শন টেইট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
শন টেইট
Shan Tait.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামশন উইলিয়াম টেইট
জন্ম (1983-02-22) ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩ (বয়স ৩৬)
নেয়ার্ন, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া
ডাকনামস্লুন, টিংগা, ওয়াইল্ড থিং, নেয়ার্ন র‌্যাম
উচ্চতা৬ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৯৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৩৯২)
২৫ আগস্ট ২০০৫ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৬ জানুয়ারি ২০০৮ বনাম ভারত
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১৬২)
২ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই২৪ মার্চ ২০১১ বনাম ভারত
ওডিআই শার্ট নং৩২
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
২০০২ –সাউথ অস্ট্রেলিয়া
২০০৪ডারহাম
২০১০গ্ল্যামারগন
২০০৯-বর্তমানরাজস্থান রয়্যালস
২০১১-বর্তমানমিড ওয়েস্ট রাইনোজ
২০১১-২০১২মেলবোর্ন রেনেগেডেস
২০১২-বর্তমানঅ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স
২০১২-বর্তমানওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডস
২০১৩-চিটাগং কিংস
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি লিস্ট এ
ম্যাচ সংখ্যা ৩৫ ৫০ ৯৮
রানের সংখ্যা ২০ ২৫ ৫০৯ ১০৯
ব্যাটিং গড় ৬.৬৬ ১২.৫০ ১২.৪১ ৬.৮১
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ০/২ ০/০
সর্বোচ্চ রান ১১ ৬৮ ২২*
বল করেছে ৪১৪ ১,৭২৪ ১০,০৮১ ৪,৯৭৬
উইকেট ৭৩ ২৩৩ ২০৬
বোলিং গড় ৬০.৪০ ২৪.১১ ৩০.০০ ২৩.৪৩
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৩/৯৭ ৪/৩৯ ৭/২৯ ৮/৪৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ৮/– ১৫/– ২৩/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ৭ অক্টোবর ২০১৩

শন উইলিয়াম টেইট (জন্ম: ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩) দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের নেয়ার্নে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলিং করে থাকেন।[১] অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের পক্ষে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশ নিচ্ছেন শন টেইট। ঘরোয়া ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তার বোলিংয়ের ধরন অনেকটাই সাবেক অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার জেফ থমসনের অনুরূপ।[২][৩][৪]

আগস্ট, ২০১৩ সালে ভারতের সুইমস্যুট মডেল ও মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মাশুম সিংহার সাথে বাগদানে আবদ্ধ হন টেইট। এরপর ১২ জুন, ২০১৪ তারিখে তাকে বিয়ে করেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের অধিকাংশ সময় সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেন। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া এ-দল ও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামে খেলেন। ১৫০-এরও অধিক উইকেট নেন যাতে স্ট্রাইক রেট ৫০-এর নিচে ছিল। ১৯ ডিসেম্বর, ২০০২ তারিখে অ্যাডিলেড ওভালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। একমাত্র ইনিংসে ২২.২ ওভার বোলিং করে ৩/৭৭ লাভ করেন।

প্রথম মৌসুমে ৫ খেলায় ২২.৫৫ গড়ে ২০ উইকেট পান। প্রথম মৌসুমেই দূর্দান্ত ফলাফল অর্জন করায় বেন হিলফেনহাস ও লুক রঙ্কি’র সাথে তাকেও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট একাডেমিতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণ করা হয়।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

২০০৪-০৫ মৌসুমে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে কুইন্সল্যান্ডের ফাস্ট বোলোর অ্যান্ডি বিকেলের পরিবর্তে চুক্তিবদ্ধ হন। টেইট নির্বাচকমণ্ডলীর মুখ রক্ষা করে পুরা কাপে ২০.১৬ গড়ে ৬৫ উইকেট পান।

২০০৪ সালে আঘাতপ্রাপ্ত ব্রেট লি’র পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা সফরে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত হন। কিন্তু সফরের কোন টেস্টে তাকে খেলানো হয়নি। ঘরোয়া ক্রিকেটে সফলতম মৌসুম অতিক্রান্তের পর তাকে ২০০৫ সালের অ্যাশেজ সফরে খেলার জন্য ইংল্যান্ডে দলের সাথে প্রেরণ করা হয়। ২৫ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।

