হাসান ইবনে আল-হাইসাম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হাসান ইবনে আল-হাইসাম
Hazan.png
জন্ম (আনুমানিক ৩৫৪হিজরি)[১]
বসরা, ইরাক
মৃত্যু(c. ৪৩০ হিজরি, ১০৪০ খ্রিষ্টাব্দ)[২]
কায়রো, মিশর
বাসস্থান
কর্মক্ষেত্র
পরিচিতির কারণকিতাবুল মানাযির, টলেমির সন্দেহ আলহাজেনের সমস্যা, বিশ্লেষণ,[৩] Catoptrics,[৪] Horopter, Moon illusion, experimental science, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি,[৫] visual perception, empirical theory of perception, প্রাণী মনোবিজ্ঞান[৬]
যাদের দ্বারা প্রভাবান্বিতএরিস্টটল,[৭] ইউক্লিড,[৮] টলেমি,[৯] গ্যালেন, বনু মুসা, তাবিত ইবনে কুরা, আল-কিন্দি, ইবনে সাহল, আবু সাহল আল-কুশি
যাদেরকে প্রভাবিত
করেছেন
ওমর খৈয়াম, Taqi ad-Din Muhammad ibn Ma'ruf, Kamāl al-Dīn al-Fārisī, ইবনে রুশদ, Al-Khazini, John Peckham, Witelo, রজার বেকন,[১০] কেপলার

হাসান ইবন আল হাইসাম(أبو علي، الحسن بن الحسن بن الهيثم;৯৬৫-১০৪০;পূর্ণ নামঃআবু আলি আল-হাসান ইবনে আল হাসান ইবন আল হাইসাম)পশ্চিমা বিশ্বে তিনি তার ল্যাটিনকৃত নাম আল-হাজেন(Al hazen) হিসেবেও পরিচিত। তিনি একজন ইসলামি স্বর্ণযুগের একজন আরব গনিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানীপদার্থবিজ্ঞানী। তিনি প্রায়শই "আলোকবিজ্ঞানের জনক" হিসেবে উল্লেখিত হন, তিনি আলোকবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, বিশেষ করে দর্শনানুভূতির ব্যাখ্যায়। তার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী কাজ হচ্ছে তার কিতাব আল-মানাযির( "আলোকবিদ্যার গ্রন্থ" আরবিঃ كتاب المناظ) ,যা ১০১১ ও ১০২১ এর মধ্যে লেখা বলে অনুমান করা হয় ।তিনি একজন বহুবিদ্যাবিশারদ যিনি দর্শন, ধর্মতত্ত্ব সম্পর্কেও লিখেছেন।

সর্বপ্রথম হাসান ইবন হাইসামই দর্শনানুভূতির ব্যাখ্যায় প্রমাণ দিতে সক্ষম হয়েছিলেন যে আলো বস্তু হতে প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসে বলেই তা দৃশ্যমান হয়। তিনি এটাও আলাদা করতে পেরেছিলেন দর্শনানুভূতির কেন্দ্র চোখে নয়, বরং মস্তিষ্কে। তিনি তার এই তত্ত্বের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের কাছ থেকে। তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির একজন প্রাচীনতম প্রবক্তা, যে তত্ত্ব ও অনুমান অবশ্যই পুনরায় পরিচালনাযোগ্য পরীক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে, এতে তিনি রেনেসাস পণ্ডিতদের পাঁচ শতাব্দী পূর্বেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পরিপুর্ণ ও স্পষ্ট বর্ণনাদাতার মর্যাদা পান।

তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করলেও তার কর্মজীবনের বেশিরভাগ কাটিয়েছেন ফাতেমীয় খিলাফতের রাজধানী কায়রো তে। সেখানে তিনি শিক্ষকতা ও গবেষণা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাকে তার জন্মস্থান বসরার নামে আল-বসরি উপনামেও ডাকা হয়ে থাকে। ফার্সি ইতিহাসবিদ আবুল হাসান বায়হাকি তাকে "দ্বিতীয় টলেমি" বলে উল্লেখ করেছেন। ইবন আল-হাইসাম আধুনিক আলোকবিজ্ঞানের চর্চার পথে পথিকৃত।

জীবনী[সম্পাদনা]

হাসান ইবন আল হাইসাম ৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে বুইদ আমিরাতের রাজধানী বর্তমান ইরাক এর বসরায় এক আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার জন্মস্থান বসরায় উজির এর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং তার পাশাপাশি গনিত এ দক্ষতার জন্য তার নামডাক ছিলো। তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি নীল নদের প্লাবন নিয়ন্ত্রণ করতে বাঁধ নির্মাণে সক্ষম। তিনি ফাতিমীয় খলিফা আল হাকিম বি-আমরিল্লাহ কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়েছিলেন সেখানকার পানিসম্পদ প্রকৌশল এর একটি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। তবে তিনি দ্রুতই তার এ পরিকল্পনার অবাস্তবায়নযোগ্যতা উপলব্ধি করতে পারেন।তখনকার কায়রোর খলিফা তার বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের জন্য উন্মাদ খলিফা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, বলা বাহুল্য এতে তিনি খলিফার রোষে পতিত হন। জনশ্রুতি আছে এরপর তিনি বাধ্যতামূলক অন্তর্ধানে যেতে বাধ্য হন, খলিফার মৃত্যুর পর তার হৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়া হয় এবং তিনি পুনরায় জনসম্মুখে আসতে পারেন। আরো বলা হয়ে থাকে,তিনি নাকি খলিফার রোষ হতে রক্ষা পেতে মাতালের অভিনয় করেছিলেন। এ অন্তরীণ অবস্থায় তিনি তার বিখ্যাত কর্ম, "কিতাব আল মানাযির" লেখা সম্পন্ন করেন। তিনি কায়রো তে জীবনের বাকি অংশ অতিবাহিত করেন , বিখ্যাত আল-আযহার মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি তার গবেষণার কাজ করতেন। মৃত্যু পর্যন্ত তার এ লেখনী ও পান্ডলিপি কপি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।(তার স্বহস্তে লিখিত অ্যাপোলোনিয়াসের কনিক এর লিপি হাজিয়া সোফিয়াতে সংরক্ষিত আছে) তিনি ১০৪০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কিতাব আল-মানাযিরঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল হাইসাম এর সবচেয়ে বিখ্যাত কর্ম হচ্ছে তাঁর সাত খন্ডে রচিত আলোকবিজ্ঞানের উপর গবেষণা গ্রন্থ কিতাব আল-মানাযির("আলোকবিজ্ঞান গ্রন্থ") যা ১০১১ খ্রিষ্টাব্দ হতে ১০২১ খ্রিষ্টাব্দ এর মাঝামাঝি সময় রচিত।

