হেমন্ত সরকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কমরেড হেমন্ত সরকার
১৫০px
জন্ম১৯১৪
মৃত্যুডিসেম্বর ২৮, ১৯৯৮
জাতীয়তাবাংলাদেশী
নাগরিকত্ববাংলাদেশ Flag of Bangladesh.svg
পরিচিতির কারণকমিউনিস্ট বিপ্লবী
রাজনৈতিক দলকমিউনিস্ট পার্টি

হেমন্ত সরকার (ইংরেজি: Hemonto Sarkar, জন্ম: ১৯১৪, মৃত্যু: ডিসেম্বর ২৮,১৯৯৮) বাংলার বাম রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। গরিবের প্রতি ধনীর অত্যাচার, শ্রমিক, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি তৎকালীন মহাজনদের নিপীড়ন সহ্য করতে পারেননি বলে নাম তার হেমন্ত হয়েও তিনি শান্ত না হয়ে হয়েছিলেন দুরন্ত দুর্নিবার।[১]

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

১৯১৪ সালে নড়াইল জেলার সদর উপজেলার বড়েন্দা গ্রামস্থ এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বিপ্লবী হেমন্ত সরকার । তার পিতা নেপাল সরকার এবং মাতা তৃণলতা সরকার। হেমন্ত সরকাররা ছিলেন ৫ ভাই ও ২ বোন । হেমন্তের সবচেয়ে ছোটদি মানসী সরকার ছিলেন তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মহিলা সমিতির একজন সদস্য। এই মানসীর হাত ধরেই হেমন্ত সরকার কমিউনিস্ট রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ছোটবেলা থেকে রাজনীতির প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে পড়াশুনা খুব একটা হয়নি। গ্রামের স্কুলেই তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় এবং অল্পকিছুদিনের মধ্যেই পড়াশুনার পাঠ চুকিয়ে রাজনীতিতে নেমে পড়েন।[২]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

ভারতীয় উপমহাদেশের বাম আন্দোলনের এই নেতা মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন সারাজীবন। এই মানুষটির কারণেই তৎকালীন রাজা, মহাজন, সরকার তথা ব্রিটিশ বা পাকিস্তান সরকার সবাই থাকতে ভয়ে ভয়ে । কি জানি কখন হেমন্ত চলে আসে। আর একারপণে জীবনে বহুবার তাকে জেল খাটতে হয়েছে। পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে বছরের পর বছর। কিন্তু জেলের ভয়ে তিনি তার নীতি থেকে পিছপা হননি।[৩]

কমিউনিস্ট ও পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা]

এই প্রতিবাদী হেমন্ত ১৯৪০ সালে যোগ দেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে। এবং তার অবদানে মুগ্ধ হয়ে বড়নেতারা তাকে ১৯৪২ সালে সদস্য পদ দেন। এ সময়ে তিনি যশোর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলন ছড়িয়ে দেন। তারপর তেভাগা জঙ্গিরুপ ধারণ করলে তাকে ১৯৪৮ সালে কারাবরণ করতে হয় এবং ১৯৫৭ সালে মুক্তি পান। তারপর আবারো দেশে সামরিক আইন জারি হলে তিনি পালিয়ে যান। এসময় তিনি যশোরে কমিউনিস্ট পার্টি তৈরি করেন। ১৯৭০ সালের সশস্ত্র আন্দোলন এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭২ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য হন। ১৯৮৪ সালে আবার তিনি গ্রেফতার হন এবং তাকে রাজশাহী কারাগারে রাখা হয়। তিনি মার্ক্সবাদী মন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি কিছু গ্রন্থও ও প্রবন্ধ লিখেছেন।[৪]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

সারাজীবন নিপীড়ত মানুষের কথা ভাবতে ভাবতে, তাদের সেবা করতে করতে আর নিজের কথা ভাবার সময় পাননি তিনি। জীবনে অবিবাহিত থেকে মানুষের সেবায় জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি আজীবন গণমানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন।

পরলোকগমন[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এই বিপ্লবী নেতা। এর আগে তিনি নবম কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংগঠনে ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]