অলিম্পিক গেমস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
অলিম্পিক গেমস
Olympic rings without rims.svg
প্রতিষ্ঠানসমূহ
Games

অলিম্পিক গেমস হল একটি আন্তর্জাতিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতা যেখানে গ্রীষ্মকালীন এবং শীতকালীন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা বিভিন্ন ধরনের খেলায় অংশগ্রহন করে। প্রায় দুইশত দেশের অংশগ্রহনে মুখরিত এই অলিম্পিক গেমস বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং সর্বোচ্চ সম্মানজনক প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। অলিম্পিক গেমস প্রত্তেক চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এর দুটো প্রকরন গ্রীষ্ম এবং শীতকালীন প্রতিযোগীতা প্রত্তেক দুই বছর পর পর হয়ে থাকে, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রাইয় প্রত্তেক দুই বছর পর পর অলিম্পিক গেমসের আসর অনুষ্ঠিত হয়। খৃষ্টপূর্ব অষ্টদশ শতাব্দিতে প্রাচীন গ্রীসের অলিম্পিয়া থেকে শুরু হওয়া ক্রিড়া প্রতিযোগিতা থেকেই মূলত অধুনিক অলিম্পিক গেমসের ধারনা জন্মে। ১৯৮৪ সালে ব্যারন পিয়ের দ্য কুবেরত্যাঁ সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) গঠন করেন। এই আইওসি ই অলিম্পিক গেমস সংক্রান্ত সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রন করে থাকে।

অলিম্পিক আন্দোলন থেকেই বিংশ এবং একবিংশ শতাব্দিতে অলিম্পিক গেমসে অনেক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনগুলোর অন্যতম হল শীতকালীন অলিম্পিকের প্রচলন, প্রতিবন্ধিদের জন্য প্যারাঅলিম্পিক এবং কিশোর ক্রিড়াবিদদের জন্য ইউথ অলিম্পিক। এইসব পরিবর্তনকে সার্থক করার জন্য আইওসি কে অনেক ধরনের অর্থনৈতীক, রাজনৈতীক এবং কারিগরি ক্ষমতা অর্জন করতে হয়েছে। আইওসির এই সক্ষমতায় পরিবর্তন পিয়ের দ্য কুবেরত্যাঁর অপেশাদারি ধারনা থেকে পরিবর্তিত হয়ে পেশাদার ক্রিড়াবিদদের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই প্রতিযোগিতা বন্ধ ছিল এবং স্নায়ুযুদ্ধের সময় এই প্রতিযোগিতা সিমীত পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়।

অলিম্পিক গেমস ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশন, ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি এবং প্রত্তেক আসরের জন্য নিদৃষ্ট কমিটির সমন্বয়্ব অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্তেক আসরের জন্য স্বাগতিক দেশ নির্বাচনের ক্ষমতা আইওসি সংরক্ষন করে। অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী স্বাগতিক দেশ এই গেমস আয়োজনের খরচ বহন করবে এবং তহবিল সংগ্রহ করবে তবে অলিম্পিক গেমসের ক্রীড়া অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত আইওসি গ্রহন করে। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও অলিম্পিক গেমসে আরোও অন্যান্য আচার ও রিতি-রেওয়াজের প্রচলন রয়েছে যেমন অলিম্পিক মশাল, পতাকা, উদ্বোধনি এবং সমাপনি অনুষ্ঠান ইত্যাদি। গ্রিষ্ম এবং শীতকালীন অলিম্পিকে ৩৩ টি ক্রীড়ার ৪০০ টি প্রতিযোগিতায় প্রায় ১৩,০০০ ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহন করে থাকেন। প্রত্তেক প্রতিযোগিতার প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী ক্রীড়াবিদদের যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জের পদক দেওয়া হয়।

কালের আবর্তনে অলিম্পিক গেমস এমন একটি অবস্থানে পৌছে গেছে যে প্রায় প্রত্তেকটি দেশই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে যার ফলে মারাত্বক প্রতিযোগিতায় খেলা বর্জন, মাদক, ঘুষ এবং সন্ত্রাসি তৎপরতার সূত্রপাত ঘটার মত পরিস্থিতির আশংকা থেকে যায়। অলিম্পিক গেমস আয়োজনকারী দেশ এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে সারা বিশ্বে নিজেকে প্রকাশ করার একটি সুযোগ পায়।

প্রাচীন অলিম্পিক গেমস[সম্পাদনা]

গ্রীসের অলিম্পিয়ায় একটি স্টেডিয়াম

প্রাচীন গ্রীসে দেবতা জিউসের আবাসস্থল অলিম্পিয়ায় ধর্মীয় রিতি-রেওয়াজের সাথে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হত। মূলত প্রাচীন গ্রীক নগর রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধীরাই এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করত। সাধারন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে মল্লযুদ্ধ, ঘোড়দৌড়, রথ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হত। প্রাচীন বিভিন্ন লেখনি থেকে জানা যায় যে বিভিন্ন নগর রাষ্ট্রের মধ্যে দন্দ্ব বা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও এই প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে তা স্থগিত থাকত। এই যুদ্ধ বিদ্রোহ এবং দন্দ্বে সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়াকে “অলিম্পিকের যুদ্ধবিরতির নিতী” বলা হত। যদিও এই প্রাচীন ধারনাটি একটি আধুনিক গল্পকথা কারন গ্রীকরা কখনই যুদ্ধবিরতি করে নি। তবে এই রিতীটি অলিম্পিয়ামুখি তীর্থযাত্রীদের বিভিন্ন যুদ্ধরত নগর রাষ্ট্রের মধ্যে দিয়ে অবাধে চলাচল করতে সাহায্য করেছিল কারন তারা মনে করত যে জিউস সকল তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষা করেন।[১] অলিম্পিকের জন্ম আজও মানুষের কাছে একটি রহস্য এবং কিংবদন্তি হয়ে আছে। তবে জনপ্রিয় একটি গল্পকথা মতে দেবতা জিউস এবং তার ছেলে হেরাক্লিস এই অলিম্পিক গেমসের জনক। এই গল্পকথার মতে হেরাক্লিসই এই অনুষ্ঠানকে আলিম্পিক নাম দেন এবং প্রত্তেক চার বছর পর পর এই গেমস অনুষ্ঠানের প্রচলন করেন।

এই গল্পকথা অনুসারে হেরাক্লিস তার বারোটি মহাকাব্যিক অভিযান শেষে তার পিতা জিউসের সম্মানে অলিম্পিক স্টাডিয়াম তৈরী করেন। এই কাজ শেষ করার পরে হেরাক্লিস সোজা ২০০ কদম হেটে যান এবং একে স্টেডন হিসেবে ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে এটা দূরত্ব মাপার একক হিসেবে ব্যাবহৃত হওয়া শুরু হয়। অলিম্পিকের একটি নিবন্ধন লিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে এটির সূচনা ঘটেছিল খৃষ্টপূর্ব ৭৭৬ সালের দিকে।[২] এই লিপিতে চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত দৌড় প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নাম লিপিবদ্ধ ছিল। এই প্রাচীন ক্রীড়া অনুষ্ঠানে দৌড় প্রতিযোগিতা, মল্লযুদ্ধ, মুষ্টিযুদ্ধ এবং ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা যায়।[৩] লোকোগাথা মতে কোরিবাস নামের ইলিস শহরের এক পাচক অলিম্পিকের প্রথম চ্যাম্পিয়ান হন।