২০০৫ সালের সুপার সিরিজে আইসিসি বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে খেলার সময় কাঁধে চোট পান। এরফলে অন্য খেলাগুলো থেকে তাকে দূরে থাকতে হয়।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

শন টেইটকে ‘ওয়াইল্ড থিং’ নামে ডাকা হয়। বিশ্বের অন্যতম সেরা দ্রুতগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার হিসেবে তাকে চিহ্নিত করা হয়।[৫][৬] তিনি নিয়মিতভাবে ঘন্টায় ১৫৫ কিলোমিটার বেগে বোলিংয়ে পারদর্শী।[৭][৮] অনেক সময় তারচেয়ে বেশি গতিতে বোলিং করতে সক্ষম। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ তারিখে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৬০.৭ কিমি/ঘ বেগে বোলিং রেকর্ড ধারণ করা হয়।[৯][১০] প্রচণ্ড গতি থাকা স্বত্ত্বেও টেইটের বোলিং অনেকাংশে ভারসাম্যহীন ও অনেকগুলো অতিরিক্ত রান দিয়ে থাকেন।[১১] তা স্বত্ত্বেও ব্যাটসম্যানদেরকে আউট এবং স্টাইক রেটের জন্য দলে রাখা হয়।[১][১২] এছাড়াও, টেইটকে ব্যয়বহুল ওভার পরিচালনাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।[১৩]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ তারিখে টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের কাছে ত্রাসরূপে হাজির হন ও ২/২২ দখল করেন।[১৪] দলনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও কোচ জন ব্রেসওয়েল তার বোলিংয়ের ধরন সম্পর্কে জনসমক্ষে তাদের সন্দেহের কথা তুলে ধরেন।[১৫] এরফলে তাকে অমার্জনীয় ও টেস্টে তার বোলিংয়ের বৈধতা প্রমাণের জন্য মন্তব্য শুনতে হয়।[১৬]

ওডিআই থেকে অবসর[সম্পাদনা]

২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার একদিনের দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাত খেলায় তিনি ১১ উইকেট পান। কোয়ার্টার-ফাইনালে ভারতের কাছে তার দল বিদায় নেয়। পরবর্তীতে টুয়েন্টি২০ ক্রিকেটে মনোঃসংযোগের উদ্দেশ্যে ২৮ মার্চ, ২০১১ তারিখে একদিনের আন্তর্জাতিক থেকে অবসর নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।[১৭] জুলাই, ২০১৪ সালে লর্ডসে দ্বি-শতবার্ষিকী উদযাপন খেলায় এমসিসির পক্ষাবলম্বন করেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Shaun Tait – Cricinfo Profle Cricinfo. Retrieved 15 December 2007
  2. Thommo welcomes fellow slinger Fox Sport News. Retrieved 12 January 2008
  3. Tait a raw talent BBC Sport. Retrieved 12 January 2008
  4. Shaun 'hits to hurt' Fox Sport News. Retrieved 12 January 2008
  5. Gillespie, Tait 'ready for Test recall' The Age. Retrieved 12 January 2008
  6. Hodge's timing is perfect The Age. Retrieved 12 January 2008
  7. Tait bearing down on Johnson, Hogg ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৮ ডিসেম্বর ২০০৭ তারিখে The Australian. Retrieved 12 January 2008
  8. Tait looking for opportunity to team up with Lee India Times. Retrieved 12 January 2008
  9. Tait leads Australia's great escape ESPN Cricinfo retrieved on 6 February 2010
  10. Tait sets his sights on India's batsmen Brisbane Times. Retrieved 15 December 2007
  11. Tait to make big impact at Cup: Ponting ABC News. Retrieved 15 December 2007
  12. Shaun Tait on Fire The Age. Retrieved 15 December 2007
  13. Shaun Tait The Age. Retrieved 15 December 2007
  14. Australia v New Zealand at Perth Cricinfo. Retrieved 15 December 2007
  15. Tait's action under scrutiny by New Zealand Cricinfo. Retrieved 15 December 2007
  16. Kiwi chuck claim enrages Tait Fox Sports News. Retrieved 15 December 2007
  17. Australia news: Shaun Tait retires from ODIs as a faded force | Australia Cricket News. ESPN Cricinfo. Retrieved on 2013-12-23.

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

পূর্বসূরী
ইয়ান বেল
বর্ষসেরা উদীয়মান খেলোয়াড়
২০০৭
উত্তরসূরী
অজন্তা মেন্ডিস