কিতাব আল মানাযির দ্বাদশ শতাব্দীর শেষে অথবা ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে এক অজ্ঞাত পরিচয় পন্ডিত কর্তৃক ল্যাটিনে অনুবাদকৃত হয়েছিলো। ফ্রেড্রিখ রিজনার ১৫৭২ সালে এটি মুদ্রণ করেন। বইটির ল্যাটিনে নাম দিয়েছিলেন অপটিকা থেজারাসঃ আলহাজেনি অ্যারাবিস লিব্রি সেপ্টাম নানপ্রাইমাম এডিটি; ইউসডেম লাইবার ডি ক্রেপাসকুলিস এট নুবিয়াম এসকেনশনিবাস (Latin: Opticae thesaurus: Alhazeni Arabis libri septem, nuncprimum editi; Eiusdem liber De Crepusculis et nubium ascensionibus ,বাংলাঃ গোধুলি এবং মেঘের উচ্চতার বিষয়ে এর রচয়িতার লেখা, আলোকবিদ্যার রত্নভান্ডারঃ আরব আলহাজেন কর্তৃক রচিত সাতটি গ্রন্থ, , প্রথম সংস্করণ)। রিজনার এর এ গ্রন্থের মাধ্যমেই জনপ্রিয় তাঁর নামের ল্যাটিনকৃত রূপ আল-হাজেন(Al-hazen) জনপ্রিয় হয়, তার পূর্বে আল-আলহাসিন(Al-hacen) নামটি অধিক প্রচলিত ছিলো ইউরোপে। তার এ গ্রন্থ মধ্যযুগের ইউরোপে ব্যপক খ্যাতি লাভ করে। জ্যামিতির উপর তাঁর কিছু কাজ ফ্রান্সের প্যারিসে বিবলিওথেকো ন্যাশনালে ১৮৩৪ সালে আবিষ্কৃত হয়।

দৃষ্টিতত্ত্বঃ[সম্পাদনা]

প্রচ্ছদঃ অপটিকা থেজারাস
ল্যাটিনে অনূদিত ইবন আল-হাইসামের কিতাব আল-মানাযির, অপটিকা থেজারাস এর সম্মুখ চিত্র। প্রচ্ছদটি বিভিন্ন আলোকীয় প্রতিভাসের দ্রষ্টান্ত নিয়ে আঁকা হয়েছেঃ রংধনু, আলর প্রতিফলন, প্রতিসরণ, আয়না

প্রাচীনকাল হতে দৃষ্টিশক্তি সম্পর্কে দুটো মতবাদ বেশ জনপ্রিয় ছিলো। প্রথম টি হচ্ছে আলোক নিঃসরণ তত্ত্ব( emission theory) , যেটা ইউক্লিড , টলেমি প্রমুখ চিন্তানায়কেরা সমর্থন করতেন, তাঁরা বিশ্বাস করতেন চোখ হতে আলো বস্তুতে পড়াতে আমরা দেখি। দ্বিতীয় তত্ত্ব আলোক অন্তপ্রেরণ তত্ত্ব ( Intromission theory) , অ্যারিস্টটল এবং তাঁর অনুসারীগণ সমর্থন করতেন। পূর্ববর্তী ইসলামিক দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা( যেমনঃ আল-কিন্দি ) অ্যারিস্টটল, ইউক্লিড এবং গ্যালেন প্রমুখের ধারায় এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিতাব আল মানাযিরের উপর সর্বাপেক্ষা অধিক প্রভাব দেখা যায় টলেমির আলোকবিদ্যার গ্রন্থের, অন্যদিকে চোখের অঙ্গসংস্থানিক বিবরণ তিনি নিয়েছিলেন গ্রিক চিকিৎসাবিজ্ঞানী গ্যালেনের গবেষণা হতে। ইবন আল হাইসাম এর মূল সাফল্য হলো তিনি তার তত্ত্বে ইউক্লিডের আলোকরশ্নির গানিতিক প্রকাশকে গ্যালেনের অঙ্গসংস্থানিক বিবরণ এবং অ্যারিস্টটলের অন্তপ্রেরণ তত্ত্বের সাথে সফলভাবে একীভূত করতে পেরেছিলেন। তিনি আল-কিন্দিকে এ ক্ষেত্রে অনুসরণ করে বলেন "যে রঙিন বস্তুর প্রতিটি বিন্দু হতে যতো সরলরেখা আঁকা যায় ততোদিকে আলো এবং রং এর তথ্য পরিবাহিত করে।" যদিও এটা তাকে সমস্যায় ফেলে দেয় যে কিভাবে একটি দর্শনযোগ্য চিত্র এতে গঠিত হবে যখন অনেক আলোক উৎস হতে আলো বস্তুতে প্রতিফলিত হচ্ছে, বিশেষত যখন বস্তুর প্রতিটি বিন্দু চোখের প্রতিটু বিন্দুতে আলোকরশ্নি প্রেরণ করছে। তার এটা প্রমাণ করতে হতো যে বস্তুর একটি নির্দিষ্ট বিন্দু চোখের একটি এবং কেবল একটি বিন্ধুর সাথে এক এক মিল স্থাপন করে। তিনি এর সমাধানের চেষ্টায় বললেন যে শুধু চোখে লম্বভাবে প্রবেশকৃত রশ্নিই দর্শনানুভূতিতে গুরুত্বপূর্ণ, যে রশ্নি চোখের অন্য অংশ দ্বারা প্রতিসরিত হয় না। তিনি এর একটা ভৌত ব্যাখ্যা দিলেন, যে লম্বভাবে প্রবেশকৃত রশ্নি অধি শক্তিশালী, যেমন লম্বভাবে একটি বোর্ডে একটি বল আঘাত করলে তা হয়তো বোর্ডকে ভেঙে ফেলবে। তবে তির্যকভাবে আসলে স্পর্শ করে চলে যাবে, তেমনে যেসবক্ষেত্রে আলোর প্রতিসরণ ঘটবে তা অপ্রতিসরিত লম্ব রশ্নির তুলনায় দুর্বল। যেনো আলোকরশ্নির লম্ন অংশ চোখের অভ্যন্তরে পতিত হচ্ছে, আর বাকি অংশ প্রতিসরিত হয়ে ওই বিন্দুতে কোণক আকৃতিতে অভিসৃত হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি প্রত্যেক বিন্দু থেকে আসা আলোকরশ্নি যে সমস্যা তৈরি করে তার একটা মীমাংসা হলো; যদি শুধু লম্ব রশ্নিই মুখ্য হয় তবে এক-এক মিল পাওয়া যায়। তিনি পরবর্তীতে বলেন( তাঁর আলোকবিজ্ঞানের সপ্তম গ্রন্থতে) যে অন্য রশ্নিগুলো এমনভাবে প্রতিসরিত হবে যাতে তা লম্বভাবে পতিত হয়।

