জেমোর রুদ্রদেব

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

জেমোর রুদ্রদেব হল পশ্চিমবঙ্গেমুর্শিদাবাদ জেলাকান্দি মহকুমায় অবস্থিত জেমো স্থানের হিন্দু রাজবংশের ষোড়শ শতকে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন শিলামূর্তি। যুগ্ম 'কালাগ্নিরুদ্র' দেববিগ্রহ রূপে পূজিত হলেও এক বিপর্যয়ের দরুণ একটি মূর্তি গঙ্গায় তলিয়ে যায় এবং সেই থেকে জেমো রাজবংশের মূর্তিটির নাম হয় 'রুদ্রদেব'। পরবর্তীকালের প্রত্নতাত্ত্বিকরা এই শিলামূর্তিটিকে প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি হিসাবে নিশ্চিত করেন।[১]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে কামদেব ব্রহ্মচারী নামে এক সিদ্ধপুরুষ কামরূপ থেকে এসে ময়ূরাক্ষী নদীতীরে কান্দিতে 'কালাগ্নিরুদ্র' নামে দুটি দেববিগ্রহ স্থাপন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর মূর্তিদুটি ক্রমে জেমো রাজবংশের হস্তগত হয়। একবার চৈত্রসংক্রান্তির গঙ্গাস্নান করানোর সময় একটি মূর্তি গঙ্গায় তলিয়ে গিয়ে পরবর্তীতে কাটোয়ার নিকট উদ্ধারণপুরে প্রাপ্ত হয়, এটি আজও সেই অঞ্চলের সর্বজনপূজ্য গ্রামদেবতা 'কালাগ্নিরুদ্র'। এই বিপর্যয়ের পর জেমো রাজবংশের মূর্তিটির গঙ্গাস্নান বন্ধ হয়ে যায় এবং নাম হয় 'রুদ্রদেব'। উদ্ধারণপুর ও জেমোর মূর্তি দুটির পূজার্চনার রীতিগত সাদৃশ্য আছে।[১]

মূর্তিদ্বয়ের বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

পরবর্তীকালের প্রত্নতাত্ত্বিকদের বিচারে, গৃহদেবতা ও গ্রামদেবতারূপে পূজিত মূর্তি দুটি আসলে বুদ্ধমূর্তি। জেমোর বিগ্রহটির বৈশিষ্ট্য হলঃ বুদ্ধ পদ্মাসনে সমাধিমগ্ন অবস্থায় উপবিষ্ট। পাশে বোধিসত্ত্বগণ (দক্ষিণে মৈত্রেয়, বামে লোকেশ্বর) ও দেবগণ এবং নীচে উপাসকরা বর্তমান। পালঙ্কের উপরে বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণোন্মুখ শয্যাশায়ী মূর্তির মাথার উপর মহাবোধিদ্রুম বৃক্ষের শাখা। মাথার দুপাশে পদ্মের উপর উপবিষ্ট ধর্মচক্র মুদ্রাসহ আরও দুটি মূর্তি আছে। এটি আসলে বুদ্ধগয়ায় বুদ্ধের সম্বোধিলাভকালের মূর্তি৷ এই মূর্তির মন্দিরের উঠোনে বাঁধানো বেদীর নীচে কয়েকটি ডোমনী-চণ্ডালী মুণ্ড সমাহিত আছে।
উদ্ধারণপুরের মূর্তিটির বৌদ্ধশাস্ত্রে নাম বজ্রভৈরব, হিন্দুশাস্ত্রে রুদ্রভৈরব। এর চারটি হাত, তিনটি চোখ এবং গলায় নরমুণ্ডমালা। ভৈরব একহাতে বজ্র ধরে ডাকিনী পিশাচীদের শাসন করছেন, অন্যহাতে পদ্মদল, উপরে সাপের ফণা। ভৈরবের দুপাশে শক্তি নারীমূর্তি বিরাজমান। ভৈরবকে ঘিরে অগ্নিশিখা জাজ্জ্বল্যমান এবং পদ্মাসনের নীচে উপাসকরা ভয়ে কম্পমান।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১১৫-১১৭