মেয়ে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মেয়ে

মেয়ে শব্দটি দিয়ে প্রধান দুটি মানব লিঙ্গের একটিকে বোঝানো হয়। একটি মেয়ে শিশু শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্কতার স্তরে এসে পরিপূর্ণ নারীতে পরিণত হয়। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত কোনো নারীকে মেয়ে বলা হয়ে থাকে। আনুমানিক ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ থেকে অবিবাহিত মহিলা বা নারীকে মেয়ে বলে অভিহিত করা শুরু হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সাধারণত অল্পবয়সী নারীকে বোঝাতে মেয়ে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অবশ্য, একজন নারীকে 'মেয়ে' বলা অনেক ক্ষেত্রে মানহানিকর, অপমানজনক; কারণ একই বয়সের পুরুষকে 'ছেলে' বলা হয় না কিংবা 'ছেলে' বলা সংগত মনে করা হয় না, সেক্ষেত্রে 'মেয়ে' শব্দটির প্রয়োগে এক ধরনের লিঙ্গ বৈষম্য প্রদর্শিত হয়। 'মেয়ে' শব্দটির ব্যবহারিক যথার্থতা মূলত সমাজই নিরূপণ করে। অপরদিকে এই শব্দের যথার্থতা দিয়ে মেয়ে শব্দটা ব্যবহার করে অনেক অনেক জনপ্রিয় গান, কবিতা, উপন্যাস রচিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, অনেক জনপ্রিয় গান, কবিতা, উপন্যাসে মেয়ে শব্দটি যথার্থভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।

শিক্ষা[সম্পাদনা]

প্রাচীন মিশরে নারীশিক্ষার প্রমাণ পাওয়া যায়। রাজকন্যা নেফেরুরা'র আভিজাত্য ও সম্মান ছিল শুধু সম্রাট ফারাওর কন্যা হিসেবে নয়, বরং তাঁকে দেওয়া শিক্ষার জন্যেও। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে আছে, কারণ ছেলেদের স্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে ও লিখতে পাঠানো হয়, অথবা ছেলেরা এমন সুযোগ পায়, যা মেয়েরা পায় না। তাদের মায়ের সাথে বাড়িতে থেকে গৃহস্থালি কাজ শিখতে হয়। তবু কিছু নারী শিক্ষিত হয়। ১৮শ শতকের প্রথম দশকে ইউরোপে শিক্ষার মূল্য অনুধাবন করে জনসাধারণের জন্যে স্কুল খোলা হয় এবং লোকজনকে শিক্ষাগ্রহণে উৎসাহিত করা হয়। ফরাসি বিপ্লবের সময় থেকেই ফ্রান্সে নারীশিক্ষার প্রসার ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাধ্যতামূলক শিক্ষা আইন ইউরোপীয় জনগণকে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করে।

মেয়ে ও সমাজ[সম্পাদনা]

বহু প্রাচীন সমাজে মেয়েদের লালন-পালন করা হতো শুধু বড় হয়ে স্ত্রীতে পরিণত হওয়ার জন্যে। এখনো অনেক সমাজে, বিশেষত পুরুষতান্ত্রিক সমাজগুলোতে একজন মেয়ের তুলনায় একজন ছেলেকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে লালন-পালন করা হয় এবং মেয়েদেরকে নানারকম পারিবারিক বিধি-নিষেধের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়। আবার অনেক সমাজে ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয় না, সকল ক্ষেত্রে ছেলেদের ন্যায় সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে। এই সমাজগুলোতে মেয়েরা স্বাধীন ও স্বনির্ভর হয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। মেয়েদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখে আমাদের এই সমাজ।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]