তার যুক্তি পরিষ্কারভাবে বলেনা যে কেনো লম্বভাবে আপতিত রশ্নিই শুধু চোখ দ্বারা গ্রাহ্য হবে, দুর্বলতর রশ্নিগুলো কেনো দুর্বল্ভাবে চোখে অনুভূত হবে না? এ দূর্বলতা সত্ত্বেও তাঁর সমসাময়িক অন্য কোনো তত্ত্ব এতো বোধগম্য ছিলো না, এবং এ তত্ত্ব ব্যপকভাবে প্রভাবশালী ছিলো, বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপে। তাঁর বইয়ের ল্যাটিন সংস্করণ ডি অ্যাসপেক্টিবাস (De Aspectibus) ত্রয়োদশ হতে স্পতদশ শতক পর্যন্ত অধিকাংশ আলোর সম্বন্ধীয় গবেষণার অনুপ্রেরণা ছিলো। কেপলারের পরবর্তীতে দেয়া রেটিনা প্রতিবিম্বের তত্ত্ব ( যা এক-এক মিল সমস্যার সমাধান দেয়) মূলত ইবন আল হাইসামের অবকাঠামোতেই নির্মিত হয়েছিলো।

হাসান ইবন আল হাইসাম পরীক্ষার মাধ্যমে সফল্ভাবে দেখিয়েছিলেন যে আলো সরল রেখায় চলে, লেন্স, আয়না, প্রতিফলনপ্রতিসরণ সংক্রান্ত বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পাদন করেছিলেন। তার প্রতিফলন ও প্রতিসরণের বিশ্লেষণ আলোর উল্লম্ব ও আনুভূমিক উপাংশকে আলাদাভাবে বিবেচনা করেছেন।

ক্যামেরা অবস্কিউরা প্রাচীন চীনে পরিচিত ছিলো, এবং হান চীনা বহুবিদ্যাবিশারদ প্রতিভা শেন কুও ১০৮৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত তার স্বপ্ন সরোবর রচনাবলী(夢溪筆談; মেংশি বিতান) নামক বৈজ্ঞানিক গ্রন্থে এর আলোচনা করেন। অ্যারিস্টটল তাঁর সমস্যায় ক্যামেরা অবস্কিউরার অন্তর্নিহিত নীতির ব্যাখ্যা করেছিলেন, তবে ইবন আল হাইসাব সর্বপ্রথম এর পরিষ্কার বর্ণনা দেন।

ইবন আল হাইসাম গ্রহণের বর্ণনা দিতে ক্যামেরা অবস্কিউরা ব্যবহার করেন। তার প্রবন্ধ " গ্রহণের প্রকৃতি সম্বন্ধে" , তিনি লিখেছেন গ্রহণের সময় তিনি কাস্তে আকৃতির সূর্য পর্যবেক্ষণ করেন।

কিতাব আল মানাযির হতে গৃহীত চোখের চিত্র
ইবন আল হাইসামের বর্ণিত চোখের গঠন।- তার কিতাব আল মানাযিরের পান্ডুলিপি হতে গৃহীত(এমএস ফাতিহ ৩২১২, ভলিউম ১, সুলেমানিয়া মসজিদ গ্রন্থাগার, ইস্তান্বুল)

আল-হাজেন দৃষ্টিকৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন, চোখের গঠন, চোখের অভ্যন্তরে প্রতিবিম্ব সৃষ্টি এবং দর্শন তন্ত্র ইয়ান পি হাওয়ার্ড পারসেপশন এর একটি নিবন্ধে যক্তি দেখান যে ইবন আল হাইসামকেই বিভিন্ন উদ্ভাবন এবং তত্ত্বের কৃতিত্ব দেয়া উচিত , যেগুলোকে সাধারণত পশ্চিম ইউরোপীয় দের বলে চালিয়ে দেয়া হয় যদিও শতাব্দী পরে সেগুলো তারা লিখেছে। উদাহরণস্বরূপ, তার একটা বর্ণনা ১৯ শতকে হেরিং এর সম উদ্দীপনার সূত্র হিসেবে পরিচিতি পায়। এগুইলোনিয়াসের ৬০০ বছর পূর্বে তিনি উল্লম্ব হরোপ্টারের বর্ণনা দেন, যা প্রকৃতপক্ষে আধুনিক সংজ্ঞার অধিকতর নিকটবর্তী- এবং তাঁর দ্বিনেত্র ত্রটির বর্ণনা পানাম কর্তৃক ১৮৫৮ সালে পুনরাবৃত্তি করা হয়। ক্রেইগ অ্যান স্টকডেল আবার মত প্রকাশ করেছেন যে যদিও নিঃসন্দেহে ইবন আল হাইসাম কে এসবের কৃতিত্ব দিতে হবে তাও এক্ষেত্রে সাবধানতা আবশ্যক। বিশেষ করে তাঁকে যদি টলেমি হতে আলাদা করে চিন্তা করা হয়, যার আলোকসম্বন্ধীয় কাজের সাথে ইবন আল হাইসাম ভালোভাবেই পরিচিত ছিলেন। তিনি টলেমির দ্বিনেত্র দৃষ্টি সংক্রান্ত বর্ণ্নার গুরুত্বপূর্ণ ভুল সংশোধন করলেও তার যে বর্ণনা তা টলেমির সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ। টলেমি বর্তমান হেরিং এর সূত্র নামে পরিচিত বিষয়টিও ব্যাখ্যার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিঃ[সম্পাদনা]

সত্যান্বেষী তিনি নন যিনি পূর্ববর্তীদের রচনা পড়েন এবং তার প্রাকৃতিক বর্ণনাকে অনুসরণ করে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেন। বরং তিনি যিনি তার বিশ্বাসের প্রতি সন্দেহ জ্ঞাপন করেন ও তিনি যা পড়লেন তাকে প্রশ্ন করেন। যিনি যুক্তি এবং যুক্তির প্রদর্শনীর প্রতি আস্থাশীল, এবং কোনো মানবসত্তার প্রতি নয় যার প্রকৃতি নানা অসূক্ষতা এবং অদক্ষতার দোষে দুষ্ট। যিনি বিজ্ঞানীদের লেখনী অনুসন্ধান করবেন, যদি সতান্বেষণ তাঁর উদ্দেশ্য হয়, তাঁর দায়িত্ব হচ্ছে পঠিত সকল বিষয়ের প্রতি নিজেকে শত্রতে পরিণত করা এবং সে বিষয়ের প্রাথমিক ভিত্তি থেকে সীমাস্থ অনুসিদ্ধান্তগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়া, একে সম্ভাব্য সকল দিক হতে আক্রমণ করা। তাঁর নিজের প্রতিও সন্দেহ পোষণ আবশ্যক যখন সে এসবের সমালোচনামূলক পর্যালোচনা সম্পাদন করবেন, যাতে তিনি যেকোনো কুসংস্কার বা পূর্বধারণার বশবর্তী না হয়ে পড়েন। - আবু আলি হাসান ইবন আল হাইসাম

