অট্ঠকথা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

"অট্ঠকথা" পালি সাহিত্যের এক শ্রেণীর অংশ। ত্রিপিটকের যেসব অংশ কঠিন, অর্থ বুঝতে কষ্ট হয় সেসব অর্থের বর্ণনা প্রকাশিত হয় অট্ঠকথায়। অট্ঠকথার অর্থ "অর্থকথা, অর্থবর্ণনা, ব্যাখ্যা, ভাষ্য, অর্থতত্ত্ব, অর্থবাদ ইত্যাদি।[১]

অট্ঠকথা সাহিত্যের ইতিহাস[সম্পাদনা]

অট্ঠকথা গ্রন্থসমূহ[সম্পাদনা]

টীকা[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

অট্ঠকথা সম্পর্কিত বৌদ্ধ ঐতিহাসিক গ্রন্থের সত্যতা[সম্পাদনা]

বৌদ্ধ ঐতিহাসিক গ্রন্থ গুলোতে ত্রিপিটক সংকলন ও অট্ঠকথা সম্পর্কিত উপযুক্ত তথ্য পাওয়া যায়। মহাবংস ও দীপবংস গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়-

"পিটকত্রয় এবং তার অট্ঠকথা পূর্বে মহাজ্ঞানী(মহামতি) ভিক্ষুগণ কন্ঠে ধারণ করে নিয়ে এসেছিলেন(সিংহলে)। সেই সময় সত্ত্বগণের পরিহানি লক্ষ্য করে ভিক্ষুগণ সমবেত হয়ে ধর্মের চিরস্থায়িত্বের জন্য পুস্তক আকারে লিপিবদ্ধ করেন।"

চূল্লবংস গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়-

"পালিমত (ত্রিপিটক) এখানে (জম্বুদ্বীপ) আনা হয়েছে, অট্ঠকথা এখানে নেই; আচরিয়বাদ এবং অন্যান্য মতবাদও এখানে দেখা (পাওয়া) যায় না। সীহলট্ঠকথা শুদ্ধ, বুদ্ধ দেশিত এবং শারিপুত্র প্রমুখ আচার্য কর্তৃক ব্যাখ্যাকৃত, তিনটি সঙ্গীতিতে আবৃত্তি কৃত এবং মহিন্দ থের কর্তৃক সিংহলে প্রচারিত ও সিংহলী ভাষায় অনূদিত।"

সদ্ধম্ম সংগহো গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়-

"হে বুদ্ধঘোষ! জম্বুদ্বীপে কেবল পালি পিটকত্রয়ই (ত্রিপিটক) আছে, তার অট্ঠকথা এবং আচরিয়বাদ নেই। শারিপুত্র প্রমুখ কৃত এবং সঙ্গীতিত্রয়ে সংকলিত সিংহলী অট্ঠকথা মহিন্দ থের কর্তৃক সিংহলী ভাষায় অনূদিত হয়ে সিংহলদ্বীপে সংরক্ষিত আছে।"

গন্ধবংস গ্রন্থে নিম্নোক্ত তথ্য পাওয়া যায়-

"প্রথম মহাসঙ্গীতিতে ৫০০ ক্ষীণাসব (অর্হৎ) নাম, অর্থ, উদ্দেশ্য, পদ, ব্যাখ্যা এবং পরিশোধনসহ পঞ্চনিকায় সংগ্রহ করেছিল। দ্বিতীয় সঙ্গীতিতে ৭০০ ক্ষীণাসব (অর্হৎ) পুনরায় শব্দের অর্থাদি সংকলন করেছিলেন। তৃতীয় সঙ্গীতিতে ১০০০ ক্ষীণাসব (অর্হৎ) পুনরায় শব্দের অর্থাদি সংকলন করেছিলেন। মোট ২২০০ জন ভিক্ষুই ছিলেন পোরাণাচার্য বা প্রাচীন আচার্য। এরূপ মহাকচ্চায়নসহ ২২০০ জন ক্ষীণাসব (অর্হৎ) পোরাণাচার্য নামে কথিত। পোরাণাচার্যগণই অট্ঠকথাচার্য।"

সাসনবংস গ্রন্থে নিমোক্ত তথ্য পাওয়া যায়-

" অতঃপর, বুদ্ধঘোষ থের'র সিংহলদ্বীপ গিয়ে ত্রিপিটক লিখন এবং অট্ঠকথা সংকলন করেন। এ বিষয়ে মনে সংশয় উৎপাদন অনুচিত। বুদ্ধঘোষ থের পিটকত্রয় লিখে পরে জম্বুদ্বীপে ফিরে এসেছিলেন।"

এছাড়াও আরো অনেক বৌদ্ধ গ্রন্থে ত্রিপিটক সংকলন ও অট্ঠকথা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Pali Atthakatha Sahitter Itibritto,Dilip Kumar Barua, P.Adorn Pulication, Dhaka,Fabuary 2013,P.27