বুদ্ধবচন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সংস্কৃত ও পালি ভাষায় বুদ্ধবচন বলতে বোঝায় “গৌতম বুদ্ধের বাণী”। বৌদ্ধধর্মে যা প্রথাগতভাবে বুদ্ধের শিক্ষা হিসেবে স্বীকৃত, তাকেই ‘বুদ্ধবচন’ বলা হয়। সকল বৌদ্ধ সম্প্রদায়েই এমন কিছু কিছু ধর্মগ্রন্থ বুদ্ধবচন হিসেবে পরিচিত, যাতে ঐতিহাসিক চরিত্র গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত কোনো বাণী নেই। এই ধরনের গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য থেরগাথাবিমলকীর্তি নির্দেশ সূত্র।।

ভারতীয় বৌদ্ধধর্মে[সম্পাদনা]

ডোনাল্ড লোপেজের মতে, কোন কথাগুলিকে বুদ্ধবচন হিসেবে ধরা হবে এবং কোন কথাগুলিকে ধরা হবে না, তার সুস্পষ্ট নির্দেশিকা প্রাচীন যুগেই স্থির করা হয়েছিল। এই প্রাচীন নির্দেশিকা দেখে মনে হয়, ধর্ম বিষয়টি ঐতিহাসিক চরিত্র গৌতম বুদ্ধ যা বলেছিলেন, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।[১] মহাসাংঘিকমূলসর্বাস্তিবাদ বুদ্ধের কথোপকথনের সঙ্গে তার শিষ্যদের কথোপকথনও বুদ্ধবচন হিসেবে ধরে থাকে।[১]

বুদ্ধগণ, বুদ্ধের শিষ্যগণ, ঋষিগণদেবগণের মতো বিভিন্ন সত্ত্বাকে বুদ্ধবচনের প্রেরক মনে করা হয়।[১] এই ধরনের কথোপকথনের বিষয়বস্তু সূত্রগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। তারপর তুলনা করা হয় বিনয়ের সঙ্গে এবং তার মূল্যায়ন করা হয় ধর্মের প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে।[২][৩] তারপর এক বুদ্ধ, এক সংঘ বা স্থবিরদের ছোটো কোনো গোষ্ঠী বা কোনো বিদ্বান স্থবির কর্তৃক বুদ্ধবচনের স্বীকৃতি পায়।[২][৩]

ভারতের যে বিপুলায়তন বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থাবলি রচিত হয়েছিল, তা পর্যবেক্ষণ করে রোনাল্ড ডেভিডসন লিখেছিলেন যে, ভারতীয় বৌদ্ধরা বুদ্ধবচন সাহিত্যের বিশিষ্ট রচয়িতা। এটি ভারতীয় বৌদ্ধধর্মের একটি বৈশিষ্ট্য:[৪]

Given the extraordinary extent of material passing at any one time under the rubric of the "word of the Buddha," we might simply pause and acknowledge that Indian Buddhists were extraordinarily facile literateurs. [...] Institutional creativity of this order, at this level, over this length of time, is sheer inspired genius.

থেরবাদী বৌদ্ধধর্মে[সম্পাদনা]

থেরবাদী বৌদ্ধধর্মে পালি আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থাবলি হল বুদ্ধবচনের প্রামাণ্য সংকলন। থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থগুলি বুদ্ধের সমসাময়িক কাল থেকে মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। তবে ২৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আগে তা লিপিবদ্ধ হয়নি। ৫০০ খ্রিষ্টাব্দ অবধি এই ধর্মগ্রন্থগুলি ক্রমান্বয়ে সংশোধিত হয়েছে। তবে এগুলি আধুনিক রূপ পেয়েছে।

পূর্ব এশীয় বৌদ্ধধর্মে[সম্পাদনা]

পূর্ব এশীয় বৌদ্ধধর্মে যা বুদ্ধবচন হিসেবে ধরা হয় তা সংগৃহীত হয়েছে চীনা বৌদ্ধ আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থগুলিতে। এর সবচেয়ে সুপরিচিত সংস্করণটি হল তৈশো ত্রিপিটক

চীনা বৌদ্ধ স্থবির সুয়ান হুয়ার মতে, পাঁচ ধরনের সত্ত্বা বৌদ্ধধর্মের সূত্র বলতে পারেন: একজন বুদ্ধ, কোনো বুদ্ধের একজন শিষ্য, একজন ঋষি, একজন দেব বা এই চার ধরনের সত্ত্বার কোনো একজন উত্তরসূরি। যদিও এঁদের প্রথমে তাদের বক্তব্য যে ধর্মসম্মত সে বিষয়ে একজন বুদ্ধের কাছ থেকে শংসাপত্র নিতে হয়। এরপরই সূত্রগুলি বুদ্ধবচন হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[৫]

তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে[সম্পাদনা]

তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে যা বুদ্ধবচন বলে স্বীকৃত তা সংকলিত হয়েছে কাংয়ুরে। পূর্ব এশীয় ও তিব্বতি বৌদ্ধ আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থগুলিতে সবসময় বুদ্ধবচন অন্যান্য প্রামাণ্য সংগৃহীত সাহিত্যের মধ্যে ধরা হয়। যদিও সাধারণ দৃষ্টিতে বুদ্ধবচন কি আর কি নয় তা পূর্ব এশীয় ও তিব্বতি বৌদ্ধধর্মে এক।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Lopez, Donald. Elaborations on Emptiness: Uses of the Heart Sutra. 1998. p. 28
  2. Lopez, Donald. Elaborations on Emptiness: Uses of the Heart Sutra. 1998. p. 29
  3. Skilton, Andrew. A Concise History of Buddhism. 2004. p. 83
  4. Davidson, Ronald. Indian Esoteric Buddhism: Social History of the Tantric Movement. p. 147
  5. Hsuan Hua. The Buddha speaks of Amitabha Sutra: A General Explanation. 2003. p. 2