মূলত অলিম্পিক ছিল ধর্মীয় আচার ও রিতী অনুযায়ী জিউস এবং অলিম্পিয়ার রাজা এবং পৌরানিক বীর পিলোপ্সকে সম্মান প্রদর্শনের একটি ঐতিহ্যগত ক্রীড়া অনুষ্ঠান। রাজা পিলোপ্স ওয়িনৌসের সাথে রথ প্রতিযোগিতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। অলিম্পিকে বিজয়ীরা সম্মানে ভূষিত হতেন তাদের উদ্দেশ্যে গান ও কবিতা লিখা হত। এই অনুষ্ঠান প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হত এবং এই চার বছরের সময়কালকে বলা হত এক অলিম্পিয়াড যা গ্রিকদের সময় পরিমাপার একটি একক ছিল।

খৃষ্টপূর্ব ষষ্ঠ এবং পঞ্চম শতকে অলিম্পিক গেমস জনপ্রিয়তার শির্ষে ছিল কিন্তু রোমের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রীসের উপর এর প্রভাব বিস্তারের সাথে সাথে এর কার্যকারীতা হ্রাস পেতে শুরু করে। অলিম্পিক গেমসের কখন ইতি টানা হয় এর ব্যাপারে কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র পাওয়া না গেলেও সাধারনভাবে মনে করা হয় যে ৩৯৩ খৃষ্টাব্দে এই ক্রিড়াযজ্ঞের সমাপ্তি হয় যখন সম্রাট থিওডোসুইস এক সমস্ত পেগান কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেন।[৪] এছাড়া অনেকের ধারনা মতে থিওডোসুইস দুই যখন ৪২৬ খৃষ্টাব্দে সমস্ত গ্রীক মন্দির ধ্বংশ করার আদেশ দেন তখনই এই গেমসের সমাপ্তি ঘটে।[৫]

আধুনিক অলিম্পিক[সম্পাদনা]

প্রতিষ্ঠাতা বৃন্দ[সম্পাদনা]

আধুনিক যুগে অলিম্পিক গেমস বলতে ১৭ শতাব্দির দিকে শুরু হওয়া আধুনিক ক্রিয়া প্রতিযোগিতাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। এই ধরনের প্রথম অনুষ্ঠান ছিল ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া কোস্টউল্ড গেমস বা কোস্টুল্ড অলিম্পিক গেমস। ১৬১২ থেকে ১৬৪২ সালের মধ্যে এই কোস্টউল্ড গেমসের প্রধান আয়োজক ছিলেন ববার্ট ডোভার, যিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ আইনজীবি। লন্ডনে ২০১২ সালের অলিম্পিক গেমসের বিদায়ি অনুষ্ঠানে ষোল শতকেই এই ঘটনাকে বৃটেনের অলিম্পিকের সূচনার অভ্যূদয় হিসেবে ঘোষনা করে।[৬]

ফ্রান্সে ১৭৯৬ থেকে ১৭৯৮ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত এল অলিম্পিয়েড ডি লা রিপাবলিক গেমসও প্রাচীন অলিম্পিক গেমসের একটি প্রতীক বহন করে। প্রাচীন গ্রীক অলিম্পিক গেমসে অনুষ্ঠিত কিছু ক্রীড়া প্রতিযোগীতা এই অলিম্পিকেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৭৯৬ সালে অনুষ্ঠিত এই এল অলিম্পিয়েড ডি লা রিপাবলিক গেমসে সর্বপ্রথম ম্যাট্রিক পদ্ধতির পরিমাপ অনুসরন করা হয়েহিল।

১৮৫০ সালের দিকে ইংল্যান্ডে আধুনিক যুগের মত করে অলিম্পিক গেমসের প্রচলন শুরু করেন ডঃ উইলিয়াম পেনি ব্রুকস। ডঃ ব্রুকস এই গেমের নাম দেন ওয়েনলক অলিম্পিয়ান গেমস। এই ক্রিড়াযজ্ঞটিই ধারাবাহিকভাবে আজ পর্যন্ত চলে আসছে।[৭] ডঃ ব্রুকস এই গেমের জন্য ১৮৬০ সালের ১৫ নভেম্বর ওয়েনলক অলিম্পিয়ান সোসাইটির প্রতিষ্ঠা করেন।[৮]

১৮৬২ থেকে ১৮৬৭ সালের ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন হুলি এবং চার্লস মিলির তত্বাবধানে বার্ষিক অলিম্পিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই ক্রিড়ার আসরটি আন্তর্জাতিক হলেও পেশাদারিত্বের মান ছিল অনেক নিচে। এই আসরে শুধুমাত্র ভদ্র সমাজের সৌখিন এবং অপেশাদার খেলোয়াড়রাই অংশগ্রহন করতে পেরেছিলেন।[৯][১০] তবে ১৮৯৬ সালের গ্রীসে অনুষ্ঠিত আধুনিক অপিম্পিক ছিল লিভারপুলে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক থেকে একেবারেও ভিন্ন। ১৬৬৫ সালে জন হুলি এবং ডঃ ব্রুকস ন্যাশনাল অলিম্পিক এসোসিয়েশন গঠন করেন যা পরবর্তীতে ব্রিটিশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন গঠনের পথ প্রদর্শকের কাজ করে।

পূনর্জাগরণ[সম্পাদনা]

প্রথম গ্রীক অলিম্পিকের একটি ডাকটিকিট।

অটোম্যান সম্রাজ্যের কাছ থেকে মুক্ত হতে ১৮২১ সালে গ্রীসে মুক্তিযুদ্ধ হয়। মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করার পর থেকেই গ্রীকরা এই অলিম্পিক গেমসকে পূনর্জীবিত করার চিন্তাভাবনা করে আসছিল। অলিম্পিকের এই পূনর্জাগড়নের সপ্নদ্রষ্টা হলেন প্যানাগিওটিস সটসস, যিনি ছিলেন একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক। ১৮৩৩ সালে ডায়ালগ অফ দি ডেড নামে একটি কবিতায় তার এই চিন্তা তুলে ধরেন।[১১] পরবর্তীতে ইভানগেলস জ্যাপ্পাস নামের এক বিত্তশালী এবং লোকহিতৈষী ব্যাক্তি গ্রীসের রাজা অট্টোকে একটি চিঠির মাধ্যমে অলিম্পিক গেমস পুনরায় স্থায়ী ভাবে চালু করার জন্য একটি তহবিল গঠনের পরামর্শ দেন। ১৮৫৯ সালে ইভানগেলস জ্যাপ্পাসের পৃষ্ঠপোষকতাতেই এথেন্সে সিটি স্কয়ারে অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয় যেখানে অটোম্যান সম্রাজ্য এবং গ্রীসের ক্রিড়াবিদেরা অংশগ্রহন করেছিল। এছাড়াও তিনি তার অর্থ দিয়ে একটি স্টেডিয়ামও সংস্কার করে দেন যাতে করে ভবিষ্যতের আসরগুলো নির্বিগ্নে অনুষ্ঠিত হতে পারে।[১২]

ইভানগেলস জ্যাপ্পাসের সংস্কারকৃ স্টেডিয়ামে ১৮৭০ এবং ১৮৭৫ সালের অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়।[১৩] ১৮৭০ সালের অলিম্পিকে প্রায় তিরিশ হাজার দর্শক উপস্থিত হয় তবে ১৮৭৫ সালে কত দর্শক হয়েছিল তার অফিশিয়াল কোন দলিলাদি পাওয়া যায় নি। ১৮৯০ সালের ওয়েনলক অলিম্পিয়ান সোসাইটির অলিম্পিয়ান গেমস অবলোকোন করার পর ব্যারন পিয়ের দ্য কুবেরত্যাঁ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরনা পান।[১৪] তিনি ব্রুকসের সাথে এমন একটি পরিবরতনশীল অলিম্পিক কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করেন যা প্রত্তেক চার বছর পর পর অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করবে।