তাঁর সন্দেহ প্রবণতা বর্তমান যেকোনো শিক্ষা, জ্ঞানার্জন এর ক্ষেত্রে মূলমন্ত্র। ইবন আল-হাইসামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো তার আলোক সম্বন্ধীয় গবেষণায় নিয়মতান্ত্রিক ও বিধিবদ্ধ পরীক্ষণশৈলীর উপর তার নির্ভরতা।(ই'তিবার) (আরবিঃ إعتبار) এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োগ। এতদ্ব্যতীত আরেকটি দৃষ্টি আকর্ষণযোগ্য বিষয় হলো তাঁর পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে বিজ্ঞানকে গনিতের নিয়ম দ্বারা প্রকাশ করবার প্রয়াস( বিশেষতঃ জ্যামিতিক পদ্ধতির প্রয়োগ)। তাঁর কিতাব আল-মানাযির এর অধিকাংশ প্রতিজ্ঞার প্রমাণ ও আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট, তিনি যে ভৌত- গানিতিক পদ্ধতির প্রয়োগ পরীক্ষামূলক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের প্রয়োগের প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত তাঁর এ আলোচনা। এ পদ্ধতিতে তিনি দৃর্শনানুভূতির ব্যাখ্যা, আলো এবং বর্ণের উপলব্ধি তার পাশাপাশি ক্যাটোপ্ট্রিকস ও ডাইওপ্ট্রিকস নিয়ে সকল গবেষণার ভিত্তি এ নিয়মতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা পদ্ধতি। (যথাক্রমে আয়না ও লেন্স নিয়ে আলোকীয় গবেষণার নাম) তাঁর কিতাব আল-মানাযিরের মধ্যে আমরা আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির স্পষ্ট সংজ্ঞায়ন এবং প্রয়োগ খুঁজে পাই। যেটা প্রায় রেনেসাস বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের অর্থাৎ স্যার ফ্রান্সিস বেকন, রেনে দেকার্ত, গ্যালিলিও প্রমুখদের প্রায় ছয় শতাব্দী পূর্বে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। তাঁর কাজের আরো একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিজ্ঞানের গাণিতিকীকরণ, যা বর্তমান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমরা প্রায় স্বাভাবিক বলেই ধরে নেই।

আমাদের অবশ্যই স্বতন্ত্র কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর বিষয়ের বৈশিষ্টাবলি, যা সাধারণ দৃষ্টিতে অপরিবর্তনীয়, সুষম, স্পষ্টত প্রকাশ্য এবং সন্দেহাতীত বলে মনে হয়, তা হতে আরোহ অনুমানের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্যকে পৃথক করা উচিত। যার উপর , ধীরেসুস্থে এবং শৃঙ্খলার সাথে আমাদের আলোচনা এবং অনুসন্ধান চালাতে হবে, সমালোচিত হবে প্রাথমিক প্রতিজ্ঞাসমূহ এবং তা হতে গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলোর প্রতি— আমাদের এ তদন্ত এবং পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো সত্যের প্রতি সুবিচার, কুসংস্কারের অনুসরণ হতে মুক্তি, এবং আমরা যা কিছু বিচার এবং সমালোচনা করবো তাতে এ বিষয়টি যত্নসহকারে খেয়াল রাখতে হবে যে তা আমরা সত্যান্বেষণের জন্য করছি, কারো মতামতে বিভ্রান্ত হতে নয়। —আল হাসান ইবন আল হাইসাম, তাঁর কিতাব আল-মানাযির এর একটি অনুচ্ছেদে

ম্যাথিয়াস শ্রাম এর মতে, " তিনি ছিলেন প্রথম যিনি পরিবর্তনশীল পরীক্ষামূলক পরিবেশ ব্যবহার এমন নিয়মতান্ত্রিক সুষম উপায়ে করেছেন, তার একটি পরীক্ষায় দেখা যায় যাতে দুটো ছিদ্র দিয়ে চাঁদের আলো একটি স্ক্রিনের উপর ফেলা হলে আলোর তীব্রতা অবিছিন্নভাবে হ্রাস পেতে থাকে যখন একটি ছিদ্র ধীরে ধীরে বন্ধ করা হতে থাকে।" ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী জিম আল-খালিলি তাঁর প্রভাব এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম সফল প্রয়োগের গুরুত্ব বোঝাতে তাঁকে " আর্কিমিডিস এবং স্যার আইজাক নিউটন এর মধ্যকার দুই সহস্রাব্দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।"

আল হাজেনের সমস্যাঃ[সম্পাদনা]

তার দর্পণ সংক্রান্ত আলোচনায়, কিতাব আল-মানাযিরের ৫ম বইতে একটি সমস্যার অবতারণা করেন যা বর্তমানে আল হাজেনের সমস্যা নামে পরিচিত, যা মূলত ১৫০ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম টলেমি কর্তৃক বর্ণিত হয়েছিলো। এ সমস্যাটি তে সমতলের একটি বিন্দু হতে একটি বৃত্তের পরিধির উপর একটি বিন্দুর উপর এর অভিলম্বের সাথে সমান কোণ উতপন্নকারী সরলরেখা দ্বারা গঠিত পথে আরেক বিন্দুতে পৌছানোর পথ জ্যামিতিকভাবে নির্ণয় করার দরকার ছিলো। এটা একটি বৃত্তাকার বিলিয়ার্ড টেবিলে একটি নির্দিষ্ট স্থান হতে টেবিলের অপর কোনো বিন্দুতে পৌছাতে দেয়ালের যে বিন্দু কে আঘাত করে পৌছাতে হবে তা বের করার সমতুল্য। এর মূল প্রয়োগ ছিলো আলো সম্বন্ধীয় এ সমস্যাটি " একটি আলোক উৎস এবং একটি গোলীয় দর্পণ দেয়া আছে এখন একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবস্থিত পর্যবেক্ষকের চোখে আলো পৌছাতে আলো আয়নার ঠিক কোন বিন্দুতে প্রতিফলিত হবে?" এর সমাধানের জন্য একটি চতুর্থঘাত সমীকরণ সমাধানের প্রয়োজন পড়ে। যেটা হাসান ইবন আল হাইসামকে ধাবিত করে পূর্ণসংখ্যার চতুর্থঘাতের যোগফল বের করার সূত্র বের করতে, তখন পর্যন্ত শুধু ক্রমিক পূর্ণসংখ্যার বর্গ ও ঘনের যোগফল বের করার সূত্র জানা ছিলো। তাঁর ব্যবহৃত পদ্ধতি সহজেই যেকোনো ঘাতের ক্রমিক পূর্ণসংখ্যার যোগফল বের করতে সাধারণীকৃত করে নেয়া যায়। তবে তিনি তা করেন নি( হতে পারে তিনি শুধু তার এ সমস্যার সমাধানের জন্য চতুর্থ ঘাতের যোগফল বের করতেই আগ্রহী ছিলেন) তিনি তাঁর এ সূত্র ব্যবহার করেন একটি কাজে যাকে আমরা এখন আধুনিককালে বলি যোগজীকরণ বা ইন্টিগ্রেশন, প্যারাবলয়েড এর আয়তন নির্ণয়ে।

