আল খোয়ারিজমি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুহাম্মদ ইবনে মূসা আল খোয়ারিজমি
সেপ্টেম্বর ৬ ১৯৮৩ সালে আলখোয়ারিজমির ১২০০ তম(আনুমানিক) জন্মদিনে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত একটি ডাকটিকিট
জন্ম প্রায় ৭৮০
খোয়ারিজম[১]
মৃত্যু প্রায় ৮৫০
যুগ মধ্যযুগীয় যুগ (ইসলামের স্বর্ণযুগ)
উল্লেখযোগ্য ধারণা বীজগণিত এবং ভারতীয় সংখ্যাসমূহ উপর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ

আল খোয়ারিজমি (Abū ʿAbdallāh Muḥammad ibn Mūsā al-Khwārizmī)[৩] (৭৮০-৮৫০) মধ্যযুগীয় মুসলিম বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার। তিনি ছিলেন একাধারে গণিতজ্ঞ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী। তার পুরো নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মূসা আলখোয়ারিজমি

  • জন্ম : সোভিয়েত রাশিয়ার আরব সাগরে পতিত আমু দরিয়া নদীর একটি দ্বীপের নিকটে অবস্থিত খোয়ারিজম নামক শহরে। এই শহরটি প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র ছিল যার তত্কালীন নাম ছিল উরগেঞ্চ। তার জন্ম তারিখ বা শৈশব ও কৈশোর সম্বন্ধে কিছু জানা যায়নি। তবে আনুমানিক ৭৮০ খ্রীষ্টাব্দে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন।
  • মৃত্যু : খলিফা আল মামুনের মৃত্যুর ১৪ বছর পর (আনুমানিক ৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে) আল খোয়ারিজমির মৃত্যু হয়।

জীবনের ইতিহাস[সম্পাদনা]

আল খোয়ারিজমি খলিফা আল মামুনের বায়তুল হিকমাহ সংলগ্ন গ্রন্থাগারে গ্রন্থাগারিকের চাকুরি করতেন। খলিফা মামুনের মৃত্যুর পরও তিনি জীবিত ছিলেন এবং পরবর্তী খলিফা আল ওয়াতহিকের (Al Wathiq) শাসনকালের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পাটিগণিত, বীজগণিত, ভূগোল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে প্রভূত অবদান রাখেন। তবে মূলত বীজগণিতের জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশী আলোচিত হন।
এজন্যই তাকে বীজগণিতের জনক বলা হয়।

আল খোয়ারিজমীর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তেমন কিছুই জানা যায়না; এমনকি তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন তা ও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তার নাম থেকে অনুমান করা হয় যে তিনি সম্ভবত আব্বাসীয় শাসনামলে খোরাসান প্রদেশের খোয়ারিজমী (খিভা) হতে আগমন করেন। (বর্তমানে উজবেকিস্থান এর জরাজম প্রদেশ)

প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আল-তাবারী তার নাম দেন মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খারিজমী আল কুতরুবুল্লী (আরবি: موسى الخوارزميّ المجوسيّ القطربّليّ). এই বিশেষণ আল-কুতরুবুল্লী এটাই নির্দেশ করে যে তিনি সম্ভবত বাগদাদ এর নিকটবর্তী ক্ষুদ্র শহর কুতরুবুল, হতে এসেছেন। আল খারিজমীর ধর্ম সম্পর্কে টমুর লিখেছেন:

আল তাবারী কর্তৃক তার উপর আরোপিত আরেকটি বিশেষণ হল, "আল-মাজুশী," এটাই নির্দেশ করে যে তিনি হয়তোবা প্রাচীন জরথ্রুস্ট মতবাদের অনুসারী ছিলেন। এটা ইরানীয় বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে তৎকালীন সময় পর্যন্ত অসম্ভব ছিলনা, কিন্তু “এলজেবরা” গ্রন্থের মুখবন্ধ হতে দেখা যায় যে, আল-খারিজমী ছিলেন একজন ধর্মনিষ্ঠ মুসলমান, অর্থাৎ আল তাবারী বিশেষণ এটাই নির্দেশ করে যে হয়তোবা তাঁর পূর্বপুরুষ কিংবা তিনি সম্ভবত তাঁর কৈশোরে জরথ্রুস্ট মতবাদের অনুসারী ছিলেন।[৪]

ইবনে আল-নাদিম এর কিতাব “আল-ফিরহিস্ট” এ আমরা আল খারিজমীর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী খুঁজে পাই, যেখানে তাঁর লিখিত বই সমূহের একটি তালিকাও রয়েছে। আল-খারিজমী তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ ৮১৩ খ্রিস্টাব্দ হতে ৮৩৩ খ্রিস্টাব্দ সময় কালের মধ্যে রচনা করেছেন। মুসলমানদের পারস্য বিজয় এর পরে বাগদাদ ব্যবসা-বাণিজ্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ফলে দূর-দূরান্ত এমনকি চীন ও ভারত উপমহাদেশ থেকেও প্রচুর ব্যবসায়ী ও বিজ্ঞানী বাগদাদে পাড়ি জমান। অনুমান করা হয় যে আল-খারিজমীও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তিনি বাগদাদে খলিফা আল-মামুন এর লাইব্রেরিতে প্রধান লাইব্রেরীয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন, এবং সেখানে তিনি বিজ্ঞান ও গণিত চর্চা করতেন। এখানে বসেই তিনি গ্রিকসংস্কৃত ভাষায় রচিত অনেক বৈজ্ঞানিক রচনা অনুবাদ করেন।

বীজগণিতে অবদান[সম্পাদনা]