১৮৯৬ সালের আসর[সম্পাদনা]

প্যানাথেইনিকো স্টেডিয়ামে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির তত্বাবধানে প্রথম অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয় ১৮৯৬ সালে এথেন্সের প্যানাথেনেইক স্টেডিয়ামে। এই ক্রিড়াযজ্ঞে ৪৩ টি প্রতিযোগীতায় ১৪ টি দেশের প্রায় ২৪১ জন ক্রিড়াবিদক জড় হয়েছিলো।[১৫] ইভানগেলস জ্যাপ্পাস গ্রীক সরকারের কাছে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিতব্য অলিম্পিক গেমসের জন্য একটি তহবিল রেখে যান, ট্রাস্টের সেই তহবিল থেকেই ১৮৯৬ সালের অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়।[১৬][১৭][১৮] জর্জ এভেরফ, এক গ্রীক ব্যাবসায়ী উদারমনে অলিম্পিক গেমসের প্রস্তুতির জন্য স্টেডিয়াম সংস্কারের অর্থ দান করেন।[১৯] এছাড়াও গ্রীক সরকার অলিম্পিক গেমসের জন্য অর্থের যোগান দিয়েছিলো যা গেমসের টিকিট এবং ডাকটিকিট বিক্রয়ের মাধ্যমে উঠে আসে।[১৯]

গ্রীক সরকার এবং জনগন এই অলিম্পিক গেমস আয়োজন করে অত্যন্ত গর্বিত এবং উজ্জীবিত ছিল। কিছু ক্রিড়াবিদ এই গেমসকে চীরতরে এথেন্সে অয়োজন করার পক্ষে মত দিলেও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বিভিন্ন দেশে এই গেমসের আয়োজনকে ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষপাতি ছিল। গ্রীস অলিম্পিকের পরবর্তী আসর বসে ফ্রান্সের প্যারিসে।.[২০]

পরিবর্তন ও সংশোধন[সম্পাদনা]

১৮৯৬ সালের আসরের সফলতার পর অলিম্পিক গেমস একটি স্থবির সময়ের মধ্য দিয়ে যায় যখন এর অস্তিত্বই সংকটাপন্ন হয়ে পরে। ১৯০০ সালের অলিম্পিক গেমস ফ্রান্সের বিখ্যাত প্যারিস বিশ্বমেলার সাথে পাশাপাশি শুরু হয়। প্যারিসে অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার জন্য কোন আলাদা স্টেডিয়াম ছিল না। তবে প্রথমবারের মত মহিলারা অংশগ্রহন করায় এই আসরটি স্বরনীয় হয়ে থাকে। প্যারিসের অনুষ্ঠিত এই গেমসে সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৬৫০ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহন করে যাদের মধ্যে ৫৫০ জনই ছিল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত। আধুনিক অলিম্পিক গেমসের শুরু হওয়ার পর থেকে এই আসরটিই ছিল সবচেয়ে নিম্নমানের।[২১] তবে ১৯০৬ সাল থেকে গেমসটি আবার উজ্জিবীত হতে শুরু করে যখন থেকে প্রত্তেক তৃতীয় অলিম্পিয়াডে একটি করে অতিরীক্ত গেমস অনুষ্ঠিত হত। এই অতিরীক্ত গেমসগুলো শুধুমাত্র গ্রীসে অনুষ্ঠিত হত। তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এই প্রত্তেক বার বছরে অতিরীক্ত একটি গেমসকে কখনই মূল্যায়ন করে নি তাইএই গেমসগুলো অনানুষ্ঠানিকই রয়ে গেছে।[২২]

শীতকালীন অলিম্পিক[সম্পাদনা]

১৯২৮ সালের অলিম্পিকে আইস হকির দৃশ্য

শীতকালীন অলিম্পিকের সূচনা হয়েছিল মূলত তুষার ও বরফের বিভিন্ন খেলাকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য যা গ্রীষ্মকালে আয়োজন করা প্রায় অসম্ভব। ফিগার স্কেটিং (১৯০৮ ও ১৯২০) এবং আইস হকির (১৯২০) ইভেন্টগুলো গ্রীষ্মকালের অলিম্পিকে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইওসি বরফের উপর হওয়া এই ক্রীড়াগুলোকে আরো ব্যাপক কলেবরে করার জন্য এই জাতীয় আরো ক্রীড়া ইভেন্ট তালিকায় যুক্ত করতে থাকে। ১৯২১ সালের লুসানে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক কংগ্রেসে অলিম্পিকের একটি শীতকালীন আসর সুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। ফ্রান্সে প্যারিস গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন মাস আগে ১৯২৪ সালে ফ্রান্সের চেমনিক্সে একটি শীতকালীন ক্রীড়া সপ্তাহ পালন করা হয় (আসলে ১১ দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল)। এই ক্রীড়া সপ্তাহটিই হল বিশ্বের প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক গেমস।[২৩] যদিও সেবার শীতকালীন এবং গ্রীষ্মকালীন আসর একই দেশে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা করা হয়েছিলো, আইওসি এই পরিকল্পনা পরবর্তীতে বাদ দেয় এবং ঘোষনা করে যে এর পর থেকে শীতকালীন এবং গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক প্রত্তেক চার বছর পর পর একই বছরে অনুষ্ঠিত হবে।[২৪] আইওসির এই সিদ্ধান্ত ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। ১৯৯২ সালের ফ্রান্স অলিম্পিকের পর থেকে শীতকালীন অলিম্পিক প্রত্তেক চার বছর পর পর এবং, গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ২ বছর পর অনুষ্ঠিত হয়।

প্যারা অলিম্পিক[সম্পাদনা]

১৯৪৮ সালে স্যার লুডউইং গাটম্যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আহত সৈনিকদের পূনর্বাসনের জন্য কয়েকটি হাসপাতালের মধ্যে ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকের মত করে মাল্টি ইভেন্ট প্রতিযোগিতা চালু করেন। গাটম্যানের এই ইভেন্টটি মেন্ডিভেল গেমস নামে একটি বাৎসরিক ক্রীড়া আসর হিসেবে পরিচিত হয়। তখন থেকে পরবর্তী বার বছর পর্যন্ত গাটম্যান এবং তার সহযোগীরা এই গেমস কে বিকলাঙ্গদের পূনর্বাসন ও নিরাময়ের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যাবহার করতে থাকেন। রোমে অনুষ্ঠিত ১৯৬০ সালের অলিম্পিকে গাটম্যান এবং তার সমর্থকেরা প্রায় ৪০০ জন এথলেটকে প্যারা অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করানোর জন্য নিয়ে আসেন। এটিই ছিল অলিম্পিকের ইতিহাসে প্রথম প্যারা অলিম্পিক। এর পর থেকে প্রত্যেক অলিম্পিক অনুষ্ঠানের বছরে এই প্যারাঅলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৯৮৮ সালে কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমস উভয়ই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[২৫] ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিআন্তর্জাতিক প্যারাঅলিম্পিক কমিটি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে যাতে লিখা ছিল যে যেই দেশ অলিম্পিক গেমসের আয়োজক হবে তাকে একই সাথে প্যারা অলিম্পিক গেমসও আয়োজন করতে হবে।[২৬][২৭] এই চুক্তি ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে এবং ভ্যানকুভারে শীতকালীন অলিম্পিকে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। লন্ডন অলিম্পিক আয়োজন কমিটির চেয়ারম্যান লর্ড কওই লন্ডনে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্যারাঅলিম্পিক সম্পর্কে বলেন-

