আর্দ্রতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কে বাতাসের আর্দ্রতা দ্বারা পরিমাপ করা হয়। দৈনন্দিন জীবনে আর্দ্রতা বলতে আমরা আপেক্ষিক আর্দ্রতাকে বোঝাই। আপেক্ষিক আর্দ্রতা হল কোন নির্দিষ্ট জায়গার বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্পের আংশিক চাপ ও ঐ তাপমাত্রায় জলীয় বাষ্পের সম্পৃক্ত বাষ্পচাপ। নির্দিষ্ট তাপে ও চাপে বাতাসে সর্বোচ্চ কি পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে তা সুনির্দিষ্ট। আর্দ্রতাকে পরম আর্দ্রতা ও নির্দিষ্ট আর্দ্রতাও বলা হয়। আপেক্ষিক আর্দ্রতা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর্দ্রতা বেশি হলে গ্রীষ্মকালে বাইরে গেলে আমরা বেশি গরম অনুভব করি, কারণ তা ঘামের মাধ্যমে শরীরের তাপ বের করে দেবার প্রক্রিয়াটির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাপ সূচক ছকে এই প্রভাব হিসাব করা হয়।

আর্দ্রতা[সম্পাদনা]

কোনো স্থানের বায়ুতে কতটুকু জলীয়বাষ্প আছে অর্থাৎ বায়ু কতখানি শুষ্ক বা ভিজা আর্দ্রতা দিয়ে তাই নির্দেশ করা হয় ৷

পরম আর্দ্রতা[সম্পাদনা]

বায়ুর প্রতি একক আয়তনে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের ভরকে ঐ স্থানের পরম তাপমাত্রা বলে ৷

শিশিরাঙ্ক[সম্পাদনা]

নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষষতা সীমাবদ্ধ ৷ তাপমাত্রা বাড়লে ঐ স্থানের জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা বেড়ে যায় ৷ কোনো স্থানের তাপমাত্রা কমলে ঐ স্থানের জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায় ৷ তাপমাত্র ক্রমশ কমতে থাকলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বায়ুমন্ডল এ স্থানের জলীয়বাষ্প দ্বারাই সম্পৃক্ত হয় ৷ ঐ তাপমাত্রায় বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্প তখন শিশিরে পরিনত হয় ৷ এই তাপমাত্রাই শিশিরাঙ্ক ৷[১]

এখান থেকে নেয়া তথ্যঃ

বায়ুর আদ্রতা [Humidity]:- সূর্যের তাপে সাগর, মহাসাগর, নদনদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয় থেকে জল বাষ্পে পরিনত হারে বায়ুর সঙ্গে মিশে । ফলে বায়ু আর্দ্র হয় । শুকনো ও ভিজে কুন্ডযুক্ত হাইগ্রোমিটার [Hygrometer] যন্ত্র দিয়ে বায়ুর আর্দ্রতা নির্ণয় করা হয় । বায়ু সব সময় একই রকম আর্দ্র থাকে না । স্থান ও ঋতুভেদে বায়ুর আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটে । বায়ু যত বেশি উষ্ণ হয় জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা তত বেশি হয় ।      

সম্পৃক্ত বায়ু :- এক নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ু নির্দিষ্ট উষ্ণতায় এক নির্দিষ্ট পরিমাণ জলীয়বাষ্প ধারণ করে । যখন তার চেয়ে বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা বায়ুর থাকে না তখন সেই বাতাসকে সম্পৃক্ত বায়ু বা পরিপৃক্ত [Saturated] বায়ু বলে ।  

আপেক্ষিক আদ্রতা :- সাধারণভাবে কোনও নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপে এক নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প থাকে, তাকে ঐ বায়ুর নিরপেক্ষ আর্দ্রতা বা চরম আর্দ্রতা [Absolute Humidity] বলে । আর যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প ঐ নির্দিষ্ট তাপে বায়ুতে থাকা সম্ভবপর [অর্থাৎ ঐ বায়ুকে সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত করার জন্য যে পরিমাণ জলীয় বাষ্পের প্রয়োজন] তার সঙ্গে ঐ প্রকৃত পরিমাণের অনুপাতকে সাপেক্ষ আর্দ্রতা বা আপেক্ষিক আর্দ্রতা [Relative Humidity] বলে । 

অর্থাৎ, আপেক্ষিক আর্দ্রতা =                           নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্প                        X ১০০

                                                    ওই তাপমাত্রায় সমপরিমাণ বায়ুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পের পরিমাণ 

[i]   আপেক্ষিক আর্দ্রতা একটি অনুপাত ।

[ii]   সাধারণত এই অনুপাতকে শতকরা হিসাবে প্রকাশ করা হয় ।

[iii]  বায়ুর উষ্ণতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতার সম্পর্ক ব্যাস্তানুপাতিক – অর্থাৎ বায়ুর উষ্ণতা বাড়লে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কমে এবং বায়ুর উষ্ণতা কমলে আপেক্ষিক আদ্রতা বাড়ে ।

[iv]  আপেক্ষিক আদ্রতার সাহায্যে কোনও স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক স্যাঁতস্যাঁতে ভাব মাপা হয় ।

[v]  কোনো স্থানের আপেক্ষিক আদ্রতা জানার ফলে সেই স্থানে পৃথিবীপৃষ্ঠের তাপ বিকিরণের হার, ঝড়বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা প্রভৃতির পূর্বাভাষ পাওয়া যায় ।

[vi]  শুষ্ক ও আদ্রকুণ্ড-যুক্ত হাইগ্রোমিটার (Dry & Wet Bulb Hygrometre) -এর সাহায্যে কোনো স্থানের বায়ুর আপেক্ষিক আদ্রতার পরিমাপ করা হয় । 

বায়ুর আর্দ্রতার সঙ্গে আবহাওয়া ও জলবায়ুর অন্যান্য উপাদানের সম্পর্ক :- বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ ও বৃষ্টির সঙ্গে আর্দ্রতার সম্পর্ক বর্তমান ।

[ক]  তাপে জল বাস্পীভূত হয় । বায়ু উত্তপ্ত হলে তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বাড়ে ।

[খ]  জলীয়বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বায়ু হালকা । এই বায়ুর চাপ কম । ফলে সহজেই উপরে উঠে যায় ।

[গ]  সেখানে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও বৃষ্টির উত্পত্তি ঘটায় । কৃষ্ণবর্ণের কিউমিউলাস মেঘে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় ।

[ঘ]  বায়ুতে থাকা জলীয় বাষ্পের পরিমাণের ওপর স্থানীয় আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভরশীল । মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা প্রভৃতি নৈসর্গিক ব্যাপার হল জলীয়বাষ্পের ঘনীভবনের ফল ।

[ঙ]  কোনো স্থানের বায়ুতে দীর্ঘকাল ধরে জলীয়বাষ্পের অভাব হলে (অর্থাৎ আর্দ্রতা কম হলে) সেখানে মরুভূমির সৃষ্টি হয় ।

[চ] অন্যদিকে কোনো স্থানের বায়ুতে পরে দীর্ঘসময় ধরে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ (অর্থাৎ আর্দ্রতা) বৃদ্ধি পেলে সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং মরুপ্রায় অঞ্চল শস্য শ্যামলা হয়ে হয়ে ওঠে ।

***

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]