হেভেলিয়াসের সেলিনোগ্রাফিয়ার প্রচ্ছদ
সতের শতকের জ্যোতির্বিজ্ঞানী হেভেলিয়াস কর্তৃক রচিত সেলিনোগ্রাফিয়া এর প্রচ্ছদে ইবন আল হাইসাম(বামে) যার হাতের গানিতিক হিসাবের কাগজ যুক্তির উপমা, আর আছেন গ্যালিলিও যার দূরবীক্ষণ যন্ত্র প্রকাশ করে পর্যবেক্ষণকে।

অন্যান্য অবদানঃ[সম্পাদনা]

কিতাব আল মানাযির( আলোকবিজ্ঞান গ্রন্থ) বিভিন্ন তাঁর বর্ণিত পরীক্ষালব্ধ পর্যবেক্ষণ বর্ণনা করে এবং কিভাবে তিনি তাঁর আলোকীয় ধটনার বর্ণনায় যান্ত্রিক উপমার প্রয়োগ করেছেন তা এর থেকে বোঝা যায়। তিনি প্রক্ষেপক নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেন যে শুধুমাত্র লম্ব উপাংশই যেনো প্রবেশ্যতায় ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে সমান্তরাল উপাংশ বিচ্যুতি ঘটাতে ভূমিকা রাখে।

সুদানী মনোবিজ্ঞানী ওমর খালিফা ইবন আল হাইসামকে পরীক্ষামূলক মনোবিজ্ঞানের জনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। দর্শনানুভূতি এবং দৃষ্টিভ্রম সংক্রান্ত কাজে তার গবেষণা তাকে এ বিষয়ের অন্যতম পথিকৃত দেবার দাবি রাখে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। খালিফা আরো এগিয়ে যেয়ে বলেছেন ইবন আল হাইথাম মনোপদার্থবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা। যা আধুনিক মনোবিজ্ঞানের একটি উপশাখা। যদিও ইবন আল হাইসাম দর্শনানুভূতি ও দৃষ্টিভ্রম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তবুও তিনি মনোবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন কিনা তার স্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

পদার্থবিজ্ঞানে অন্যান্য অবদান[সম্পাদনা]

আলোক সম্বন্ধীয় গবেষণাপত্রঃ[সম্পাদনা]

তার কিতাব আল-মানাযিরের পাশাপাশি তিনি আলো সম্পর্কে আরো কিছু গবেষণাপত্র লিখেছেন, তার মধ্যে আছে রিসালা ফি'ল দাও( আলোর উপর নিবন্ধ)। যাতে তিনি ঔজ্জ্বল্য, রংধনু, গ্রহণ, গোধুলি, জ্যোৎস্না নিয়ে আলোচনা করেছেন।

গতিবিদ্যাঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল হাইসাম বস্তুর গতি নিয়ে তাঁর কাজে আলোচনা করেছেন। রিসালা ফিল মাকান(স্থানের বিষয়ক গবেষণাপত্র) তিনি 'প্রকৃতি শূণ্যতা ঘৃণা করে' , এরিস্টটলের এ মতের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি স্থানের জ্যামিতিক বর্ণনা দেবার চেষ্টা করেছিলেন।

মহাকাশবিজ্ঞানঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল হাইসাম তার জ্যোতির্বিদ্যার সারনির্যাস গ্রন্থে মহাকাশবিজ্ঞানের আলোচনা করেছেন, তাঁর মতে টলেমির মডেল অবশ্যই ভৌত উপায়ে আলোচনা করতে হবে, কোনো বিমূর্ত অনুকল্প হিসেবে নয়—অন্য ভাষায় আরো অনেক মডেল তৈরি করা সম্ভব হতে পারে যা পর্যবেক্ষণের সাথে ভালো মিলে। ইবন আল হাইসাম মকাকাশের বস্তুসমূহের গতিবিধিকে ভৌত নিয়ম দ্বারা ব্যাখ্যা করতে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটার অর্থ মাকাকাশীয় বস্তু সমূহও একই ভৌত নিয়মের অধীন এবং এ নিয়মের অধীনে এদের আলোচনা সম্ভব।

তিনি চাঁদ সম্বন্ধে লিখেছেন মাক্বালা ফি দাও আল-ক্বমার( চাঁদের আলো সম্পর্কে)।

গাণিতিক কর্মঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল-হাইসামের গাণিতিক কাজের ভিত্তি ছিলো ইউক্লিড , অ্যাপোলোনিয়াস এর কনিক সেকশনএবং ছাবিত ইবন কুরার কাজের উপর। এবং বীজগনিত এবং জ্যামিতির সম্পর্ক স্থাপনের শুরুর দিকের কাজ করেছিলেন। তাঁর অন্যতম অবদান হচ্ছে গনিতকে ব্যবহার করে ভৌতবিজ্ঞানের আলোচনা। তিনি প্যারাবলয়েডের আয়তন নির্ণয় করতে ক্রমিক স্বাভাবিক সংখ্যার চতুর্থ ঘাতের যোগফল বের করার যে পদ্ধতি বের করেছিলেন তা ইন্টিগ্রাল ক্যাল্কুলাসের অন্যতম একটি ধারণা।

সংখ্যাতত্ত্বঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল-হাইসামের সংখ্যাতত্ত্বের অবদানের মধ্যে আছে পারফেক্ট নাম্বার নিয়ে তাঁর কাজ। তাঁর মাক্বালা ফিল তাহলিল ওয়া তারক্বিব (বিশ্লেষণ এবং সংশ্লেষণ এর উপর) এ, তিনিই সম্ভবত এই বিষয়টি সর্বপ্রথম উল্লেখ করেন যে প্রত্যেক জোড় পারফেক্ট সংখ্যা ২ক-১(২-১) যেখানে (২-১) একটি মৌলিক সংখ্যা। এধরণের (২-১) আকৃতির মৌলিক সংখ্যাকে বলে মার্জেন প্রাইম, তবে তিনি এ বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেননি। আঠারো শতকে তা অয়লার কর্তৃক প্রমাণিত হয়।

ইবন আল হাইসাম কনগ্রয়েন্স সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করার জন্য একটি উপপাদ্য ব্যবহার করেন যা বর্তমানে উইলসনের উপপাদ্য নামে পরিচিত। তিনি কনগ্রয়েন্স এর সিস্টেম সমাধান করার জন্য দুটি সাধারণ পদ্ধতি দিয়েছেন। তাঁর প্রথম পদ্ধতিতে তিনি উইলসনের উপপাদ্য ব্যবহার করেছিলেন, তার দ্বিতীয় পদ্ধতিতে তিনি চাইনিজ রিমেইন্ডার থিওরেম ব্যবহার করেছেন।