আমরা বিকলাঙ্গ এবং প্রতিবন্ধীদের সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে চাই এবং প্যারাঅলিম্পিক গেমস উজ্জাপন করে জানিয়ে দিতে চাই যে এই দুটি গেমস আসলে একে অপরের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ।[২৮]

যুব অলিম্পিক[সম্পাদনা]

১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী ক্রীড়াবিদদের জন্য সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ২০১০ সালে মূল অলিম্পক গেমসের সাথে যুব অলিম্পিক গেমসের সংযোজন করা হয়েছিল। এর প্রধান রূপকার ছিলেন আইওসির প্রেসিডেন্ট জ্যাকর রগ। তিনি এই যুব অলিম্পিকের প্রস্তাব করেন ২০০১ সালে যা আইওসির ১১৯ তম কংগ্রেসে অনুমোদিত হয়।[২৯] ২০১০ সালের ১৪-২৬ আগস্টে সিঙ্গাপুরে প্রথম গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়, অপরদিকে এর শীতকালীন আসর বসে দুই বছর পর অস্ট্রিয়ার ইন্সবার্কে।[৩০] এই যুব অলিম্পিক গেমস অলিম্পিকের মূল আসরের চেয়ে স্বল্প পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। গ্রীষ্মকালীন আসর নয় দিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয় যেখানে ৯৭০ জন ক্রীড়াবিদ ও ৫৮০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করতে পারে অপরদিকে গ্রীষ্মকালীন আসর হয় ১২ দিনের জন্য যেখানে ৩৫০০ জন ক্রীড়াবিদ ও ৯৭০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করতে পারে।[৩১][৩২] মূল অলিম্পিকের ন্যায় এই অলিম্পিকেও বিভিন্য ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা থাকে , এছাড়া এর স্থায়িত্ব কমানোর জন্য কিছু ইভেন্ট বাদ দেওয়া হয় ও কিছু খেলায় নারী ও পুরুষের সমন্বিত দল গঠন করা হয়।[৩৩]

সাম্প্রতিক গেমস[সম্পাদনা]

১৮৯৬ সালের আসরে ১৪ টি দেশের মাত্র ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ২০৪ টি দেশের ১০৫০০ জন ক্রীড়াবিদের একটি মহান ক্রীড়াযজ্ঞে পরিণত হয়েছে অলিম্পিক গেমস।[৩৪] গ্রীষ্মকালীনের মত ভ্যানক্যুভরে অনুষ্ঠিত শীতকালীন শীতকালীন গেমসেও ৮২ টি দেশের ২৫৬৬ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করে।[৩৫] গেমস চলাকালীন সময়ে ক্রীড়াবিদ ও প্রতিনিধিদের যে স্থানে থাকতে দেওয়া হয় তাকে অলিম্পিক ভিলেজ বলা হয়। এই অলিম্পিক ভিলেজে ক্যাফেটেরিয়া, স্বস্থসেবা ক্লিনিক এবং ধর্মীয় আচার পালনের স্থান সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাদি দেওয়া থাকে।[৩৬]

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনের মত বিভিন্ন দেশের সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের শর্তকে শিথিল হিসেবে বিবেচনা করে। এরই ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন উপনিবেশ ও স্বনির্ভর নওয় এমন দেশও অলিম্পিক গেমসে অংশগ্রহণ ও ক্রীড়াবিদ পাঠানোর সুযোগ পায়। যেমন পুর্টো রিকো বারমুডা এবং হংকং অন্য একটি দেশের অধীনে থাকার পরও অলিম্পিক গেমসে একটি দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করে।[৩৭] আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির নতুন চার্টার অনুসারে যেকোন দেশের আন্তর্জাতিক কমিউনিটি কতৃক স্বীকৃত স্বাধীন রাজ্যই ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে অলিম্পিকে অংশগ্রহণের অধিকার রাখে।.[৩৮] যার কারণে আইওসি সিন্ট মার্টিন ও কুরাকাওকে ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি গঠন করার অনুমতি দেয় নই যেখানে আরুবা আরুবান অলিম্পিক কমিটি গঠন করে ১৯৮৬ সালে।[৩৯][৪০]

স্বাগতিক দেশের ওপর অর্থনৈতীক ও সামাজিক প্রভাব[সম্পাদনা]

অনেক অর্থনীতিবিদই অলিম্পিক আয়োজনের সুফলের ব্যাপারে সন্দিহান কারণ যদিও স্বাগতিক দেশ অলিম্পিক আয়োজনের মাধ্যমে সারা বিশ্বকে এর উন্মুক্ত বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করে, অলিম্পিকের মত গেমস আয়োজন করতে অনেক ব্যয় হয় এবং এর অধিকাংশই আমদানির মাধ্যমে বিদেশ চলে যায় যাতে করে অর্থনীতিতে বিপরীত প্রভাব পরারও সম্ভাবনা থাকে।[৪১] এছড়া গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে স্বাগতিক শহরে বহুজাতিক কোম্পানির সদর দফতর গুলো স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং লোকাল কমিয়নিটিতে যথেষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করে এবং এতে স্থানীয়রা লেভবান হন। গেমসের শুরুর বছর থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত স্বাগতিক শহর এই গেমস আয়োজন করার জন্য লাভবান হয়। যদিও এই অর্থনৈতীক বা সামাজিক সুবিধা বেশি দিন স্থায়ী হয় না তার পরেও স্থানীয়দের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ অবকাঠামোর যথেষ্ট পরিমাণ উন্নতি সাধন হয়। এছাড়াও অলিম্পিকের সময় দেশ বিদেশ থেকে দর্শনার্থী আসার ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যাবসাও নিজেদের প্রচার প্রচারণার সুযোগ পায়। অলিম্পিক গেমস এর আয়োজনকারী শহরের জন্য কিছু সুফল বয়ে আনলেও শহরবাসীর জন্য তা সবসময় সুফলদায়ী নাও হতে পারে। অলিম্পিক গেমস আয়োজনের স্বার্থে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে প্রায় বিশ লক্ষ লোককে তাদের আবাসস্থল ত্যাগ করতে হয়েছে।[৪২]

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি[সম্পাদনা]

সুইজারল্যান্ডের লুসানে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদর দফতর।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা ও ফেডারেশন, স্বীকৃত মিডিয়া পার্টনার, জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ, আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলী, রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি এবং যেসকল প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক চার্টারের আইন মান্য করে চলে তাদের প্রত্যেকের সমন্বয়েই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি গঠন করা হয়।[৪৩] যদিও অলিম্পিকের সাথে অলেক প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকে স্বাগতিক দেশ নির্বাচন, ক্রীড়া পরিকল্পনা উন্নয়ন, পৃষ্ঠপোষক ও প্রচারসত্বের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি একাই সংরক্ষণ করে থাকে।[৪৪] আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। সংগঠনগুলো হল-

  • আন্তর্জাতিক ফেডারেশন সমূহ
  • ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি এবং
  • আয়োজক কমিটি

আইওসির দাফতরিক ভাষা হল ফেঞ্চ ও ইংরেজি। যদি স্বাগতিক দেশের ভাষা ফেঞ্চ বা ইংরেজি না হয় তাহলে অলিম্পিকের আয়োজনে সেই ভাষাও ব্যাবহৃত হয়। আর্থাৎ প্রত্যেকটি ঘোষনা ইংরেজি, ফেঞ্চ ও স্থানীয় এই তিনটি ভাষায় দেওয়া হয়।

