বিষয়বস্তুতে চলুন

আফগানিস্তান রাজ্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আফগানিস্তান রাজ্য

د افغانستان واکمنان
দ্য আফগানিস্তান ওয়াকমানান
پادشاهي افغانستان,
পাদেশাহি-এ-আফগানিস্তান
১৯২৬–১৯৭৩
আফগানিস্তানের প্রতীক
প্রতীক
জাতীয় সঙ্গীত: রাজকীয় সালাম (১৯২৬-১৯৪৩)
শাহে গাজুর-ও-মেহরাবানে মা (১৯৪৩-১৯৭৩)
বাংলা: "আমাদের সাহসী ও সদাশয় রাজা"
আফগানিস্তানের অবস্থান
রাজধানীকাবুল
প্রচলিত ভাষাপশতু, ফার্সি
ধর্ম
ইসলাম (সুন্নি)
সরকারসাংবিধানিক রাজতন্ত্র
বাদশাহ 
 ১৯২৬–১৯২৯
আমানউল্লাহ খান
 ১৯২৯
ইনায়েতউল্লাহ খান
 ১৯২৯
হাবিবউল্লাহ কালাকানি
 ১৯২৯–১৯৩৩
মুহাম্মদ নাদির শাহ
 ১৯৩৩–১৯৭৩
মুহাম্মদ জহির শাহ
প্রধানমন্ত্রী 
 ১৯২৯–১৯৪৬
মুহাম্মদ হাশিম খান (প্রথম)
 ১৯৭২–১৯৭৩
মুহাম্মদ মুসা শফিক (শেষ)
আইন-সভালয়া জিরগা
ঐতিহাসিক যুগযুদ্ধমধ্যবর্তী যুগ  স্নায়ুযুদ্ধ
 প্রতিষ্ঠা
৯ জুন ১৯২৬
 বিলুপ্ত
১৭ জুলাই ১৯৭৩
আয়তন
১৯৭৩৬,৪৭,৫০০ বর্গকিলোমিটার (২,৫০,০০০ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা
 ১৯৭৩
11966400
মুদ্রাআফগান আফগানি
আইএসও ৩১৬৬ কোডAF
পূর্বসূরী
আফগানিস্তান আমিরাত
বর্তমানে যার অংশ আফগানিস্তান

আফগান রাজ্য বা আফগানিস্তান রাজ্য (পশতু: د افغانستان واکمنان, দ্য আফগানিস্তান ওয়াকমানান; ফার্সি: پادشاهي افغانستان, পাদেশাহি-এ-আফগানিস্তান) ছিল ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এই রাষ্ট্র আফগানিস্তান আমিরাতের উত্তরসুরি। ক্ষমতারোহণের সাত বছর পর আমানউল্লাহ খান এই রাষ্ট্রের প্রথম বাদশাহ হন।

আমানউল্লাহ খান দেশের আধুনিকীকরণ করতে চেয়েছিলেন। এর ফলে দেশে কয়েকবার অসন্তোষ দেখা দেয়। বিদ্রোহ সৃষ্টির পর ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তার ভাই ইনায়েতউল্লাহ খানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে পদত্যাগ করেন। ইনায়েতউল্লাহ খান মাত্র তিনদিন ক্ষমতায় ছিলেন। এরপর বিদ্রোহের নেতা হাবিবউল্লাহ কালাকানি ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

দশ মাস পরে আমানউল্লাহ খানের যুদ্ধমন্ত্রী মুহাম্মদ নাদির ভারত থেকে নির্বাসন ত্যাগ করে আফগানিস্তান ফিরে আসেন। তার ব্রিটিশ সমর্থিত বাহিনী কাবুল দখল করে নেয়। এরপর হাবিবউল্লাহ কালাকানিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। মুহাম্মদ নাদির এরপর শাসনভার লাভ করেন। ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে তাকে বাদশাহ ঘোষণা করা হয়। তিনি আমানউল্লাহ খানের অনেক সংস্কার বন্ধ করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ জহির শাহ আফগানিস্তানের বাদশাহ হন। মুহাম্মদ জহির শাহ ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তার চাচাত ভাই মুহাম্মদ দাউদ খান কর্তৃক ক্ষমতাচ্যুত হন। দাউদ খান রাজতন্ত্রের বদলে প্রজাতন্ত্র স্থাপন করেছিলেন। জহির শাহর সময় আফগানিস্তানের সাথে অন্যান্য দেশের সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। এদের মধ্যে রয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যযুক্তরাষ্ট্র[]

১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর জহির শাহর শাসনামলে আফগানিস্তান লীগ অফ নেশনসে যোগ দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আফগানিস্তান নিরপেক্ষ ছিল। মুহাম্মদ দাউদ খান তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে শিল্পায়ন ও শিক্ষার উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।[]

ভূগোল

[সম্পাদনা]

আফগানিস্তান রাজ্যের পশ্চিমে ইরান, উত্তরে সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্বে চীন এবং দক্ষিণে পাকিস্তান ও ভারত সীমান্ত ছিল। পাহাড়ি এবং বেশিরভাগ শুষ্ক দেশটির আয়তন ছিল ৬৫২,২০০ বর্গকিলোমিটার (২৫১,৮৩০ বর্গমাইল)। দেশটির অদ্ভুত আকৃতি এবং সীমানা, বিশেষ করে ওয়াখান করিডোর, রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে একটি বাফার রাষ্ট্র হিসেবে এর পূর্বের ভূমিকার ফল। শীতকালে বেশিরভাগ অঞ্চলে তুষারপাত সাধারণ ছিল এবং বৃষ্টিপাত কম ছিল।

জনসংখ্যা

[সম্পাদনা]

এই দেশটিতে বিভিন্ন জাতিগত জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস ছিল। পশতুন, হাজারা, তাজিক, উজবেক এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। আফগানিস্তানের অধিকাংশ মানুষ বিশেষত ৯৪ % ছিল মুসলিম অর্থাৎ ইসলাম ধর্মের অনুসারী যার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুন্নি মুসলিম ও বাকীরা শিয়া মুসলিম ছিল । অমুসলিমদের বা সংখ্যালঘুদের মধ্যে হিন্দু ও শিখ ধর্মাবলম্বীরা ছিল। আফগানিস্তানের প্রধান ভাষা দারি ও পশতুন তবে অনেক আফগানরা দুই ভাষায় কথা বলে।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Rubin, Barnett। "DĀWŪD KHAN"Ehsan Yarshater (সম্পাদক)। Encyclopædia Iranica (Online সংস্করণ)। United States: Columbia University। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ January 2008 {{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)
  2. "History of Afghanistan"। History of Afghanistan। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ মার্চ ২০০৯ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |প্রকাশক=-এ ইটালিক বা গাঢ় লেখা অনুমোদিত নয় (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]