বীজগণিত হল ইসলামী সভ্যতায় তার সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান। বীজগণিতকে তিনিই প্রথম গণিতশাস্ত্রের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন হিসেবে গড়ে তোলেন এবং এর প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভারতীয়রাই প্রথম বীজগণিত নিয়ে গবেষণা করে এবং গ্রিকদের মধ্যে কেবল ডায়োফ্যান্টাস ব্যতিত আর কাউকে বীজগণিত নিয়ে খুব একটা চিন্তাভাবনা করতে দেখা যায়নি। ভারতীয়দের গাণিতিক উত্কর্ষের সময়টা অনেক প্রাচীন ছিল। সুতরাং খোয়ারিজমির সময় বীজগণিতের অবস্থা ছিল ম্রিয়মান। এ সময় তিনি বীজগণিতের ভিত্তি স্থাপন করে আধুনিক গণিতের পথকে অনেকটাই কুসুমাস্তীর্ণ করে তোলেন।

  • খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে হিন্দু গণিতবিদগণ দশমিক পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। হিন্দুদের উদ্ভাবিত এই দশমিক পদ্ধতি খোয়ারিজমিই প্রথম ইসলামী জগতে নিয়ে আসেন। তার রচিত The Book of Addition and Subtraction According to the Hindu Calculation (যোগ-বিয়োগের ভারতীয় পদ্ধতি) তারই উদাহরণ।
  • আরবি ভাষায় তার রচিত গ্রন্থই সর্বপ্রথম ল্যাটিন ভাষায় অনূদিত হয়। পাশ্চাত্য সভ্যতায় ল্যাটিন ভাষার মাধ্যমেই তার গবেষণার বিকাশ ঘটে। অ্যালগরিদম উত্পত্তিই এর উত্কৃষ্ট উদাহরণ।
  • তার রচিত পুস্তক কিতাব আল জাবর ওয়াল মুকাবলা হতে বীজগণিতের ইংরাজী নাম আলজেবরা উত্পত্তি লাভ করে।
  • Algorithm শব্দটি Alkhwarizmi নামের ল্যাটিন অপভ্রংশ algorismi হতে উত্পত্তি লাভ করেছে।

পাটিগণিতে অবদান[সম্পাদনা]

জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান[সম্পাদনা]

ভূগোলে অবদান[সম্পাদনা]

তাঁর রচিত সুরত-আল-আরদ (The image of the Earth) গ্রন্থটি বিশ্বের প্রথম মানচিত্র হিসেবে বিবেচিত।

গ্রন্থাবলী[সম্পাদনা]

জীবনীসংক্রান্ত
বীজগণিত
পাটীগণিত
জ্যোতির্বিদ্যা
  • Goldstein, B. R. (১৯৬৮)। Commentary on the Astronomical Tables of Al-Khwarizmi: By Ibn Al-Muthanna। Yale University Press। আইএসবিএন 0-300-00498-2 
  • Hogendijk, Jan P. (১৯৯১)। "Al-Khwārizmī's Table of the "Sine of the Hours" and the Underlying Sine Table"। Historia Scientiarum 42: 1–12। 
  • লুয়া ত্রুটি মডিউল:Citation/CS1 এর 705 নং লাইনে: Unrecognized manual ID mode।
  • Neugebauer, Otto (১৯৬২)। The Astronomical Tables of al-Khwarizmi 
বর্তুল ত্রিকোণমিতি
  • B. A. Rozenfeld. "Al-Khwarizmi's spherical trigonometry" (Russian), Istor.-Mat. Issled. 32–33 (1990), 325–339.
Jewish calendar
ভূগোল
  • লুয়া ত্রুটি মডিউল:Citation/CS1 এর 705 নং লাইনে: Unrecognized manual ID mode।
  • Mžik, Hans von (১৯১৫)। "Ptolemaeus und die Karten der arabischen Geographen"। Mitteil. D. K. K. Geogr. Ges. In Wien 58: ১৫২। 
  • Mžik, Hans von (১৯১৬)। "Afrika nach der arabischen Bearbeitung der γεωγραφικὴ ὑφήγησις des Cl. Ptolomeaus von Muh. ibn Mūsa al-Hwarizmi"। Denkschriften d. Akad. D. Wissen. In Wien, Phil.-hist. Kl. 59 
  • Mžik, Hans von (১৯২৬)। Das Kitāb Ṣūrat al-Arḍ des Abū Ǧa‘far Muḥammad ibn Mūsā al-Ḫuwārizmī। Leipzig। 

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Berggren 1986; Struik 1987, পৃ. 93
  2. O'Connor, John J.; Robertson, Edmund F., "Abū Kāmil Shujā‘ ibn Aslam", MacTutor History of Mathematics archive, University of St Andrews.
  3. There is some confusion in the literature on whether al-Khwārizmī's full name is Abū ʿAbdallāh Muḥammad ibn Mūsā al-Khwārizmī or Abū Jaʿfar Muḥammad ibn Mūsā al-Khwārizmī. Ibn Khaldun notes in his encyclopedic work: "The first who wrote upon this branch (algebra) was Abu ʿAbdallah al-Khowarizmi, after whom came Abu Kamil Shojaʿ ibn Aslam." (MacGuckin de Slane). (Rosen 1831, pp. xi–xiii) mentions that "[Abu Abdallah Mohammed ben Musa] lived and wrote under the caliphat of Al Mamun, and must therefore be distinguished from Abu Jafar Mohammed ben Musa, likewise a mathematician and astronomer, who flourished under the Caliph Al Motaded (who reigned A.H. 279-289, A.D. 892-902)." Karpinski notes in his review on (Ruska 1917) that in (Ruska 1918): "Ruska here inadvertently speaks of the author as Abū Gaʿfar M. b. M., instead of Abū Abdallah M. b. M."
  4. Toomer