বানিজ্যিকিকরন[সম্পাদনা]

শুরুর দিকে আইওসি কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে অলিম্পিক গেমসের জন্য অর্থ সংগ্রহের বিরুদ্ধচারন করলেও ১৯৭২ সালের পর থেকে আইওসি ব্যাবসায়িক অংশীদারদের আকর্ষনীয় ও লোভনীয় প্রস্তাবের পক্ষে মত দেয় এবং জুয়ান এন্টোনিয়ো সামারাঞ্চের সময়কাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অলিম্পিক গেমস কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকদের তাদের পণ্যের জন্য মার্কেটিং এর সুযোগ তৈরী করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তহবিল পেয়ে আসছে।[৪৫] এতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের ব্রান্ডিং করার সুযোগ পায় এবং অপরপক্ষে আইওসি সকল গেমসের টিভি স্বত্ব বিক্রয়ের মাধ্যমে সকল ব্যয় নির্বাহের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহ করতে পারে।[৪৬]

বাজেট[সম্পাদনা]

বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে অলিম্পিক স্বল্প বাজেটে অনুষ্ঠিত হত।[৪৬][৪৭] ১৯৫২ সাল ঠেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত আইওসির প্রেসিডেন্ট এভ্রি ব্রান্ডেজ অলিম্পিক গেমসকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যাবহারের সকল প্রস্তাবকে নাকচ করে দিয়েছিলেন।[৪৫] তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর সাথে অলিম্পিক কমিটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলে তারা আইওসির উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে।[৪৫] ব্রান্ডেজের সময় অলিম্পিকের আয়োজকেরা তাদের নিজেদের পৃষ্ঠপোষকের কাছ থেকে অর্থ নিতেন এবং নিজেদের প্রতীক ব্যাবহার করতেন। ব্রান্ডেজ অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত অলিম্পিক কমিটির তহবিলে মাত্র দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা ছিল। তবে তার অবসরের আট বছর পর আইওসির তহবিলে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল।[৪৫]

টেলিভিশনের প্রভাব[সম্পাদনা]

১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকের সময় অঙ্কিত একটি কার্টুন যাতে বুঝানো হচ্ছে ২০০০ সালের দিকে যখন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে তখন গ্যালারিতে কোন দর্শক থাকবে না। সবাই টিভিতে অলিম্পিক উপভোগ করবে এবং লাউড স্পীকারের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়া হবে।

১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকই সর্বপ্রথম টেলিভিশনে সরাসরি প্রচারিত হয়েছিল। এই সম্প্রচার শুধুমাত্র স্থানীয় দর্শকরাই উপভোগ করতে পেরেছিলেন।[৪৮] ১৯৫৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিক সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক ভাবে সম্প্রচার করা হয়।[৪৯] এর পরবর্তী শীতকালীন অলিম্পিকের টিভিস্বত্ত্ব বাণিজ্যিকভাবে বিক্রয় করা হয়েছিলো। একটি চেলিভিশন সম্প্রচার সংস্থা সিবিএস শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এর টিভিস্বত্ত্বের জন্য ৩,৯৪,০০০ মার্কিন ডলার প্রদান করেছিলো।[৫০] এছাড়া ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন ইউরোপে এর টিভিস্বত্ত্বের জন্য প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ মার্কিন ডলার দিয়েছিলো।[৪৬] ষাটের দশকে অলিম্পিককে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তির মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে শীতলযুদ্ধের অবতারণা হয়েছিলো আর আইওসি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টিভিস্বত্বের মূল্য আরও বাড়িয়ে চলছিলো।[৫০] টিভিস্বত্বের এই বিশাল আয় থেকে অলিম্পিক কমিটি অলিম্পিক গেমসকে সাধারণের মাঝে আরও জনপ্রিয় করার প্রয়াস পায় এবং ফলশ্রুতিতে এর টেলিভিশন দর্শক আরও বৃদ্ধি পায় এবং টিভিতে পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী দশকগুলো থেকে অলিম্পিকের টিভিস্বত্বের মূল্য আকাশচুম্বী হতে থাকে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৯৮ সালের নাগানো অলিম্পিকের জন্য সিএসবি ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করে,[৫১] অপরদিকে ২০০০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এনবিসি সম্প্রচার স্বত্বের জন্য প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে।[৪৬]

১৯৬০ সালের থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত অলিম্পিকের টেলিভিশন দর্শক বাড়তে থাকে। স্যাটেলাইট ও সরাসরি সম্প্রচারের কল্যাণে ১৯৬৪ সালের ম্যাক্সিকো অলিম্পিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন দর্শক উপভোগ করেছিলেন। ১৯৮৪ সালে লস এঞ্জেলস অলিম্পিকে দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন এবং ১৯৯২ সালের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে দর্শক সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন! [৫২]তবে ১৯৯২ সালের পর থেকে ইন্টারনেটের প্রসার ও ক্যাবল টেলিভিশনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে দর্শক কমতে শুরু করে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে অলিম্পিকের বিভিন্ন ইভেন্টের ফলাফল ও সরাসরি ভিডিও দেখার সুবিধা যোগ হওয়ার পর থেকেই দর্শক সংখ্যায় ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করে।[৫৩] দর্শক সংখ্যা কমলে আইওসির টিভিস্বত্ত্ব থেকে আয় কমে যেতে পারে এই চিন্তা থেকে আইওসি দর্শক ধরে রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়। যার মধ্যে জাঁকজমকপূর্ন উদ্বোধনি ও সমাপনই অনুষ্ঠান, বিভিন্ন গেমসের সময়কাল বাড়ানো ও প্রচারণায় নতুনত্ব অন্যতম। তবে এতকিছুর পরও ২০১২ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক যুক্তরাষ্ট্রের এযাবতকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী টেলিভিশন দর্শক টানতে সমর্থ হয়।[৫৪][৫৫]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

অলিম্পিক ব্রান্ডের স্বত্ব বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রয় করার ব্যাপারটি অনেকক্ষেত্রেই সমালোচনার মুখে পড়ে। অলিম্পিক ব্রান্ডের এই বানিজ্যিকিকরনের ফলে এটি অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মতই নিষ্প্রভ হয়ে আসছে। এর অন্যতম প্রমাণ হল ১৯৯৬ সালের আটলান্টা ও ২০০০ সালের সিডনি অলিম্পিক। এই স্বাগতিক শহরগুলো বাণিজ্যিক কোম্পানি, ব্যাবসায়িক মার্কেটার এবং অন্যান্য বিভিন্ন ব্যান্ডের পণ্য বিক্রেতার ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছিল। যেখানে তারা মাত্রাতিরিক্ত পরিমানে পণ্যের প্রচারণা ও বিক্রয় কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেছিল যা অলিম্পিকের মূলনীতি পরিপন্থী। তবে ভবিষ্যৎ আসরে এইধরনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যাবসায়িক প্রচারণা বন্ধে অলিম্পিক কমিটি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। অলিম্পিক গেমসের আয়োজক দেশ গেমস এবং অবকাঠামো সংক্রান্ত সকল ব্যায়ভার বহন করলেও স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ অলিম্পিক কমিটি পায়। এছাড়াও টিভিস্বত্ত্ব ও অন্যান্য বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকদের থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থই অলিম্পিক কমিটি গ্রহণ করে থাকে। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তহবিলের কিয়দাংশই আয়োজক দেশ পায় তাসত্বেও গেমস সংক্রান্ত সকল বিষয়ই অলিম্পিক কমিটি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই ধরনের অর্থনৈতীক নিতির জন্য বহুদিন ধরেই অলিম্পিক কমিটি বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পরে আসছে। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে অলিম্পিক আয়োজনের ফলে স্বাগতিক দেশের ব্যাবসা বাণিজ্য প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পায়।