লুনস অব আল-হাজেন
লুনস অব আল-হাজেন, দুটি নীল অর্ধচন্দ্রাকৃতি অংশের মোট ক্ষেত্রফল সবুজ সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফলের সমান।

ক্যাল্কুলাসঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল-হাইসাম ক্রমিক পূর্ণসংখ্যার চতুর্থ ঘাতের যোগফল বের করার সাধারণ সূত্র বের করেছিলেন। তবে তিনি তাঁর পদ্ধতিতে যেকোনো ঘাতের যোগফল বের করতে পারতেন। এর মাধ্যমে তিনি প্যারাবলয়েডের আয়তন নির্ণয় করেন। তিনি যেকোনো বহুপদীর ইন্টিগ্রাল নির্ণয় করার সাধারণ পদ্ধতি এর মাধ্যমে দিয়ে যান।

জ্যামিতিঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল-হাইসাম ইউক্লিডের পঞ্চম স্বীকার্য, যা সমান্তরাল স্বীকার্য নামে পরিচিত তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি এর প্রমাণের প্রচেষ্টা করেন একটি বৈপরীত্যের সাহায্যে প্রমাণের মাধ্যমে। তার এ প্রমাণে তিনি ল্যম্বার্ট চতুর্ভূজ নামে পরিচিত একটি ধারণার অবতারণা করেন। যা বরিস আব্রাহামোভিচ রোজেনফিল্ড "ইবন আল হাইসাম- ল্যাম্বার্ট চতুর্ভুজ" হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রাথমিক জ্যামিতিতে তিনি বৃত্তের বর্গকরণের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। যা তিনি পার্শ্ববর্তী চিত্রের অর্ধচন্দ্রাকৃতির অংশের ক্ষেত্রফলের সাহায্যে করার প্রয়াস করেছিলেন, দুটি নীল অর্ধচন্দ্রাকৃতি অংশের মোট ক্ষেত্রফল সবুজ সমকোণী ত্রিভুজের ক্ষেত্রফলের সমান। । তবে পরবর্তীতে এ অসম্ভবতা বুঝতে পেরে ছেড়ে দেন।

অন্যান্য কাজ[সম্পাদনা]

ধর্মতত্ত্বঃ[সম্পাদনা]

ইবন আল-হাইসাম মুসলিম ছিলেন; তবে ঠিক কোন মতের অনুসারী ছিলেন তা ঠিক ভাবে জানা যায় না। তিনি সুন্নি হলে সম্ভবত আশ'আরী, অথবা মু'তাযিলা ধারার অনুসারী হয়ে থাকতে পারেন। তবে আব্দুল হামিদ সাবরার মতে তিনি শিয়া হতেও পারেন বলে সম্ভাবনা শোনা যায়।

ইবন আল হাইসাম ইসলামি ধর্মতত্ত্বের উপর একটি কাজে নবুয়তের আলোচনা করেছিলেন। তিনি গানিতিকভাবে ক্বিবলার দিক নির্ধারণের জন্য একটি গবেষণাপত্র লিখেছিলেন, ক্বিবলার প্রতিই মুসলিমরা তাদের প্রার্থনা( সালাত ) আদায় করে থাকেন।

তাঁর গবেষণা কর্মের নানা অনুষঙ্গেও ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মতত্ত্বের প্রতি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাঁর টলেমির প্রতি সন্দেহ এর একটি অনুচ্ছেদেঃ

অন্য আরেক গবেষণা পত্রে তিনি বলেনঃ

সম্মানিত শায়খের উক্তি হতে একটি বিষয় স্পষ্ট, তিনি টলেমির বুলিমাত্রকে বিশ্বাস করে নেন, পরীক্ষণ-পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভরতা কিংবা কোনোরূপ প্রমাণ ছাড়াই,শুধুমাত্র নির্ভেজাল অনুসরণ (তাকলিদ) করে থাকেন। নবুয়তী ধারায় বিজ্ঞজনেরা যেভাবে নবিদের কথায় বিশ্বাস করেন ঠিক সেভাবেই, তাঁদের উপর আল্লাহর শান্তি! তবে গনিতজ্ঞরা কিন্তু গনিতবিদরা প্রাকৃতিক বিজ্ঞানে এভাবে বিশ্বাস করেন না তাদের বিশেষজ্ঞদের প্রতি।

বস্তুগত সত্য এবং আল্লাহর সম্পর্ক সম্বন্ধে তিনি বলেনঃ

আমি ক্রমাগত সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান চালিয়ে গিয়েছি, এটা আমার বিশ্বাসে পরিণত হয়েছিল যে আল্লাহর নৈকট্য ও করুণা পাবার আর কোনো উত্তম পথ নেই, জ্ঞান এবং সত্যের অনুসন্ধান ব্যতীত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Falco 2007.
  2. Rosenthal 1960–1961.
  3. O'Connor ও Robertson 1999.
  4. El-Bizri 2010, পৃ. 11: "Ibn al-Haytham's groundbreaking studies in optics, including his research in catoptrics and dioptrics (respectively the sciences investigating the principles and instruments pertaining to the reflection and refraction of light), were principally gathered in his monumental opus: Kitåb al-manåóir (The Optics; De Aspectibus or Perspectivae; composed between 1028 CE and 1038 CE)."
  5. Rooney 2012, পৃ. 39: "As a rigorous experimental physicist, he is sometimes credited with inventing the scientific method."
  6. Baker 2012, পৃ. 449: "As shown earlier, Ibn al-Haytham was among the first scholars to experiment with animal psychology.
  7. (Smith 2001, পৃ. xvi)
  8. Euclid's Optics
  9. Smith, A. Mark (1988) "Ptolemy, Optics" Isis Vol. 79, No. 2 (Jun., 1988), pp. 188-207, via JSTOR
  10. A. Mark Smith (১৯৯৬)। Ptolemy's Theory of Visual Perception: An English Translation of the Optics। American Philosophical Society। পৃষ্ঠা 58। 

উৎস[সম্পাদনা]

