মহসিন শস্ত্রপাণি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

মহসিন শস্ত্রপাণি (১৯ ডিসেম্বর, ১৯৪৫ - ২ মার্চ ২০১৯) বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সাংবাদিক, লেখক এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগঠক। তিনি মার্কিসীয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দীক্ষিত। যৌবনের প্রারম্ভেই তিনি সামাজিক শোষণ-বঞ্চনার অবসান এবং মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশের গণ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। চীনা লেখক লু স্যুন সম্পর্কে গবেষক৤[১]

জীবন[সম্পাদনা]

মহসিন শস্ত্রপাণি এর জন্ম ব্রিটিশ ভারতে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর তারিখে তার মাতৃক নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কাজীরবেড় নামক গ্রামে। তার পিতা সৈয়দ আবদুল মুত্তালিব ও মাতা জাহানারা খাতুন। পিতা একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। মহসিন শস্ত্রপাণি পিতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে প্রথম। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন। কিছুদিন পরে আবার ঢাকার বাইরে চলে যান। সে সময়টাতে কুষ্টিয়া, যশোরেই বেশিরভাগ সময় কাটান। তিনি পরে ১৯৬৬ সাল থেকে পুরোপুরি ঢাকায় বসবাস করা শুরু করেন। জীবনের প্রধান একটি অংশ, প্রায় ৩০ বছর, তিনি একাধারে সাংবাদিকতা ও প্রকাশনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। যে সকল পত্রিকায় তিনি কাজ করেছেন সেগুলো হলো: দৈনিক আজাদ, দৈনিক জনপদ এবং সাপ্তাহিক গণবাংলা। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি মাসিক উন্মেষ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও আমৃত্যু তিনি সাপ্তাহিক পত্রিকা নয়া দুনিয়া'র (অনিয়মিত) সম্পাদক-প্রকাশক ছিলেন।[১] তিনি বাংলা একাডেমীর আজীবন সদস্য ছিলেন। তিনি দুবার চীন ভ্রমণ করেন, চীনা কম্যুনিষ্ট পার্টির আমন্ত্রণে। এছাড়া তিনি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানী, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, হল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, নেপাল, ভুটান, ভারত ভ্রমণ করেছেন।

লেখালেখি ও প্রকাশনা[সম্পাদনা]

তার সাড়া জাগানো একটি গল্পসংকলন ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় যার নাম ‘’জনশ্রুতি’’(দুটি সংস্করণ) ৤ অন্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো: উপন্যাস - 'অন্তরিত লোকালয়' (মুক্তিযুদ্ধের সময় মূল কপি বিনষ্ট হয়, এখন আর কোন কপি নেই) , 'জোছনায় কালো মেঘ' (পরে ধানমুট নামে ২০১৮ সালে প্রকাশিত); ব্যঙ্গগল্প - 'আজগুবি শিশু'; জীবনীগ্রন্থ - 'বিপ্লবী হো চি মিন'; নাটিকা - মহাবিপ্লবের পদধ্বনি; 'শবের মিছিলে জীবনের গান'; 'প্রস্তুতি'; চীনা কাহিনীর নাট্যরূপ - 'লাল তারার কাহিনী', 'আজালিয়া পর্বত', ভ্রমণ কাহিনী - দেশের নাম চীন; অনুবাদ - 'এডগার স্নো'; প্রবন্ধ সংগ্রহ - 'শেষ যুদ্ধের ডাক', 'লাল পতাকার নীচে সাংস্কৃতিক আন্দোলন', 'সংস্কৃতি আন্দোলন পক্ষ ও বিপক্ষ', 'তাদের যেমন জেনেছি', ‘'উত্তর দেশের দৃশ্য’', 'চারটি গল্প'।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ’’বঙ্গসাহিত্যাভিধান, ২য় খণ্ড, ডঃ হংসনারায়ণ ভট্টাচায্র্, ফামা কেএলএমপ্রাইভেট লি: কলিকাতা, ১৯৯০, পৃ: ৪৩২-৪৩৩।

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]