প্রতীক[সম্পাদনা]

অলিম্পিকের পতাকা

অলিম্পিক সনদ অনুযায়ী অলিম্পিকের সকল গেমসে অলিম্পিকের মূলনীতি প্রতিফলনকারী প্রতীক ব্যাবহার করা হয়। অলিম্পিকের প্রতীক যা বাংলায় অলিম্পিক পতাকা বা অলিম্পিক নিশান হিসেবে পরিচিত মূলত পাঁচটি রিং একে অপরকে জড়িয়ে থাকে। পতাকার এই পাঁচটি রিং আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে নির্দেশ করে। পাঁচটি রিংএর পাঁচটি রঙ নীল, হলুদ, কালো, সবুজ ও লাল চয়ন করার মূল কারণ হল এই পাঁচটি রঙের অন্তত যেকোন একটি বা একাধিক রঙ প্রত্যেক দেশের পতাকায় ব্যাবহৃত হয়েছে। অলিম্পিকের এই পতাকাটি ১৯১৪ সালে সর্বপ্রথম গৃহীত হয় তবে ১৯২০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ওড়ানো হয়।

অলিম্পিকের মোটো ল্যাটিন ভাষায় সিটিয়াস, এলটিয়াস ফোর্টিয়াস বা দ্রুত, উচ্চতম শক্তিশালী। এই মোটোটি ব্যারন পিঁয়ের দ্যা কুব্যারত্যাঁ সর্বপ্রথম প্রস্তাব করেন ১৮৯৪ সালে এবং তা ১৯২৪ সাল পর্যন্ত দাফতরিকভাবে অলিম্পিকের মোটো ছিল।

অনুষ্ঠানসমূহ[সম্পাদনা]

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি দৃশ্য।

অলিম্পিক সনদে উল্লেখিত রীতি অনুযায়ী গেমস শুরুর পূর্বে একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।[৫৬][৫৭] এই অনুষ্ঠানের রীতি ১৯২০ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক থেকে চলে আসছে।[৫৮] অনুষ্ঠানটি সাধারণত স্বাগতিক দেশের পতাকা উত্তোলন এবং এর জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে শুরু হয়।[৫৬] এর পরে স্বাগতিক দেশ বিভিন্য নান্দনিক প্রদর্শনির মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ প্রদান করে। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে স্বাগতিক দেশ তার নিজের কৃষ্টি, কলা, ঐতিহ্য ও ইতিহাস তুলে ধরার সুযোগ পায়। এই জাতীয় অনুষ্ঠানে স্বাগতিক দেশ প্রচুর অর্থ খরচ করে নিজেদের গৌরব ও সামর্থ সারা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা চালায়। যেমন বেইজিং অলিম্পিকর উদ্বোধনি অনুষ্ঠানে পরায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়।

দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শনির পর বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদরা দর্শকদের সামনে অলিম্পিক স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করে। এই প্রদক্ষিণে সর্বপ্রথম আসে গ্রীসের ক্রীড়াবিদরা এবং সর্বশেষে আসে আয়োজক দেশের ক্রীড়াবিদরা। গ্রীসকে এই সম্মান দেওয়া হয় অলিম্পিকের ইতিহাসে গ্রীসের ভূমিকার জন্য। গ্রীসের পরে স্বাগতিক দেশের বর্নমালার বর্নানুক্রমে সব দেশের ক্রীড়াবিদরা স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করে। ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে গ্রীক এথলেটরা সর্বপ্রথম প্রদক্ষিণ করে এবং নিয়ম অনুযায়ী শেষে স্বাগতিক দেশের প্রদক্ষিণ করার কারণে প্রদক্ষিনের শেষ দিকে এথলেটদের সাথে থাকা গ্রীক কর্মকর্তারা প্রদক্ষিণ করে এই পর্বের ইতি টানে। এর পর অলিম্পিকের মশাল স্টেডিয়ামে এনে চূড়ান্ত মশাল বাহকের কাছে পৌঁছানো হয় । সাধারণত স্বাগতিক দেশের পূর্বোক্তোন অলিম্পিক বিজয়ীরাই অলিম্পিকের চূড়ান্ত মশাল প্রজ্বলন করে থাকেন।

সমাপনি অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

২০০৮ সালের অলিম্পিকের সমাপনি অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদরা।

অলিম্পিক গেমসের সকল ইভেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার পর এই ক্রিড়াযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানার জন্য এই সমাপনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে বর্নানুক্রমে নিজ নিজ দেশের পতাকা নিয়ে ক্রীড়াবিদরা মাঠে এসে উপস্থিত হন। সর্বশেষে মাঠে আসেন সেইসব ক্রীড়াবিদরা যারা কোন দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না। সমাপনি অনুষ্ঠানে তিনটি দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং তাদের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এই তিনটি দেশ হল বিদায়ী অনিম্পিকের স্বাগতিক দেশ, গ্রীস (অলিম্পিকের জন্মস্থান হওয়ার কারণে গ্রীসকে এই সম্মান দেওয়া হয়।) এবং পরবর্তী আসরের স্বাগতিক দেশ। পতাকা উত্তোলনের পরে অলিম্পিক আয়োজক কমিটির সভাপতি একটি সমাপনি ভাষণ দেন এবং সমাপনি ভাষণ শেষে অলিম্পিক মশাল নিভিয়ে ফেলা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে স্বাগতিক শহরের মেয়র পরবর্তী আসরের স্বাগতিক শহরের মেয়রের হাতে অলিম্পিক মশাল তুলে দেন।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান[সম্পাদনা]

২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

অলিম্পিক গেমসের শেষে সকল বিজয়ীদের নিয়ে একটি পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সর্বোচ্চ পদক বিজয়ী , দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান্ধারীদের এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়। বিজয়ী দেশের সর্বোচ্চ পদকধারীকে তার দেশের প্রতিনিধি হিসেবে মেডেল প্রদান করা হয়। আইওসির সদস্যরা বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন এবং এই সময়ে প্রথম স্থান অধিকারী দেহের জাটিয় সংগীত বাজানো হয়। সাধারণত স্বাগতিক দেশের নাগরিকরা এই অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।

স্বাগতিক দেশ এবং শহর[সম্পাদনা]