  • Simon, G (২০০৬), "The gaze in Ibn al-Haytham.", The Medieval History Journal, 9 (1): 89–98, doi:10.1177/097194580500900105 
  • Daneshfard, Babak (২০১৬), "Ibn al-Haytham (965–1039 AD), the original portrayal of the modern theory of vision", Journal of Medical Biography, Sage Publications, 24: 1, doi:10.1177/0967772014529050 
  • Masoud, Mohammad T; Masoud, Faiza (২০০৬), "How Islam changed medicine: Ibn al-Haytham and optics", The BMJ, British Medical Association, 332: 332:120, doi:10.1136/bmj.332.7533.120-a, PMID 16410601, পিএমসি 1326979অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  • Masic I (২০০৮), "Ibn al-Haitham--father of optics and describer of vision theory", Med Arh, Academy of medical sciences of bosnia and herzegovina, 62: 62(3):183–8, PMID 18822953 
  • Sweileh, Waleed M; Al-Jabi, Samah W; Shanti, Yousef I; Sawalha, Ansam F; Zyoud, Sa’ed H (২০১৫), "Contribution of Arab researchers to ophthalmology: a bibliometric and comparative analysis", SpringerPlus, Springer Publishing, 4: 4:42, doi:10.1186/s40064-015-0806-0 
  • Ackerman, James S (আগস্ট ১৯৯১), Distance Points: Essays in Theory and Renaissance Art and Architecture, Cambridge, Massachusetts, USA: MIT Press, আইএসবিএন 978-0262011228 .
  • Arjomand, Kamran (১৯৯৭), "The emergence of scientific modernity in Iran: controversies surrounding astrology and modern astronomy in the mid-nineteenth century", Iranian Studies, 30 (1) 
  • Authier, André (২০১৩), "3: The Dual Nature of Light", Early Days of X-ray Crystallography, Oxford University Press, আইএসবিএন 9780199659845 .
  • Baker, David B., সম্পাদক (২০১২), The Oxford Handbook of the History of Psychology: Global Perspectives, Oxford University Press, আইএসবিএন 9780195366556 .
  • El-Bizri, Nader (২০০৭), "In Defence of the Sovereignty of Philosophy: Al-Baghdadi's Critique of Ibn al-Haytham's Geometrisation of Place", Arabic Sciences and Philosophy, Cambridge University Press, 17: 57–80, doi:10.1017/S0957423907000367 
  • El-Bizri, Nader (২০০৯a), "La perception de la profondeur: Alhazen, Berkeley, et Merleau-Ponty", Oriens Occidens, Paris: CNRS, 5 (1): 171–184 
  • El-Bizri, Nader (২০০৯b), "Ibn al-Haytham et le problème de la couleur", Oriens Occidens, Paris: CNRS, 7 (1): 201–226 
  • Crombie, A. C. (১৯৭১), Robert Grosseteste and the Origins of Experimental Science, 1100–1700, Clarendon Press, Oxford University 
  • Dallal, Ahmad S. (১৯৯৯), "Science, Medicine and Technology", Esposito, John L., The Oxford History of Islam, Oxford University Press .
  • Al Deek, Mahmoud (২০০৪), "Ibn Al-Haitham: Master of Optics, Mathematics, Physics and Medicine", Al Shindagah (November–December 2004), ১৭ জুন ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ 
  • Falco, Charles M. (১২–১৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৭), Ibn al-Haytham and the Origins of Modern Image Analysis (PDF), presented at a plenary session at the International Conference on Information Sciences, Signal Processing and its Applications, সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০০৮ .[অকার্যকর সংযোগ]
  • Falco, Charles M. (২৭–২৯ নভেম্বর ২০০৭), Ibn al-Haytham and the Origins of Computerized Image Analysis (PDF), International Conference on Computer Engineering & Systems (ICCES), ২৬ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০১০ .
  • Faruqi, Yasmeen M. (২০০৬), "Contributions of Islamic scholars to the scientific enterprise", International Education Journal, 7 (4): 391–396 
  • Gondhalekar, Prabhakar M. (২০০১), The Grip of Gravity: The Quest to Understand the Laws of Motion and Gravitation, Cambridge University Press, আইএসবিএন 0-521-80316-0, ওসিএলসি 224074913 
  • Grant, Edward (১৯৭৪), A source book in medieval science, Volume One, Cambridge MA: Harvard University Press 
  • Grant, Edward (২০০৮), "Alhazen", Encarta Online Encyclopedia, Microsoft, ২৬ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  • Highfield, Roger (১ এপ্রিল ১৯৯৭), "Don solves the last puzzle left by ancient Greeks", The Daily Telegraph, 676, সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  • Hodgson, Peter Edward (২০০৬), Theology And Modern Physics, Burlington, VT: Ashgate Publishing (প্রকাশিত হয় ১৫ জানুয়ারি ২০০৬), আইএসবিএন 978-0-7546-3622-9, ওসিএলসি 56876894, DDC: 201.653, LCC: BL265.P4 H63 2005 
  • Howard, Ian P. (১৯৯৬), "Alhazen's neglected discoveries of visual phenomena", Perception, 25 (10): 1203–1217, doi:10.1068/p251203, PMID 9027923 
  • Howard, Ian P.; Wade, Nicholas J. (১৯৯৬), "Ptolemy's contributions to the geometry of binocular vision", Perception, 25 (10): 1189–201, doi:10.1068/p251189, PMID 9027922 
  • Kalin, Ibrahim; Ayduz, Salim; Dagli, Caner, সম্পাদকগণ (২০০৯), "Ibn al-Ḥaytam", The Oxford Encyclopedia of Philosophy, Science, and Technology in Islam, Oxford University Press 
  • Katz, Victor J. (১৯৯৫), "Ideas of Calculus in Islam and India", Mathematics Magazine, 68 (3): 163–174, doi:10.2307/2691411 
  • Khaleefa, Omar (১৯৯৯), "Who Is the Founder of Psychophysics and Experimental Psychology?", American Journal of Islamic Social Sciences, 16 (2) 
  • Langermann, Y. Tzvi (১৯৯০), Ibn al Haytham's On the Configuration of the World 
  • Lejeune, Albert (১৯৫৮), "Les recherches de Ptolémée sur la vision binoculaire", Janus, 47: 79–86 
  • Lindberg, David C. (১৯৬৭), "Alhazen's Theory of Vision and Its Reception in the West", Isis, 58 (3): 321–341, doi:10.1086/350266, PMID 4867472 
  • Lindberg, David C. (১৯৯৬), Roger Bacon and the Origins of Perspectiva in the Middle Ages, Clarendon Press 
  • Lorch, Richard (২০০৮), "Ibn al-Haytham", Encyclopædia Britannica, সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০০৮ 
  • Magill, Frank Northen; Aves, Alison (১৯৯৮), "The Middles Ages: Alhazen", Dictionary of World Biography, 2, Routledge, আইএসবিএন 9781579580414 .
  • NASA (২২ মার্চ ২০০৬), "59239 Alhazen (1999 CR2)", JPL Small-Body Database Browser, NASA Jet Propulsion Laboratory, সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ .
  • O'Connor, J. J.; Robertson, E. F., সম্পাদকগণ (নভেম্বর ১৯৯৯), "Abu Ali al-Hasan ibn al-Haytham", MacTutor History of Mathematics archive, Scotland: School of Mathematics and Statistics, University of St Andrews, সংগ্রহের তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  • Plott, C. (২০০০), Global History of Philosophy: The Period of Scholasticism, Motilal Banarsidass, আইএসবিএন 8120805518 
  • Rashed, Roshdi (২০০৭), "The Celestial Kinematics of Ibn al-Haytham", Arabic Sciences and Philosophy, Cambridge University Press, 17: 7–55, doi:10.1017/S0957423907000355 
  • Raynaud, D. (২০০৩), "Ibn al-Haytham sur la vision binoculaire: un précurseur de l'optique physiologique", Arabic Sciences and Philosophy, Cambridge University Press, 13 (1): 79–99, doi:10.1017/S0957423903003047 
  • Rooney, Anne (২০১২), "Ibn Al-Haytham", The History of Physics, The Rosen Publishing Group, আইএসবিএন 9781448873715 .
  • Ross, H.E. (২০০০), "Cleomedes c. 1st century AD) on the celestial illusion, atmospheric enlargement and size-distance invariance", Perception, 29: 853–861, doi:10.1068/p2937 .
  • Ross, H .E.; Plug, C. (২০০২), The mystery of the moon illusion: Exploring size perception, Oxford University Press, আইএসবিএন 978-0198508625 .
  • Ross, H .E.; Ross, G .M. (১৯৭৬), "Did Ptolemy understand the moon illusion?", Perception, 5: 377–385, doi:10.1068/p050377, PMID 794813 .
  • Rozenfeld, Boris Abramovich; Youschkevitch, Adolf P. (১৯৯৬), "Geometry", Rashed, Roshdi, Encyclopedia of the History of Arabic Science, 2, London & New York: Routledge, পৃষ্ঠা 447–494 
  • Sabra, A. I. (১৯৭১), "The astronomical origin of Ibn al-Haytham's concept of experiment", Actes du XIIe congrès international d’histoire des sciences, Albert Blanchard, Paris, 3: 133–136 . Reprinted in Sabra 1994.
  • Sabra, A. I. (১৯৭৮b), "An Eleventh-Century Refutation of Ptolemy's Planetary Theory", Hilfstein, Erna; Czartoryski, Paweł; Grande, Frank D., Science and History: Studies in Honor of Edward Rosen, Studia Copernicana, XVI, Ossolineum, Wrocław, পৃষ্ঠা 117–131 
  • Sabra, A. I. (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০০৩), "Ibn al-Haytham: Brief life of an Arab mathematician", Harvard Magazine, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা, সংগ্রহের তারিখ ২৩ জানুয়ারি ২০০৮ 
  • Sambursky, Shmuel, সম্পাদক (১৯৭৪), Physical Thought from the Presocratics to the Quantum Physicists, Pica Press, আইএসবিএন 0-87663-712-8 . (Various editions.)
  • Selin, Helaine, সম্পাদক (২০০৮), "M", Encyclopaedia of the History of Science, Technology, and Medicine in Non-Western Cultures, 1, Springer, পৃষ্ঠা 1667, আইএসবিএন 9781402045592 .
  • Smith, A. Mark (২০০৫), "The Alhacenian Account Of Spatial Perception And Its Epistemological Implications", Arabic Sciences and Philosophy, Cambridge University Press, 15, doi:10.1017/S0957423905000184 
  • Toomer, G. J. (ডিসেম্বর ১৯৬৪), "Review: Ibn al-Haythams Weg zur Physik by Matthias Schramm", Isis, 55 (4): 463–465, doi:10.1086/349914 
  • Topdemir, Hüseyin Gazi (২০০৭a), "Kamal Al-Din Al-Farisi's Explanation of the Rainbow" (PDF), Humanity & Social Sciences Journal, 2 (1): 75–85, সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  • Topdemir, Huseyin Gazi (১৮ জুলাই ২০০৭b), Ibn al-Haytham (965-1039) His Life and Works 
  • Vernet, J. (২০১২), "Ibn al-Haytham", Bearman, P.; Bianquis, Th.; Bosworth, C. E.; van Donzel, E.; Heinrichs, W. P., Encyclopaedia of Islam (Second সংস্করণ), Brill Online: Brill Publishers, সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮ .
  • Wade, Nicholas J. (১৯৯৮), A Natural History of Vision, Cambridge, MA: MIT Press 
  • Wade, Nicholas J.; Finger, Stanley (২০০১), "The eye as an optical instrument: from camera obscura to Helmholtz's perspective", Perception, 30 (10): 1157–1177, doi:10.1068/p3210, PMID 11721819 
  • Weisstein, Eric (২০০৮), Alhazen's Billiard Problem, Mathworld, সংগ্রহের তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  • Whitaker, Brian (২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৪), "Centuries in the House of Wisdom", The Guardian, সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৮ 
  • Zewail, Ahmed H.; Thomas, John Meurig (২০১০), 4D Electron Microscopy: Imaging in Space and Time, World Scientific, আইএসবিএন 9781848163904 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

