সুয়েজ সংকট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
সুয়েজ সংকট
ত্রিপক্ষীয় আগ্রাসন
সিনাই যুদ্ধ
মূল যুদ্ধ: স্নায়ুযুদ্ধআরব-ইসরায়েলি সংঘাত
Tanks Destroyed Sinai.jpg
ক্ষতিগ্রস্ত মিশরীয় ট্যাংক
তারিখ ২৯ অক্টোবর ১৯৫৬ – ৭ নভেম্বর ১৯৫৬
(১৯৫৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সিনাইয়ে ইসরায়েলি আধিপত্য)
অবস্থান গাজা উপত্যকা এবং মিশর (সিনাই উপদ্বীপসুয়েজ খাল অঞ্চল)
ফলাফল

মিশরের রাজনৈতিক বিজয়[১]
জোট বাহিনীর সামরিক বিজয়[১][২][৩]

  • আন্তর্জাতিক চাপের পর ইঙ্গ-ফরাসিদের পিছু হটা (ডিসেম্বর ১৯৫৬)
  • সিনাইয়ে ইসরায়েলি আধিপত্য (মার্চ ১৯৫৭ পর্যন্ত)
  • সিনাইয়ে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েন[৪]
  • ইসরায়েলি জাহাজের জন্য তিরান প্রণালি চালু
  • ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এন্টোনি ইডেনের পদত্যাগ, পরাশক্তি হিসেবে ব্রিটেনের ভূমিকার অবসান[৫][৬][৭]
  • ফরাসি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গাই মোলের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত
বিবদমান পক্ষ
সমর্থনদাতা:
 যুক্তরাষ্ট্র
 সোভিয়েত ইউনিয়ন
নেতৃত্ব প্রদানকারী
শক্তিমত্তা
  • ইসরায়েল ১৭৫,০০০
  • যুক্তরাজ্য ৪৫,০০০
  • ফ্রান্স ৩৪,০০০
৩০০,০০০[৮]
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ইসরায়েল:
  • ২৩১ নিহত[৯]
  • ৮৯৯ আহত
  • ৪ বন্দী[১০]
যুক্তরাজ্য:
  • ১৬ নিহত
  • ৯৬ আহত
ফ্রান্স:
  • ১০ নিহত
  • ৩৩ আহত

সুয়েজ সংকট বা ত্রিপক্ষীয় আগ্রাসন[১৬] হল ১৯৫৬ সালে ইসরায়েল, ব্রিটেনফ্রান্স কর্তৃক মিশর আক্রমণ। এর উদ্দেশ্য ছিল সুয়েজ খালের উপর পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণ পুনপ্রতিষ্ঠিত করা এবং মিশরের রাষ্ট্রপতি জামাল আবদেল নাসেরকে ক্ষমতাচ্যুত করা।[১৭] লড়াই শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়নজাতিসংঘ তিন আক্রমণকারী পক্ষকে সরে আসতে বাধ্য করে।[১৮][১৯]

১৯৫৬ সালের ২৯ অক্টোবর ইসরায়েল মিশরের সিনাই উপদ্বীপ আক্রমণ করে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স কর্তৃক যুদ্ধবিরতির একটি যৌথ আল্টিমেটাম জারি করা হলে তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। নভেম্বরের ৫ তারিখ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্যারাট্রুপাররা সুয়েজ খাল অঞ্চলে অবতরণ করে। মিশরীয়রা পরাজিত হয় তবে তারা খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। সরকারের অস্বীকার সত্ত্বেও এটি পরিষ্কার ছিল যে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও এর পরবর্তী ইঙ্গ-ফরাসি আক্রমণ তিন দেশের পূর্ব পরিকল্পিত ছিল।