অলিম্পিক গেমসের আয়োজক শহর[৫৯]
সাল গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস শীতকালীন অলিম্পিক গেমস যুব অলিম্পিক গেমস
অলিম্পিয়াড স্বাগতিক শহর নম্বর স্বাগতিক শহর নম্বর স্বাগতিক শহর
১৮৯৬ I গ্রিস এথেন্স, গ্রীস
১৯০০ II ফ্রান্স প্যারিস
১৯০৪ III মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট লুইস, মিশৌরি, যুক্তরাষ্ট্র[lower-alpha ১]
১৯০৬ Intercalated[lower-alpha ২] গ্রিস Athens, Greece
১৯০৮ IV যুক্তরাজ্য লন্ডন, যুক্তরাজ্য [lower-alpha ৩]
১৯১২ V সুইডেন স্টকহোম, সুডেন
'১৯১৬ VI জার্মানি Berlin, Germany
Cancelled because of World War I
১৯২০ VII বেলজিয়াম এন্টেওয়ার্প, বেলজিয়াম
১৯২৪ VIII ফ্রান্স প্যারিস, ফ্রান্স I ফ্রান্স চেমনিক্স, France
১৯২৮ IX নেদারল্যান্ডস আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস II সুইজারল্যান্ড সেন্ট মরিটজ, সুইজারল্যান্ড
১৯৩২ X মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লস এঙ্গেলস, যুক্তরাষ্ট্র III মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Lake Placid, United States
১৯৩৬ XI জার্মানি বার্লিন, নাৎজি জার্মানি IV জার্মানি নাৎজি জার্মানি
'১৯৪০ XII জাপান টকিয়ো, জাপান
ফিনল্যান্ড হেলসিংকি, ফিনল্যান্ড →
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে স্থগিত
V জাপান সাপ্পোরো, জাপান
সুইজারল্যান্ড সেন্ট মরিটজ, সুইজারল্যান্ড →
জার্মানি Garmisch-Partenkirchen, নাৎজি জার্মানি →
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে স্থগিত
'১৯৪৪ XIII যুক্তরাজ্য লন্ডন, যুক্তরাজ্য →
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে স্থগিত
V ইতালি কোর্তেনিয়া দি আমপাজ্জো, ইতালি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারনে স্থগিত
১৯৪৮ XIV যুক্তরাজ্য লন্ডন, যুক্তরাজ্য V সুইজারল্যান্ড সেন্ট মরিটজ, সুইজারল্যান্ড
১৯৫২ XV ফিনল্যান্ড হেলসিংকি, ফিনল্যান্ড VI নরওয়ে অসলো, নরওয়ে
১৯৫৬ XVI অস্ট্রেলিয়া মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া +
সুইডেন স্টকহোম, সুইডেন[lower-alpha ৪][৬০]
VII ইতালি Cortina d'Ampezzo, Italy
১৯৬০ XVII ইতালি Rome, Italy VIII মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Squaw Valley, United States
১৯৬৪ XVIII জাপান Tokyo, Japan IX অস্ট্রিয়া Innsbruck, Austria
১৯৬৮ XIX মেক্সিকো Mexico City, Mexico X ফ্রান্স Grenoble, France
১৯৭২ XX পশ্চিম জার্মানি Munich, West Germany XI জাপান Sapporo, Japan
১৯৭৬ XXI কানাডা Montreal, Canada XII মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Denver, United States
অস্ট্রিয়া Innsbruck, Austria
১৯৮০ XXII সোভিয়েত ইউনিয়ন Moscow, Soviet Union XIII মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Lake Placid, United States
১৯৮৪ XXIII মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Los Angeles, United States XIV ইয়োগোস্লাভিয়ার সমাজতান্ত্রিক ফেডারেল প্রজাতন্ত্র Sarajevo, Yugoslavia
১৯৮৮ XXIV দক্ষিণ কোরিয়া Seoul, South Korea XV কানাডা Calgary, Canada
১৯৯২ XXV স্পেন Barcelona, Spain XVI ফ্রান্স Albertville, France
১৯৯৪ XVII নরওয়ে Lillehammer, Norway
১৯৯৮ XXVI মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Atlanta, United States
১৯৯৮ XVIII জাপান Nagano, Japan
২০০০ XXVII অস্ট্রেলিয়া Sydney, Australia
২০০২ XIX মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Salt Lake City, United States
২০০৪ XXVIII গ্রিস Athens, Greece
২০০৬ XX ইতালি Turin, Italy
২০০৮ XXIX চীন Beijing, China[lower-alpha ৫][৬১]
২০১০ XXI কানাডা Vancouver, Canada I (Summer)  Singapore
২০১২ XXX যুক্তরাজ্য London, United Kingdom I (Winter) অস্ট্রিয়া Innsbruck, Austria
২০১৪ XXII রাশিয়া Sochi, Russia II (Summer) চীন Nanjing, China
২০১৬ XXXI ব্রাজিল Rio de Janeiro, Brazil II (Winter) নরওয়ে Lillehammer, Norway
২০১৮ XXIII দক্ষিণ কোরিয়া Pyeongchang, South Korea III (Summer) আর্জেন্টিনা Buenos Aires, Argentina
২০২০ XXXII জাপান Tokyo, Japan III (Winter) To be determined
২০২২ XXIV To be determined IV (Summer) To be determined
২০২৪ XXXIII To be determined IV (Winter) To be determined

অলিম্পিক বর্জন[সম্পাদনা]

একটি মানচিত্রের সাহায্যে দেখানো হচ্ছে যে কোন কোন দেশ ১৯৭৬ (হলুদ), ১৯৮০ (নীল) এবং ১৯৮৪ (লাল) সালের অলিম্পিক গেমস বর্জন করেছিল।

অলিম্পিক গেমসের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন এবং সুইজারল্যান্ড প্রত্যেকটি আসরেই অংশগ্রহণ করেছে। অন্যান্য দেশসমূহ হয়তো প্রশগিক্ষিত ক্রীড়াবিদের অভাবে নয়তো অন্যান্য রাজনৈতিক কারণে অনেক আসরেই অংশগ্রহণ করে নি। ১৯৩৬ সালে আইরিশ অলিম্পিক কাউন্সিল বার্লিন অলিম্পিক বর্জন করেছিলো। তার কারণ ছিল আইওসি তাদেরকে পুরো আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্বের বদলে ফ্রি আইরিশ স্টেট হিসেবে যোগদান করতে বলেছিল।

হাঙ্গেরিয়ান বিপ্লবের সময় ইউক্রেনিয়ানদের উপর সোভিয়েত ইউনিয়নের অত্যাচারের কারণে নেদারল্যান্ড, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ড মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক গেমস বর্জন করেছিল ।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