প্রাথমিক[সম্পাদনা]

  • Sabra, A. I, সম্পাদক (১৯৮৩), The Optics of Ibn al-Haytham, Books I-II-III: On Direct Vision. The Arabic text, edited and with Introduction, Arabic-Latin Glossaries and Concordance Tables, Kuwait: National Council for Culture, Arts and Letters 
  • Sabra, A. I, সম্পাদক (২০০২), The Optics of Ibn al-Haytham. Edition of the Arabic Text of Books IV-V: On Reflection and Images Seen by Reflection. 2 vols, Kuwait: National Council for Culture, Arts and Letters 

গৌণ[সম্পাদনা]

  • El-Bizri, Nader (২০০৭), "In Defence of the Sovereignty of Philosophy: Al-Baghdadi's Critique of Ibn al-Haytham's Geometrisation of Place", Arabic Sciences and Philosophy, Cambridge University Press, 17: 57–80, doi:10.1017/S0957423907000367 
  • El-Bizri, Nader (২০০৯b), "Ibn al-Haytham et le problème de la couleur", Oriens Occidens, Paris: CNRS, 7 (1): 201–226 
  • El-Bizri, Nader (২০১৬), "Grosseteste's Meteorological Optics: Explications of the Phenomenon of the Rainbow after Ibn al-Haytham", Cunningham, Jack P.; Hocknull, Mark, Robert Grosseteste and the Pursuit of Religious and Scientific Knowledge in the Middle Ages, Studies in the History of Philosophy of Mind, 18, Dordrecht: Springer, পৃষ্ঠা 21–39, আইএসবিএন 978-3-319-33466-0 
  • Graham, Mark. How Islam Created the Modern World. Amana Publications, 2006.
  • Omar, Saleh Beshara (জুন ১৯৭৫), Ibn al-Haytham and Greek optics: a comparative study in scientific methodology, PhD Dissertation, University of Chicago, Department of Near Eastern Languages and Civilizations 
  • Siegfried Zielinski & Franziska Latell, How One Sees, in: Variantology 4. On Deep Time Relations of Arts, Sciences and Technologies In the Arabic-Islamic World and Beyond, ed. by Siegfried Zielinski and Eckhard Fürlus in cooperation with Daniel Irrgang and Franziska Latell (Cologne: Verlag der Buchhandlung Walther König, 2010), pp. 19–42. [১]