইএসবিএন ০৯০৬৯০৯১০৪
  43. "The Hole of Life ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ অক্টোবর ২০১১ তারিখে". Tate Magazine, Issue 5, Autumn 2005. Retrieved on 6 September 2008.
  44. Day, Elizabeth. "The Moore legacy ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে". The Observer, 27 July 2008. Retrieved on 4 September 2008.
  45. Lawrence Sabbath (5 October 1985). Show chance to view "20th-century Michelangelo" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ মে ২০১৬ তারিখে (interview with Ann Garrould). The Montreal Gazette. Accessed September 2013.
  46. Causey, 34.
  47. Morris, Frances. "Paris Post War: Art and Existentialism 1945–55". Tate Gallery, 1993. আইএসবিএন ১-৮৫৪৩৭-১২৪-X
  48. Causey, 71.
  49. Ann Jones (2007). Geometry of Fear: Works from the Arts Council Collection ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ জুন ২০১৫ তারিখে (exhibition leaflet). London: Southbank Centre. Accessed 6 May 2017.
  50. Caro biography ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে. anthonycaro.org. Retrieved on 4 September 2008.
  51. "Phillip King ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ মে ২০০৮ তারিখে". sculpture.org.uk. Retrieved on 6 September 2008.
  52. "Isaac Witkin" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ আগস্ট ২০১১ তারিখে. The Times, 10 May 2006. Retrieved on 29 August 2008.
  53. "The Bronze Age" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ মে ২০১৮ তারিখে. Tate Magazine, Issue 6, 2008. Retrieved 23 August 2008.
  54. David Wilcock (13 July 2012), Henry Moore sundial stolen from former garden ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩০ জুন ২০১৭ তারিখে The Independent.
  55. Bronze Henry Moore work stolen from sculpture park ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ জুলাই ২০১৭ তারিখে Evening Standard, 13 October 2013.
  56. "Missing Henry Moore bronze statue 'worth £3m'"। bbc.co.uk। ১৩ অক্টোবর ২০১৩। ১৬ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৩ 
  57. Carol Vogel (5 November 2012), British Art World Figures Protest Possible Sale of a Henry Moore ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৮ নভেম্বর ২০১২ তারিখে New York Times.
  58. Ian Youngs (5 October 2012), Council to sell Henry Moore sculpture ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে BBC News.
  59. Dalya Alberge (3 November 2012), Britain's cultural elite battles to halt sale of Henry Moore sculpture ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১১ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে The Guardian.
  60. "Unfinished Business: Mark Wilsher on view from 26 July ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে". Henry Moore Foundation, 2008. Retrieved on 22 September 2008.
  61. "Henry Moore Foundation at Perry Green"। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৯ 
  62. Bowcott, Owen (১৯ ডিসেম্বর ২০০৫)। "Lorry used to steal £3m Moore sculpture found on housing estate"The Guardian। ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০০৯ 
  63. "£3m Henry Moore sculpture stolen"BBC News Online। ১৭ ডিসেম্বর ২০০৫। ১০ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ জুন ২০০৯ 
  64. "Henry Moore sundial sculpture stolen from museum garden"the Guardian। ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৯ 
  65. "Henry Moore sundial theft pair jailed"BBC News Online। ৪ ডিসেম্বর ২০১২। ১১ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৩ 
  66. Henry Moore ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে Museum of Modern Art, New York
  67. "The Archer - sculpture - Nathan Phillips Square"toronto.ca। ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  68. "Henry Moore ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩১ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে". Visual Arts Department, British Council. Retrieved on 5 September 2008.
  69. Chamot, Mary; Farr, Dennis; Butlin, Martin . "Henry Moore OM, CH ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ তারিখে". From The Modern British Paintings, Drawings and Sculpture, London 1964, II. Reproduced at Tate.org. Retrieved on 21 August 2008.
  70. "J.M.W. Turner ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে". Turner Society. Retrieved on 16 August 2008.
  71. "Turner Collection ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৬ মার্চ ২০১২ তারিখে". Tate Gallery. Retrieved on 9 August 2008.
  72. "Conservation of Henry Moore sculpture to begin"। London। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ৯ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০১৯ 
  73. Colin Gleadell (13 February 2012), Modern sales review: when Moore means more ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৪ জুন ২০১৭ তারিখে The Daily Telegraph.

উদ্ধৃত কাজ[সম্পাদনা]

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]