অলিম্পিক গেমসের শুরু থেকেই বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃ হয়ে আসছে। ১৯৩৬ সালে জার্মানিতে যখন অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয় তখন নাৎসিরা আর্য জাতীয়তাবোধকে প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ঠ থাকলেও ন্যাশনাল সোশালিস্ট পার্টিকে একটি উদারপন্থী দল হিসেবে প্রচার করেছিল।[৬২] তবে সেই আসরে জার্মান এথলেটরা বেশ ভাল ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়েছিল। জার্মানি সর্বাধিক সংখ্যক স্বর্নপদক জিতলেও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত আমেরিকানরাও চারটি স্বর্ণপদক জয় করে জার্মান আর্য জাতীয়তাবোধের শ্রেষ্ঠত্বকে প্রমাণ করার যথেষ্ট সুযোগ দেয় নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও হাঙ্গেরির ক্রীড়াবিদরাও নাৎসিদের এই শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইতে প্রতিপক্ষ হিসেবে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।[৬৩] ১৯৫২ সালের হেলসিংকিতে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন কখনও কোন অলিম্পিকে যোগ দেয় নি। আন্তর্জাতীক এই গেমসে যোগদানের বদলে সোভিয়েতরা নিজেরাই এক ক্রীড়া আসরের আয়োজন করে যার নাম ছিল স্পার্টাকিয়াডস। ১৯২০ থেকে ১৯৩০ সালের যুদ্ধ মধ্যবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট এবং সমমনা দেশ জাতীসমূহ এই ক্রিড়াযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে।[৬৪] ১৯৬৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি পূর্নমাত্রার স্পোর্টস সুপারপাওয়ার হিসেবে যোগদান করে এবং বেশ কিছু স্বর্নপদক জিতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।[৬৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "The Olympic Truce – Myth and Reality by Harvey Abrams"। Classics Technology Center, AbleMedia.com। সংগৃহীত 12February 2013 
  2. "Olympic Games" (registration required)। Encyclopædia Britannica। সংগৃহীত 29 April 2009 
  3. "Ancient Olympic Events"। Perseus Project of Tufts University। সংগৃহীত 29 April 2009 
  4. However, Theodosius' decree contains no specific reference to Olympia (Crowther 2007, p. 54).
  5. Crowther 2007, পৃঃ  54
  6. 400 Years of Olimpick Passion, Robert Dover's Games Society, সংগৃহীত 4 June 2010 
  7. Young 2004, পৃঃ  144
  8. Young 1996, পৃঃ  28
  9. Matthews 2005, pp 53–54
  10. Weiler 2004
  11. Young 1996, পৃঃ  1
  12. Young 1996, পৃঃ  14
  13. Young 1996, pp 2, 13–23, 81
  14. "Rugby School motivated founder of Games" (registration required)। http://sportsillustrated.cnn.com। সংগৃহীত ০৪ জুলাই ২০০৪ 
  15. "Athens 1896"। The International Olympic Committee। সংগৃহীত 8 February 2010 
  16. Young 1996, পৃঃ  117
  17. Memoire sure le conflit entre la Grece et la Roumanie concernant l'affaire Zappa – Athens 1893, by F. Martens
  18. L'affaire Zappa – Paris 1894, by G. Streit
  19. ১৯.০ ১৯.১ Young 1996, পৃঃ  128
  20. "1896 Athina Summer Games"। Sports Reference। সংগৃহীত 31 January 2009 
  21. "St. Louis 1904 – Overview"। ESPN। সংগৃহীত 31 January 2009 
  22. "1906 Olympics mark 10th anniversary of the Olympic revival"। Canadian Broadcasting Centre। 28 May 2008। সংগৃহীত 31 January 2009 
  23. "Chamonix 1924"। International Olympic Committee। আসল থেকে 2 August 2008-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 31 January 2009 
  24. "Winter Olympics History"। Utah Athletic Foundation। সংগৃহীত 31 January 2009 
  25. "History of the Paralympics"BBC Sport। 4 September 2008। সংগৃহীত 2 February 2009 
  26. "History of the Paralympic Games"। Government of Canada। সংগৃহীত 7 April 2010 
  27. IPC-IOC Co-operation "IPC-IOC Cooperation"। International Paralympic Committee। সংগৃহীত 3 May 2010 
  28. Gibson, Owen (4 May 2010)। "Sainsbury's announces sponsorship of 2012 Paralympics"The Guardian (London)। 
  29. "Rogge wants Youth Olympic Games"BBC Sport। 19 March 2007। সংগৃহীত 2 February 2009 
  30. "Innsbruck is the host city for the first Winter Youth Olympic Games"। The Vancouver Organizing Committee for the 2010 Olympic and Paralympic Winter Games। 12 December 2008। সংগৃহীত 30 March 2009 
  31. "IOC session: A "go" for Youth Olympic Games"। International Olympic Committee। 5 July 2007। আসল থেকে 21 August 2008-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 2 February 2009 
  32. Wade, Stephen (25 April 2007)। "No kidding: Teens to get Youth Olympic Games"USA Today। সংগৃহীত 27 August 2008 
  33. Michaelis, Vicky (5 July 2007)। "IOC votes to start Youth Olympics in 2010"USA Today। সংগৃহীত 2 February 2009 
  34. "London 2012"। International Olympic Committee। সংগৃহীত 12 July 2012 
  35. "Vancouver 2010"। International Olympic Committee। সংগৃহীত 12 July 2012 
  36. "Beijing to build convenient Olympic village"। The Beijing Organizing Committee for the Games of the XXIX Olympiad। সংগৃহীত 4 May 2009 
  37. "Olympic Charter" (PDF)। International Olympic Committee। পৃ: 61। আসল থেকে 26 April 2009-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 28 July 2011 
  38. "The Olympic Charter"। International Olympic Committee। সংগৃহীত 17 July 2012 
  39. "Executive Board concludes first meeting of the new year"। olympic.org ("Official website of the Olympic movement")। 13 January 2011। সংগৃহীত 13 January 2011 
  40. "Curtain comes down on 123rd IOC Session"Olympic.org। সংগৃহীত 3 July 2012 
  41. Rose, A. K., & Spiegel, M. M. (2011). The Olympic Effect*. The Economic Journal, 121(553), 652–677.
  42. Glynn, M. A. (2008). "Configuring the field of play: how hosting the Olympic Games impacts civic community." Journal of Management Studies, 45(6), 1117–1146.
  43. "The Olympic Movement"। International Olympic Committee। সংগৃহীত 2 May 2009 
  44. "Roles and responsibilities during the Olympic Games"। International Olympic Committee। February 2008। পৃ: 1–2। আসল থেকে 29 April 2011-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 2 May 2009 
  45. ৪৫.০ ৪৫.১ ৪৫.২ ৪৫.৩ Cooper-Chen 2005, পৃঃ  231
  46. ৪৬.০ ৪৬.১ ৪৬.২ ৪৬.৩ "Issues of the Olympic Games"Olympic Primer। LA84 Foundation of Los Angeles। সংগৃহীত 30 March 2009 
  47. Buchanon & Mallon 2006, পৃঃ  ci
  48. "Berlin 1936"। International Olympic Committee। আসল থেকে 22 August 2008-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 31 March 2009 
  49. "Cortina d'Ampezzo"। International Olympic Committee। আসল থেকে 22 August 2008-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 31 March 2009 
  50. ৫০.০ ৫০.১ Slack 2004, পৃঃ  192
  51. Gershon 2000, পৃঃ  17
  52. Tomlinson 2005, পৃঃ  14
  53. Walters, Walters (2 October 2000)। "All fall down"Sports Illustrated (Time Inc.)। আসল থেকে 29 April 2011-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 2 April 2009 
  54. Woods 2007, পৃঃ  146
  55. "London Olympics 2012 Ratings: Most Watched Event In TV History"। The Huffington Post। 13 August 2012। সংগৃহীত 12 July 2013 
  56. ৫৬.০ ৫৬.১ "Fact sheet: Opening Ceremony of the Summer Olympic Games" (PDF)। International Olympic Committee। February 2008। আসল থেকে 29 April 2011-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 14 August 2008  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  57. "Fact sheet: Opening Ceremony of the Winter Olympic Games" (PDF)। International Olympic Committee। February 2008। আসল থেকে 26 April 2009-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 14 August 2008  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)
  58. "The development of the Games – Between festival and tradition"The Modern Olympic Games (PDF)। International Olympic Committee। পৃ: 5। আসল থেকে 26 April 2009-এ আর্কাইভ করা। সংগৃহীত 29 August 2008 
  59. "Olympic Games" (registration required)। Encyclopædia Britannica। সংগৃহীত 2 April 2009 
  60. "Official Report of the Equestrian Games of the XVIth Olympiad (Swedish & English)" (PDF)। Los Angeles 1984 Foundation। সংগৃহীত 3 September 2008 
  61. "Beijing 2008"। The International Olympic Committee। সংগৃহীত 30 January 2009 
  62. Findling & Pelle 2004, পৃঃ  107
  63. Findling & Pelle 2004, pp 111–112
  64. Roche 2000, পৃঃ  106
  65. "The USSR and Olympism" (PDF)। Olympic Review (International Olympic Committee) (84): 530–557। October 1974। সংগৃহীত 4 May 2009  |month= প্যারামিটার অজানা, উপেক্ষা করুন (সাহায্য)

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]


উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামের গ্রুপের <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ দেয়া হয়নি