তিন মিত্রপক্ষ তাদের কয়েকটি সামরিক উদ্দেশ্য অর্জন করতে সফল হয়। কিন্তু সুয়েজ খাল অকেজো হয়ে পড়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রসোভিয়েত ইউনিয়ন তাদের সরে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার ব্রিটেনকে আক্রমণ না করার জন্য সতর্ক করেছিলেন। এসময় তিনি ব্রিটিশ অর্থ ব্যবস্থার প্রতি হুমকি প্রদান করেন। ইতিহাসবিদদের মতে এই সংকটের পর পরাশক্তি হিসেবে ব্রিটেনের ভূমিকা শেষ হয়।[২০] ১৯৫৬ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৫৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সুয়েজ খাল বন্ধ ছিল। ইসরায়েল তার কিছু উদ্দেশ্যপূরণ করে। এর মধ্যে ছিল তিরান প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের স্বাধীনতা।

সংঘর্ষের ফলাফল দাঁড়ায় মিশর-ইসরায়েল সীমান্তে জাতিসংঘ কর্তৃক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এন্টোনি ইডেনের পদত্যাগ, কানাডিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিস্টার পিয়ারসনের নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ এবং এই ঘটনা সোভিয়েত ইউনিয়নকে হাঙ্গেরি আক্রমণ করতে উৎসাহিত করেছিল বলে মত রয়েছে।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Tal (2001) p 203
  2. Mart, Michelle। Eye on Israel: How America Came to View the Jewish State as an Ally। পৃ: ১৫৯। আইএসবিএন 0791466876 
  3. Stewart (2013) p 133
  4. Kunz, Diane B.। The Economic Diplomacy of the Suez Crisis। পৃ: ১৮৭। আইএসবিএন 0-8078-1967-0 
  5. Brown, Derek (১৪ মার্চ ২০০১)। "1956: Suez and the end of empire"The Guardian (London)। 
  6. Reynolds, Paul (২৪ জুলাই ২০০৬)। "Suez: End of empire"। BBC News। 
  7. History's worst decisions and the people who made them, pp. 167–172
  8. Casualties in Arab–Israeli Wars, Jewish Virtual Library
  9. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; jsource নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  10. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Dupuy_1343 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  11. Varble, Derek The Suez Crisis 1956, Osprey: London 2003, p. 90
  12. Britain France Israel Egypt War 1956
  13. উদ্ধৃতি ত্রুটি: অবৈধ <ref> ট্যাগ; Schiff_1974.2C_p._70 নামের সূত্রের জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  14. A History of the Israeli Army: 1870 - 1974 - Zeev Schiff - كتب Google
  15. Israel – The Suez War of 1956: U.S. newsreel footage. Event occurs at 0:30–0:40. https://www.youtube.com/watch?v=h0X1qIECZcU#t=0m30s.
  16. Also named: Suez Canal Crisis, Suez War, Second Arab-Israeli War; in the Arab world commonly known as the Tripartite aggression; other names include the Sinai war, Suez–Sinai war, Suez Campaign, Sinai Campaign, Operation Kadesh, Operation Musketeer"Port Said Remembers 'Tripartite Aggression' of 1956'"Daily News Egypt  (আরবি: أزمة السويس /‎ العدوان الثلاثي‎‎ Azmat al-Suways / al-ʻUdwān al-Thulāthī , "Suez Crisis"/ "the Tripartite Aggression"; ফরাসি: Crise du canal de Suez; হিব্রু ভাষায়: מבצע קדשMivtza' Kadesh "Operation Kadesh", or מלחמת סיני Milẖemet Sinai, "Sinai War")
  17. Mayer, Michael S. (২০১০)। The Eisenhower Years। Infobase Publishing। পৃ: ৪৪। আইএসবিএন 9780816053872 
  18. Roger Owen "Suez Crisis" The Oxford Companion to the Politics of the World, Second edition. Joel Krieger, ed. Oxford University Press Inc. 2001.
  19. "An affair to remember"The Economist। ২০০৬-০৬-২৭। সংগৃহীত ২০১৪-০৯-০৩ 
  20. Sylvia Ellis (২০০৯)। Historical Dictionary of Anglo-American Relations। Scarecrow Press। পৃ: ২১২। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

মিডিয়া লিংক

The following links are not functioning as of 6 December 2009. They are retained here for reference.

টেমপ্লেট:Arab-Israeli Conflict